10/01/2026
DHMS ১ম বর্ষ: মেটেরিয়া মেডিকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৩টি প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন-১: মেটেরিয়া মেডিকার সংজ্ঞা দাও
উত্তর: যে গ্রন্থে ঔষধের ধরণ এবং রোগ আরোগ্য করার ক্ষমতা অর্থাৎ কোন ঔষধ কোন ধরনের রোগ বা রোগীর আরোগ্য করার জন্য উপযুক্ত তা বিষদভাবে উল্লেখ থাকে তাকে মেটেরিয়া মেডিকা বলা হয়। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থার স্ব স্ব মেটেরিয়া আছে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মেটেরিয়া মেডিকাকে হোমিওপ্যাথিকি মেটেরিয়া মেডিকা বলে। মহাত্মা হ্যানিমান সর্ব প্রথম সুস্থ মানুষেরর শরীরে ভেষজ পরী¶ার মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা রচনা করেন। তার রচিত মেটেরিয়া মেডিকার নাম- মেটেরেরিয়া মেডিকা পিউরা।
প্রশ্ন-২: হোমিওপ্যাথি ও এলোপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা
(ক) হোমিওপ্যাথির জনক মহাত্মা হ্যানিমান হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা প্রচলন করেন।
(খ) এটি সুস্থ মানুষের শরীরে ভেষজ পরীক্ষণের মাধ্যমে লিপিব্ধ করা হয়েছে।
(গ) হোমিওপ্যাথি মেটেরিয়া মেডিকাতে শারীরিক লক্ষণের পাশাপাশি যুগপৎভাবে মানসিক লক্ষণ সন্নিবেশিত।
(ঘ) হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা ঔষধের শক্তিকৃত এবং সুক্ষ্মমাত্রা প্রয়োগর মাধ্যমে লিপিবদ্ধ। এবং এখানে ঔষধের শক্তিকৃত এবং সুক্ষ্মমাত্রা ব্যবহারের উল্লেখ করা হয়েছে।
(ঙ) এতে উল্লেখিত কোনো ঔষধ আবিষ্কারের পর থেকে আজ পর্যন্ত চলমান আছে- ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বাতিল বলে গণ্য হয়নি।
(চ) এখানে ভেষজ পরীক্ষক ছাড়া ভিন্ন কোনো মতামত স্থান পয়ানি।
(ছ) এতে সদৃশ্যতার ভিত্তিতে ওষুধের লক্ষণ বর্ণিত হয়েছে।
এলোপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা
(ক) চিকিৎসাবিজ্ঞানের শুরু থেকেই এর প্রচলণ রয়েছে।
(গ) এটি পশু-পাখির ওপর ভেষজ পরীক্ষার মাধ্যমে লিপিবদ্ধ।
(ঘ) এলোপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকাতে মানসিক লক্ষণ সন্নিবেশিত হয়নি।
(ঙ) এলোপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা স্থুলমাত্রা ব্যহার করা হয়েছে।
(চ) কালের বিবর্তনে এলোপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা থেকে অসংখ্য ঔষধ ক্ষতিকর প্রভাব এবং অকার্যকারীতার কারণে বাতিল হয়েছে।
(ছ) এখানে ব্যক্তিবিশেষের ধারণা বা মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।
(জ) এতে বিসদৃশ প্রন্থায় ওষুধের ল¶ণ বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্ন-৩: মেটেরিয়া মেডিকা ছাড়া হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্ভব না- ব্যাখা কর।
উত্তর: যে গ্রন্থে ঔষধের ধরণ এবং রোগ আরোগ্য করার ক্ষমতা অর্থাৎ কোন ঔষধ কোন ধরনের রোগ বা রোগীর আরোগ্য করার জন্য উপযুক্ত তা বিষদভাবে উল্লেখ থাকে তাকে মেটেরিয়া মেডিকা বলা হয়। মহাত্মা হ্যানিমান সর্ব প্রথম সুস্থ মানুষেরর শরীরে ভেষজ পরীক্ষার মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা রচনা করেন। আমরা জানি, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল প্রতিপাদ্য- রোগীকে বিনা কষ্টে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য করা। আর এই আরোগ্য কাজে একজন চিকিৎসকের জানতে হয়- রোগ সম্পর্কে জ্ঞান, ওষুধ সম্পর্কে জ্ঞান এবং ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান। এখান থেকে বোঝা যায় কেন ঔষধ কোন ভেষজ দ্বারা তৈরি করা হয়েছে, ওষুধের মধ্যে রোগ সারাবার মতো কী গুণ আছে, কোন কোন ঔষধ কোন কোন লক্ষল প্রকাশ করে ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান একজন চিকিৎসকের অর্জন করতে হবে। আর এই জ্ঞান অর্জনের একমাত্র উৎস মেটেরিয়া মেডিকা। যেহেতু হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকাতে বর্ণিত ওষুধগুলো সুস্থ মানুষের শরীরে প্রুভিং করা হয়েছে, সেহেতু হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা শুধুমাত্র ওষুধের বর্ণনা নয়। কারণ এখান থেকে একটি মানুষের মানসিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যবালী একজন চিকিৎসকের সামনে পরিস্কার হয়ে যায়। এই পুস্তক পাঠের মাধ্যমে একজন চিকিৎসক তার রোগীর সাথে ঔষধের সদৃশ্যতা নির্ণয় করতে পারেন। তাই মেটেরিয়া মেডিকা ছাড়া হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্ভব না।