নারী স্বাস্থ্যঃ ডাক্তারি পরামর্শ - Nari Swastha by Dr. Swati

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • নারী স্বাস্থ্যঃ ডাক্তারি পরামর্শ - Nari Swastha by Dr. Swati

নারী স্বাস্থ্যঃ ডাক্তারি পরামর্শ - Nari Swastha by Dr. Swati Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from নারী স্বাস্থ্যঃ ডাক্তারি পরামর্শ - Nari Swastha by Dr. Swati, Health & Wellness Website, 20/B K. B Fazlul kader Road (Opposite Chittagong medical college ), Chittagong.

এই পেজ বন্ধ্যাত্ব ও নারী স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করার জন্য।
এছাড়া চট্টগ্রামে ইনফার্টিলিটি ও আইভিএফ এর মাধ্যমে ডা.ফাহমিদা রশীদ স্বাতির চিকিৎসা সহায়তা প্রদান বিষয়ক তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করার জন্য।

https://www.facebook.com/share/p/1Bywdww9aG/?mibextid=wwXIfr
01/10/2025

https://www.facebook.com/share/p/1Bywdww9aG/?mibextid=wwXIfr

কিশোরীদের পিসিওএস: বেড়ে ওঠার পথে একটি নীরব সঙ্কট:

#পিসিওএস কী?
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) হলো একটি হরমোনজনিত সমস্যা, যা কিশোরী বয়সেই শুরু হতে পারে। এতে মাসিক চক্র অনিয়মিত হয়, ডিম্বাশয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সিস্ট তৈরি হয় এবং শরীরে পুরুষ হরমোনের প্রভাব বেড়ে যায়। বাংলাদেশে শহর ও গ্রামে ক্রমশই কিশোরীদের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।

#কিশোরীদের মধ্যে সাধারণ লক্ষণ
মাসিক অনিয়মিতা: মাসিক দেরিতে আসা, দীর্ঘদিন না হওয়া বা অত্যধিক রক্তপাত হওয়া
ব্রণ ও তৈলাক্ত ত্বক
অতিরিক্ত লোম মুখে, বুকে বা পেটে
চুল পড়া বা টাকভাব
ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতা
মানসিক অস্থিরতা যেমন আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া বা ডিপ্রেশন

#কেন হয়?
প্রেজেন্টেশনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী—
জিনগত প্রভাব (বংশগত প্রবণতা)
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন (ফাস্টফুড, কম শারীরিক পরিশ্রম)
—এসব প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।

#দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
যদি প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে—
বন্ধ্যাত্ব
ডায়াবেটিস
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ
মেটাবলিক সিন্ড্রোম
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
—এর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

#করণীয়
প্রেজেন্টেশনের মূল বার্তা অনুযায়ী—
সুস্থ খাদ্যাভ্যাস: সবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া; ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া ও মিষ্টি কমানো।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা দৌড়ানো।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অল্প ওজন কমলেও হরমোন ভারসাম্য ফিরে আসে।
মাসিক অনিয়ম বা উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

কিশোরীদের পিসিওএস এখন এক বাস্তব চ্যালেঞ্জ। এটি মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ মাতৃত্বকেও প্রভাবিত করে। তবে সময়মতো সচেতনতা, সঠিক জীবনযাপন ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
পিসিওএস কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং সচেতনভাবে মোকাবিলা করার মতো একটি স্বাস্থ্য সমস্যা।

ডা. ফাহমিদা রশীদ
সহকারী অধ্যাপক, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
কনসালটেন্ট, শেভরন ফার্টিলিটি সেন্টার
চেম্বার: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার (রুম ৬০৬)

26/11/2020

নরমাল ডেলিভারি প্রত্যাশা করছেন?
প্রেগন্যান্সি গ্লো-তে এখন চকচক করছে আপনার চোখ, মুখ। মা হওয়ার অনুভূতি সব সময় আনন্দে রাখছে আপনাকে। চিন্তা শুধু একটা বিষয় নিয়েই। নরমাল ডেলিভারি হবে তো? নাকি সেই কাঁটাছেঁড়ার মধ্যে দিয়েই যেতে হবে? চিন্তা করবেন না। যদি আপনার বড়সড় কোনও জটিলতা না থাকে তবে গর্ভাবস্থায় কিছু জিনিস মেনে চললেই স্বাভাবিক ভাবে সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন।
বেশীরভাগ নারীই নরমাল ডেলিভারি প্রত্যাশা করেন। তারপরও শারীরিক অবস্থার কারণে সিজার করানোর প্রয়োজন হতে পারে।
কিছু বিষয় আপনাকে নিরাপদ প্রসবের অনেকটা নিশ্চয়তা দিতে পারে।
প্রথমবার মা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রসব বেদনা আঁচ করতে পারাটা খুবই কঠিন।
নরমাল ডেলিভারির কিছু টিপস--
১। ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন
যদি আপনার ব্যায়াম করার অভ্যাস না থাকে তাহলে গর্ভাবস্থায় শুরু করুন কোন অজুহাত না দেখিয়ে।
প্রসবের চাপ সহ্য করার জন্য শ্রোণি অঞ্চলের পেশী ও উরুর পেশীকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যায়াম করুন।
কীভাবে এই ব্যায়াম করতে হয় না জানলে আপনার চিকিৎসকের সাহায্য নিন। মনে রাখবেন সঠিক পদ্ধতিতে ব্যায়াম না করলে আপনারই ক্ষতি হতে পারে।
যোগব্যায়াম-
নরমাল ডেলিভারির জন্য অত্যন্ত উপকারী যোগব্যায়াম।
এতে শরীরের পেশি শিথিল থাকবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমনকী স্ট্রেস কমবে।
ডেলিভারির যন্ত্রণা কম করতে তাই নিয়মিত যোগব্যায়াম করুন। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে।
২। স্ট্রেসমুক্ত থাকুন--
স্ট্রেসকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে।
গর্ভাবস্থায় আপনি যদি আপনার মনকে প্রশিক্ষিত করতে পারেন স্ট্রেস মুক্ত থাকার জন্য তাহলে ডেলিভারির সময়টাতেও স্ট্রেস মুক্ত থাকাটা খুব কঠিন হবেনা।
প্রসবের সময় স্ট্রেস অনুভব করলে অক্সিটোসিন হরমোনের উৎপাদন কমে যায়।
এই হরমোনটি প্রসবের সময় সংকোচন ঘটায়।
স্ট্রেসের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে প্রসব দীর্ঘায়িত হয়।
নরমাল ডেলিভারির জন্য শরীর সুস্থ, ঝরঝরে রাখা প্রয়োজন। স্ট্রেস বাড়লেই শরীর খারাপ হবে। নিজেকে সব সময় খুশি রাখুন। প্রয়োজনে মনোবিদের কাছে যান। প্রেগন্যান্সি মাসাজ নিলেও স্ট্রেস কমে।
৩। দমচর্চা করুন--
সঠিক ভাবে দমচর্চা করলে স্ট্রেসের মাত্রা কমতে সাহায্য করে, এনার্জিকে উদ্দীপিত করে এবং গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও গঠনের উন্নতিতে সাহায্য করে।
দম চর্চার ফলে শিশু পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় এবং প্রসবের সময় মায়ের সাথে সহযোগিতা করতে পারে।
৪। নরমাল ডেলিভারির ভয়ংকর ঘটনা শোনা এড়িয়ে চলুন--
অনেক নারীই হবু মায়েদের প্রসবের ভয়ংকর ঘটনা বলতে পছন্দ করেন। নেতিবাচক গল্প প্রসবের সময় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ধরণের গালগল্প শোনা থেকে বিরত থাকুন।
৫। সঠিক খাবার খান--
প্রেগনেন্সি, প্রসব ও শিশুর জন্মের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে খাবার।
কিন্তু খাওয়া নিয়ে প্রচলিত মিথ এড়িয়ে চলুন, যেমন- গর্ভাবস্থায় ঘি বা তেল গ্রহণ করলে শিশু খুব সহজেই ভূমিষ্ঠ হয়।
মনে রাখবেন পরিপাক নালীর সাথে বার্থ ক্যানেলের কোন সম্পর্ক নাই।
পুষ্টিকর খাবার খাওয়া আপনাকে সুস্থ রাখতে ও শক্তিশালী করতে এবং শিশুর বৃদ্ধি ও গঠনের উন্নতিতে সাহায্য করে।
একজন সুস্থ মায়ের স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সঠিক পুষ্টি ভ্রূণকে জন্ম প্রক্রিয়ার স্ট্রেস সহ্য করতে সাহায্য করে।
কিন্তু আপনার ওজন যেন অস্বাভাবিক পর্যায়ে না চলে যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
কারণ অধিক ওজন স্বাভাবিক প্রসবকে বাঁধাগ্রস্থ করতে পারে।
৬। প্রেগনেন্সি ও প্রসবের বিষয়ে জানুন--
বর্তমানে প্রেগনেন্সি ও প্রসবের উপর অনেক বই পাওয়া যায়। এগুলো পড়ে আপনি নিজেকে প্রস্তুত করে নিন।
৭। পানি ব্যবহার করুন
পানি একমাত্র উপাদান যা আপনার লেবার পেইন কমাতে এবং নরমাল ডেলিভারি হতে সাহায্য করে। বাথটাবে উষ্ণ পানিতে বসে থাকুন। এছাড়াও প্রচুর পানি পান করুন।গর্ভাবস্থায় প্রতি দিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল খান।
৮। হাঁটুন
প্রেগনেন্সির সময়টাতে হাঁটুন। কারণ হাঁটলে অবসাদ দূর হয়। আপনার পক্ষে যদি অনেকক্ষণ হাঁটা সম্ভব না হয় তাহলে অল্প দূরত্বে কিছুক্ষণের জন্য হলেও হাঁটুন।
৯।অ্যাকটিভ লাইফস্টাইল-
অনেকে প্রেগন্যান্সির গোটা সময়টাই শুয়ে বসে কাটিয়ে দেন।
এটা একেবারেই উচিত্ নয়।
যদি চিকিত্সক আপনাকে বেড রেস্টে থাকতে না বলেন, এবং অন্য কোনও জটিলতা না থাকে তাহলে সচল থাকুন।
বাড়ির হালকা কাজকর্ম করুন।
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে যোগাসন বা হালকা ব্যয়াম করুন।
সকাল, সন্ধে হাঁটতে যান।
এতে ওজন কম থাকবে, শরীর সুস্থ থাকবে, নরমাল ডেলিভারির চান্সও বাড়বে।
১০।জন্মের পরিকল্পনা-
গর্ভাবস্থার শুরুতেই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরিকল্পনা করে নিন। আপনার সমস্যার কথা খুলে বলুন। ডাক্তারের নির্দেশ, নিয়ম মেনে চলুন। এতে চিন্তা কম হবে। গোটা ব্যাপারটাই অনেক সহজ হয়ে যাবে।
১১।অভিভাবকদের ক্লাস-
বাচ্চার জন্মের আগে বাড়ির কাছেপিঠে কোনও পেরেন্টাল ক্লাসে যান(যদি থাকে)।
এই সব ক্লাসে কীভাবে সহজে, কম কষ্টে ও কম সময়ে বাচ্চার জন্ম দেওয়া যাবে শেখানো হয়।
গর্ভধারণের পর থেকেই উত্তেজনার পাশাপাশি চিন্তা ও ভয় চলে আসে। দিন যতই এগিয়ে আসে যন্ত্রণার ভয়, অজানা আতঙ্ক ততই বাড়তে থাকে।
এ কারণে অনেকে অপারেশন বা সিজারিয়ানের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। নরমাল ডেলিভারির পর্যায়গুলো জানা থাকলে প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
নরম্যাল ডেলিভারির পর্যায়গুলো--
প্রথম ধাপকে-- তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রাথমিক পর্যায়--
সার্ভিক্স ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে শুরু করে।
খুব বেশি যন্ত্রণা না হলেও পিরিয়ডের সময় যে রকম খিঁচ ধরে পেটের পেশীতে সে রকম যন্ত্রণা অনুভূত হয়।
কোমরের নিচের দিকে, তলপেটে ৩০-৬০ সেকেন্ড এই ব্যথা স্থায়ী হয়। ৫-২০ মিনিটের মধ্যে ব্যথা ফিরে ফিরে আসে।
সকলের ক্ষেত্রে এই সময় এক থাকে না।
দ্বিতীয় পর্যায়ে--
একে বলা হয়ে থাকে সক্রিয় গর্ভযন্ত্রণা।
এই সময় সার্ভিক্স প্রায় ১.৬ থেকে ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
কোমরের দিক থেকে পেটের দিকে আসতে থাকে ব্যথা।
৩-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ব্যথা স্থায়ী হয়।
এই সময় গরম জলে স্নান করলে আরাম পাবেন।
তৃতীয় পর্যায়ে--
সার্ভিক্স ৩-৪ ইঞ্চি প্রসারিত হয়।
যন্ত্রণা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বমি পেতে থাকে, ঘাম হয়, কাঁপুনি দিতে থাকে।
তৃতীয় পর্যায় খুব কম সময়ের হলেও সবচেয়ে কঠিন।
১৫ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
ডাক্তার না বলা পর্যন্ত এই সময় ‘পুশ’ করা উচিত নয় ।
দ্বিতীয় ধাপ-পুশ
দ্বিতীয় ধাপেই শিশুর জন্ম হয়।
এই সময় পুশ করতে বলা হয় ।
‘পুশ করার সঙ্গে সঙ্গেই রিল্যাক্স থাকতে হবে।
এক সঙ্গে পুশ ও রিল্যাক্স করা কঠিন হলেও তা সম্ভব।
ডাক্তার যেভাবে বলেন সেভাবেই পুশ করুন।
প্রথমে শিশুর মাথা বেরিয়ে আসে। সেই সময় একটু জ্বালা করলেও ধীরে ধীরে কমে আসে।
তৃতীয় ধাপ-প্লাসেন্টা
তৃতীয় ধাপে প্লাসেন্টা শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসে।
প্লাসেন্টা বেরনো পর্যন্ত জরায়ুর সংকোচন হবে।
ডাক্তার, নার্সরা এই সময় পেটে হালকা মাসাজ করতে থাকেন।
এই পর্যায় কিছু অস্বস্তিকর।
প্লাসেন্টা বেরিয়ে আসার পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চিকিত্সকরা।
এই সময় যোনিতে অসম্ভব ব্যথা অনুভূত হয়।
চতুর্থ ধাপ
ডেলিভারি শেষ।
জরায়ুর কিছু কাজ বাকি থেকে যায় এই সময়।
জরায়ু আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার কারণে সংকোচন অনুভূত হয়। কিন্তু এই সময় ব্যথা হয় না।
নরম্যাল ডেলিভারির পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দু’দিন সময় লাগে।
এই সময় হাসপাতালে থাকতে বলা হয় ।

(Compiled)
প্রচুর পরিমাণ পানি খেয়ে শরীর হাইড্রেটেড রেখে মলত্যাগ স্বাভাবিক হলে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ-কোভিডঃশুরতে কোভিড নিয়ে জনমনে একটা ধারনা ছিল- "কোভিড হয় মারবে, নয় খারাপ ধরনের জ্বর শেষে ভালো হয়ে যাবে।" বিশ্ব চরাচর...
26/11/2020

দীর্ঘ-কোভিডঃ
শুরতে কোভিড নিয়ে জনমনে একটা ধারনা ছিল- "কোভিড হয় মারবে, নয় খারাপ ধরনের জ্বর শেষে ভালো হয়ে যাবে।"
বিশ্ব চরাচরে কোভিড আসার প্রায় আট মাস পর যেন সব হিসেব উলট-পালট হয়ে গেছে।এখন মনে হচ্ছে কোভিড এক গোলকধাঁধা। এর মোড় কোন দিকে ঘুরবে তা বুঝে উঠা খুব কঠিন। এই ভাইরাস যার শরীরে একবার বাসা বেঁধেছে তাকে অনেক দিন নাকানিচুবানি খাইয়ে তবেই ছাড়ছে।এই নাকানিচুবানির নাম দেয়া হয়েছে- দীর্ঘ কোভিড (long covid)।
"দীর্ঘ কোভিড" হল..যারা কোভিড থেকে সেরে উঠেছে কিন্তু এখনো তাদের কিছু সমস্যা থেকে গেছে বা কোভিডের উপসর্গ স্বাভাবিকের চেয়ে( কয়েক সপ্তাহ, মাসব্যাপী) বেশি দিন ধরে আছে।
ডাক্তার থেকে শুরু করে অনেক রোগী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের এ কষ্টের কথা বর্ননা করতে গিয়ে এটিকে "ভয়ংকর ও দীর্ঘ" বলছেন ।কোভিড রোগীর অভিজ্ঞতা যেন রোলারকোস্টার জার্নি।অনেকের হয়তো এ দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়না, কিন্তু কষ্ট পেতে হচ্ছে বাসায় থেকেই। নানা রকম উপসর্গ সপ্তাহের পর সপ্তাহ থেকে যাচ্ছে তাদের। ফলশ্রুতিতে সম্পূর্ন সেরে উঠেও কর্মক্ষম হতে পারছে না অনেকেই।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞের রুমে "দীর্ঘ কোভিড" রোগীর ভীড় বেড়ে গেছে এখন।শুধু শারীরিক সমস্যা নয়... মানসিক, নিউরোলজিক্যাল সমস্যাও এর মাঝে অন্তর্ভুক্ত। তাই এ গ্রুপের রোগীদের কীভাবে চিকিৎসা করতে হবে বা কি কাউন্সেলিং করা লাগবে.. তার জন্য সঠিক গাইডলাইন জরুরি এবং তা বের করার চেষ্টাও চলছে ।
এখনো দীর্ঘ কোভিডের উপর গবেষণালব্ধ ফলাফল কম।ইটালির এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়া প্রতি ১০ জনের ৯ জনই... কোভিড থেকে সেরে উঠার পরও কমপক্ষে একটা উপসর্গে ভুগছে(ধরা পড়ার ৬০ দিন পরও)।সমীক্ষায় ৩২% এর এক/ দুইটা আর ৫৫% এর তিন/তার অধিক উপসর্গ ছিল।যদিও কারো জ্বর বা জরুরি কোন উপসর্গ ছিল না। উপসর্গের মাঝে ছিল-ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, জয়েন্ট ব্যথা,বুকে ব্যথা ,মাংস পেশীর ব্যথা,ঝাপসা চিন্তা( brain fog),স্মৃতি ভ্রম,মনোযোগের অভাব,ডিপ্রেশন, মানসিক সমস্যা,চুল পড়া ইত্যাদি। দুই পঞ্চমাংশের মতে তাদের জীবনযাত্রার মান আগের চেয়ে পরিবর্তন বা অবনতি হয়েছে।
লন্ডনে ৪ মিলিয়ন লোকের উপর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের ১ জন কোভিড রোগীর ৩ সপ্তাহ বা তার চেয়ে বেশী দিন উপসর্গ ছিল...যদিও বেশীর ভাগই দু'সপ্তাহের মাঝেই ভাল হয়ে যায়।
কোভিড সার্ভাইভারদের থেকে যাওয়া সমস্যা গুলো হলো-শ্বাসের সমস্যা, অতিরিক্ত দুর্বলতা,মাংসপেশির শিথিলতা ,নিত্যদিনের কাজ-কর্ম করতে সমস্যা, মানসিক সমস্যা- PTSD, উদ্বিগ্ন থাকা, ডিপ্রেশন । এইতো,ক'দিন আগে আমারই এক পরিচিত রোগী কোভিড থেকে ভাল হয়ে বাসায় ফেরার কিছুদিন পর হঠাৎ করে আত্মহত্যা করে বসলো।
একটা ব্যাপারে সব গবেষকেরাই একমত...সেটা হলো --"কোভিড এখনো অজানা"। কেন, কি সমস্যা হচ্ছে, কি করনীয় -তা নিয়ে রাত-দিন গবেষণা চলছে।
কি দিয়ে এর চিকিৎসা করা যাবে তা এখনো পরিস্কার নয়। তবে যারা দীর্ঘ কোভিডে ভুগছে তাদের ডাক্তার, নার্স,ফিজিওথেরাপি, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দরকার হতে পারে এবং সবার সমন্বিত চেষ্টা দিয়েই রোগী উপকৃত হবে/হচ্ছে। ব্যায়াম,পারস্পরিক যোগাযোগ, মানসিক সাপোর্ট তাদের তাড়াতাড়ি সারিয়ে তুলছে।এছাড়া বিশ্রাম,নিজেকে কোন কিছু করার জন্য অতিরিক্ত চাপ না দেয়া, ভালো খাওয়া-দাওয়া করা,প্রচুর পানি খাওয়া ইত্যাদিও খুব গুরুত্বপূর্ন।
কোভিডের আদ্যোপান্ত বুঝে উঠার জন্য দরকার 'সময়' এবং গবেষকরা সময় নিয়ে সবরকম নিরীক্ষার জন্য প্রস্তুত। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া কোভিড রোগীকে আরো এক বছর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের চিন্তা চলছে। তা থেকে হয়তো ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পদ্ধতি বের করা হবে।
পৃথিবী আবার সুস্থ হবে।হয়তো একদিন পৃথিবী থেকে এ রোগ চলে যাবে।কিন্তু যারা ভুক্তভোগী তাদের শরীর ও মনে এটি কেমন ছাপ রেখে যাবে তা সময় বলে দিবে। বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মতোই এই ভাইরাসের ভয়াবহতার ছাপ হয়তো শত শত বছর মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাবে।
ডাঃ ফাহমিদা রশীদ স্বাতি
সহকারী অধ্যাপক
গাইনি
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।

--একনি'র ভাই 'মাস্কনি'--একনি(ব্রণ) চেনেনা এমন কেউ নেই।কিন্তু 'মাস্কনি'!!মানে মাস্ক-ব্রণ!এ রোগ তো আমার কাছে এক্কেবারে নতু...
26/11/2020

--একনি'র ভাই 'মাস্কনি'--
একনি(ব্রণ) চেনেনা এমন কেউ নেই।কিন্তু 'মাস্কনি'!!মানে মাস্ক-ব্রণ!এ রোগ তো আমার কাছে এক্কেবারে নতুন। কোভিড তার দুর্দান্ত প্রতাপে কত কত নতুন সমস্যার পসরা সাজিয়েছে! এই মাস্ক-ব্রণ তার মধ্যে একটা।
কি এটা?
-মাস্ক এখন সবার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিয়মিত এই মাস্ক পরার কারনে এই নব্য রোগ মাস্ক-ব্রণ এর সৃষ্টি।
বর্তমানে ডাক্তার যারা হাসপাতালে কাজ করছেন তারা এন-৯৫,এর উপর সার্জিক্যাল মাস্ক,এর উপর ফেস শিল্ড বা গগলস - কত কিছুই না পরছে! কর্তব্য পালনে ৬ থেকে ১২ ঘন্টা করে এসব পরে থাকতে হয় প্রতিদিন ।রোজ এসব ঝক্কির আবরন দীর্ঘক্ষন পরে থাকার কারনে চোখে দেখা যায়না এমন ক্ষত তৈরী হয় মুখের চামড়ায়..যার ভেতর দিয়ে ব্যাকটেরিয়া ও ময়লা খুব সহজেই চামড়ায় থাকা ছিদ্র দিয়ে ঢুকে তৈরী করে প্রদাহ। ফলে লোমকূপ গুলোর মুখ বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় ব্রণ।এছাড়া মাস্ক পরার কারনে এর নীচের মুখের অংশটুকু থাকে স্যাঁতসেঁতে,ভেজা। এর কারনেও লোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে তৈরী হয় মাস্ক-ব্রণ।
এটা তিন ভাবে দেখা যায়-
-সাধারন ব্রণের মত।
-ব্রণে ইনফেকশন।
-নাকের চারপাশে চামড়া উঠা বা ডার্মাটাইটিস ।
এসমস্যা গুলো মন খারাপ করিয়ে দেয়ার মত।কেননা এগুলোর হলে আয়নায় নিজেকে দেখতে কার ভাল লাগে! অনেক সময় ওই জায়গাগুলোতে ইনফেকশন এর কারনে ব্যথাও হতে পারে।
কিভাবে রুখতে হবে?
যেহেতু মাস্ক সহজেই আমাদের জীবন থেকে যাচ্ছে না আজ- কালের মধ্যে। তাই এখন থেকে একটু বেশিই যত্নশীল হতে হবে নিজের প্রতি ।
যা যা করা যেতে পারে---
*মুখ পরিস্কার রাখা।
* মাস্কের নীচে হালকা পানিযুক্ত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা...যেটা মাস্ক ও ত্বকের মাঝে barrier হিসেবে কাজ করবে।
*বারে বারে স্যালিসাইলিক এসিড যুক্ত ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া।এতে করে ব্রন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া শুধু না, করোনা ভাইরাসও কাছে ঘেঁষতে পারবে না।
*বাইরে থেকে বাসায় এসে মুখ ধোয়ার সময় exfoliator ব্যবহার করা।এটা বন্ধ থাকা লোমকূপ খুলে দিবে।
*পরিষ্কার মাস্ক পরে থাকা। যদি কাপড়ের মাস্ক হয় তবে প্রতিবার পরার আগে ধুয়ে, শুকিয়ে পরা ।
*যদি সম্ভব হয়, মানে নিরাপদ হয় তাহলে কিছুক্ষণ পর পর মাস্ক খুলে নিলে মুখ স্যাঁতসেঁতে হবে না।*মাস্কের নীচে প্রসাধনী ব্যবহার না করা।
*প্রচুর পানি খাওয়া।এতে ত্বক পানিশূন্য হবেনা।লোমকূপ থেকে নির্যাস বের হয়ে মুখ আর্দ্র রাখবে।ব্রণও কম হবে।
*মাস্ক পরিবর্তন করে দেখা যায়।অনেক সময় মেটেরিয়াল এর এলার্জির(contact dermatitis) কারনেও এরকম হতে পারে।
চিকিৎসাঃ
যদি মাস্কের কারনে প্রেশারপয়েন্টে ডার্মাটাইটিস হয়ে লাল হয়ে যায়, চামড়া ওঠে,ক্ষত তৈরী হয় বা ব্রণে প্রদাহ হয় তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ লাগবে।
করোনা সহজে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছেনা।এ মাস্ক হয়তো পরতে হবে আরো অনেক অনেক দিন।তাই 'মাস্কনি' থেকে মুক্ত থাকতে গেলে এসময় ত্বকের যথাযথ যত্ন নিতে হবে । এবং এই "নিউ নরমাল" রোগ এর ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে।
ডাঃ ফাহমিদা রশীদ স্বাতি
সহকারী অধ্যাপক
গাইনি
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।

অনিয়মিত মাসিক:দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময় যদি বার বার পরিবর্তন হতে থাকে, তাহলে তাকে অনিয়মিত মাসিক বলে। অনিয়ম দুইভাবে হতে প...
26/11/2020

অনিয়মিত মাসিক:

দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময় যদি বার বার পরিবর্তন হতে থাকে, তাহলে তাকে অনিয়মিত মাসিক বলে। অনিয়ম দুইভাবে হতে পারে-ঘন ঘন, নয়তো দেরিতে দেরিতে।


মাসিকের চক্র কিভাবে হিসাব করতে হয়?

এক মাসিকের প্রথম দিন থেকে আর এক মাসিকের প্রথম দিন পর্যন্ত যে সময় সেটাই হলো এক মাসিক চক্র। সাধারণত ২৮ দিন পরপর মাসিক হয়। যদিও ২১ থেকে ৩৫ দিন অন্তর পর্যন্ত স্বাভাবিকতার তারতম্য হতে পারে। একবার মাসিক হলে সাধারণত ২-৮ দিন থাকে এবং এক মাসিকে মোট ৫-৮০ মিলি পর্যন্ত রক্ত যেতে পারে। এই তিনটার যেকোনো একটার অনিয়ম মানেই অনিয়মিত মাসিক।

কেন হয়?

বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত মাসিক হয়। যেমন-

১) সাবালিকা হওয়ার প্রথম ১-২ বছর ডিম্বাশয়ের অপরিপক্বতার জন্য।

২) মেনোপজ হওয়ার আগের ৪-৫ বছর হরমোনের তারতম্যের জন্য।

৩) কিছু কিছু পিল খাওয়ার সময় বা কপার-টি দেওয়া অবস্থায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য।

৪) বুকের দুধ খাওয়ানো অবস্থায় হরমোনের তারতম্যের জন্য।

৫) খুব বেশি ব্যায়াম করলে।

৬) অতিরিক্ত টেনশনে থাকলে।

৭) হঠাৎ খুব ওজন বেড়ে বা কমে গেলে।

৮) হরমোনজনিত রোগ পিসিওএস হলে।

৯) থাইরয়েড রোগীদের।

১০) স্ত্রী রোগ যেমন-জরায়ুর পলিপ, ফাইব্রয়েড টিউমার, জরায়ুর প্রদাহ ও এন্ডোমেট্রোসিস রোগ হলে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

কয়েকদিন মাসিক এদিক ওদিক হলেই ডাক্তারের কাছে দৌড়ানোর দরকার নেই। অথবা সাবালিকা হওয়ার কয়েকবছর মাসিক দেরিতে দেরিতে হলেই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার নেই।

কিন্তু নীচের সমস্যাগুলো থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সমস্যাগুলো হলো-

১) হঠাৎ করে যদি মাসিকের চক্র পরিবর্তন হয় এবং রোগীর বয়স ৪৫ এর কম হয়।

২) ২১ দিনের চেয়ে কম সময়ে বা ৩৫ দিনের চেয়ে বেশি সময়ে মাসিক হলে।

৩) মাসিক ৭ দিনের চেয়ে বেশি থাকলে বা ৩ দিনের চেয়ে কম হলে।

৪) সর্বনিম্ন মাসিক ও সর্বোচ্চ মাসিক হওয়ার দিনের মাঝে ২০ দিনের অধিক তফাৎ থাকলে।

৫)অনিয়মিত মাসিক, কিন্তু বাচ্চা নিতে চান।

কেন মাসিক নিয়মিত হওয়া জরুরি?

অনিয়মিত মাসিক এর সাথে অনেক দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা জড়িত বলেই মাসিক নিয়মিত হওয়া জরুরি। মেয়েদের পরিপাক, ঘুম, বাচ্চা হওয়া সবই এর সাথে সম্পর্কিত।

ডাক্তার কি করবেন?

অনিয়মিত মাসিকের রোগীদের গত ৬ মাসের মাসিকের ক্যালেন্ডার রাখতে বলা হয়। কি ধরনের মাসিকের সমস্যা তা ক্যালেন্ডার দেখলে বোঝা যায়। এছাড়া ডাক্তার রোগীর হিস্ট্রি, শারীরিক পরীক্ষা , কিছু রক্তপরীক্ষাসহ আলট্রাসাউন্ড করে জরায়ু ও তার আশপাশে কোন সমস্যা আছে কিনা তা নির্ণয় করবেন।

কিশোরীর অনিয়মিত মাসিক

কিশোরীদের অনিয়মিত মাসিকের কারণগুলো হলো-

১) ডিম্বাশয়ের অপরিপক্বতা, যার কারণে মেয়েলি হরমোন ইসট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনের তারতম্য হয় এবং মাসিক যে পর্দা থেকে হয় সে পর্দা নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা এবং ভাঙতে শুরু করে। (পরিপক্ব ডিম্বাশয় হলো সেটা যেটা থেকে প্রতি মাসে একটা করে ডিম্বাণু ফুটে বের হয়। কিশোরীর ডিম্বাশয় পরিণত হতে সাধারণত কয়েক বছর সময় লেগে যায়। এজন্য এ কয় বছর মেয়েদের মাসিক অনিয়মিত হয়, ওজন পরিবর্তন হয় ও মানসিক পরিবর্তন হয়।)

২) পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রম, যেখানে অনিয়মিত মাসিকের সাথে হাতে-পায়ে ও মুখে অবাঞ্ছিত লোম হয় এবং ঘাড়ে ও গলায় কালো দাগ পড়ে যায়। ওজন বেড়ে যায়।

৩) এছাড়া যেসব কিশোরীর থাইরয়েডের সমস্যা আছে।

যে সব কিশোরীর মাসিক অনিয়মিত তাদের চিন্তা থাকে কখন মাসিক হবে, কখন মাসিক হবে। তাদের মাসিক কখন হবে বোঝার জন্য কিছু লক্ষণ আছে।

সেগুলো হলো-

১) কোমরের পেছনে ক্রাম্পিং পেইন।

২) ব্রেস্ট ভার ভার লাগা।

৩) মাথা ব্যথা।

৪) ব্রণ।

৫) ঘুমের সমস্যা।

৬) মেজাজ পরিবর্তন।

৭) পেট ফাঁপা।

৮) নরম পায়খানা।

কিশোরীরা কিভাবে তৈরি থাকবে মাসিকের জন্য?

যেসব কিশোরীর অনিয়মিত মাসিক থাকে তাদেরকে যেন অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে না হয় সেজন্য নিজেকে তৈরি থাকতে হবে। একটা প্যাড এবং অতিরিক্ত একটা প্যান্টি সবসময় তাদের স্কুল ব্যাগে রাখতে পারে, যাতে হঠাৎ মাসিক হলে অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়তে না হয়।

চিকিৎসা

১) জীবনযাত্রা পরিবর্তন, যোগ ব্যায়াম, ওজন কমানোর জন্য ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন।

২) প্রজেস্টোরন ট্যাবলেট বা জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি।

৩) থাইরয়েড সমস্যার জন্য ওষুধ, যদি দরকার হয়।

বাচ্চা নিতে চান?

অনিয়মিত মাসিক অবস্থায় বাচ্চা আসা কঠিন। কেননা অনিয়মিত মাসিক মানে তার ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু ফুটছে না। ডিম না ফুটলে বাচ্চা হবে কোত্থেকে। তাই বাচ্চা নিতে হলে ওষুধ দিয়ে মাসিক নিয়মিত করতে হবে। তাতেও যদি বাচ্চা না আসে তবে ডিমফোটার ওষুধ দিতে হবে।

বাচ্চা নেওয়ার বয়সে অনিয়মিত মাসিক

সাধারণত বিভিন্ন স্ত্রী রোগের কারণেই বেশি হয় এ সমস্যা। তাই প্রথমে কোন স্ত্রী রোগ আছে কিনা তা আলট্রাসাউন্ড করে দেখতে হবে। যদি কোন সমস্যা থাকে, সে সমস্যার সমাধানে ওষুধে কাজ না হলে প্রয়োজনে অপারেশনও লাগতে পারে। যদি কোন স্ত্রী রোগ না থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে হরমোনজনিত সমস্যা, যা হরমোন বা পিল দিয়ে ঠিক করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে-যেকোনো অনিয়মিত মাসিকের ফলে রক্তশূন্যতা হতে পারে। তাই রক্তের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করে কম থাকলে আয়রন দিতে হবে। থাইরয়েড সমস্যা থাকলে এর ওষুধ নিয়মিত সকাল বেলা খেতে হবে (কেননা এটা সারা জীবনের রোগ)।

এছাড়া পিসিওএস-যেটা খুব কমন একটা সমস্যা, এটাও সারাজীবনের রোগ। এদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন না করলে, ওজন না কমালে, নিয়মিত ব্যায়াম না করলে নানা জটিল রোগ হতে পারে। এসব রোগীদের সাধারণত দেরিতে দেরিতে মাসিক হয়। সুস্থ থাকার জন্য বছরে কমপক্ষে চারবার মাসিক হওয়া উচিত। তাই কমপক্ষে তিন মাস অন্তর অন্তর মাসিক হওয়া জরুরি। প্রাকৃতিক নিয়মে না হলে, ওষুধ দিয়ে মাসিক করাতে হবে তিন মাস পরপর।

যাদের ঘন ঘন মাসিক হয় তাদের ক্ষেত্রে হরমোন বা পিল ২১ দিন করে কমপক্ষে তিন চক্র দিয়ে মাসিক নিয়মিত করাতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘদিন ওষুধ লাগতে পারে।

মেনোপজের আগে অনিয়মিত মাসিক

যদি কোন স্ত্রীরোগের কারণে অনিয়মিত না হয় তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নাই। দেরিতে দেরিতে হলে কোন চিকিৎসার দরকার নেই। তবে ঘন ঘন হলে বা একবার হয়ে বেশিদিন থাকলে হরমোন বা পিল কমপক্ষে তিনমাস খেয়ে মাসিক ঠিক করাতে হবে। তবে এতেও যদি সমাধান না হয় তাহলে জরায়ুর সবচেয়ে ভেতরের লেয়ার থেকে মাংস নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোন সমস্যা আছে কিনা। সমস্যা থাকলে সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

যে বয়সেই অনিয়মিত মাসিক হোক না কেন, এটা মেয়েদের জন্য বিশাল দুশ্চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েদের মাসিক শুরু হওয়ার সময় থেকে মাসিক উঠে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রজননতন্ত্রের সুস্থতার মূল লক্ষণ হলো নিয়মিত মাসিক। এর ব্যত্যয় হলে অবশ্যই গাইনি রোগের চিকিৎসকের কাছে গিয়ে যাচাই করতে হবে কোন রোগ আছে কিনা। কেননা সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে অনেক জটিল সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

লেখক:

সহকারী অধ্যাপক,

গাইনি বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ।

ব্রেস্ট ক্যান্সারঃজরিনা, ২৭ বছর বয়স।প্রথম বাচ্চা হবার ২ বছরের মাথায় আবার ডেলিভারির ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে। পরীক্ষা করতে গি...
26/11/2020

ব্রেস্ট ক্যান্সারঃ
জরিনা, ২৭ বছর বয়স।প্রথম বাচ্চা হবার ২ বছরের মাথায় আবার ডেলিভারির ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে। পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা গেল ডান পাশের ব্রেস্টে বড় চাকার মতো কিছু একটা।জরুরি সিজারের জন্য পেট খুলে দেখা গেল পুরো পেট জুড়ে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। সিজারের এক মাসের মাথায় কোলের শিশুটাকে এই বিশাল পৃথিবীতে একা ফেলে সে মারা গেল।
জরিনার মত প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকে আছে যারা শরীরের গোপন অঙ্গের সব সমস্যা গোপন রেখে একেবারে শেষ মুহূর্তে ডাক্তার এর কাছে আসে।সামাজিক কারনে মহিলা ডাক্তারকে দেখাবে তাই ব্রেস্ট এর সমস্যা নিয়ে অনেকেই গাইনী বিশেষজ্ঞের কাছেই প্রথমে আসে চিকিৎসার জন্য।সব মহিলারা এ রোগের ব্যাপারে সচেতন হলে প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ সনাক্ত করা সম্ভব।তাতে সময়মতো সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ ক্যান্সার নিরাময় করা যায় সম্পুর্ন রুপে।
#কি এটা?
যখন কোন ক্যান্সার কোষ, ব্রেস্ট-এ বাসা বাঁধে তাকে ব্রেস্ট ক্যান্সার বলে। ক্যান্সার শুধু ব্রেস্টে সীমাবদ্ধ থাকেনা , দেরীতে ধরা পড়লে এটি পরবর্তীতে শরীরের অন্য জায়গায়ও ছড়িয়ে পড়ে এবং জীবনহানি করে ।
#ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে কেন জানা দরকার?
মেয়েদের শরীরে যত ক্যান্সার হয় তার মাঝে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।প্রতি তিন জন মহিলা ক্যান্সার রোগীর মাঝে ব্রেস্ট ক্যান্সার একজন।এ বছরের সমীক্ষা মতে আমরিকায় প্রায় ৩১৫০০০ জন মহিলা ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হবে এবং ৫০০০০ মত মহিলা এ ক্যান্সারে মারা যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। কিন্তু আগেভাগেই সনাক্ত করা সম্ভব হলে হয়তো তাদের জীবনটা অন্য রকম হতো।
সাধারণত ব্রেস্ট গঠিত হয় দুই ধরনের জিনিস/টিস্যু নিয়ে - ডাক্ট ও লোব । এ দু'জায়গার যে কোন একটাতে ক্যান্সার হতে পারে।
#কেন হয়?
সঠিক কারন যদিও পরিষ্কার নয়।তবে বিভিন্ন ঝুঁকি আছে।এর মাঝে হরমোন জনিত, জীবন যাত্রা , পরিবেশগত কারন অন্যতম। অন্য কারন গুলো হল- বাড়তি বয়স, পরিবারের অন্য সদস্যদের কারো হবার ইতিহাস,অল্প বয়সে মাসিক শুরু ,দেরিতে মাসিক উঠা/মেনোপজ, প্রথম বাচ্চা ৩০ এর পর হওয়া বা নিঃসন্তান মহিলা,পিল খাওয়া, জেনেটিক কারন, অন্য কোন কারনে বুকে রেডিওথেরাপি পেলে, স্থুলতা।
#প্রতিরোধঃ
কিছু নিয়ম কানুন মানলে এর ঝুঁকি কমানো যায়।
- কর্মক্ষম থাকা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- কম চর্বিযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া।
- সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিঃ ব্যায়াম করা।
- ধূমপান ও উত্তেজক পানীয় পরিহার করা।
- সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো।
#প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ সনাক্তকরনের উপায়ঃ
স্ক্রীনিংঃ
কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ হবার পর রোগ ধরা পড়ে।কিন্তু অনেকের উপসর্গের আগেই রোগ বাসা বাঁধে। । কোন ঝুঁকি আছে কিনা সেটা বিবেচনায় রেখে স্ক্রীনিং এর ধরন ঠিক করা হয়...
#১.সে্ল্ফ ব্রেস্ট পরীক্ষাঃ (সবার জন্য)
মহিলাদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে যেন তারা নিজের শরীর সম্পর্কে জানে,শরীরকে চেনে এবং নিয়মিত ব্রেস্ট স্ক্রীনিং করায়।তার নিজেকে জেনে রাখতে হবে ব্রেস্ট স্বাভাবিক ভাবে দেখতে এবং হাত দিয়ে অনুভব করতে কি রকম এবং কোন পরিবর্তন লক্ষ করার সাথে সাথে যেন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেন। এই সেল্ফ ব্রেস্ট পরীক্ষা প্রতি মাসে একবার হলেও করা উচিত মেয়েদের। গোসল করার সময় বা অন্য সময়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিংবা শোবার সময় বিছানায় শুয়ে.. এই পরীক্ষা,নিজে নিজেই করা যায়। এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে এটাকে জীবনযাত্রার একটা অংশে পরিনত করতে হবে এতে করে ৪০% ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে।
#২.স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে ব্রেস্ট পরীক্ষাঃ
ট্রেনিং প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী বা যে কোন চিকিৎসক এটি করে থাকেন। অনেক সময় রোগী নিজে পরীক্ষা করে বুঝতে পারছে না.. কিন্তু অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসকের কাছে আসলে অস্বাভাবিকতা থাকলে সেটি সনাক্ত হয়ে যায়।
#৩.ম্যামোগ্রাফিঃ
যাদের পারিবারিক ইতিহাস নাই, জীনগত ঝুঁকি নাই,কখনো রেডিওথেরাপি দেয়া হয়নি তাদের বলা হয় ব্রেস্ট ক্যান্সারের জন্য সাধারন ঝুঁকিপূর্ণ মহিলা।আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করার জন্য সাধারণ ঝুঁকির মহিলাদের নিম্ন উপায়ে ম্যামোগ্রাফির মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার সনাক্ত করা যায়-
-৪০ বছর বয়সে ম্যামোগ্রাম নামক পরীক্ষা শুরু করা।
-৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সের মধ্যে প্রতি বছর একবার করে ম্যামোগ্রাম করা।
-৫৫ এর পর দুবছর পর পর ম্যামোগ্রাম করা।
(ম্যামোগ্রাম হল ব্রেস্ট এর এক্স-রে।এটার মাধ্যমে ব্রেস্ট এর যে কোন চাকা যেটা চোখে দেখা যায়না বা হাতে ধরা পড়েনা তা নির্নয় করা সম্ভব।)
#ক্যান্সার উপসর্গঃ
অনেক সময় কোন উপসর্গ ছাড়াই ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়।কিন্ত নিয়মিত নিজেকে পরীক্ষা করার সময় যদি নিচের কোন সমস্যা দেখা যায় তাহলে সাথে সাথে ডাক্তার এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।হতে পারে এর যে কোন একটা ক্যান্সার উপসর্গ।
-নিপলে ব্যথা
- ব্রেস্টে চাকা।
- হঠাৎ ব্রেস্ট এর চামড়ার পরিবর্তন।
-ব্রেস্ট এর চামড়ার লোমকূপ বড় হওয়া।
- হঠাৎ ব্রেস্ট এর আকার-আকৃতির পরিবর্তন হওয়া।
- হঠাৎ ব্রেস্ট ছোট হয়ে যাওয়া।
- দুটো ব্রেস্ট দুরকম আকারের হয়ে ওঠা ।
- নিপল হঠাৎ করে কোন দিকে বেঁকে যাওয়া।
- নিপল দিয়ে দুধ ছাড়া অন্য কোন রকম পানি বা রক্ত পড়লে।
- ব্রেস্টে ব্যাথা।
#কোন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করবেন?
--নিকটস্থ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার বা সুযোগ থাকলে গাইনি বিশেষজ্ঞ বা সার্জারি বিশেষজ্ঞের কাছে প্রথমে যেতে হবে। যদি প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্যান্সার বলে সন্দেহ হয় তাহলে যেতে হবে সমন্বিত চিকিৎসা কেন্দ্রে - মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বা সদর হাসপাতাল বা সার্জারি বিশেষজ্ঞের কাছে।এরপর ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ও সার্জারী বিশেষজ্ঞ এ দু'জনের সাথে পরামর্শ নিয়ে এর চিকিৎসা করতে হবে।
#রোগ নিশ্চিত করা যায় কিভাবে?
---যদি কোন চাকা ধরা পড়ে তাহলে এফএনএসি নামক পরীক্ষার মাধ্যমে সুঁই দিয়ে চাকা থেকে কোষ নিয়ে বায়োপসির জন্য পাঠানো হয়।এরপর রিপোর্টের মাধ্যমে সনাক্ত করা হয় চাকাটা ক্যান্সার কি না।
#চিকিৎসাঃ
কোন স্টেজে রোগ ধরা পড়েছে ও কোন ধরনের ক্যান্সার - তার উপর চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে।চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হল---
**অপারেশন- এর মাধ্যমে শুধু টিউমার বা পুরো ব্রেস্ট-ই ফেলে দিতে হতে পারে।
**রেডিওথেরাপির মাধ্যমে ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়।এটা অপারেশন নয়।
#অন্যান্য চিকিৎসা -কারো কারো ক্ষেত্রে নিচের চিকিৎসা পদ্ধতি দেয়া হয়-
--কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি, টার্গেটেড ইমিউনোথেরাপি।
ব্রেস্ট ক্যান্সার সনাক্ত হবার সাথে সাথেই চিকিৎসা শুরু করে দেয়া উচিত। তবে জরুরি প্রয়োজনে দু'এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে ক্ষতি নেই। তবে ধরা পড়ার সাথে জেনে নিতে হবে রোগ কোন পর্যায়ে আছে এবং সে অনু্যায়ী কি কি চিকিৎসা নিতে হবে।
#অপারেশনের পর সন্তান ধারন সম্ভব কিনাঃ
অল্প বয়সী মহিলা যাদের ক্যান্সারের চিকিৎসা হয়েছে তারা অনেকে ভবিষ্যতে সন্তান ধারনের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তিত থাকেন।জেনে রাখা উচিৎ অল্প বয়সী ক্যান্সার রোগীর-
কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির কারনে ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণু সংখ্যা কমে যেতে পারে। যার কারনে পরবর্তীতে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।তাই যারা পরবর্তীতে সন্তান নিতে চায়, সুযোগ থাকলে তাদের ডিম্বাণু নির্দিষ্ট ডিম্বানু ব্যাংকে রেখে দেয়া যেতে পারে।
নানা পরীক্ষা ও স্ক্রীনিং এর মাধ্যমে ৬৫% ক্যান্সার একদম প্রাথমিক পর্যায়েই নির্নয় করা সম্ভব। এবং সঠিক চিকিৎসায় ৯৯% কে সম্পুর্ন সারিয়ে তোলা যায়। এটা ভুলে গেলে চলবে না পুরুষেরও এ ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তাই নারী-পুরুষ সবাইকেই সচেতন হতে হবে স্ক্রীনিং-এর ব্যাপারে...তবেই ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব।
ডাঃ ফাহমিদা রশীদ স্বাতি
সহকারী অধ্যাপক
গাইনি
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।

 #মেনোপজ ঃমেয়েদের জীবনে মেনোপজ বা মাসিক উঠে যাওয়া  হল তার জীবনের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। নারীর শরীরের  ডিম্বাশয় থেকে য...
26/11/2020

#মেনোপজ ঃ
মেয়েদের জীবনে মেনোপজ বা মাসিক উঠে যাওয়া হল তার জীবনের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। নারীর শরীরের ডিম্বাশয় থেকে যখন হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয় তখন হরমোনের অভাবের কারনে তার মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। এটাই মেনোপজ। শুধু মেয়েদের মেনোপজ হয় তা নয়।ছেলেদের ও হয়।তবে মেয়েদেরটা স্পষ্ট বুঝা যায় এবং তার শরীর ও নানা ভাবে তাকে জানান দেয় -যে মেনোপজ হয়েছে।
কখন মেনোপজ?
-সাধারনত মধ্যবয়সী নারীর কারো মাসিক টানা ১২ মাস না হলে মেনোপজ হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়।
-সাধারণত ৫১ বছর বয়সের দিকে মেনোপজ হয়।কিন্তু, এটা ৪৫--৫৫ বছর বয়সের মধ্যে হতেও পারে।
-এছাড়া যদি কোন কারনে জরায়ু অপারেশনের সময় বা অন্য কোন কারনে দুটো ডিম্বাশয় ফেলে দিতে হয় - সেটাও মেনোপজ।
-ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি দেয়ার কারনেও ডিম্বাশয় নষ্ট হয়ে যাবার কারনেও মেনোপজ হয়।
-মেনোপজের পরে দীর্ঘ একটা সময় মেয়েদের জীবনে পার করতে হয়- একে বলে পোস্ট-মেনোপজ।
মেনোপজের উপসর্গঃ
মাসিক উঠে যাবার আগে হরমোন কমে যাবার কারনে মেয়েদের নানা রকম উপসর্গ হয়।তবে সবাই যে একই রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে যায় তা নয়।মেনোপজের কাছাকাছি সময়ের সমস্যাগুলো হলো....
১.অনিয়মিত মাসিক
২।হট ফ্লাশ- অতিরিক্ত গরম অনুভব
৩.ঘুমে সমস্যা।
৪.কিছু মনে রাখতে অসুবিধা ।
৫.মাথা ব্যথা।
৫.মেজাজ পরিবর্তন।
৬.মাসিকের রাস্তা শুকনো হয়ে যাওয়া।
৭.ওজন বৃদ্ধি।
৮.চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা বলি রেখা।
#কি সমস্যা - কি সমাধান ঃ
#হট ফ্লাশঃ
খুব কমন প্রবলেম। যদিও কি কারনে হয় তার সঠিক কারন পাওয়া যায়নি । তবে ধারনা করা হয়, ব্রেইন এর যে অংশ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে তার পরিবর্তনের জন্য এটা হয়।যার ফলে মহিলাদের গরম অনুভূতি হয়, মুখ লাল হয়ে যায়,ঘাম হয়,হার্টবিট বেড়ে যায়। সাধারণত মাসিক উঠে যাবার সময় ৬মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত এ সমস্যা থাকতে পারে।কারো কারো দীর্ঘ ১০ বছরও থাকতে পারে। -চিকিৎসা করে এই সমস্যাকে সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে কমানো যায়।অনেক সময় হরমোন চিকিৎসাও লাগতে পারে।যারা হরমোন নিতে চায়না তাদের এসএসআরআই গ্রুপের ওষুধ- পেরোক্সেটিন দেয়া যায়। চিকিৎসা না করলেও সময়ের সাথে সাথে এটা বন্ধ হয়ে যায়।জীবনযাত্রার সমস্যা না করলে এর চিকিৎসার দরকার নেই।
#ঘুমের সমস্যাঃ
ঘুমের সমস্যা হলে জীবন যাত্রার পরিবর্তন আনতে হবে।
যেমন- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া,ঘর ঠান্ডা রাখা ঘুমানোর সময়,কফি-চা কমিয়ে দেয়া।
#স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়াঃ
এ সমস্যা হবার পর বা আগে থেকেই প্রতিরোধের জন্য বয়স বাড়ার সাথে সাথে- সামাজিক যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়া, শারীরিক ও মানসিক ভাবে কর্মক্ষম থাকা,সুষম খাবার খাওয়া, সঠিক ওজন নিয়ন্ত্রণ,কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেশার নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। এ নিয়ম পালনে স্মৃতিশক্তি কমার ঝুকি কমবে ।
#মাথা ব্যথাঃ
যাদের আগে থেকেই মাসিকের সময় মাথাব্যথা হতো তাদেরই মেনোপজ হলে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হয়। সাধারনত মাসিক উঠে যাবার কাছাকাছি সময়ে এ সমস্যা বেশি হয়। তবে যখন মাসিক সম্পূর্ন বন্ধ হয় তখন মাথাব্যথার সমস্যা আবার কমে যায়। চিকিৎসা বলতে - সামান্য ব্যাথার ওষুধেই কাজ হয় সাধারণত ।
#মেজাজ পরিবর্তনঃ
ডিপ্রেশন খুব কমন একটা সমস্যা এসময়।প্রতি ১২ জন মেনোপজ হওয়া মহিলার ১ জনের ডিপ্রেশন হয়।এছাড়া মন খারাপ,তিরিক্ষি মেজাজ তো আছেই। বুড়িয়ে যাওয়ার অনুভূতি সবাইকে মন খারাপ করিয়ে দেয়।সাধারণত ইসট্রোজেনের তারতম্যের কারনে এটা হয়।
-যদি ডিপ্রেশন হয় তখন মানসিক সাপোর্টের সাথে সাথে ওষুধের সাহায্যও লাগতে পারে।
-যদি সাথে হট ফ্লাশও থাকে তাহলে হরমোন থেরাপি দিলে দুই সমস্যারই সমাধান হয় ।
#মাসিকের রাস্তা শুকনোঃ
সাধারনত হরমোন কমে যাওয়াতে মাসিকের রাস্তার চামড়ার রস কম নিঃসৃত হবার কারনে এটি হয়। মাসিকের রাস্তা শুকনো থাকার কারনে, সহবাসে ব্যথা হয়,প্রস্রাব ঘনঘন হয়,ঘন ঘন পস্রাবের ইনফেকশন হয়। এর চিকিৎসায় - মাসিকের রাস্তা পিচ্ছিল করার জন্য লুব্রিকেন্ট,ময়েশ্চারাইজার দিলে আরাম পাওয়া যায়।
তাতেও সমস্যার সমাধান না হলে ইসট্রোজেন হরমোন ক্রিম দিলে উপকার পাওয়া যায়।অনেক সময় মেনোপজ হলে যৌন উত্তেজনা কমে যেতে পারে।এটা শুকনো হবার কারনেও হতে পারে বা মানসিক পরিবর্তনের জন্যও হতে পারে।
#চামড়া কুঁচকানোঃ
হরমোন কমার ফলে কোলাজেন নামক পদার্থ শরীরে কমে যায়।এতে চামড়ায় বয়সের ছাপ পড়ে।এছাড়া চামড়ার ময়েশ্চার ধরে রাখার ক্ষমতাও কমে যায় মেনোপজ হলে। সাথে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রতি সংবেদনশীলতার কারনেও চামড়ার পরিবর্তন হয়।যার কারনে এ থেকে রক্ষা পেতে ভালো সানস্ক্রিন দেয়া, মাথায় কাপড়/টুপি কিংবা সানগ্লাস পড়লে উপকার পাওয়া যায়।
তবে আসল সমাধান জীবনযাত্রার পরিবর্তনে।সেজন্য - সুষম খাবার,পর্যাপ্ত ঘুম,প্রচুর পানি এবং চামড়ায় ময়েশ্চারাইজার লাগানো জরুরি।
#ওজন কমাতে সমস্যাঃ
মাসিক উঠে যাবার পর ওজন কমানো অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এটার জন্য মেনোপজ দায়ী নয়।মধ্যবয়সী টানাপোড়ন,খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন,জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারনে এটা হয়।তাই এসময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে ওজন না বাড়ে। ডায়েট ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
#আর্থ্রাইটিস/ জয়েন্ট ব্যথাঃ
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আর্থ্রাইটিসের সমস্যা বেড়ে যায়। সাথে স্থূলতা থাকলে সমস্যার প্রকটতা আরো বেশি হয়।
-ওজন নিয়ন্ত্রন এবং ব্যায়াম করে মাংসপেশির শক্তি বৃদ্ধি... ব্যাথা কমাতে সাহায্য করবে।
#চুল পড়াঃ
মেনোপজে হরমোন কমে যাওয়ায় এ সমস্যা হয়।তবে কারো থাইরয়েড সমস্যা থাকলেও এটা হতে পারে।সুষম খাবারের পরিমান ঠিক রাখতে হবে ।সাথে লাল মাংশ বাদ দিয়ে...জিংক-আয়রন-ভিটামিন ডি, বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার ও মাল্টিভিটামিন খেলে চুল পড়া কমবে।
#হাড় ক্ষয়ঃ
হাড় ক্ষয় মেনোপজ পরবর্তী প্রধান সমস্যা। যার ফলে হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়।যদিও মহিলাদের ৩০ এর পরই হাড় ক্ষয় শুরু হয়।কিন্তু মাসিক উঠে গেলে ক্ষয় দ্রুততর হয়।এজন্য মেনোপজ হলে ক্ষতি কতটুকু হয়েছে দেখার জন্য ৬৫ বছর বয়সের পর বিএমডি(BMD) নামক পরীক্ষা করতে হবে।যদি ক্ষয় বেশি হয় তাহলে চিকিৎসা করতে হবে।
#মেনোপজ-হরমোনবিহীন চিকিৎসাঃ
খাবারের সাপ্লিমেন্ট, কিছু ভিটামিন জাতীয় ওষুধ একে মোকাবিলায় সাহায্য করে- তবে কিভাবে তা করতে হবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে করতে হবে।
#মেনোপজে হরমোন থেরাপি - নাকি ম্যাজিক!!ঃ
মাসিক উঠে গেলেই কি যৌবন ধরে রাখার জন্য হরমোন থেরাপি সবার প্রয়োজন!? এটা কি উপসর্গ থেকে মুক্তির মহৌষধ?
এই থেরাপি নেয়ার আগে যাচাই করতে হবে সব মেনোপজ হওয়া মহিলার এটা দরকার আছে কিনা।
সাধারণত হটফ্লাশ যাদের হয় বা যাদের যৌনাঙ্গের সমস্যা প্রকট হয়- ঝুঁকি বিবেচনা করে তাদের এটা দিতে বলা হয়।হরমোন নানাভাবে দেয়া যায়- যেমন- ট্যাবলেট,প্যাচ,স্প্রে, জেল হিসেবে।এতে আছে ইসট্রোজেন হরমোন।এ হরমোন দিতে গেলে জরায়ুর ক্যান্সার ঝুঁকি কমানোর জন্য সাথে প্রজেস্টোরন হরমোনও দেয়া হয়।
যাদের জরায়ু নাই তাদের শুধু ইসট্রোজেন দিলেই হয়।
এটা দীর্ঘদিন দিলে স্তনক্যান্সার ও রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বেড়ে যায়, তবে সেটা টানা ৫ বছর খাবার/ব্যবহার এর পর। তাই হরমোন যারা নেয় সেই মহিলাদের প্রতি বছর কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ফলোআপ করতে হয়। তবে মনে রাখতে হবে- সব মেনোপজ মহিলাকে হরমোন না দিয়ে যার দরকার যাচাই করে তাকেই দেয়া উচিত । হরমোন ম্যাজিক হলেও এ যাদু সবার উপর না চালানোই ঠিক।
এখন ২০২০। গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় মহিলাদের জীবনের বিশাল একটা সময় মেনোপজের পরে কাটাতে হয়।এবং মেনোপজ জীবনের অলঙ্ঘনীয় একটা অধ্যায়।
এ সময়ে সুস্থ এবং কর্মক্ষম থাকার জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে সব মহিলাকে। মেনোপজের সমস্যা ও এর সমাধান সম্পর্কেও জানতে হবে নারীদের।এবং সে অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সুষম খাবার, ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিলে মেনোপজ পরবর্তী জীবন হতে পারে সুন্দর, সুস্থ ও অর্থবহ।
ডাঃ ফাহমিদা রশীদ স্বাতি
সহকারী অধ্যাপক
গাইনি
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।
(অক্টোবর - মেনোপজ সচেতনতা মাস ২০২০)

Address

20/B K. B Fazlul Kader Road (Opposite Chittagong Medical College )
Chittagong
4000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নারী স্বাস্থ্যঃ ডাক্তারি পরামর্শ - Nari Swastha by Dr. Swati posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share