28/02/2026
নরমাল ডেলিভারিতে “সাইড কাটা” বা এপিসিওটমি নিয়ে অনেকের মনেই ভয় আর প্রশ্ন কাজ করে। আসলে বিষয়টা কী? কেন করা হয়? আর পরে কীভাবে যত্ন নিলে দ্রুত ভালো হওয়া যায়? সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।
🌸 এপিসিওটমি কী?
প্রসবের সময় যখন শিশুর মাথা বের হওয়ার পথে টান বেশি পড়ে, তখন যোনিপথের পাশে চিকিৎসক একটি ছোট নিয়ন্ত্রিত কাটা দেন—এটাকেই এপিসিওটমি বলা হয়।
এর লক্ষ্য একটাই: অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো এবং মা–শিশু দু’জনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
🌼 সব ক্ষেত্রে কি এটা করা হয়?
না, একেবারেই না। এখন আর রুটিনভাবে করা হয় না। শুধুমাত্র প্রয়োজন হলে করা হয়। যেমন—
• বাচ্চার মাথা তুলনামূলক বড় হলে
• প্রসব দীর্ঘসময় আটকে গেলে
• দ্রুত ডেলিভারি করানো জরুরি হলে
• প্রথমবার মা হলে টিস্যু শক্ত থাকলে
কাটার আগে লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়, তাই আলাদা করে কাটার ব্যথা সাধারণত অনুভূত হয় না।
🌿 ডেলিভারির পর কীভাবে যত্ন নেবেন?
✔ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
টয়লেটের পর কুসুম গরম পানি দিয়ে সামনে থেকে পেছনের দিকে ধুয়ে নিন। জায়গা ভেজা রাখবেন না।
✔ সিটজ বাথ
দিনে ১–২ বার ৫–১০ মিনিট কুসুম গরম পানিতে বসে থাকলে ব্যথা ও টান অনেক কমে।
✔ ঠান্ডা সেঁক
প্রথম একদিন আইস প্যাক ব্যবহার করলে ফোলা কমে এবং আরাম মেলে।
✔ কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ান
পানি বেশি খান, আঁশযুক্ত খাবার (শাক, ফল, ডাল) রাখুন খাদ্যতালিকায়। অতিরিক্ত চাপ দিলে সেলাইয়ে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
✔ আরামদায়ক পোশাক
ঢিলেঢালা সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করুন, যাতে জায়গা শুকনো থাকে।
⚠ কখন সতর্ক হবেন?
• তীব্র ব্যথা বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব
• জ্বর বা কাঁপুনি
• অতিরিক্ত রক্তপাত
• সেলাইয়ের জায়গায় পুঁজ বা অস্বাভাবিক ফোলা
এসব হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
💛 শেষ কথা
এপিসিওটমি মানেই ভয় পাওয়ার কিছু নয়। সঠিক যত্ন নিলে ১–২ সপ্তাহে অস্বস্তি অনেকটাই কমে যায়, আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেলাই ভালোভাবে শুকিয়ে যায়।
মায়ের সুস্থতাই শিশুর প্রথম নিরাপত্তা। নিজের যত্ন নিন, প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
“শিক্ষামূলক / মেডিক্যাল সচেতনতা পোস্ট”