13/08/2015
এই অকাল মৃত্যুর দায় কার?........................................
কাল হাসপাতালে ইর্মাজেন্সী ডিউটি ছিল। সন্ধ্যার সময় চিৎকার করতে করতে একটা শিশুকে নিয়ে একদল লোক ইর্মাজেন্সীতে প্রবেশ করলো। শিশুদের নিয়ে এভাবে রুমে ঢুকলে আমাদের মাথায় চট করে চলে আসে, সড়ক দূর্ঘটনা অথবা পানিতে পড়ার সম্ভাবনা। রোগীকে দেখলাম। জীবনের কোন লক্ষণ পাওয়া গেলো না। মৃত্যুর ব্যাপারটা রোগীর স্বজনদের জানাতেই শুরু হলো বুকফাটা আর্তনাদ, বিলাপ। একজন দুই বছরের শিশুর মৃত্যু ঘোষনা দেয়া যে কত কষ্টকর সেটা ডাক্তাররা ভালো অনুধাবন করতে পারবেন। যাই হোক, শিশুটির কি সমস্যা হয়েছিলো জানতে চাইলে রোগীর স্বজনরা জানালো,কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো। বরিশাল গিয়ে শুরুর দিকে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ দেখানো হয়েছিল। কয়েকদিন অষুধ খাওয়ার পরেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তারা হোমিওপ্যাথি খাওয়ানো শুরু করে। কিছুক্ষণ আগে থেকে বাচ্চাটা নড়াচড়া করছে না দেখে তারা হাসপাতালে নিয়ে এসেছে।
এই হলো ভুমিকা। এবার আসি কেন এই নিত্য ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা বিবৃত করলাম সেই প্রসংগে। প্রথম প্রশ্ন, এই অকাল মৃত্যুর দায় কার? আমরা কি কোনভাবে এই মৃত্যু এড়াতে পারতাম? উত্তর, এই মৃত্যুর দায়ভার রোগীর স্বজন, হোমিওপ্যাথী চিকিৎসক, সরকার তথা প্রশাসন, এমনকি আমাদের। অবাক হচ্ছেন? আচ্ছা, ব্যাখ্যা করি। রোগীর স্বজনদের দায় এটাই যে, একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের দেয়া চিকিৎসা নেয়ার পরেও যখন অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না, তখন পুণরায় তার সরণাপন্ন না হয়ে হোমিওপ্যাথীর দ্বারস্থ হওয়া। অনেকে বলতে পারেন, মেহেন্দিগন্জ থেকে বরিশাল গিয়ে বারবার বিশেষজ্ঞ দেখানো সহজ কাজ নয়। মানলাম, কিন্তু বাড়ীর কাছে উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে আমরা তো ছিলাম। মারামারির সার্টিফিকেট আর মৃত্যু ঘোষণার জন্য তো আমরা এখানে বসে নেই, এসেছি চিকিৎসা দেয়ার জন্য! অনেকে হয়ত ঠোঁট উল্টে বলবেন, বিশেষজ্ঞ যেখানে ভালো করতে পারেনি, সেখানে আপনাদের মত পুঁচকে ডাক্তার কি করবে? করার আছে। চিকিৎসা হয় রোগীর লক্ষণ, রোগের severity এবং প্রদেয় চিকিৎসায় রোগীর response এর উপর নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞ শুরুতে রোগের যে লক্ষণ পান নি পরে সেটা দেখা দিতে পারে, রোগের নিয়মেই রোগের তীব্রতা বাড়তে পারে, মুখে খাওয়া ওষুধে যে response পাওয়া যায়নি, injection এ হয়তো সেই response পাওয়া যেতো আর তাতেই হয়তো শিশুটি বেঁচে যেতো!
আরও পড়ুন
কাল হাসপাতালে ইর্মাজেন্সী ডিউটি ছিল। সন্ধ্যার সময় চিৎকার করতে করতে একটা শিশুকে নিয়ে একদল লোক ইর্মাজে...