19/05/2025
🌟 “৩০ পার হতেই এই ৫টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন—না করলে বিপদ ডেকে আনছেন নিজের হাতে!” 🌟
৩০-এর ঘরে পা রাখা মানেই জীবন এক নতুন অধ্যায়ের শুরু। ক্যারিয়ারে গতি, সংসারের ভার, সামাজিক দায়িত্ব—সবকিছুই যেন একসাথে বাড়তে থাকে। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝে আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি ভুলে যাই—নিজের শরীরের যত্ন।
আপনি যেমন প্রতিদিন ফোন চার্জে দেন, গাড়ির ইঞ্জিন তেল চেক করেন, তেমনি আপনার শরীরও নিয়মিত ‘চেক-আপ’ চায়। সময়মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করালে, সুপ্ত রোগগুলো একসময় বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চলুন জেনে নিই ৩০ পেরোনোর পর যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা একদম ফেলে রাখলে চলবে না—
🔍 ১. রক্তচাপ পরীক্ষা (Blood Pressure Check)
🎯 “উচ্চ রক্তচাপ নীরব ঘাতক”—এই কথাটি শুধু কথার কথা নয়।
অনেকেই জানেন না যে ৩৫ বছরের একজন সুস্থ মানুষও স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন শুধুমাত্র অজান্তে থাকা হাই ব্লাড প্রেশারের কারণে।
একজন চাকরিজীবী, যিনি প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা ডেস্কে বসে কাজ করেন, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাওয়া-ঘুমের কারণে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন—তিনি হয়ত টেরও পান না।
✅ প্রতি ৬-১২ মাসে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে যদি পরিবারে কারও হাই প্রেশার থাকে।
🩸 ২. রক্তে শর্করার মাত্রা (Fasting Blood Sugar & HbA1c)
🎯 ডায়াবেটিস এখন শুধু “বুড়োদের রোগ” নয়—এই ধারণা পুরনো।
চটজলদি খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব, এবং ঘুমের অনিয়মের ফলে এখন ৩০-এর আগেই অনেকেই টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন।
একজন ৩২ বছরের আইটি পেশাজীবী যিনি প্রতিদিন ৫ কাপ চিনি দেওয়া চা খান এবং রাত ২টায় ঘুমাতে যান—তিনি জানতেও পারেন না যে তার HbA1c ইতিমধ্যেই 6.5%-এর উপরে।
✅ বছরে অন্তত একবার ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও HbA1c পরীক্ষা করুন।
💉 ৩. কোলেস্টেরল লেভেল / লিপিড প্রোফাইল (Cholesterol Test)
🎯 চেহারায় শুকনো বা ফিট দেখালেও শরীরের ভেতরের ফ্যাটের মাত্রা বিপজ্জনক হতে পারে।
একজন স্বাস্থ্যসচেতন মনে হলেও যদি প্রতিদিন ফাস্ট ফুড বা ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার খান, তাহলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তেই পারে।
অবস্থা এমন হতে পারে যে কোনো লক্ষণ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
✅ বছরে একবার লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করান, বিশেষ করে যদি আপনার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন থাকে।
🧬 ৪. লিভার ও কিডনি ফাংশন টেস্ট (LFT & KFT)
🎯 লিভার আর কিডনি—দু’জনেই নিঃশব্দে কাজ করে, যতক্ষণ না সমস্যাটা বড় হয়ে ওঠে।
প্রতিদিন পেইনকিলার খাওয়া, অতিরিক্ত পার্টি ড্রিংকিং, বা অনিয়মিত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ—এইসব কারণে লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একজন জিমপাগল ব্যক্তি যিনি নিয়মিত প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নেন, যদি কিডনির ফাংশন না দেখেন, ভবিষ্যতে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ হতে পারে।
✅ রুটিন হেলথ চেকআপে LFT ও KFT টেস্ট অন্তর্ভুক্ত করুন।
👩⚕️ ৫. নারীদের জন্য জরায়ু ও স্তনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Pap smear, Breast Check)
🎯 সঠিক সময়ে পরীক্ষা মানে ভবিষ্যতের বিপদ অনেকটাই এড়ানো।
৩০-এর পর নারীদের শরীরে হরমোনাল পরিবর্তন শুরু হয়। পিরিয়ড অনিয়ম, পিসিওএস, কিংবা অজানা স্তনের গাঁট—সব কিছু সময়মতো ধরা জরুরি।
একজন ৩৫ বছর বয়সী মা, যিনি নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করতেন না, হঠাৎই একদিন ব্রেস্ট লাম্প আবিষ্কার করলেন—যা প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ছিল।
✅ প্রতি ২-৩ বছর অন্তর Pap Smear, আর প্রতি মাসে নিয়মিত Breast Self-Examination করুন।
নিজেকে গুরুত্ব দেওয়া মানে স্বার্থপর হওয়া নয়।
আপনি যত বেশি স্বাস্থ্যবান থাকবেন, আপনার পরিবার, ভালোবাসার মানুষ আর সমাজ তত বেশি উপকৃত হবে।
সতর্কতা শুধু জীবন বাঁচায় না—জীবনকে সুন্দর রাখে।
তাই আজই নিজের এবং প্রিয়জনের হেলথ চেকআপের জন্য সময় বের করুন। কারণ প্রতিরোধ, চিকিৎসার চেয়ে অনেক শক্তিশালী।
শেয়ার করুন এই পোস্ট, হোক সবাই সচেতন!
📌 ডা.রায়হান উদ্দীন
এমবিবিএস ( স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ),বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস ফাইনাল পার্ট (মেডিসিন)
সহকারী রেজিস্ট্রার (হৃদরোগ বিভাগ), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ।
#স্বাস্থ্যপরীক্ষা