06/04/2026
দেশে হঠাৎই বাড়ছে হামের সংক্রমণ। এর ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
•হাম কী, রোগটি কীভাবে ছড়ায়, কাদের ঝুঁকি বেশি এবং কেন হঠাৎ এর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে—এই সম্পর্কে জানিয়েছেন এপেক্স কেয়ার হসপিটালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম।
•হাম কী, কীভাবে ছড়ায়?
-হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত একটি রোগ, যা মূলত ‘মিজেলস’ ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। রোগটি বায়ুবাহিত, যা শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত কারো সর্দি, হাঁচি, কাশি, কথা বলা বা শ্বাস নেওয়ার সময় হামের জীবাণু বা ভাইরাসযুক্ত কণা বাতাসে ছড়ায় এবং অন্যদের সংক্রমিত করে।
মিজেলস ভাইরাস এতটাই ছোঁয়াচে যে, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ৯০% মানুষই আক্রান্ত হবে।
ধরুন, একটা পেশেন্ট আক্রান্ত হলো, সে মাস্ক লাগায়নি, তার রুমে আপনিও মাস্ক ছাড়া ডুকলেন, তাহলে আপনার যদি মিজেলস এর টিকা নেওয়া না থাকে, তবে আপনিও মিজেলসে আক্রান্ত হবেন।
এই কারনে মিজেলস প্রতিরোধে করনীয় হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করে ফেলা, বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সের কোন শিশুকেই মিজেলস আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে নেওয়া যাবেনা। আক্রান্ত ব্যক্তির পানির গ্লাস সহ সব ব্যবহার্য জিনিস আলাদা রাখা হবে।
সাধারণত মিজেলস ভাইরাস শরীরে ঢোকার ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। র্যাশ বের হওয়ার ৪ দিন আগে থেকে পরবর্তী ৪ থেকে ৫ দিন পর পর্যন্ত ভাইরাস ছড়াতে পারে। এ ছাড়া আক্রান্তের হাঁচি, কাশি, শ্বাস নেওয়া ও কথা বলার মাধ্যমে ছড়ানো জীবাণু বাতাসে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
•কোন বয়সীরা আক্রান্ত হয়?
যেকোনো বয়সেই হাম হতে পারে। তবে ৫ বছর বয়সের নিচে শিশু এবং ২০ বছরের বেশি যাদের বয়স তাদের বেশি হয়।
•লক্ষণ
মিজেলস ভাইরাস সংক্রমণে জ্বর হয়। জ্বর ১০০ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে খুব ছোট ছোট র্যাশ দেখা দেয় মুখে, কানের পেছন থেকে, গলা ও বুকের দিকে। নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয় এবং কাশি হয়।
মিজেলস এর উপসর্গ কি?
যেহেতু মিজেলস বেশি হয় বাচ্চাদের, তাই বাচ্চারা মিজেলস আক্রান্ত হলে নিম্নের উপসর্গ দেখা দিতে পারে-
১. উচ্চ তাপমাত্রা সহকারে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসবে,
জ্বর ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে।
2. সার শরীরে কিছুটা ব্যাথা হতে পারে,
3. কাশি হতে পারে, শুকনো কাশি।
4. নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়বে বা সর্দি থাকবে
5. conjunctivitis হতে পারে
হাম হলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে অন্যান্য জটিলতা তৈরি হয়। এই রোগ হলে শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়, কানে সংক্রমণ, অপুষ্টি দেখা দেয়। অর্থাৎ হামের পাশাপাশি এসব রোগের লক্ষণও প্রকাশ পায়, যা শিশুর জন্য জটিল পরিস্থিতির কারণ হয়ে হয়ে দাঁড়াতে পারে।
•এসময় হামের রোগী বাড়ছে কেন?
টিকা না দেওয়ার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। টিকা না দেওয়ার পেছনে রয়েছে টিকার স্বল্পতা, বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে অনীহা।
দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৫ বছর বয়সী শিশুদের দুই বার এমএমআর, এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। শিশুর ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় ১৫ মাস বয়সে।
শিশুর ৯ মাস বয়সে টিকা দেওয়ার কথা অনেক অভিভাবকই ভুলে যান। শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি বা অসুস্থতা থাকলে টিকা দেওয়া যায় না। সেকারণেও অনেক সময় দেরি হয়। আবার অনেকে ৯ মাস বয়সের টিকা শিশুকে দিলেও ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা ভুলে যান। যে কারণে শিশু হামে আক্রান্ত হয়।
•করণীয়
হাম আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে ঘরে অবস্থান করতে হবে। হাম যেহেতু ভাইরাসজনিত রোগ, তা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে, জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল ও সর্দির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিতে হবে। শিশুকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে। লোক সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। হাম হলে শিশুকে স্কুলে পাঠানো যাবে না।
মিজেলস এর চিকিৎসা কি-
মিজেলস যেহেতু একটা ভাইরাস জনিত রোগ৷
আবার এখানে antiviral এর কোন রোল নাই, তাই symptomatic treatment দেওয়া হবে।
প্রথমত প্রচুর পানি খেতে বলবেন, সম্ভব হলে প্রতিদিন ১-২ টা ওরস্যালাইন অথবা ডাবের পানি-
বেড রেস্টে থাকবে। মাস্ক ব্যবহার করবে, আইসোলেশনে রাখা হবে।
জ্বরের জন্য
1. paracetamol oral or suppository
2. Runny nose: Fexo 120 mg once daily for 1 weeks or Antazole nasal drop. (বয়স অনুযায়ী ডোজ নির্ধারণ হবে)
3. Conjunctivitis এর জন্য olopatadine eye drop + artificial tear drop for 2 weeks
4. Xinc B BD (2 weeks)
মিজেলস এ বাচ্চাদের ভিটামিন -এ লেভেল কমে যায়, তাই মিসেলস আক্রান্ত বাচ্চাদের Vitamin A supplementary দেওয়া হবে ২ দিন ২ টা ডোজ-
ডোজ: বয়স ৬ মাসের কম হলে 50,000 unit
৬ মাস থেকে ১২ মাস : 1 lac unit
>12 month = 2 lac unit
2 dose
Day-1
Day-2
Severe case এ ৩ টা ডোজ দেওয়া হয়, 3rd dose ১৪ তম দিনে দেওয়া হয়;
বাজারে capsule Retinol forte 50,000 unit, 2 lac unit এইভাবে পাওয়া যায়, বাচ্চার ডোজ অনুযাই
ক্যাপসুল টা কিনে নিয়ে আসবেন,
যেমন ৬ মাসের বাচ্চা হলে 50000 unit এর একটা,
৬-১২ মাস হলে 50000 unit এর দুইটা অথবা 1 lac unit এর একটা - এইভাবে খাওয়াবেন।
ক্যাপসুল ছিদ্র করে লিকুইড টা খাওয়াবেন শুধু ।
ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টারী দিলে অনেক জটিলতা এড়ানো যায়.
Malnutrition baby যাদের নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা আছে, তাদের ক্ষেত্রে prophylactic antibiotics এর কথা অনেকে দিয়ে থাকেন, যদিও গাইডলাইনে এমন কিছু নাই,তবে malnourished দের ক্ষেত্রে prophylactic antibiotics দিতে ক্ষতি নাই-
র্যাশের জন্য করনীয় কি?
rash দেখে আতংকিত হবার কিছু নাই-
Tab : Biltin 20 mg Once daily
সাথে calamine lotion দিবেন।
লোশন চুলকানি থাকলে দিবে, না থাকলে দরকার নাই--
যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, অথবা নিউমোনিয়ার উপসর্গ শুরু হয়- বারবার বমি হয়, শিশু যদি নেতিয়ে পড়ে, জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি থাকে—তাহলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
✑কলমে
সাখাওয়াত রাসেল
পরিচালক,
এপেক্স কেয়ার হসপিটাল।