26/02/2026
সোরিয়াসিস ও দাদ কি আলাদা রোগ? পার্থক্য, লক্ষণ ও চিহ্নিতকরণ কীভাবে?
ত্বকের রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি দেখা যায় সোরিয়াসিস ও দাদকে ঘিরে। অনেকেই মনে করেন দুটো একই ধরনের সমস্যা, কিন্তু বাস্তবে এগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন রোগ। একটি হলো অটোইমিউন প্রদাহজনিত দীর্ঘস্থায়ী রোগ (সোরিয়াসিস), আরেকটি হলো ছত্রাকজনিত সংক্রমণ (দাদ বা রিংওয়ার্ম)। তাই সঠিকভাবে পার্থক্য বোঝা জরুরি, কারণ চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা।
সোরিয়াসিস কী
– এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী, অ-সংক্রামক ত্বকের রোগ।
– রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার কারণে ত্বকের কোষ দ্রুত জমা হয়।
– ফলে ত্বকে লালচে দাগ তৈরি হয়, যার উপর রূপালি বা সাদা আঁশ থাকে।
– সাধারণত কনুই, হাঁটু, মাথার ত্বক, পিঠে বেশি দেখা যায়।
– রোগটি ওঠা-নামা করে: কখনও তীব্র হয়, আবার কিছু সময়ের জন্য কমে যায়।
দাদ কী
– দাদ বা রিংওয়ার্ম হলো ছত্রাকজনিত সংক্রমণ।
– এটি সংক্রামক, অর্থাৎ একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়াতে পারে।
– ত্বকে গোলাকার রিং-এর মতো লালচে দাগ হয়, মাঝখানটা তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে।
– চুলকানি থাকে এবং ধীরে ধীরে দাগ বড় হতে থাকে।
– সাধারণত হাত, পা, বুক, পিঠ বা মাথার ত্বকে দেখা যায়।
সোরিয়াসিস বনাম দাদ: তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বিষয় | সোরিয়াসিস | দাদ |
কারণ | অটোইমিউন প্রতিক্রিয়া | ছত্রাক সংক্রমণ |
সংক্রামকতা | সংক্রামক নয় | সংক্রামক |
লক্ষণ | লাল দাগ, রূপালি আঁশ, শুষ্কতা, চুলকানি | গোলাকার রিং, মাঝখান পরিষ্কার, চুলকানি |
অবস্থান | কনুই, হাঁটু, মাথার ত্বক, পিঠ | শরীরের যেকোনো অংশ, বিশেষত আর্দ্র জায়গা |
সময়কাল | দীর্ঘস্থায়ী, ওঠা-নামা করে | চিকিৎসা করলে দ্রুত সারে |
চিকিৎসা | ইমিউন নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ, মলম, আলো থেরাপি | অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম, ওষুধ |
কীভাবে বুঝবেন কোনটি
– যদি দাগের চারপাশে রিং-এর মতো সীমারেখা থাকে এবং মাঝখান পরিষ্কার হয়, তবে এটি দাদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
– যদি দাগের উপর রূপালি আঁশ থাকে এবং দীর্ঘদিন ধরে ওঠা-নামা করে, তবে এটি সোরিয়াসিস হতে পারে।
– দাদ সাধারণত দ্রুত ছড়ায় এবং অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে, সোরিয়াসিসে তা হয় না।
– সোরিয়াসিসে রোগীর মানসিক চাপ, ঠান্ডা আবহাওয়া বা ইমিউন সিস্টেমের পরিবর্তনে সমস্যা বাড়তে পারে।
দাদ কি কখনো সোরিয়াসিসে রূপান্তরিত হতে পারে?
– রিংওয়ার্ম (Ringworm) হলো একটি ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে tinea বলা হয়। এটি সংক্রামক এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধে সাধারণত ভালো হয়ে যায়।
– সোরিয়াসিস (Psoriasis) হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ত্বকে মোটা, খসখসে, লালচে দাগ তৈরি করে। এটি সংক্রামক নয় এবং ছত্রাকজনিত নয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে রিংওয়ার্ম কখনোই সোরিয়াসিসে রূপান্তরিত হয় না। তবে, তাদের ত্বকের লক্ষণ (লালচে দাগ, চুলকানি, খসখসে ভাব) অনেক সময় একে অপরের সাথে মিলে যায়, ফলে ভুল নির্ণয় হতে পারে। তাই রোগীকে সঠিকভাবে পরীক্ষা করে আলাদা করা জরুরি।
চিকিৎসা ও করণীয়
– সোরিয়াসিস: চিকিৎসকের পরামর্শে ইমিউন নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ, মলম, আলো থেরাপি ব্যবহার করা হয়। জীবনধারায় পরিবর্তন (স্ট্রেস কমানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস) গুরুত্বপূর্ণ।
– দাদ: অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। কাপড়, তোয়ালে আলাদা ব্যবহার করতে হবে।
সোরিয়াসিস ও দাদ দেখতে কিছুটা মিল থাকলেও প্রকৃতিতে সম্পূর্ণ আলাদা। একটি দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ, অন্যটি ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। তাই ভুল চিকিৎসা এড়াতে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা জরুরি।
*চেম্বার ও যোগাযোগ*
হাকীম মো. মিজানুর রহমান
(ডিইউএমএস, বিএসএস)
গভ. রেজি. নং : 3546/A
ড্রাগ লাইসেন্স নাম্বার : CHA-3435 A/B.
চিকিৎসা কেন্দ্রের ঠিকানা
সততা প্লাজা,
ইবনে সিনা হেলথ কেয়ার
প্লট নং ২৬, গাউছিয়া মডেল টাউন
রামপুর বাজার (বলাখাল থেকে উত্তর দিকে),
হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর
প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন
ইমো : 01762240650
হোয়াটসঅ্যাপ: 01742057854
*চেম্বারের সময় : প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে ১২টা। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে চারটা। সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।*
*চেম্বারে আসার আগে উপরোক্ত নাম্বারে কল করে সিরিয়াল নিয়ে আসবেন।
আমাদের সেবাসমূহ : ডায়াবেটিস, শ্বেতী রোগ, যৌন রোগ, সোরিয়াসিস, দাদ, একজিমা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন, থাইরয়েড, পাইলস-ফিস্টুলা, টিউমার, জরায়ু টিউমার, ব্রেস্ট টিউমার, পলিপাস, টনসিল, মেহ প্রমেহ, আঁচিল, ব্রণ, বন্ধ্যাত্বর চিকিৎসা।
@ফলোয়ার
@সেরা ফ্যান