22/02/2026
#রোজায় যেসব #চিকিৎসা নেয়া যায়:-->>
১.চোখের #ড্রপ, কানের ড্রপ ব্যবহার করা যাবে।
কানের ওয়াশ(wash) ব্যবহার করা যাবেl
তবে কোনো অংশ গিলে ফেলা যাবে না।
২. #হার্টের ব্যাথার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন Tab./ Spray জিহ্বার নিচে ব্যবহার করা যাবে।
৩.দাঁত পরিষ্কার করা, দাঁত তোলা, drilling করা এবং মিসওয়াক ও #টুথব্রাশ ব্যবহার করা যাবে কিন্তু কোন কিছু গিলে ফেলা যাবে না, অর্থাৎ পাকস্থলীতে যেন না যায়।
৪.শিরায়, মাংসে, জয়েন্টে/ ত্বকে #ইনজেকশন দেয়া যাবে,যার কোন খাদ্য গুন নেই।
#ইনসুলিন ও দেয়া যাবে।
তবে পুষ্টিকর তরল (সিরাম) বা ইনফিউশন ব্যবহার করা যাবে না।
৫. #রক্তদান করা যাবে।
তবে
রক্ত সঞ্চালন( রক্ত গ্রহন) করা যাবে না, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে ।
মতভেদ আছে।
৬. পরীক্ষা করার জন্য #রক্তের স্যাম্পল/নমুনা দেয়া যাবে।
৭.ত্বকের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেও যেকোন
#মলম Cream, Ointment, Medicated plaster, ওষুধযুক্ত রাসায়নিক প্যাচ ব্যবহার করা যাবে।
৮. #অক্সিজেন
এবং চেতনানাশক গ্যাস(Anesthetic gas) ব্যবহার
করা যাবে।
তবে এতে যেন কোনো পুষ্টিকর তরল ইনজেকশন না দেওয়া হয়।
৯.হার্টের বা অন্য কোন অঙ্গের Arteriogram( #এনজিওগ্রাম) dye( media) সহ করা যাবে।
১০. রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রয়োজনে Endoscopy( #এন্ডোস্কপি) করা যাবে।
১১. #মাউথওয়াশ, গার্গল (গড়গড়া), মুখে spray ব্যবহার করা যাবে কিন্তু কোন কিছু গিলে ফেলা যাবে না, অর্থাৎ পাকস্থলীতে যেন না যায়।।
১২. লিভার বা অন্য কোন অঙ্গ থেকে Biopsy( বায়োপসি) নেয়া যাবে।
১৩. যৌনিপথে কোন pessary, medical ovules ব্যবহার,vaginal wash দেয়া এবং Pelvic examination এর জন্য speculum
অথবা ডাঃ বা #ধাত্রী Finger test করতে পারবেন।
১৪. #মূথ্রনালী দিয়ে Urethroscope/ এক্সরে করার জন্য radio opaque media(contrast) ব্যবহার এবং Bladder irrigation ( ওয়াশ) দেয়া যাবে।
১৫. হিস্টেরোস্কপি ( Hysteroscopy) এবং #জরায়ুতে কোন ডিভাইস (Device) ব্যবহার করা যাবে।
১৬.অ্যাজমার/ #হাঁপানির ইনহেলার রোজার বৈধতায় কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ এটি শ্বাসযন্ত্রে কাজ করে এবং এর ওষুধ সামান্য পরিমাণে, অনিচ্ছাকৃতভাবে এবং খুবই অল্প পরিমাণে পেটে পৌঁছায়, যা ওযুর সময় মুখ ধোয়ার পর অবশিষ্ট পানি বা মিসওয়াক ব্যবহারের ফলে পেটে যাওয়ার তুলনায় কম তাই এতে রোজা ভাঙ্গে না।
তবে
শুকনো গুঁড়াযুক্ত অ্যাজমা ইনহেলার #ক্যাপসুল, যার একটি অংশ পেটে পৌঁছে যায় ফলে রোজা ভেঙে যাবে।
শ্বাসযন্ত্রের গ্যাস ( #নেবুলাইজার)আর্দ্রীকরণ রোজা ভঙ্গ করে, কারণ এটি যে পরিমাণ পেটে প্রবেশ করে, তা অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি।
১৭. মলদ্বারের মাধ্যমে প্রবেশ করা যে কোনো কিছু, যেমন ইনজেকশন, #সাপোজিটরি, এন্ডোস্কোপ বা মলম, তবে পুষ্টি সরবরাহকারী ইনজেকশন ছাড়া ব্যবহার করা যাবে।
১৮.লিপোসাকশন (চর্বি অপসারণ প্রক্রিয়া) করা যাবে, যদি তা পুষ্টিকর তরলের সঙ্গে না হয়।
১৯. এন্ডোস্কোপ বা আঙুল দ্বারা চিকিৎসাগত পরীক্ষা করা যাবে।
২০. রক্ত বের করা এবং #হিজামা (কাপিং থেরাপি) করা যাবে।
২১.সাধারণ #অ্যানেস্থেশিয়ার কারণে দিনের কিছু অংশে সংজ্ঞাহীন থাকা, এমনকি যদি তা দিনের বাকি সময়েও স্থায়ী থাকে, এবং যদি অ্যানেস্থেশিয়া রোজা অবস্থায় দেওয়া হয় তাতে রোজা ভাঙ্গবে না ,
তবে তা যেন পুষ্টিকর তরলের সঙ্গে না হয়।
২২. কিডনি #ডায়ালাইসিস(Machine/ Intraperitoneal) করা যাবে।
আরেকটি মত হল
হেমোডায়ালাইসিস এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস- যার মাধ্যমে শরীরে প্রচুর পরিমাণে পানি, লবণ এবং সুক্রোজ প্রবেশ করে, তাই এতে রোজা ভঙ্গ হয়।
মতভেদ আছে।
২৩. #মস্তিষ্কে কোনো যন্ত্র বা পদার্থ প্রবেশ করালে রোজা ভাঙ্গে না।
CSF ( মেরুদন্ডের রস) পরীক্ষা করা যায়।
২৪.যে কোনো কিছু যা #হজমতন্ত্রে প্রবেশ করে, মুখ ও গলনালি অতিক্রম করে এবং হজম প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, যেমন খাদ্যনালী ও অন্ত্র। এতে রোজা ভেঙে যাবে।
২৫. যে কোনো কিছু যা স্বাভাবিক পথে শরীরকে #পুষ্টি জোগায়, যেমন পুষ্টিকর ইনজেকশন, কারণ এটি পুষ্টি গ্রহণের পর্যায়ে পড়ে এবং রোজার প্রধান উদ্দেশ্যের বিপরীত এবং এতে রোজা ভেঙে যাবে।
*
উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে আন্তর্জাতিক ফিকহবিদগন সম্মত হয়েছেন।
*
অনেকেই ডাক্তারদের কাছে বিষয়গুলো জানতে চান।
আমি বাংলায় সহজভাবে লিখার চেষ্টা করেছি।
আপনাদের ও পরিচিত জনদের জানানোর ব্যবস্থা করলে নিশ্চয়ই সবাই উপকৃত হবেন।
*
মুসলিম চিকিৎসক তার রোগীকে উপরে উল্লেখিত যে কোনো চিকিৎসা ইফতার পর্যন্ত বিলম্বিত করার পরামর্শ দেওয়া উচিত, যদি এ ধরনের বিলম্ব তার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি না করে।
*
উল্লেখ্য যে, ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করলে এবং মাসিকের কারনে রোজা ভঙ্গ হয়
*
সাধারণের বুঝার সুবিধার্থে উপরোক্ত তথ্য গুলো বাংলায় লিখেছি মাত্র, এখানে ব্যক্তিগত কোন মতামত দেয়ার সুযোগ নেই।
*
মাহে রমজানে সবাই আধ্যাত্মিক এবং শারীরিক ভাবে উপকৃত হোন, এই কামনায়-
ডাঃ জিহাদ মামুন
#তথ্য সূত্র:
১৯৯৭ সালের ১৪-১৭ জুন মরোক্কোয় অনুষ্ঠিত ৯ম ফিকহ-মেডিকেল সেমিনার ও
পরবর্তীতে ১০ম সেমিনারের সিদ্ধান্ত
এবং
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (OIC) অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমির পরিষদ এর ২৩তম অধিবেশন ,আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারা,
২৮ অক্টোবর - ১ নভেম্বর ২০১৮
এর সিদ্ধান্ত সমূহ।
Majmoo’ al‑Fatawa এবং সৌদি আরবের Permanent Committee for Scholarly Research and Ifta (Saudi Arabia) — যাদের সাথে প্রখ্যাত আলেম Ibn Baz যুক্ত ছিলেন — এসব উৎসের আলোচনায় ও প্রায় একই রকম মতামত আছে।
কারো কাছে আরো আপডেট তথ্য থাকলে আমাকে জানাবেন দয়া করে।