25/11/2025
মাথাব্যথার গল্প
মাথাব্যথা গেল, কিন্তু সাথে কিডনিও গেলও — সুমনের না জানা বিপদ
সুমন আহমেদ, বয়স ৩৫। পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ, চোখে চাপ, মাথাব্যথা প্রায়ই হয়।
প্রথমে ভাবতেন, “এইটা তো সবারই হয়।” তাই পকেটে সবসময় থাকে একটা ব্যথানাশক ট্যাবলেট।
সহকর্মীরা বলত,
— “তুমি তো পারাসিটামল ফ্যাক্টরি!”
সে হাসতো, বলতো,
— “এই ট্যাবলেটই আমার রক্ষা।”
ধীরে ধীরে এই ট্যাবলেট খাওয়া অভ্যাসে পরিণত হলো।
প্রায় প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার আগে বা পরে একটা করে খায়।
কখনো দু’টোও।
মাস কেটে গেল, মাথাব্যথা কমে না, বরং আরও ঘন ঘন হয়।
তবুও সুমন ভাবল, “অফিসের স্ট্রেসই কারণ।”
একদিন সকালে মুখে অদ্ভুত স্বাদ, বমি ভাব আর ফোলা ফোলা চোখ নিয়ে অফিসে গেল।
সেখানে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেল মেঝেতে।
সহকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেল।
রক্ত পরীক্ষা দেখে ডাক্তার চমকে উঠলেন —
“আপনার কিডনি প্রায় কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে!
আপনি নিয়মিত ব্যথানাশক খান?”
সুমন লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল,
— “হ্যাঁ, প্রতিদিন একটা, কখনো দুইটা...”
তখনই ডা. ফয়সাল ইসলাম প্রিন্স এসে ব্যাখ্যা দিলেন,
“প্রতিদিন ব্যথানাশক খেলে কিডনির ছোট রক্তনালীগুলো বন্ধ হয়ে যায়,
যা ধীরে ধীরে কিডনি বিকল করে দেয়।
এখন আপনাকে ডায়ালাইসিস করতে হবে।”
সুমন নির্বাক। কণ্ঠ কাঁপছে, চোখে পানি।
— “ডাক্তার সাহেব, আমি তো শুধু মাথাব্যথা সারাতে চেয়েছিলাম,
কিডনি হারাব ভাবিনি…”
চিকিৎসা শুরু হলো, সুমন এখন সুস্থ হলেও আজীবন ব্যথানাশকের ভয়ে থাকে।
অফিসে নতুন কেউ মাথাব্যথা বললে সে বলে,
“ওষুধ না খেয়ে একটু ঘুমাও, পানি খাও — ওটাই আসল ওষুধ।”
#ভুল_চিকিৎসা