30/03/2026
চট্টগ্রামে হামের সর্বশেষ পরিস্হিতি :
অদ্য ২৯ মার্চ রাত ১০ টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ০২ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ৪ জন রোগী সন্দেহজনক হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এসব সন্দেহজনক হাম রোগীদের নমুনা সংগ্রহ পূর্বক রোগনির্নয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। নিশ্চিত হামে মৃত্যুর কোন তথ্য অত্র দপ্তরে অদ্যবধি নথিবুক্ত নয়।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম শহর ও আশেপাশের এলাকায় শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়াজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এসব রোগীদের উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা চালু রয়েছে। সন্দেহজনক হাম রোগীদের ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহ পূর্বক তা পরীক্ষা করা আবশ্যক।
জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসব নিউমোনিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্হা গ্রহন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা বিশেষ কর্নার খোলা হয়েছে ।
টিকাদান পরিস্থিতি: চট্টগ্রামে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) এবং সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী টিকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
টিকাদানের সময়সূচী ও নিয়ম
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের দুই ডোজ হামের টিকা দেওয়া হয়:
প্রথম ডোজ : শিশু জন্মের ৯ মাস পূর্ণ হলে।
দ্বিতীয় ডোজ : ১৫ মাস বয়সে।
তবে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা, যাদের এখনও টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
হাম রোগ সাধারণত দুইভাবে নির্ণয় করা হয়
: বাহ্যিক লক্ষণ দেখে এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে।
১. বাহ্যিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণ (ক্লিনিকাল ডায়াগনোসিস)
চিকিৎসকরা সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং ফুসকুড়ির ধরণ দেখে হাম শনাক্ত করেন:
*কপলিক স্পট : গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদা বা ধূসর দানা দেখা দেয়, যা হামের একটি প্রধান লক্ষণ।
*ফুসকুড়ির ধরণ: সাধারণত কান বা মুখমণ্ডল থেকে শুরু হয়ে শরীরের নিচের দিকে (ঘাড়, বুক, হাত ও পা) ছড়িয়ে পড়া লালচে ছোপ ছোপ দাগ।
*প্রাথমিক উপসর্গ: তীব্র জ্বর (১০৩-১০৪° ফারেনহাইট), অনবরত কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।
*জরুরি বিপদচিহ্ন:
শ্বাসকষ্ট হওয়া বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়া বা খিঁচুনি হওয়া।
একদম খেতে না পারা বা অনবরত বমি করা।
২. ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (ল্যাব ডায়াগনোসিস)
লক্ষণগুলো নিশ্চিত করার জন্য কিছু পরীক্ষা করানো হতে পারে:
রক্ত পরীক্ষা (IgM Antibody Test): রক্তে হামের ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি (IgM) আছে কিনা তা যাচাই করা হয়। এটি বর্তমানে হাম শনাক্তের সবচাইতে প্রচলিত পদ্ধতি।
পিসিআর পরীক্ষা (RT-PCR): রোগীর নাক, গলা বা প্রস্রাব থেকে নমুনা (Swab) নিয়ে ভাইরাসের জেনেটিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ: আক্রান্ত শিশুদের পুষ্টিকর খাবার (বিশেষ করে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার) এবং পর্যাপ্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আক্রান্ত শিশুর যত্ন:
আলাদা রাখা: শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা ঘরে রাখুন।
তরল খাবার: প্রচুর পানি, ফলের রস ও পুষ্টিকর খাবার দিন।
ভিটামিন-এ: চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-এ নিশ্চিত করুন।
🚨