Dr Israt Sharmin

Dr Israt Sharmin স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
কনসালটেন্ট ( গাইনী এন্ড অবস)

সকাল শুরু হয় এক কাপ চা দিয়ে, অফিসে কাজের ফাঁকে কফি, বিকেলে আবার আড্ডা। অনেকের তো দিনেই ৩-৪ কাপ চা খাওয়া হয়ে যায় টেরই পায়...
25/02/2026

সকাল শুরু হয় এক কাপ চা দিয়ে, অফিসে কাজের ফাঁকে কফি, বিকেলে আবার আড্ডা। অনেকের তো দিনেই ৩-৪ কাপ চা খাওয়া হয়ে যায় টেরই পায়না। অনেকে ভাবেন, আমি তো ঠিক আছি, সমস্যা কোথায়? কিন্তু প্রশ্ন হলো আপনার শরীর, বিশেষ করে হরমোন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব কী? অতিরিক্ত ক্যাফেইন শুধু ঘুম নষ্ট করে না, এটি মাসিক চক্র, গর্ভধারণ, এমনকি গর্ভাবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

চা কফির মূল সক্রিয় উপাদান হলো ক্যাফেইন। গড়ে ১ কাপ (৮ আউন্স) কফিতে প্রায় ৮০-১০০ মি.গ্রা. ক্যাফেইন থাকে, ১ কাপ চাতে থাকে প্রায় ৩০-৫০ মি.গ্রা. ক্যাফেইন। গ্রিন টি বা মিল্ক টি তেও ক্যাফেইন থাকে তবে পরিমাণ তুলনামূলক কম। আ
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪০০ মি.গ্রা. ক্যাফেইন নিরাপদ। মানে, দিনে প্রায় ৩-৪ কাপ কফি বা ৫-৬ কাপ চা পর্যন্ত সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়। কিন্তু এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সব নারী একই নন, বিশেষ করে যদি আপনি গর্ভবতী হন বা গর্ভধারণের চেষ্টা করেন।

গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ২০০ মি.গ্রা.র বেশি ক্যাফেইন নয়। অর্থাৎ, ১-২ কাপ কফি, ২-৩ কাপ চায়ের বেশি নয়। কারণ ভ্রূণের লিভার পরিপূর্ণভাবে ক্যাফেইন ভাঙতে পারে না। তাই মায়ের অতিরিক্ত ক্যাফেইন সরাসরি শিশুর ওপর প্রভাব ফেলে। অনেক নারী খেয়াল করেন অতিরিক্ত কফি খেলে, পিরিয়ডের সময় ব্যথা বাড়ে, মুড সুইং বাড়ে, ঘুম কমে যায়, অস্থিরতা ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। ক্যাফেইন কর্টিসল বাড়াতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হরমোনাল ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যাদের PCOS বা অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা আছে।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

মাসিক নিয়ে আমাদের অনেকেরই একটা স্বাভাবিক ধারণা আছে ৩-৪ দিন রক্তপাত হলেই ঠিক, এর বেশি হলেই সমস্যা। কিন্তু বাস্তবটা একটু ভ...
24/02/2026

মাসিক নিয়ে আমাদের অনেকেরই একটা স্বাভাবিক ধারণা আছে ৩-৪ দিন রক্তপাত হলেই ঠিক, এর বেশি হলেই সমস্যা। কিন্তু বাস্তবটা একটু ভিন্ন। কারও ৩ দিন, কারও ৫ দিন, আবার কারও ৭ দিনও হতে পারে। সবটাই নির্ভর করে শরীরের হরমোন, বয়স, জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার উপর। তাই শুধু দিন গুনে সিদ্ধান্ত নিলে হবে না, বুঝতে হবে কখন এটা স্বাভাবিক ভিন্নতা, আর কখন সেটা রোগের লক্ষণ।

বিজ্ঞানসম্মতভাবে একটি স্বাভাবিক মাসিক সাধারণত ২-৭ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
মোট রক্তক্ষরণ সাধারণত ৩০-৮০ মিলিলিটারের মধ্যে থাকে। যদিও এটি সরাসরি মাপা যায় না, ব্যবহার করা প্যাড/ন্যাপকিনের পরিমাণ দেখে ধারণা করা হয়। অর্থাৎ ৭ দিন পর্যন্ত রক্তপাত অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই পড়ে।

যখন ৭-৮ দিনের ব্লিডিংকে গুরুত্ব দিবেনঃ-

✔️ প্রতি ১-২ ঘণ্টায় প্যাড সম্পূর্ণ ভিজে যাচ্ছে
✔️ আগে ৩-৪ দিন হালকা হতো, হঠাৎ করে ৭-৮ দিন ধরে ভারী রক্তপাত শুরু হলে
✔️ বড় বড় রক্তের দলা (clot) বের হচ্ছে
✔️ অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, ফ্যাকাশে ভাব থাকলে
✔️ তীব্র পেটে ব্যথা থাকলে

কিশোরীদের প্রথম ১-২ বছর অনিয়ম স্বাভাবিক হতে পারে, তবে অতিরিক্ত রক্তপাত হলে চিকিৎসা দরকার। ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের দীর্ঘ রক্তপাত অবহেলা করা যাবে না। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে অস্বাভাবিক রক্তপাত মানেই পরীক্ষা জরুরি।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

23/02/2026

সাদাস্রাবের সাথে যে লক্ষণগুলো থাকলে সতর্ক হবেন-

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মতের অমিল হবে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। একসাথে থাকা মানেই দুইজন আলাদা মানুষ, আলাদা ভাবনা, আলাদা অভ্যা...
22/02/2026

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মতের অমিল হবে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। একসাথে থাকা মানেই দুইজন আলাদা মানুষ, আলাদা ভাবনা, আলাদা অভ্যাস। কখনও ছোট বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য, কখনও কথার ভুল বোঝাবুঝি এসব অনেক সময়েই সম্পর্কের অংশ। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন ঝগড়া আর শুধুই মতভেদ থাকে না এটা রূপ নেয় মানসিক চাপ, ভয়, অপমান, অথবা শারীরিক নির্যাতনে। আমার চেম্বারে প্রায়ই অনেক নারী শারীরিক সমস্যা নিয়ে আসেন চিকিৎসার পরেও সুস্থ হননা, পরে কথা বলে বুঝতে পারি মূল সমস্যা দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অশান্তি।

কেনো দাম্পত্য ঝগড়া রোগে রূপ নেয়?

✔️ প্রতিদিনের অশান্তি শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ায়। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে দেখা দিতে পারে অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত বা কম রক্তস্রাব, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনাল ইমব্যালেন্স।

✔️ দাম্পত্য অশান্তি সরাসরি প্রভাব ফেলে প্রজনন স্বাস্থ্যে সহবাসে ব্যথা অনুভব, যোনিপথে শুষ্কতা, অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ বা কনসিভে সমস্যা। কারণ মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা প্রজনন স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।

✔️ দাম্পত্য কলহ যদি নিয়মিত অপমান, চিৎকার বা অবমূল্যায়নের দিকে যায়, তখন অকারণে কান্না পায়, আগের মতো কোনো কাজে আগ্রহ থাকে না, যৌন আগ্রহ কমে যায়, আত্মসম্মানবোধ কমে যায়।
এগুলো স্পষ্ট মানসিক স্বাস্থ্যের লক্ষণ।

✔️ গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ থাকলে প্রি-টার্ম ডেলিভারির ঝুঁকি বাড়ে, শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্মানোর আশঙ্কা বাড়ে, মায়ের উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। গর্ভবতী নারীর জন্য মানসিক শান্তি চিকিৎসারই অংশ।

প্রতিদিনের অপমান, ভয়, অবমূল্যায়ন এসব শরীর ও মনের ওপর ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করে।
দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু সামাজিক বন্ধন নয় এটি একজন নারীর মানসিক ও প্রজনন স্বাস্থ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

মাতৃভাষা দিবসে সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা
21/02/2026

মাতৃভাষা দিবসে সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

19/02/2026

জরায়ু ইনফেকশনের লক্ষণগুলো জেনে নিন

পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা
18/02/2026

পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা

রমজান মাস এলে অনেক গর্ভবতী মায়েরই একটা সাধারণ প্রশ্ন থাকেভআমি কি রোজা রাখতে পারবো? নাকি রাখা ঠিক হবে না? ধর্মীয় অনুভূতির...
17/02/2026

রমজান মাস এলে অনেক গর্ভবতী মায়েরই একটা সাধারণ প্রশ্ন থাকেভআমি কি রোজা রাখতে পারবো? নাকি রাখা ঠিক হবে না? ধর্মীয় অনুভূতির সাথে সাথে নিজের ও অনাগত শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়টিও এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু বিষয় জানা এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সব গর্ভবতী নারীর পরিস্থিতি এক নয়। রোজা রাখা যাবে কিনা তা নির্ভর করে মায়ের শারীরিক অবস্থা, গর্ভের বয়স (কয় মাস চলছে), আগের কোনো জটিলতা আছে কিনা, বর্তমান স্বাস্থ্য সমস্যার উপর। অনেক সুস্থ গর্ভবতী নারী ঠিকমতো খাবার ও পানি গ্রহণ করলে রোজা রাখতে পারেন, তবে সবার ক্ষেত্রে তা নিরাপদ নাও হতে পারে।

গর্ভবতী মায়েদের জন্য রোজা শুরু করার আগে কিছু প্রস্তুতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেমন:
✅ ডাক্তারের চেকাপ করানো
✅ রক্তে শর্করার মাত্রা টেস্ট করা
✅ পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করা
✅ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ

যদি গর্ভাবস্থা স্বাভাবিক ও ঝুঁকিমুক্ত থাকে, রক্তস্বল্পতা না থাকে বা খুব কম থাকে, রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে, ডায়াবেটিস না থাকে বমি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা তেমন না থাকে, শিশুর গ্রোথ ঠিক আছে তাহলে রোজা রাখতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি তীব্র রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া
আগের গর্ভপাতের ইতিহাস বা প্রি-ম্যাচিউর ডেলিভারি থাকে, অতিরিক্ত বমি, ডিহাইড্রেশন,
শিশুর ওজন বা নড়াচড়া কমে যাওয়া, একাধিক বাচ্চা (টুইন/ট্রিপলেট) গর্ভে থাকে তবে রোজা না রাখাই নিরাপদ।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক ( গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

16/02/2026

হরমোনাল ইমব্যালেন্সের সাধারণ লক্ষনঃ-

অনেক নারীই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সাদাস্রাব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। কারও মনে হয় এটা বড় কোনো রোগের লক্ষণ, কেউ লজ্জায় কা...
15/02/2026

অনেক নারীই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সাদাস্রাব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। কারও মনে হয় এটা বড় কোনো রোগের লক্ষণ, কেউ লজ্জায় কাউকে বলতেও পারেন না, আবার কেউ ভয় পেয়ে অযথা ওষুধ খেয়ে বসেন। অথচ সাদাস্রাব সবসময় রোগ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই এটি শরীরের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।

যখন সাদাস্রাব স্বাভাবিকঃ-
🔹 রং স্বচ্ছ, সাদা বা হালকা দুধের মতো
🔹 হালকা আঠালো বা পিচ্ছিল হয়ে থাকে
🔹 কিশোরী বয়স, গর্ভাবস্থা বা হরমোনাল পরিবর্তনের সময় বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক
🔹 তীব্র কোনো গন্ধ থাকেনা
🔹 চুলকানি, জ্বালা বা ব্যথা থাকেনা
🔹 মাসিকের আগে-পরে বা ওভুলেশনের সময় পরিমাণ একটু বাড়তে পারে
এগুলো শরীরের হরমোনজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন, কোনো রোগ নয়।

সাদাস্রাব নারীর শরীরের একটি স্বাভাবিক অংশ। ভয় বা লজ্জার কারণে চুপ না থেকে, স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিকের পার্থক্য জানা জরুরি। সচেতনতা থাকলে অযথা দুশ্চিন্তা কমবে। সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন, কটন ইনার ব্যবহার করুন, অপ্রয়োজনীয় ভ্যাজাইনাল ওয়াশ বা কেমিক্যাল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন, নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না।

ডা. ইসরাত শারমিন
সহকারী অধ্যাপক (গাইনী এন্ড অবস)
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।

ফাগুনের মনোহর রূপ নিয়ে আসুক আনন্দের ছোঁয়া
14/02/2026

ফাগুনের মনোহর রূপ নিয়ে আসুক আনন্দের ছোঁয়া

Address

Popular Diagnostic Centre, Bangla Bazar
Barishal
8200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Israt Sharmin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category