27/01/2026
দেশের মাটিতে নীরব বিষ: অদৃশ্য বিপদ
আপনি কি জানেন?
যে মাটির উপর আমরা হাঁটি,
যেখানে শিশু খেলছে,
যেখান থেকে খাবার জন্মায়—
সেই মাটিতেই লুকিয়ে আছে ভয়ংকর বিষ?
দেশের কিছু এলাকায় মাটিতে সিসার মাত্রা ৭০ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
এটা অনুমোদিত মানদণ্ডের প্রায় ৩৫০ গুণ বেশি।
এক মুহূর্ত থামুন।
এই সংখ্যাটা শুধু বিজ্ঞান নয়, এটা আমাদের জীবনের গল্প।
আমরা ভাবি, মাটি নিরাপদ
কিন্তু বাস্তবে, মাটিই হয়ে উঠছে নীরব ঘাতক।
গল্পটা কোথা থেকে শুরু হয়?
আমি আপনি আমরা—
আমরা সবাই মাটির উপর নির্ভর করি।
শিশু মাটিতে বসে খেলে।
কৃষক মাটিতে বীজ বোনে।
আমরা সেই ফসল খাই।
কিন্তু আমরা খুব কমই ভাবি—
এই মাটির ভেতরে কী আছে?
সিসা এমন একটি ধাতু,
যেটা চোখে দেখা যায় না,
গন্ধ নেই,
কিন্তু শরীরে ঢুকলে ধীরে ধীরে ক্ষতি করে।
দ্বন্দ্বটা এখানেই
আমরা ধরে নিই,
“বাইরে তো ঠিকই সব চলছে।”
কিন্তু বাস্তবে—
এই সিসা মাটিতে জমে জমে ঢুকছে
সবজিতে,
পানিতে,
শেষ পর্যন্ত আমাদের শরীরে।
বিশেষ করে ক্ষতিটা হচ্ছে—
শিশুদের জন্য।
তাদের মস্তিষ্ক এখনো তৈরি হচ্ছে।
সিসা সেখানে ঢুকলে
শেখার ক্ষমতা কমে,
মনোযোগ নষ্ট হয়,
ভবিষ্যৎটাই ঝুঁকিতে পড়ে।
একদিন বুঝলাম…
সব দূষণ ধোঁয়া বা কালো পানি দিয়ে আসে না।
কিছু দূষণ আসে নীরবে।
এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য।
তাহলে আজ থেকেই কী করা যায়?
ভয় পাওয়ার আগে, সচেতন হই।
খোলা মাটিতে শিশুদের দীর্ঘ সময় খেলতে না দেওয়া
সবজি ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করা
শিল্প এলাকা বা ব্যাটারি বর্জ্যের আশেপাশের মাটি এড়িয়ে চলা
ঘরের ভেতরে মাটি বা ধুলা জমতে না দেওয়া
স্থানীয় পর্যায়ে মাটি পরীক্ষার দাবি তোলা
ছোট কাজ।
কিন্তু প্রভাব বড়।
আপনি একা নন
এই সমস্যা শুধু আপনার পরিবারের না।
এটা আমাদের সবার।
ভুলটা আমাদের না,
কিন্তু দায়িত্বটা আমাদেরই নিতে হবে।
কারণ আমরা যদি না জানি,
আমরা প্রশ্ন করবো না।
আর প্রশ্ন না করলে,
কিছুই বদলাবে না।
এখন আপনাকে একটা প্রশ্ন করি
আপনার আশেপাশের পরিবেশ নিয়ে
আপনি শেষ কবে ভেবেছেন?
আজ থেকে আপনি কী একটু বেশি সতর্ক হবেন?
কমেন্টে লিখুন।
আপনার কথাটা অন্য কারও চোখ খুলে দিতে পারে।
এই লেখাটা পড়ার পর যদি আপনার মনে হয়
“এটা কাউকে জানানো দরকার”—
তাহলে দেরি করবেন না।
শেয়ার করুন।
কারণ সচেতনতা ছড়ানোই
এই নীরব বিষের বিরুদ্ধে
আমাদের প্রথম প্রতিরোধ।
#নীরবদূষণ #সিসাঝুঁকি #জনস্বাস্থ্য
#পরিবেশসচেতনতা #বাংলাব্লগ