15/09/2022
আসুন নিজেকে বদলে তোলার চেষ্টা করি।সুষম বা ব্যালান্সড ডায়েট হলো সেই খাদ্যব্যবস্থা, যেখানে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের সব কটি উপাদান দরকারি মাত্রায় বিদ্যমান। শরীরের জন্য পরিমিত শর্করা (৪০-৫০ শতাংশ), আমিষ (২০-৩০ শতাংশ), ফ্যাট (১০-২০ শতাংশ), প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, খাদ্য আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সঠিক সমন্বয় হলো সুষম খাবার। তাই নো কার্ব, লো কার্ব, লো ফ্যাট, হাই প্রোটিন, কিটো, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ইত্যাদি নানা কিসিমের অভিনব ডায়েটের বদলে বরং সুষম বা ব্যালান্সড ডায়েটে ফিরে যাওয়াই উত্তম। কিন্তু শর্করা, আমিষ বা ফ্যাট–জাতীয় খাবার বাছাইয়ের বেলায় হতে হবে সতর্ক, দরকার হবে সঠিক ও উপকারী উপাদানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠা। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শও দিয়েছে।
প্রচুর পানি পান করুন। দিনে ৩-৩.৫ (১০ গ্লাসের মতো) লিটার পানি পান করুন। কম মিষ্টি বা টক স্বাদের ফলের রস পান করা যেতে পারে। ডাবের পানি, লেবু পানি, তাজা ফলের রস, লেবু–চাসহ ভেষজ চা পান, স্যুপ ইত্যাদি ভালো। তবে বাজার থেকে কেনা চিনিযুক্ত জুস, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত কফি নয়।
যেসব খাবারে বেশি জলীয় অংশ আছে, সেগুলো গ্রহণের চেষ্টা করতে হবে। যেমন কম চর্বিযুক্ত বা ননিমুক্ত এমন দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য বেছে নিতে পারেন পানীয় হিসেবে।
রোজ তাজা অপ্রক্রিয়াজাত খাবার খেতে হবে। রঙিন ফল, শাকসবজি, ডাল-বিচিজাতীয় খাবার (শিম, মসুর, মাষকলাই ইত্যাদি), বাদাম, শস্যদানা—ভুট্টা, জোয়ার, গম, লাল চাল; কাণ্ড বা মূলজাতীয় শ্বেতসারযুক্ত শাকসবজি—কচু, মিষ্টি আলু; প্রাণিজ খাদ্য—মাছ, মাংস, দুধ, ডিম খান প্রতিদিন।
প্রতিদিন কমপক্ষে ২ কাপ ফল, আড়াই কাপ শাকসবজি, ১৮০ গ্রাম শস্য, ১৬০ গ্রাম মাছ, মাংস ও ডালজাতীয় খাদ্য খাবেন। লাল মাংস (গরু, ভেড়া, ছাগল) সপ্তাহে ২-৩ বার, মুরগির মাংস সপ্তাহে ৩-৪ বার এবং ডিম প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে।
হালকা খাবার বা স্ন্যাক্স হিসেবে চিনি-লবণ-চর্বিযুক্ত খাদ্য না খেয়ে তাজা ফল বেছে নিন। শাকসবজি বা ফল অতিরিক্ত রান্না করবেন না। টিনজাত বা শুকনো খাবার বর্জন করুন।