30/03/2026
#হাম বা (মিজলস) ছড়িয়ে পড়ছে, ৫ টি বিষয় অবশ্যই জানা দরকার।
A).হাম (মিজলস) মারাত্মক হতে পারে।
১.হাম প্রতিদিন প্রায় ৩০০ জন মানুষকে হত্যা করে, যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২ জন। এদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
২.শিশুরা হাম থেকে বেঁচে গেলেও, এই ভাইরাস তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা বা স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা রেখে যেতে পারে।
৩.গুরুতর জটিলতা হিসেবে দেখা দিতে পারে: নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, অন্ধত্ব এবং এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের ফোলা)।
৪.হাম সেরে ওঠার অনেক পরেও এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় এবং অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যাকে “ইমিউনিটি অ্যামনেসিয়া” বলা হয়।
B)হাম (মিজলস) পৃথিবীর সবচেয়ে ছোঁয়াচে রোগগুলোর মধ্যে একটি।
১.হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে বায়ুবাহিত (airborne) রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস-প্রশ্বাস, কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস কণা বাতাসে এবং
২.বিভিন্ন পৃষ্ঠে ছড়িয়ে দেয়, যা দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সংক্রামক থাকতে পারে।
৩. অবাক ব্যাপার হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে জানার আগেই অন্যদের মধ্যে হাম ছড়াতে শুরু করতে পারে — বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হামের র্যাশ দেখা দেওয়ার ৪ দিন আগে থেকেই।
৪.একবার কোনো শিশু হামে আক্রান্ত হলে, তার ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ৯০ শতাংশ মানুষ (যারা আগে থেকে প্রতিরোধী নয়) হামে আক্রান্ত হয়ে পড়বে।
৫.হামের ভাইরাস সীমানা মানে না। গত পাঁচ বছরে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, এমনকি এমন কয়েকটি দেশেও যেখানে আগে হাম পুরোপুরি নির্মূল হয়েছিল।
C)টিকা হামের প্রাদুর্ভাব বন্ধ করা এবং শিশুদের সুরক্ষা দেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়।
১.হামের টিকা নিরাপদ।
২.হাম-সম্বলিত টিকার দুই ডোজ সারাজীবনের জন্য ৯৯ শতাংশ সুরক্ষা প্রদান করে।
৩.টিকা শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়া এবং অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়ানো প্রতিরোধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
কোনো শিশুরই হামে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা বা মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
৪.১৯৭৪ সাল থেকে হামের টিকা বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৪ মিলিয়ন (৯ কোটি ৪০ লাখ) জীবন বাঁচিয়েছে।
D)যথাযথ ভ্যাক্সিনেশন না হলে হাম ছড়াবেই।
হাম খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে, সম্প্রদায়ের মধ্যে উচ্চ হারে টিকাদান বজায় রাখা প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
১.হামের টিকার দুই ডোজ সহ ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি টিকাদানের হার থাকলে তবেই সম্প্রদায়কে হামের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
২. সকল শিশুকে হামের বিরুদ্ধে টিকা দেওয়া উচিত।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী হামের প্রথম ডোজের টিকাদানের হার মাত্র ৮৪ শতাংশ, এবং দ্বিতীয় ডোজের হার আরও কম — মাত্র ৭৬ শতাংশ। এটি প্রয়োজনীয় সুরক্ষার স্তরের অনেক নিচে।
৩.এই নিম্ন হারের কারণে হাম ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয় এবং টিকাবিহীন শিশুসহ দুর্বল গোষ্ঠীগুলো আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।
৪.উচ্চ হারে হামের ঘটনা দেখা যায় এমন দেশগুলোতে নিয়মিত হামের টিকাদান এবং ব্যাপক টিকাদান অভিযান চালানো প্রাদুর্ভাব বন্ধ করা এবং বিশ্বব্যাপী হামজনিত মৃত্যু কমানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
E)পাঁচ-ডোজের ভায়ালে (vial) স্যুইচ করলে সরকারগুলো আরও বেশি জীবন বাঁচাতে পারবে।
১.হামের টিকা সাধারণত দশ-ডোজের ভায়ালে কেনা হয়।
একবার ভায়াল খোলার পর স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় থাকে, যার মধ্যে দশটি ডোজই শিশুদের দিয়ে দিতে হয়।ব্যবহার না হওয়া কোনো ডোজ নষ্ট হয়ে যায় এবং ফেলে দিতে হয়।
২.স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক সময় মাত্র এক বা দুইজন শিশুর জন্য নতুন ভায়াল খুলতে দ্বিধা করেন, কারণ বাকি ডোজগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।
৩.এই দ্বিধা এবং ওষুধ নষ্ট হওয়ার ভয় প্রায়ই ভায়াল না খোলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ফলে অনেক শিশু প্রয়োজনীয় টিকা না পেয়ে হাম থেকে সুরক্ষা পায় না।
সূত্র:UNICEF
Dr Mohammed Shahjahan Nazir
Associate Professor,
Infectious Diseases and Tropical Medicine