26/03/2026
“Kidney Health for All – Caring for People, Protecting the Planet”
ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) বা দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগ বর্তমান সময়ে একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। যখন কিডনি মাসের পর মাস ধীরে ধীরে তার কার্যক্ষমতা হারায়, তখন তাকে CKD বলা হয়।
ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) বা দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগীদের জন্য সঠিক জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা ওষুধের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনির কার্যক্ষমতা ভেদে পরামর্শ ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণ কিছু জরুরি উপদেশ নিচে দেওয়া হলো:
১. খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ (Dietary Care): ( নিচে সংযুক্ত)
২. রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:
কিডনি নষ্ট হওয়ার প্রধান দুটি কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস।
* রক্তচাপ: নিয়মিত প্রেশার মাপুন এবং তা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখুন।
* সুগার: ডায়াবেটিস থাকলে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। নিয়মিত Blood Sugar এবং HbA1c পরীক্ষা করান।
৩. ওষুধ অত্যন্ত সতর্কতার:
কিডনি রোগীদের (CKD) ক্ষেত্রে কিছু ওষুধ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হয়, কারণ কিডনি দুর্বল থাকলে শরীর থেকে ওষুধের বর্জ্য ঠিকমতো বের হতে পারে না। কিছু সাধারণ ওষুধ কিডনির কার্যক্ষমতা আরও দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে।
নিচে এমন কিছু ওষুধের তালিকা দেওয়া হলো যা CKD রোগীদের এড়িয়ে চলা উচিত বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একদমই খাওয়া উচিত নয়:
--->>>ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs)
কিডনি রোগীদের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হলো সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ।
যেমন--ডাইক্লোফেনাক (Diclofenac), আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen), নেপ্রোক্সেন (Naproxen), কিটোরোলাক (Ketorolac), এটোরিকক্সিব (Etoricoxib) ইত্যাদি।
---->>কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotics)
সব অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর নয়, তবে কিছু নির্দিষ্ট গ্রুপের ওষুধ কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
যেমন--অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড গ্রুপ (যেমন: Gentamicin, Amikacin)।
* সতর্কতা: যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহ
-->>আয়োডিনযুক্ত কনট্রাস্ট ডাই (Contrast Dye):
সিটি স্ক্যান (Contrast CT Scan) বা এনজিওগ্রাম করার সময় শিরায় যে বিশেষ রঙ বা ডাই দেওয়া হয়।
* সতর্কতা: এই কনট্রাস্ট মিডিয়া কিডনি বিকল (Acute Kidney Injury) করে দিতে পারে। পরীক্ষা করানোর আগে অবশ্যই টেকনিশিয়ান বা ডাক্তারকে আপনার কিডনির সমস্যার কথা জানান।
--->>>ভেষজ বা কবিরাজি ওষুধ (Herbal Medicine)
অনেক সময় মনে করা হয় ভেষজ ওষুধ নিরাপদ, কিন্তু কিডনি রোগীদের জন্য এটি মারাত্মক হতে পারে।
--->>ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম যুক্ত এন্টাসিড
সাধারণ বুক জ্বালাপোড়ার জন্য আমরা যে এন্টাসিড সিরাপ বা ট্যাবলেট খাই।
কিডনি জটিলতা থাকলে রক্তে ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম জমে গিয়ে স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস:
* ডোজ অ্যাডজাস্টমেন্ট: কিডনি রোগীদের অনেক সাধারণ ওষুধের ডোজ কমিয়ে দিতে হয় (Renal Dosing)। তাই প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ওষুধ কিনবেন না।
৪. পানি পানের নির্দেশনা:
কিডনি রোগীদের (CKD) ক্ষেত্রে কতটুকু পানি পান করা উচিত, তা পুরোপুরি নির্ভর করে রোগীর কিডনির বর্তমান অবস্থা বা স্টেজের ওপর। সবার জন্য পানির পরিমাণ এক রকম হয় না।
--->>>যাদের প্রস্রাব স্বাভাবিক হচ্ছে (প্রাথমিক স্টেজ)
যদি রোগীর শরীর বা পা না ফুলে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে তবে তিনি পিপাসা অনুযায়ী স্বাভাবিক পানি পান করতে পারেন। সাধারণত দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
--->>>যাদের শরীরে পানি জমছে বা প্রস্রাব কমে গেছে (অ্যাডভান্সড স্টেজ)
যখন কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করতে পারে না, তখন পানি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে একটি সাধারণ নিয়ম বা ফর্মুলা হলো:
* পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার মোট প্রস্রাবের পরিমাণ + ৫০০ মিলি (বা ২ গ্লাস) বাড়তি পানি।
* ধরুন, রোগী গত ২৪ ঘণ্টায় ১ লিটার প্রস্রাব করেছেন, তাহলে তিনি পরের দিন ১.৫ লিটার তরল গ্রহণ করতে পারবেন।
--->>>ডায়ালিসিস রোগীদের জন্য
যাদের ডায়ালিসিস চলছে, তাদের ক্ষেত্রে পানি নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে বেশি কঠোর হতে হয়। দুই ডায়ালিসিসের মধ্যবর্তী সময়ে যেন শরীরের ওজন ২ কেজির বেশি না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এই রোগীদের সাধারণত দিনে পানির পরিমান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
*******পানি হিসেবের সময় যা মনে রাখবেন (তরল খাবার)
শুধুমাত্র সরাসরি পানি পান করলেই হবে না, তরল জাতীয় সব খাবারই এই হিসেবের মধ্যে পড়বে:
* চা বা কফি
* ডাল বা তরকারির ঝোল
* দুধ বা দই
* ফলের রস
* বরফ কুচি
*****পানি কম খাওয়ার কারণে অনেক সময় প্রচণ্ড তৃষ্ণা পেতে পারে। সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
* ছোট গ্লাস ব্যবহার করুন: বড় গ্লাসের বদলে ছোট কাপ বা গ্লাসে পানি খান।
* বরফ কুচি: এক গ্লাস পানির চেয়ে একটি ছোট বরফ কুচি মুখে রাখলে বেশিক্ষণ তৃষ্ণা মেটে।
* মুখ কুলি করা: তৃষ্ণা পেলে পানি দিয়ে মুখ কুলি করে ফেলে দিন, এতে মুখ ভেজা থাকবে কিন্তু পেটে পানি যাবে না।
* লবণ কমান: খাবারে লবণ কম খেলে তৃষ্ণা কম লাগে।
# # # # # # কখন বুঝবেন পানি বেশি হচ্ছে?
* হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া।
* পায়ের গোড়ালি বা চোখের নিচে ফুলে যাওয়া।
* শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট হওয়া বা রাতে দম বন্ধ হয়ে আসা।
* রক্তচাপ (Blood Pressure) বেড়ে যাওয়া।
ডা: আবিদ
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও রিউমাটোলজিস্ট
সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন)