19/03/2026
ঈদের ছুটি মানেই মানুষের কাছে আনন্দ, পরিবার, আর উৎসবের সময়। কিন্তু আমার কাছে কাছে ঈদের ছুটি মানেই হচ্ছে হাসপাতালের ডিউটি।
চিকিৎসক হওয়ার পর থেকেই প্রতি ঈদ কিংবা কোরবানির আগে ও পরে আমি এক অদ্ভুত আনন্দ খুঁজে পায়—রোগীদের পাশে থাকা, তাদের সুস্থ রাখার চেষ্টা করা।
যখন শহরের মানুষ নতুন জামা পরে ঘুরে বেড়ায়, তখন আমি হাসপাতালের করিডোরে হাঁটি, রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস গুনি, প্রেসক্রিপশন লিখি, অক্সিজেন ফ্লো ঠিক করা, ABG করা, Bi-PAP, C-PAP এ্যাডজাস্টমেন্ট করা, লাইফসাপোর্ট মনিটর , সিভি লাইন, ইন্টুভেশন কিংবা সিপিআর দেয়া। আর মনে মনে ভাবি—“এটাই তো আমার দায়িত্ব।”
এই ঈদ ছুটিও অন্য বছরের মতোই শুরু হয়েছিল। কিন্তু পার্থক্য ছিল একটাই—টানা কয়েক শিফট ডিউটি। ক্লান্ত শরীর, চোখে ঘুম নেই, তবুও প্রতিটি রোগীর খোঁজ নিতে তিনি ভুল করিনি।
ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারলাম, এই কয়েকদিনে রোগীদের সাথে তার সম্পর্কটা যেন একটু অন্যরকম হয়ে গেছে। শুধু চিকিৎসক আর রোগী নয়—একটা অদৃশ্য, গভীর, প্রায় স্পিরিচুয়াল বন্ধন তৈরি হয়েছে।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল। নিজের খাবারের কথা ভাবার সময়ও পায়নি,ঠিক তখনই এক রোগীর স্বজন চুপচাপ তার সামনে এসে দাঁড়াল।
হাতে একটা টিফিন ক্যারিয়ার।
“স্যার, আপনি তো কিছু খাননি… এটা আমাদের বাসা থেকে আপনার জন্য।”
আমি একটু থমকে গেলাম, একটু সংকোচ চিত্তে বললাম,“না না, এটা লাগবে না… আপনি নিয়ে যান,”—স্বাভাবিক ভদ্রতা আর আত্মসম্মানের জায়গা থেকে ফিরিয়ে দিতে চাইলাম।
কিন্তু মানুষটা নড়ল না। তার চোখে ছিল কৃতজ্ঞতা আর আন্তরিকতা।
শেষ পর্যন্ত আমি হাল ছেড়ে দিলাম। টিফিনটা নিয়ে ধীরে ধীরে খুললাম… আর এক অদ্ভুত অনুভূতি আমাকে ঘিরে ধরল।
এটা শুধু খাবার ছিল না—এটা ছিল ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা, আর মানুষের প্রতি মানুষের টান।
এক চামচ মুখে দেওয়ার সাথে সাথে তার ক্লান্তি যেন একটু করে কমে গেল।
আমি অনুভব করলাম—
চিকিৎসা শুধু দায়িত্ব নয়, এটা একটা সম্পর্ক।
আর রোগীদের এই ছোট ছোট ভালোবাসাগুলোই একজন চিকিৎসকের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
যে প্রাপ্তি সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়, আর আবার নতুন করে কাজ করার শক্তি জোগায় ❤️
কৃতজ্ঞতায়,
ডা. সৈকত রায়
এমবিবিএস, এমডি-বক্ষব্যাধি(ফেইজ-বি)
এমপিএইচ,ইডিসি(ডায়াবেটিস)
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়(পিজি হাসপাতাল), ঢাকা।