12/01/2026
***এনজিওগ্রাম_কী?
এনজিওগ্রাম (Angiogram) হল হৃদপিণ্ডের ধমনীসহ শরীরের বিভিন্ন রক্তনালীর অবস্থা দেখার জন্য একটি বিশেষ পরীক্ষা। এতে আয়োডিনযুক্ত কন্ট্রাস্ট ডাই রক্তনালীতে প্রবেশ করিয়ে এক্স-রে বা ফ্লুরোস্কোপির মাধ্যমে রক্তনালীর ভেতরে রক্তপ্রবাহ, ব্লক, সংকোচন বা অন্যান্য সমস্যা দেখা হয়। হৃদযন্ত্রে ব্যবহৃত এনজিওগ্রামকে সাধারণভাবে করোনারি এনজিওগ্রাম বলা হয়। এটি হার্ট অ্যাটাক, বুকে ব্যথা, ব্লকেজ, বা বুকে অস্বস্তির কারণ নির্ণয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আধুনিক পদ্ধতি।
***কেন_এনজিওগ্রাম_করা_হয়?
এনজিওগ্রামের মাধ্যমে চিকিৎসক খুব স্পষ্টভাবে দেখতে পারেন—
১.করোনারি ধমনীতে ব্লক আছে কি না?
২.ব্লকের মাত্রা কত শতাংশ
৩.কোন ধমনীগুলো সংকুচিত বা ক্ষতিগ্রস্ত
৪.ভবিষ্যৎ চিকিৎসা—স্টেন্ট, বাইপাস বা ওষুধ—কোনটি প্রয়োজন তা নির্ধারণ
এই পরীক্ষা দ্রুত, নির্ভুল ও জীবনরক্ষাকারী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
***এনজিওগ্রাম_কিভাবে_করা_হয়? (ধাপে ধাপে)
ক.প্রাথমিক প্রস্তুতি:
রোগীকে সাধারণত খালি পেটে আনা হয়। কিডনি ফাংশন ও কিছু রক্ত পরীক্ষা আগে করে নেওয়া হয়। ইনফর্মড কনসেন্ট নেওয়া হয়।
খ.ক্যাথল্যাবে নেওয়া:
রোগীকে কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাবে নেওয়া হয়। মনিটরে হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ ও অক্সিজেন স্যাচুরেশন লাগানো থাকে।
গ.লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া:
সাধারণত হাতের কবজি (radial artery) অথবা কুঁচকির (femoral artery) ধমনীতে ছোট একটি জায়গায় স্থানীয় অবশ (local anesthesia) দেওয়া হয়।
ঘ.ক্যাথেটার ঢোকানো:
ধমনীতে একটি ছোট শিথ (Sheath) ঢোকানো হয়, এরপর তার ভেতর দিয়ে একটি সরু নরম টিউব (Catheter) হৃদয়ের কাছে করোনারি ধমনীর মুখ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।
ঙ.কন্ট্রাস্ট ডাই দেওয়া:
ক্যাথেটারের মাধ্যমে বিশেষ কন্ট্রাস্ট ডাই ঢোকানো হয়, যা এক্স-রে তে স্পষ্ট দেখা যায়। তখনই মনিটরে রিয়েল-টাইম ভিডিওতে রক্তনালীর ভেতরে রক্তপ্রবাহ দেখা যায়।
চ.ব্লক বা অস্বাভাবিকতা দেখা:
কোন ধমনীতে কত শতাংশ ব্লক, কোথায় সংকোচন আছে—সব বিস্তারিত বোঝা যায়।
ছ.পরীক্ষা শেষ:
ক্যাথেটার ও শিথ বের করে দেওয়া হয়। রেডিয়াল রুট হলে বিশেষ ব্যান্ড দিয়ে প্রেসার দেওয়া হয়; ফেমোরাল রুট হলে কয়েক ঘণ্টা শুয়ে থাকতে হয়।
***এনজিওগ্রাম_করতে_কত_সময়_লাগে?
সাধারণত 10–20 মিনিট। জটিলতা থাকলে সময় একটু বেশি লাগতে পারে।
***এনজিওগ্রামের_পর_কি_কি_সতর্কতা_প্রয়োজন?
ক.হাতের ব্যান্ড ঢিলা না করা
খ.ভারী কাজ বা ভারী ওজন না তোলা (২৪–৪৮ ঘণ্টা)
গ.প্রচুর পানি পান করা, যাতে কন্ট্রাস্ট দ্রুত শরীর থেকে বের হয়ে যায়
ঘ.ইনজেকশন/কথা বলার জায়গায় ব্যথা, ফোলাভাব বা রক্তপাত হলে দ্রুত ডাক্তারকে জানানো
***এনজিওগ্রাম_কতটা_নিরাপদ?
বর্তমানে করোনারি এনজিওগ্রাম অত্যন্ত নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর পদ্ধতি। ঝুঁকি খুবই কম (প্রায় ১% এরও কম)। অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট ও উন্নত ক্যাথল্যাবে ঝুঁকি আরও কমে যায়।
লেখক
***ডা_অর্ণব_কুমার_চৌধুরী
ক্লিনিক্যাল এন্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা