24/07/2023
বহুবছর আগ থেকে একটা কৌতূহল ছিল। আমিরে শরিয়ত সায়্যিদ আতাউল্লাহ শাহ বুখারি রাহ.-এর যত ছবি দেখেছি, সবগুলো ছিল টুপিহীন। খালি মাথা, বাবরি চুল, গাম্ভীর্যপূর্ণ চেহারা। কোনো ছবিতেই মাথায় টুপি বা পাগড়ি পরা দেখিনি। ভেবেছিলাম, ওই যুগে ক্যামেরা তো খুব বেশি এভেইলেবল ছিল না। কোনো ফটোগ্রাফার হয়তো হজরতের অপ্রস্তুত অবস্থায় কিছু বিক্ষিপ্ত ক্লিক নিয়ে নিয়েছে। এ কারণে ছবিগুলোতে মাথায় টুপি বা পাগড়ি চোখে পড়েনি।
একদিন কাকতালীয়ভাবে বাংলাদেশের এক মধ্যবয়স্ক বক্তার মুখে ব্যাখ্যা শুনলাম, আমিরে শরিয়তের মাথা ছিল মাত্রাতিরিক্ত বড়। তার মাথার সাইজের টুপি পাওয়া যেত না। এ কারণে তিনি টুপি পরতেন না। ব্যাখ্যাটা বেশ কিম্ভূতকিমাকার লাগল। ছবিগুলোর সঙ্গে মিলালাম। কেমন যেন মিলছিল না। মাথাকে অস্বাভাবিক রকমের বড় মনে হচ্ছিল না। তারপর আবার এ প্রশ্ন তো থেকেই যায়, কেনা টুপি না পেলে কী! টুপি তো কাপড় দিয়ে বানিয়েই নেওয়া যায়। কারাগারেও আমরা দেখেছি, টুপি যেহেতু পাওয়া যায় না, তাই বাধ্য হয়ে লুঙ্গি কেটে টুপি বানিয়ে পরত। লুঙ্গি যেহেতু এভেইলেবল ছিল, তাই এতে সমস্যা হতো না। বানানোও এত সুন্দর হতো, হঠাৎ কেউ দেখলে বুঝবেই না, এগুলো লুঙ্গি দ্বারা বানানো টুপি।
আজ মাওলানা মনজুর মেঙ্গল হাফি.-এর ব্যাখ্যা শুনে অন্তর প্রশান্ত হয়ে গেল। তিনি শুরু করলেন নিজের একটা কারগুজারি দিয়ে। তার একজন আফগান ছাত্রকে আইসক্রিম খেতে দিয়েছেন। সে বাটি থেকে দুউ চামচ আইসক্রিম মুখে দিয়ে কেঁদে ফেলল। তিনি অবাক হয়ে গেলেন। কারণ, জিজ্ঞেস করলে সে জানাল, উস্তাদজি, আমরা আইসক্রিম খাওয়ার অভ্যেস গড়িনি। যারা আইসক্রিম খায় বা এসি রুমে থাকে, সেসব বে গায়রত (আত্মমর্যাদাহীন) পাহাড়ের গিরিপথে দুশ*মন*দের সঙ্গে ল*ড়া*ই করে না। আমরা প্রত্যয় করেছি, দেশ হানাদারমুক্ত হওয়ার আগে এবং ইসলামকে বিজয়ী করার পূর্বে কোনো আইসক্রিম মুখে দেবো না, এসির বাতাস খেয়েও গা ঠাণ্ডা করব না।
আমিরে শরিয়ত সায়্যিদ আতাউল্লাহ শাহ বুখারি রাহ. বলতেন, ইংরেজ আমার পাগড়ি কেড়ে নিয়েছে। ইংরেজ আমার টুপি কেড়ে নিয়েছে। টুপি আর পাগড়ি তো পরে তারা, যাদের ইজ্জত আছে। ওরা তো আমাদের ইজ্জত ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। আল্লাহর কসম, যতদিন ওদের বিতাড়িত করতে না পারব, মাথায় টুপি বা পাগড়ি পরব না। যেদিন দেশ ইংরেজমুক্ত হবে, সেদিন আমার মাথায়ও ইমামা (পাগড়ি) শোভা পাবে। কতটা সুউচ্চ ছিল তাদের আত্মমর্যাদাবোধ! সুবহান তেরি কুদরত!
🖋️লিখেছেন মুফতী Ali Hasan Osama হাফিঃ।
আয় আল্লাহ আপনি হযরত কে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন 🤲