Dr. Md Yusuf Khan

Dr. Md Yusuf Khan I solemnly, pledge, consecrate my life to the service of humanity.

05/08/2022
রক্তের গ্রুপ নির্বাচন শিখতে যারা ইচ্ছুক তাদের জন্য এই পোস্ট । ব্লাড গ্রুপিংয়ের জন্য যা দরকার-১। ব্লাড গ্রুপিংয়ের ৩ টা এন...
19/07/2022

রক্তের গ্রুপ নির্বাচন শিখতে যারা ইচ্ছুক তাদের জন্য এই পোস্ট ।

ব্লাড গ্রুপিংয়ের জন্য যা দরকার-

১। ব্লাড গ্রুপিংয়ের ৩ টা এন্টি-
(I)Anti-A
(II) Anti-B
(III)Anti-D
২। জীবাণুমুক্ত একটা সুচ
৩।একটা কাঁচের স্লাইড
৪।তুলা
৫। জীবানুনাশক
প্রথমে যার ব্লাড গ্রুপ নির্বাচন করবেন তার হাতের যেকোনো একটা আঙুল ভালো করে জীবাণুমুক্ত করে নিবেন।এরপর সুচ দিয়ে আঙুল এর আগায় হাল্কা খোঁচা দিয়ে কাঁচের স্লাইডে ৩ ফোটা রক্ত নিবেন ছবিতে দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী দুরত্ব রেখে।তারপর-
১ম ফোঁটায় এন্টি-A
২য় ফোঁটায় এন্টি-B
৩য় ফোঁটায় এন্টি-D
দিয়ে ভাল করে সুচ এর গোড়া দিয়ে মেশাবেন।খেয়াল রাখবেন রক্ত এবং এন্টি মেশানোর সময় একটা যেনো অন্যটার সাথে না মিশে।

এখন ব্লাড গ্রুপিংয়ের এর নিয়ম-

১। যদি Anti -A ফাটে আর Anti-B না ফাটে তাহলে রক্তের গ্রুপ A।

২। যদি Anti-A না ফাটে আর Anti -B ফাটে তাহলে রক্তের গ্রুপ B।

৩। যদি Anti- A এবং Anti-B দুইটাই ফাটে তাহলে রক্তের গ্রুপ AB।

৪। যদি Anti-A ও Anti-B একটাও না ফাটে তাহলে রক্তের গ্রুপ O।

আমরা রক্তের গ্রুপ নির্বাচন শিখলাম।
এখন positive আর negative নির্বাচন-

১।Anti-D........ যদি ফাটে তাহলে রক্ত +(positive)।
২।Anti-D......... যদি না ফাটে তাহলে রক্ত —(negative)

আমার প্রিয় একটা জায়গা মন খারাপ হলে ঘুরতে আসি❤️❤️❤️
18/07/2022

আমার প্রিয় একটা জায়গা
মন খারাপ হলে ঘুরতে আসি❤️❤️❤️

26/01/2022
চোখের ফরেনবডি।চোখের ভেতর ধাতব বস্তুু (যেমন ঃ কয়লা, ধুলা, বালি,লোহার টুকরা ইত্যাদি)পড়ে চোখের কালো বা সাদা বেধে যায় তাকে চ...
28/11/2021

চোখের ফরেনবডি।
চোখের ভেতর ধাতব বস্তুু (যেমন ঃ কয়লা, ধুলা, বালি,লোহার টুকরা ইত্যাদি)পড়ে চোখের কালো বা সাদা বেধে যায় তাকে চোখের ফরেন বডি বলে।
চোখের ভেতর ফরেনবডি পড়লে চোখে ব্যথা, লাল,পানিপড়া ইত্যাদি অনূভুতি হতে পারে।
চোখর ফরেনবডি পড়া ২ ধরণের হতে পারে।
১.চোখের কালো বা সাদা অংশ বেধে থাকতে পারে।
২.চোখের কালো বা সাদা অংশ ভেদ করে চোখের ভেতরে চলে যেতে পারে।
চোখের সাদা বা কালো অংশে যেগুলো বেধে থাকতে পারেঃযেমন কয়লা,ধুলা, বালি,লোহার টুকরা,ধানের বা বীজের খোসা,ছোট পোকা ইত্যাদি। এগুলো চোখের ভেতর পড়ে চোখের সাদা বা কালো অংশে বেধে যায়।
এ সময় করণীয় হলঃ
১.চেখে ঢলা দেওয়া যাবে না।
২.চোখে কিছু পরিস্কার পানি দিয়ে ধোত করা যেতে পারে।
৩.ইহা বেড় না করলে চোখে দৃষ্টা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে
৪.দেরি না করে চক্ষু ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে দুটো জিনিস নিয়মিত চেক করুন।১) ব্লাড প্রেসার।২) ব্লাড সুগার।তিনটি জিনিস একেবারেই ভুলে যান।১) বয়স বাড়ছ...
18/09/2021

বয়স বাড়ার সাথে সাথে দুটো জিনিস নিয়মিত চেক করুন।
১) ব্লাড প্রেসার।
২) ব্লাড সুগার।
তিনটি জিনিস একেবারেই ভুলে যান।
১) বয়স বাড়ছে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা,
২) অতীত নিয়ে অনুশোচনা,
৩) সবসময় দুঃখে কাতর হওয়া।
চারটি জিনিস খাবার থেকে যত পারুন কমিয়ে নিন।
১) লবন,
২) চিনি,
৩) দুগ্ধ /ডিম জাতীয় খাবার,
৪) স্ট্রাচি/কার্ব জাতীয় খাবার।
চারটি জিনিস খাবারে যত পারুন বাড়িয়ে নিন।
১) সব রকমের সবুজ শাক
২)সব রকম সবুজ সব্জি , সীম বা মটরশুটি ইত্যাদি
৩) ফলমূল,
৪) বাদাম।
সুখে কিংবা দুখে চারটি জিনিস সবসময় সাথে রাখুন।
১) একজন প্রকৃত ভালো বন্ধু,
২) নিজের পরিবার,
৩) সবসময় সুচিন্তা,
৪) একটি নিরাপদ ঘর কিংবা আশ্রয়।
পাঁচটি জিনিসের চর্চা রাখুন।
১) রোজা রাখা,
২) সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলা,
৩) মানুষের সাথে ভালো আচরণ করা,
৪)নিয়মিত শরীর চর্চা করা,
৫) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ছয়টি জিনিস এড়িয়ে চলুন।
১) কর্য,
২) লোভ,
৩) আলস্য,
৪) ঘৃণা,
৫) সময়ের অপচয়,
৬) পরচর্চা।
ছয়টি জিনিস কখনোই করবেন না।
১) অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ে খেতে যাওয়া,
২) অতিরিক্ত পিপাসায় কাতর হয়ে পানি পান করা,
৩) অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে ঘুমোতে যাওয়া,
৪) অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে বিশ্রাম নেয়া,
৫) একেবারে অসুস্থ হয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া,

করোনা ভাইরাসের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে দেশে ৪০ জেলা।[ দৈনিক প্রথম আলো]প্রিয় জন্মভূমি নোয়াখালীবাসী একটু সচেতন হোন।আল্লাহ আমাদের ...
24/06/2021

করোনা ভাইরাসের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে দেশে ৪০ জেলা।

[ দৈনিক প্রথম আলো]
প্রিয় জন্মভূমি
নোয়াখালীবাসী একটু সচেতন হোন।
আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুক,
আমিন।

পোস্টটা সময় নিয়ে পড়ুন, আশাকরি একটু হলেও কাজে লাগবে😊মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১৪টি উপায়১) মানুষের ব্যাপারে খরবদারী করবেন না।...
19/06/2021

পোস্টটা সময় নিয়ে পড়ুন, আশাকরি একটু হলেও কাজে লাগবে😊

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ১৪টি উপায়

১) মানুষের ব্যাপারে খরবদারী করবেন না। কে কী করছে সে বিষয়ে মাথা ঘামানো নিজের মানসিক চাপ বৃদ্ধির একটি কারণ। আরেকটি সমস্যা হবে, অন্যের বিষয় নিয়ে মাথা ঘামালে নিজেকে অন্যদের সাথে তুলনা করার মনোভাব সৃষ্টি হবে। টাকা-পয়সা, সামাজিক অবস্থান, পদমর্যাদা, গাড়ি, বাড়ি, অলংকার, পোশাক, সৌন্দর্য ইত্যাদি দিক থেকে তখন মানসিক চাপ অনুভব করবেন। তাই আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন তা নিয়ে খুশি থাকুন আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। তাহলে হৃদয়ে পরম প্রশান্তি অনুভব করবেন ইনশাআল্লাহ।

২) আপনার যতটুকু দায়িত্ব ও কর্তব্য ততটুকু পরম আন্তরিকতার সাথে পালন করুন। আপনার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলতে যাবেন না। অনুরোধে ঢেঁকি গিলবেন না। অন্যথায় আপনাকে অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকতে হবে।

৩) মানুষের সাথে অতিরিক্ত সম্পর্ক মানসিক চাপের অন্যতম কারণ। তাই আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী, কলিগ, ক্লাসমেট ইত্যাদির সাথে সীমিত সম্পর্ক রাখুন। সম্পর্ক যত ব্যাপক হবে ততই আপনি নানা বাধ্যবাধকতার জালে আটকে যাবেন।

৪) অতিলোভ করবেন না। অতিলোভী ব্যক্তি অর্থ-কড়ি, ধন-দৌলত, পদমর্যাদা ইত্যাদি বৃদ্ধির চিন্তায় বিভোর থাকে। যদি সামান্য টাকা-পয়সা হাতছাড়া হয় বা চাকুরীর প্রমোশন থেকে বঞ্চিত হয় তবে তার হাহুতাশ দেখে কে? সুতরাং অল্পে তুষ্টি মানসিক শান্তির জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি তাকওয়ারও পরিচায়ক।

৫) সাধ্যের বাইরে নিজের অর্থ-সম্পদ, আরাম-আয়েশ উজাড় করে দিবেন না। যারা কৃত্রিমভাবে নিজের সব কিছুকে উৎসর্গ করে দেয় তারা তাদের কথা-বার্তা ও আচরণে মানুষের ধন্যবাদ ও প্রশংসা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু যদি তা না পায় তখন তার মানসিক অস্থিরতা ও টেনশন বেড়ে যায়।

৬) আজকের দিনটিকে ভালভাবে উপভোগ করুন। আগামী কাল কী হবে সেটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন। ইবাদত-বন্দেগীর পাশাপাশি আল্লাহর দেয়া নেয়ামত স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করুন। দুনিয়াবী বিষয়ে আগামীর চিন্তায় অস্থির হয়ে মানসিক চাপ বৃদ্ধি করবেন না।

৭) প্রতিদিন একান্ত নির্জনে কিছু সময় কাটান। এ সময় দুনিয়ার কারও সাথে সম্পর্ক রাখবেন না। বিশেষ করে ইন্টারনেট তথা হোয়াটসএ্যাপ, ফেসবুক ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। এ সময় আত্মসমালোচনা করুন আর আল্লাহর নিকট দুয়া করুন। তাহলে দেখবেন, মহান আল্লাহ আপনার মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দান করবেন ইনশাআল্লাহ।

৮) জ্ঞানীদের জীবনী পড়ুন, তাদের উপদেশ ও মূল্যবান বাণীগুলো পড়ুন তাহলে তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও উপদেশ দুনিয়ার জীবনে আপনার চলার পথকে সহজ করে দিবে ইনশাআল্লাহ।

৯) জীবনে যত বিপদ ও সমস্যাই আসুক না কেন-যেমন, আর্থিক ক্ষতি, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট, অসুখ-বিসুখ ইত্যাদি এগুলো নিয়ে খুব বেশী দু:শ্চিন্তা করবেন না। বরং সহজভাবে মেনে নিন। মনে রাখুন, মহান আল্লাহর লিখিত তাকদিরের বাইরে কিছুই ঘটে না। বিপদাপদেই হয়ত কল্যাণ রয়েছে যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মানুষের দৃষ্টিগোচর হয় না। কিন্তু নিশ্চয় আল্লাহ হেকমত ছাড়া কিছুই করেন না।

১০) সব কিছুই গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবেন না। মানুষের প্রতিটি কথা বা কাজ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা ঠিক নয়। সব কিছু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা ঠিক নয়। বরং মনে আনন্দ বজায় রাখুন, মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাতে হাসতে শিখুন। আপনার কথা ও আচরণে যেন ফুলের সুঘ্রাণ বের হয়। তাহলে ইনশাআল্লাহ মন ফ্রেশ থাকবে আর মানসিক চাপ কমে যাবে ইনশাআল্লাহ।

১১) শরীরকে তার হক দিন। প্রয়োজনীয় খাবার, ঘুম, বিশ্রাম গ্রহণ করা জরুরি।

১২) দৈনন্দিন গুরুত্বপূর্ণ কাজের লিস্ট তৈরি করে আগেরটা আগে পরেরটা পরে করুন। তবে তা করতে গিয়ে নিজেকে কষ্টের মধ্যে ফেলে দিবেন না। মনে রাখবেন, অগোছালো কার্যক্রম মানসিক অস্থিরতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ তৈরি করে।

১৩) ‘প্রতিটি কাজ ১০০ পার্সেন্ট নির্ভুল করতে হবে’ এই চিন্তা মাথা থেকে সরাতে হবে। কেননা, পূর্ণাঙ্গতার গুণ কেবল মাত্র আল্লাহর। যারা সব কাজ নির্ভুল করার চিন্তায় থাকে তাদেরকে চতুর্দিক থেকে দু:শ্চিন্তা, টেনশন,অস্থিরতা ঘিরে ধরে। ফলে তাদের মানসিক চাপ চরম আকার ধারণ করে।

১৪) নিশ্চিত থাকুন, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক যত গভীর হবে দুনিয়া ও আখিরাতের সব কাজ তত সহজ হবে। আল্লাহ ভীতি, নামায, সকাল-সন্ধ্যার দুয়া ও যিকির, নেকীর কাজ, মানুষের কল্যাণে কাজ ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার মনে অফুরন্ত প্রশান্তি বর্ষণ করেন, সমস্যা দূরভিত করেন আর তখন জীবন হয়ে উঠে আরও প্রাণবন্ত, স্বচ্ছন্দয় ও আল্লাহর ভালবাসায় সুরভিত।
আল্লাহ সকলকে তাওফিক দান করুন।

~কপি পোস্ট ~

18/04/2021

সমস্যার উৎস যখন থাইরয়েড, কী ভাবে সামলাবেন তাকে???
রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোন আধিক্যের জন্য নানা উপসর্গ দেখা দেয়।
প্রশ্ন: থাইরয়েড কী?
উত্তর: থাইরয়েড একটি গ্রন্থি যা আমাদের গলায় শ্বাসনালির সামনের দিকে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন মানুষের শরীরের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যেমন বিপাক ক্রিয়া, বাচ্চাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, বুদ্ধির বিকাশ, বয়ঃসন্ধির লক্ষণ, মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, গর্ভধারণ—এগুলি নির্ভর করে থাইরয়েড গ্রন্থির থেকে নিঃসৃত হরমোনের উপরে। থাইরয়েড হরমোন দু’প্রকার টি-থ্রি ও টি-ফোর। আমাদের শরীরের রক্তে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় এই হরমোন থাকে। কোনও কারণে এই হরমোনগুলি বেড়ে বা কমে গেলে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
প্রশ্ন: থাইরয়েডে কী কী সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: থাইরয়েডের সমস্যা প্রধানত দুই ধরনের— ১) হাইপারথাইরয়েডিজ়ম (Hyperthyroidism)— এ ক্ষেত্রে রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। ২) হাইপোথাইরয়েডিজ়ম (Hypothyroidsm)— এ ক্ষেত্রে রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ কমে যায়।
প্রশ্ন: হাইপারথাইরয়েডিজ়ম হলে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে?
উত্তর: রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোন আধিক্যের জন্য নানা উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন, বুক ধড়ফড় করা, ওজন কমে যাওয়া, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, চোখের আকার বেড়ে যাওয়া, গরম সহ্য না হওয়া, ঋতুস্রাবের সমস্যা, এমনকি, মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
প্রশ্ন: হাইপোথাইরয়েডিজ়ম হলে কী উপসর্গ দেখা দেয়?
উত্তর: হাইপোথাইরয়েডিজ়ম হলে নানা উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন, দুর্বলতা, ওজনবৃদ্ধি, বেশি ঠান্ডা লাগা, পেশি এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, চুল পড়ে যাওয়া, পা ও মুখ ফুলে যায়, গলার স্বর পাল্টে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হওয়া, মনে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়া, কিছু ভাল না লাগা (ডিপ্রেশন), কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঋতুস্রাব হওয়া ইত্যাদি। গর্ভাবস্থায় এই রোগ থাকলে বাচ্চার নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। জন্মের পরেই কোনও শিশু এই রোগে আক্রান্ত হলে তার বুদ্ধির স্বাভাবিক বিকাশ, পড়াশোনা, বয়ঃসন্ধির সময়ে নানা সমস্যা হতে পারে।
মনে রাখুন
থাইরয়েড একটি গ্রন্থি যা আমাদের গলায় শ্বাসনালির সামনের দিকে অবস্থিত। থাইরয়েড হরমোন দু’প্রকার টি-থ্রি ও টি-ফোর। আমাদের শরীরের রক্তে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় এই হরমোন থাকে। থাইরয়েডের সমস্যা প্রধানত দুই ধরনের—হাইপারথাইরয়েডিজ়মে রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। আর হাইপোথাইরয়েডিজ়মে রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ কমে যায়। রক্তের এফটি-ফোর এবং টিএসএইচের মাত্রা, থাইরয়েড গ্রন্থির আল্ট্রাসাউন্ড, অ্যান্টি টিপিও অ্যান্টিবডি, থাইরয়েড স্টিমিউলেটিং, ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়।
প্রশ্ন: থাইরয়েডের এই সব সমস্যা কেন হয়?
উত্তর: বিভিন্ন কারণে থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে। যেমন, হাইপোথাইরয়েডিজ়ম মূলত দেখা যায়— ১) খাদ্যে আয়োডিনের অভাব, ২) কিছু অটো ইমিউনি ডিসঅর্ডার ৩) থাইরয়েডের অপারেশন হলে, ৪) রেডিয়েশন থেরাপি নিলে, ৫) কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন লিথিয়াম, অ্যামিওডারোন, ৬) জন্মের সময়ে থাইরয়েড গ্রন্থি তৈরি না হওয়া, কিছু উৎসেচক ঠিকঠাক কাজ না করা, ৭) কিছু খাদ্য উপাদান বেশি পরিমাণে খেলে, যেমন, বাঁধাকপি, ব্রকলি, পুঁইশাক, মিষ্টি আলু, মটরশুটি, কাসাভা, পিচফল, স্ট্রবেরি ইত্যাদি।
হাইপারথাইরয়েডিজ়ম এর মূল কারণগুলি হল-১) অটো ইমিউননি ডিসঅর্ডার যেমন গ্রেভস ডিজ়িজ, ২) থাইরয়েড হরমোন বেশি পরিমান হলে, ৩) থাইরয়েড গ্রন্থির সংক্রমণ হলে, ৪) কিছু ধরনের থাইরয়েড টিউমার হলে।
প্রশ্ন: থাইরয়েডের রোগ নির্ণয়ের জন্য আমরা কী কী পরীক্ষা করাতে পারি?
উত্তর: ১) এফটি-ফোর এবং টিএসএইচ— হাইপোথাইরয়েডিজ়ম হলে রক্তে এফটি৪ কমে যায় এবং টিএসএইচ বেড়ে যায়। এর বিপরীত হয় হাইপারথাইরয়েডিজ়মের ক্ষেত্রে। ২) থাইরয়েড গ্রন্থির আল্ট্রাসাউন্ড (ইউএসজি): বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্রে এটি করা হয়। এ ছাড়া অ্যান্টি টিপিও অ্যান্টিবডি, থাইরয়েড স্টিমিউলেটিং, ইমিউনোগ্লোবিউলিন ইত্যাদি পরীক্ষা হয়।
প্রশ্ন: গর্ভবস্থায় থাইরয়েড পরীক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব গর্ভবতী মহিলা গর্ভাবস্থায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই থাইরয়েড পরীক্ষা করা জরুরি। মায়ের শরীরে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রায় থাকাটা খুবই দরকার। বিশেষ করে ভ্রূণের মস্তিষ্কের উন্নতির জন্য গর্ভবতী হওয়ার পরে শরীরে থাইরয়েড হরমোনের চাহিদা বেড়ে যায় এবং সেজন্য থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে বেশি পরিমাণ টি-থ্রি, টি-ফোর হরমোন নিঃসৃত হয়. এই অবস্থায় খাদ্যে আয়োডিনের পরিমান কম থাকলে শরীরে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের অভাব দেখা দেয়।
প্রশ্ন: এক জনের শরীরে প্রতিদিন কতটা আয়োডিনের প্রয়োজন হয়?
উত্তর: এটি নির্ভর করে বয়সের উপরে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে এর পরিমাণ আলাদা হয়। ১) জন্ম থেকে ছ’মাস পর্যন্ত: ১১০ মাইক্রোগ্রাম, ২) সাত মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত: ১৩০ মাইক্রোগ্রাম, ৩) ১ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত: ৯০ মাইক্রেোগ্রাম, ৪) ৯ থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত: ১২০ মাইক্রোগ্রাম এবং ৫) ১৪ বছর এবং তার পরে: ১৫০ মাইক্রোগ্রাম. ৬) গর্ভাবস্থায়: ২২০ মাইক্রোগ্রাম, ৭) স্তন্যপান করানোর সময়ে: ২৯০ মাইক্রোগ্রাম।
প্রশ্ন: কোন খাদ্য উপাদানগুলিতে আয়োডিন উপযুক্ত পরিমাণে থাকে?
উত্তর: পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত খাবারগুলি হল, দুধ, দই, চিজ ও দুধ থেকে তৈরি অন্যান্য খাবারগুলি। সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত খাবার যেমন, মাছ, সমুদ্র শৈবাল, চিংড়ি, ফলমূল, আনাজ, আয়োডিন যুক্ত নুন, ডিম ও মাংসের মধ্যেও পর্যাপ্ত পরিমান আয়োডিন থাকে।
প্রশ্ন: টিএসএইচ হরমোনের গুরুত্ব কী?
উত্তর: টিএসএইচ আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরে অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে টি-থ্রি, টি-ফোর হরমোন বেশি মাত্রায় থাকলে টিএসএইচ-এর পরিমাণ কমে যায়।
প্রশ্ন: হাইপোথাইরয়েডিজ়মে আক্রান্ত রোগীকে কী ভাবে চিকিৎসা করা হয়?
উত্তর: এই সব রোগীকে প্রতি দিন থাইরয়েড হরমোন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে খেতে দেওয়া হয়। টিএসএইচ ও এফটি-ফোর এর মাত্র রক্তে কেমন আছে সেটির উপর ভিত্তি করে থাইরয়েড হরমোন এর ডোজ নির্ধারণ করা হয়। এই ওষুধ ট্যাবলেট আকারে বাজারে বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়। এই ওষুধটি প্রতি দিন সকালে খালিপেটে খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে খেতে বলা হয়। যে সব খাবার খেলে হাইপোথাইরয়েডিজ়ম হতে পারে সেগুলি থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। চিকিৎসা শুরু করার ছ’সপ্তাহ থেকে ছ’মাস অন্তর পুনরায় এফটি-ফোর এবং টিএসএইচ মাত্রা দেখা হয় এবং এদের পরিমাণ ঠিক রাখার জন্য থাইরয়েড হরমোনের ডোজ বাড়ানো বা কমানো হয়। নিয়মিত ওষুধ খেলে হাইপোথাইরয়েডিজ়ম রোগ দূরে রাখা সম্ভব। আয়োডিনের অভাবে হাইপোথাইরয়েডিজ়ম হয়ে থাকলে রোগীকে আয়োডিন যুক্ত নুন ও অন্যান্য আয়োডিন পরিপূর্ণ খাবারও খেতে বলা হয়। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে কিছু ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
প্রশ্ন: হাইপারথাইরয়েডিজ়মের কী ভাবে চিকিৎসা করা হয়?
উত্তর: এই রোগীকে থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি করার জন্য মেথিমাজেল, কার্বিমাজোল ইত্যাদি ওষুধ দেওয়া হয়। কিছু দিন পর রক্তে টি-থ্রি, টি-ফোরের পরিমাণ কমে যায় এবং রোগীর উপসর্গগুলি আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়। বুক ধড়ফড় কম করার জন্য বেটা-ব্লকার ব্যবহার করা হয়। এই সব চিকিৎসায় রোগ নিয়ন্ত্রণে না এলে রেডিও আয়োডিন দিয়ে থাইরয়েড গ্রন্থিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয় অথবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই গ্রন্থটিকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।
প্রশ্ন: শরীরে উপযুক্ত পরিমাণ আয়োডিন আছে কি না সেটা জানার কোনও উপায় আছে কী?
উত্তর: এক জন বয়স্ক মানুষের শরীরে প্রায় ১৫-২০ মিলিগ্রাম আয়োডিন থাকে। যার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ থাকে থাইরয়েড গ্রন্থির মধ্যে। রক্তে আয়োডিনের পরিমাণ সময়ের সঙ্গে বাড়ে বা কমে বলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এটি বোঝা যায় না। কিন্তু প্রস্রাবে আয়োডিনের পরিমাণ নির্ণয় করে আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারি। প্রস্রাবে যদি আয়োডিনের মাত্রা ২০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি লিটারের থেকে কম হয় তা হলে বুঝতে হবে শরীরে আয়োডিনের অভাব আছে।
প্রশ্ন: থাইরয়েডের অসুখে ভিটামিনের কোনও ভূমিকা আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। বিশেষ করে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন-ডি এর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকাটা জরুরি থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোন উৎপাদন ও নিঃসরণের জন্য।
প্রশ্ন: মদ্যপান করলে থাইরয়েডের অসুখ হতে পারে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, হতে পারে। অতিরিক্ত মদ্যপান করলে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে টিএসএইচ হরমোন কম নিঃসৃত হয়। ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে টি-থ্রি, টি-ফোরের কম উৎপাদন হয়। এবং অবশেষে হাইপোথাইরয়েডিজ়ম দেখা দেয়।
প্রশ্ন: থাইরয়েডের সমস্যা হলে কি ডায়াবিটিস হতে পারে?
উত্তর: থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোন রক্তে বেশি হলে বা কমলে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা কমে যায়। ফলে ডায়াবিটিস হতে পারে। যেহেতু হাইপোথাইরয়েডিজ়ম বেশি পরিমাণ দেখা যায় হাইপারথাইরেয়ডিজ়মের থেকে, সে জন্য সচরাচর আমরা ডায়াবিটিসের সঙ্গে হাইপোথাইরয়েডিজ়মের চিকিৎসা করি। এ ছাড়া, গ্রেভস হাইপারথাইরয়েডিজ়ম এবং টাইপ-১ ডায়াবেটিস যেহেতু একটি অটো ইমিউনি ডিজ়িজ অনেক ক্ষেত্রে এক সঙ্গে দেখা যায়।
প্রশ্ন: গলগণ্ড বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: থাইরয়েড গ্রন্থি আকারে বৃদ্ধি পেলে গলার অগ্রভাগটা ফুলে যায় একেই গলগণ্ড বলে। এর কারণগুলি হল—আয়োডিনের অভাব, গ্রেভস ডিজ়িজ, থাইরয়েডের সংক্রমণ এবং থাইরয়েডের টিউমার ইত্যাদি। সুতরাং হাইপোথাইরয়েডিজ়ম এবং হাইপারথাইরয়েডিজ়ম— দু’টি ক্ষেত্রেই গলগণ্ড হতে পারে।
ধন্যবাদ.

শ্যামা সঙ্গীতের রেকর্ডিং শেষে কাজী নজরুল ইসলাম বাড়ি ফিরছেন। যাত্রাপথে তাঁর পথ আগলে ধরেন সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দীন। একটা আ...
15/04/2021

শ্যামা সঙ্গীতের রেকর্ডিং শেষে কাজী নজরুল ইসলাম বাড়ি ফিরছেন। যাত্রাপথে তাঁর পথ আগলে ধরেন সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দীন। একটা আবদার নিয়ে এসেছেন তিনি। আবদারটি না শোনা পর্যন্ত নজরুলকে তিনি এগুতে দিবেন না।

আব্বাস উদ্দীন নজরুলকে সম্মান করেন, সমীহ করে চলেন। নজরুলকে তিনি ‘কাজীদা’ বলে ডাকেন। নজরুল বললেন, “বলে ফেলো তোমার আবদার।”

আব্বাস উদ্দীন সুযোগটা পেয়ে গেলেন। বললেন, “কাজীদা, একটা কথা আপনাকে বলবো বলবো ভাবছি। দেখুন না, পিয়ারু কাওয়াল, কাল্লু কাওয়াল এরা কী সুন্দর উর্দু কাওয়ালী গায়। শুনেছি এদের গান অসম্ভব রকমের বিক্রি হয়। বাংলায় ইসলামি গান তো তেমন নেই। বাংলায় ইসলামি গান গেলে হয় না? আপনি যদি ইসলামি গান লেখেন, তাহলে মুসলমানদের ঘরে ঘরে আপনার জয়গান হবে।”

বাজারে তখন ট্রেন্ড চলছিলো শ্যামা সঙ্গীতের। শ্যামা সঙ্গীত গেয়ে সবাই রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে যাচ্ছে। এই স্রোতে গা ভাসাতে গিয়ে অনেক মুসলিম শিল্পী হিন্দু নাম ধারণ করেন। মুনশী মোহাম্মদ কাসেম হয়ে যান ‘কে. মল্লিক’, তালাত মাহমুদ হয়ে যান ‘তপন কুমার’। মুসলিম নামে হিন্দু সঙ্গীত গাইলে গান চলবে না। নজরুল নিজেও শ্যামা সঙ্গীত লেখেন, সুর দেন।

গানের বাজারের যখন এই অবস্থা তখন আব্বাস উদ্দীনের এমন আবদারের জবাবে নজরুল কী উত্তর দেবেন? ‘ইসলাম’ শব্দটার সাথে তো তাঁর কতো আবেগ মিশে আছে। ছোটবেলায় মক্তবে পড়েছেন, কুর’আন শিখেছেন এমনকি তাঁর নিজের নামের সাথেও তো ‘ইসলাম’ আছে।

আব্বাস উদ্দীনকে তো এই মুহূর্তে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বলা যাচ্ছে না। স্রোতের বিপরীতে সুর মেলানো চট্টিখানি কথা না। আবেগে গা ভাসালে চলবে না। গান রেকর্ড করতে হলে তো বিনিয়োগ করতে হবে, সরঞ্জাম লাগবে। এগুলোর জন্য আবার ভগবতী বাবুর কাছে যেতে হবে। ভগবতী বাবু হলেন গ্রামোফোন কোম্পানির রিহার্সেল-ইন-চার্জ।

নজরুল বললেন, “আগে দেখো ভগবতী বাবুকে রাজী করাতে পারো কিনা।” আব্বাস উদ্দীন ভাবলেন, এইতো, কাজীদার কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেলাম, ভগবতী বাবুকে কিভাবে রাজী করাতে হয় সেটা এখন দেখবেন।

গ্রামোফোনের রিহার্সেল-ইন-চার্জ ভগবতী বাবুর কাছে গিয়ে আব্বাস উদ্দীন অনুরোধ করলেন। কিন্তু, ভগবতী বাবু ঝুঁকি নিতে রাজী না। মার্কেট ট্রেন্ডের বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ করলে ব্যবসায় লালবাতি জ্বলতে পারে। আব্বাস উদ্দীনযতোই তাঁকে অনুরোধ করছেন, ততোই তিনি বেঁকে বসছেন। ঐদিকে আব্বাস উদ্দীনও নাছোড়বান্দা। এতো বড় সুরকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভগবতী বাবুর পিছু ছাড়ছেন না। অনুরোধ করেই যাচ্ছেন। দীর্ঘ ছয়মাস চললো অনুরোধ প্রয়াস। এ যেন পাথরে ফুল ফুটানোর আপ্রাণ চেষ্টা!

একদিন ভগবতী বাবুকে ফুরফুরে মেজাজে দেখে আব্বাস উদ্দীন বললেন, “একবার এক্সপেরিমেন্ট করে দেখুন না, যদি বিক্রি না হয় তাহলে আর নেবেন না। ক্ষতি কী?” ভগবতী বাবু আর কতো ‘না’ বলবেন। এবার হেসে বললেন, “নেহাতই নাছোড়বান্দা আপনি। আচ্ছা যান, করা যাবে। গান নিয়ে আসুন।” আব্বাস উদ্দীনের খুশিতে চোখে পানি আসার উপক্রম! যাক, সবাই রাজী। এবার একটা গান নিয়ে আসতে হবে।

নজরুল চা আর পান পছন্দ করেন। এক ঠোঙা পান আর চা নিয়ে আব্বাস উদ্দীন নজরুলের রুমে গেলেন। পান মুখে নজরুল খাতা কলম হাতে নিয়ে একটা রুমে ঢুকে পড়লেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে আব্বাস উদ্দীন খান অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের মতো সময় যেন থমকে আছে। সময় কাটানোর জন্য আব্বাস উদ্দীন পায়চারী করতে লাগলেন।

প্রায় আধ ঘন্টা কেটে গেলো। বন্ধ দরজা খুলে নজরুল বের হলেন। পানের পিক ফেলে আব্বাস উদ্দীনের হাতে একটা কাগজ দিলেন। এই কাগজ তাঁর আধ ঘন্টার সাধনা। আব্বাস উদ্দীনের ছয় মাসের পরিশ্রমের ফল।

আব্বাস উদ্দীন কাগজটি হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলেনঃ-

“ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।”

আব্বাস উদ্দীনের চোখ পানিতে ছলছল করছে। একটা গানের জন্য কতো কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাঁকে। সেই গানটি এখন তাঁর হাতের মুঠোয়। তিনি কি জানতেন, তাঁর হাতে বন্দী গানটি একদিন বাংলার ইথারে ইথারে পৌঁছে যাবে? ঈদের চাঁদ দেখার সাথে সাথে টিভিতে ভেজে উঠবে- ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে...?
..

দুই মাস পর রোজার ঈদ। গান লেখার চারদিনের মধ্যে গানের রেকর্ডিং শুরু হয়ে গেলো। আব্বাস উদ্দীন জীবনে এর আগে কখনো ইসলামি গান রেকর্ড করেননি। গানটি তাঁর মুখস্তও হয়নি এখনো। গানটা চলবে কিনা এই নিয়ে গ্রামোফোন কোম্পানি শঙ্কায় আছে। তবে কাজী নজরুল ইসলাম বেশ এক্সাইটেড। কিভাবে সুর দিতে হবে দেখিয়ে দিলেন।

হারমোনিয়ামের উপর আব্বাস উদ্দীনের চোখ বরাবর কাগজটি ধরে রাখলেন কাজী নজরুল ইসলাম নিজেই। সুর সম্রাট আব্বাস উদ্দীনের বিখ্যাত কণ্ঠ থেকে বের হলো- “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ...”। ঈদের সময় গানের এ্যালবাম বাজারে আসবে। আপাতত সবাই ঈদের ছুটিতে।

রমজানের রোজার পর ঈদ এলো। আব্বাস উদ্দীন বাড়িতে ঈদ কাটালেন। কখন কলকাতায় যাবেন এই চিন্তায় তাঁর তর সইছে না। গানের কী অবস্থা তিনি জানেন না। তাড়াতাড়ি ছুটি কাটিয়ে কলকাতায় ফিরলেন।

ঈদের ছুটির পর প্রথমবারের মতো অফিসে যাচ্ছেন। ট্রামে চড়ে অফিসের পথে যতো এগুচ্ছেন, বুকটা ততো ধ্বকধ্বক ধ্বকধ্বক করছে। অফিসে গিয়ে কী দেখবেন? গানটা ফ্লপ হয়েছে? গানটা যদি ফ্লপ হয় তাহলে তো আর জীবনেও ইসলামি গানের কথা ভগবতী বাবুকে বলতে পারবেন না। ভগবতী বাবু কেন, কোনো গ্রামোফোন কোম্পানি আর রিস্ক নিতে রাজী হবে না। সুযোগ একবারই আসে।

আব্বাস উদ্দীন যখন এই চিন্তায় মগ্ন, তখন পাশে বসা এক যুবক গুনগুনিয়ে গাওয়া শুরু করলো- ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। এই যুবক গানটি কোথায় শুনলো? নাকি আব্বাস উদ্দীন ভুল শুনছেন?

না তো। তিনি আবারো শুনলেন যুবকটি ঐ গানই গাচ্ছে। এবার তাঁর মনের মধ্যে এক শীতল বাতাস বয়ে গেলো। অফিস ফিরে বিকেলে যখন গড়ের মাঠে গেলেন তখন আরেকটা দৃশ্য দেখে এবার দ্বিগুণ অবাক হলেন। কয়েকটা ছেলে দলবেঁধে মাঠে বসে আছে। তারমধ্য থেকে একটা ছেলে গেয়ে উঠলো- ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। আব্বাস উদ্দীন এতো আনন্দ একা সইতে পারলেন না। তাঁর সুখব্যথা হচ্ছে।

ছুটে চললেন নজরুলের কাছে। গিয়ে দেখলেন নজরুল দাবা খেলছেন। তিনি দাবা খেলা শুরু করলে দুনিয়া ভুলে যান। আশেপাশে কী হচ্ছে তার কোনো খেয়াল থাকে না। অথচ আজ আব্বাস উদ্দীনের গলার স্বর শুনার সাথে সাথে নজরুল দাবা খেলা ছেড়ে লাফিয়ে উঠে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। নজরুল বললেন, “আব্বাস, তোমার গান কী যে হিট হয়েছে!”

অল্প কয়দিনের মধ্যেই গানটির হাজার হাজার রেকর্ড বিক্রি হয়। ভগবতী বাবুও দারুণ খুশি। একসময় তিনি ইসলামি সঙ্গীতের প্রস্তাবে একবাক্যে ‘না’ বলে দিয়েছিলেন, আজ তিনিই নজরুল-আব্বাসকে বলছেন, “এবার আরো কয়েকটি ইসলামি গান গাও না!” শুরু হলো নজরুলের রচনায় আর আব্বাস উদ্দীনের কণ্ঠে ইসলামি গানের জাগরণ।

বাজারে এবার নতুন ট্রেন্ড শুরু হলো ইসলামি সঙ্গীতের। এই ট্রেন্ড শুধু মুসলমানকেই স্পর্শ করেনি, স্পর্শ করেছে হিন্দু শিল্পীদেরও।

একসময় মুসলিম শিল্পীরা শ্যামা সঙ্গীত গাইবার জন্য নাম পরিবর্তন করে হিন্দু নাম রাখতেন। এবার হিন্দু শিল্পীরা ইসলামি সঙ্গীত গাবার জন্য মুসলিম নাম রাখা শুরু করলেন। ধীরেন দাস হয়ে যান গণি মিয়া, চিত্ত রায় হয়ে যান দেলোয়ার হোসেন, গিরিন চক্রবর্তী হয়ে যান সোনা মিয়া, হরিমতি হয়ে যান সাকিনা বেগম, সীতা দেবী হয়ে যান দুলি বিবি, ঊষারাণী হয়ে যান রওশন আরা বেগম।

তবে বিখ্যাত অনেক হিন্দু শিল্পী স্ব-নামেও নজরুলের ইসলামি সঙ্গীত গেয়েছেন। যেমনঃ অজয় রায়, ড. অনুপ ঘোষল, আশা ভোঁসলে, মনোময় ভট্টাচার্য, রাঘব চট্টোপাধ্যায়।

দুই.

কাজী নজরুল ইসলামের ইসলামি গান লেখার সহজাত প্রতিভা ছিলো। খাতা কলম দিয়ে যদি কেউ বলতো, একটা গান লিখুন, তিনি লিখে ফেলতেন।

একদিন আব্বাস উদ্দীন নজরুলের বাড়িতে গেলেন। নজরুল তখন কী একটা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আব্বাস উদ্দীনকে হাতের ইশারায় বসতে বলে আবার লেখা শুরু করলেন। ইতোমধ্যে যুহরের আযান মসজিদ থেকে ভেসে আসলো। আব্বাস উদ্দীন বললেন, “আমি নামাজ পড়বো। আর শুনুন কাজীদা, আপনার কাছে একটা গজলের জন্য আসছি।”

কবি শিল্পীকে একটা পরিস্কার জায়নামাজ দিয়ে বললেন, “আগে নামাজটা পড়ে নিন।” আব্বাস উদ্দীন নামাজ পড়তে লাগলেন আর নজরুল খাতার মধ্যে কলম চালাতে শুরু করলেন।

আব্বাস উদ্দীনের নামাজ শেষ হলে নজরুল তাঁর হাতে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “এই নিন আপনার গজল!” হাতে কাগজটি নিয়ে তো আব্বাস উদ্দীনের চক্ষু চড়কগাছ। এই অল্প সময়ের মধ্যে নজরুল গজল লিখে ফেলছেন? তা-ও আবার তাঁর নামাজ পড়ার দৃশ্যপট নিয়ে?

“হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড়ো আজ,
দিলাম তোমার চরণতলে হৃদয় জায়নামাজ।”

তিন.

কাজী নজরুল ইসলাম বিখ্যাত হয়ে আছেন তাঁর রচিত নাতে রাসূলের জন্য।

১। ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়
আয় রে সাগর আকাশ-বাতাস দেখবি যদি আয়’

২। ‘মুহাম্মদ নাম জপেছিলি, বুলবুলি তুই আগে,
তাই কি রে তোর কন্ঠের গান, এমন মধুর লাগে।'

৩। ‘আমি যদি আরব হতাম মদীনারই পথ
আমার বুকে হেঁটে যেতেন, নূরনবী হজরত’

৪। ‘হেরা হতে হেলে দুলে নূরানী তনু ও কে আসে হায়
সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা খুলে যায়।
সে যে আমার কামলিওয়ালা, কামলিওয়ালা।’
.

গানগুলো ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে। গানগুলো রচনার প্রায় নব্বই বছর হয়ে গেছে। আজও মানুষ গুনগুনিয়ে গানগুলো গায়।

তথ্য উৎসঃ
১। আব্বাসউদ্দীনের আত্মজীবনী - ‘দিনলিপি ও আমার শিল্পী জীবনের কথা'। সংগৃহীত।

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Md Yusuf Khan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram