Dr.Md.Samiur Rahman Saim

Dr.Md.Samiur Rahman Saim Trained in Medicine & Child Health

17/09/2025
24/07/2025
16/03/2024

রোযা ও শ্বাসকষ্ট 🫁
-------------------------

☘️ এখন পবিত্র রমজান মাস। অন্যান্য বছরের ন্যায়
এবারেও হাসপাতাল এবং প্রাইভেট চেম্বারে আগত মুসলিম বক্ষ্যব্যাধি রোগে আক্রান্ত - বিশেষ করে Asthma, COPD, Bronchiectasis, DPLD এবং অন্যান্য শ্বাসকষ্ট রোগীদের প্রশ্ন -
১। আমি কি রমজান মাসে রোযা রাখতে পারবো?
২। আমি কি রোযা রাখা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করতে পারবো?
৩। আমি কি রোযা রাখা অবস্থায় নেবুলাইজেসন নিতে পারবো?

☘️ রমজানের শুরুতেই আপনি আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। আপনি যদি অ্যাজমা ও সিওপিডি -এর জন্য নির্ধারিত ওষুধ খাওয়া বন্ধ করার পরিকল্পনা করে থাকেন তবে প্রথমে আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন পরামর্শ দেয় যে আপনি যদি রমজান মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে আপনাকে রোযা রাখা বন্ধ করতে হবে এবং একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

☘️ ১৯৯৭ সালের জুনে মরক্কোতে ‘ইসলামের সমসাময়িক চিকিৎসা সমস্যা’ (An Islamic View of Certain Contemporary Medical Issues) শিরোনামে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিনারের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল- কী কী মেডিকেলজনিত কারণে রোজার ক্ষতি হবে না।

☘️ #ইনহেলার (pMDI)
ইনহেলার ব্যবহারে রোজা ভেঙ্গে যায়-রোগীদের এই দ্বিধা মোকাবেলায় সহায়তা করা গুরুত্বপূর্ণ।
অধিকাংশ ইসলামিক স্কলারের মতে ইনহেলার (metered dose inhaler) রোযা ভংগ করে না। কারণ ইনহেল ড্রাগ সরাসরি শ্বাসনালী যায়, খাদ্যনালী নয়। একটি পদ্ধতি হল রোগীদের তাদের ইনহেলার ব্যবহারের সময় নিয়ে সাহায্য করা। বেশিরভাগ Asthma প্রতিরোধক ওষুধগুলি দিনে দুবার নির্ধারিত হয়। তারা চিকিৎসকের সাথে আলোচনা রোগীগন সেহরির সময় এবং ইফতারের সময় ICS বা ICS+LABA দৈনিক প্রতিরোধক ইনহেলার পুনঃবিন্যাস করতে পারেন।

☘️ #ড্রাই_পাওডার_ইনহেলার (DPI)
ক্যাপসুলগুলিতে একটি সূক্ষ্ম পাউডার আকারে ওষুধ থাকে। এই ক্যাপসুলগুলি একটি বিশেষ যন্ত্রের ভিতরে রাখা হয় যা ক্যাপসুলগুলিকে গুঁড়ো করে ওষুধটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য, যা মুখের মাধ্যমে ডিভাইস থেকে শ্বাস নেওয়া হয়। এই ক্যাপসুলগুলি ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হয়, কারণ এর কিছু পাউডার লালার সাথে মিশে পেটে চলে যায়।

☘️ #মৌখিক স্টেরয়েড এবং অ্যান্টিবায়োটিক সহ ট্যাবলেট:
রোযা ভংগ করে। আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। তারা আপনার ওষুধ পরিবর্তন করতে সক্ষম হতে পারেন কিংবা আপনার ওষুধের ডোজ বা সেগুলি খাওয়ার সময় পরিবর্তন করতে পারেন।

☘️ #নেবুলাইজেশন:
নেবুলাইজেশন আপনার রোজা ভঙ্গ করে কিনা তা নিয়ে ইসলামি স্কলারগণ একমত নন। অধিকাংশ স্কলার মনে করেন, নেবুলাইজেসন প্রক্রিয়ায় যখন ডিভাইসটি সক্রিয় করা হয়, তরল সলুশন ঔষধ একটি বায়বীয় আকারে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে রোযা ভংগ হয় না, এবং কারণ বায়বীয় গ্যাস Lung -এ প্রবাহিত হয়, খাদ্যনালীতে নয়।

☘️ #হোম অক্সিজেন থেরাপি:
রোযা ভংগ করে না। আপনার চিকিৎসা স্বাভাবিক হিসাবে চালিয়ে যান।

☘️ / BiPAP মেশিন:
রোযা ভংগ করে না। আপনার চিকিৎসা স্বাভাবিক হিসাবে চালিয়ে যান।

☘️ শ্বাসকষ্ট রোগীদের প্রতিরোধে করণীয় :

👉 ট্রিগারগুলির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন যা শ্বাসকষ্টের আক্রমণের কারণ হতে পারে, যেমন শারীরিক ওভারলোড, ধুলো এবং ধোঁয়া।
👉 মশলাদার খাবার খাওয়া সীমিত করুন কারণ এগুলি হজম এবং শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে তুলতে পারে।
👉 ক্যাফেইন, কোমল পানীয় এবং সোডিয়াম বেশি থাকে এমন খাবার এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলোর মূত্রবর্ধক প্রভাব রয়েছে এবং পানিশূন্যতা হতে পারে।
👉 সেহেরি এবং ইফতারের সময় প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন কারণ ডিহাইড্রেশন এবং শরীরের তরল হ্রাস শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলিকে ট্রিগার করতে পারে।
👉 অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলুন কারণ এটি শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে, যা রোগীদের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবর্তে, ইফতারের খাবারকে দুই বা তিনটি ছোট খাবারে ভাগ করুন
----------------
Source:
1. Recommendations of the 9th Fiqh-Medical Seminar on “An Islamic View of Certain Contemporary Medical Issues.
2. How to manage asthma during Ramadan?
Yousser Mohammad. Tunis Med. 2019 Oct.
3. The British Islamic Medical Association
4. Springer: https://link.springer.com › book
Contemporary Bioethics: Islamic perspective

11/03/2024

১. ডায়াবেটিসের রোগীরা কি রোজা রাখতে পারবে? কোন কোন ক্ষেত্রে পারবে না?

২. রোজা রাখলে কী কী উপকার হবে?

৩. কী কী ঝুঁকি থেকে যায়? কী করণীয় তখন?

৪. রোজা থাকা অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা মাপা যাবে কি?

৫. কোন অবস্থায় রোজা অবশ্যই ভেঙে ফেলতে হবে?

৬. রোজাতে খাবার-দাবার কেমন হবে?

৭. রোজাতে শরীরচর্চা করতে হবে কীভাবে?

৮. ওষুধ/ইনসুলিন কীভাবে, কখন, কতোটুকু নিতে হবে?

মুসলিমদের জন্যে ইবাদাতের এক ভরা মৌসুম রমাদান। কে না শরীক হতে চায় এই মহিমান্বিত মাসের রহমাতে-বারাকাহতে-মাগফিরাতে-নাজাতে! তবে কিছুটা বিপাকে পড়ে যান ডায়াবেটিসের রোগীরা। অনেকগুলো প্রশ্ন আর সংশয় তাদের মনে উঁকি দিতে থাকে।

এবার চলুন এক এক করে আমরা প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।

১. সারা বিশ্ব জুড়ে ৫০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ রোজা রাখেন। প্রচুর লিটারেচারে এসেছে যে, অধিকাংশ ডায়াবেটিক রোগীরাই রোজা রাখতে পারেন। তবে এটা নির্দিষ্ট ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তার রোজা রাখতে পারা বা না পারা। সেজন্যে প্রয়োজন রোজা শুরু হবার বেশ কিছুদিন আগেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে যাচাই-বাছাই (Pre-Ramadan Assessment) করিয়ে নেয়া যে তিনি রোজা রাখতে সক্ষম কিনা, রোজাতে কী কী নিয়মকানুন মেনে চলবেন, ওষুধ/ইনসুলিন কীভাবে নেবেন ইত্যাদি। রোগীর বিগত দিনগুলোতে ডায়াবেটিসের অবস্থা, জটিলতা, অন্যান্য রোগ, রক্তে চর্বির পরিমাণ, রক্তচাপ ইত্যাদি সবকিছু বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন রোগীটি রোজা রাখতে পারবে কি পারবে না।

তবে খুব সাধারণভাবে বলতে গেলে যেসব ডায়াবেটিস রোগীরা ডায়াবেটিস অনেক কমে গেলেও বুঝতে পারেন না, যাদের ডায়াবেটিস একেবারেই নিয়ন্ত্রণে থাকে না, সম্প্রতি ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস হয়েছে--তাদেরকে রোজা না রাখতে বলা হয়। তাছাড়া যেসব ডায়াবেটিক রোগীদের কোনো অর্গান ফেইলিওর (যেমন : হার্ট ফেইলিওর, কিডনি ফেইলিওর, লিভার ফেইলিওর) আছে তাদেরও রোজা না রাখাই শ্রেয়। এছাড়াও যাদের মারাত্নক চোখের রেটিনায় সমস্যা, স্নায়ুতে সমস্যা, বড় ধরনের রক্তনালীতে সমস্যা, তীব্র পেপটিক আলসার, মারাত্নক ধরনের ফুসফুসে যক্ষ্ণা, মারাত্নক ইনফেকশান, মারাত্নক হাঁপানি, বারবার পাথর হওয়া, যেসব ক্যান্সার রোগীদের শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ, সম্প্রতি হার্ট এটাক/স্ট্রোক হয়েছে, লিভারে সমস্যা রয়েছে, অতি দুর্বল স্বাস্থ্যের বৃদ্ধ, পূর্ববর্তী গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিসের ইতিহাস, অনিয়ন্ত্রিত মৃগীরোগ এবং মারাত্নক মানসিক সমস্যা যাদের রয়েছে--তাদেরও রোজা রাখতে নিরুৎসাহিত করা হয়। গর্ভবতী এবং শিশুকে যারা বুকের দুধ পান করান তাদেরও রোজা রাখতে নিরুৎসাহিত করা হয়।

২. ডায়াবেটিস রোগীদেরও রোজা রাখলে বেশ কিছু উপকার হয়ে থাকে। যেমন :

- রোজা শরীরের বিপাকীয় (Metabolic) কাজের উন্নতি ঘটায়।

- শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

- উচ্চ রক্তচাপের নিয়ন্ত্রণ ভালো হয়।

- শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে।

- রোগ প্রতিরোধ-ক্ষমতা শক্তিশালী করে।

- সর্বোপরি রোজাতে নিয়মানুবর্তিতার এক অনন্য চর্চা হয়। আর আমরা সবাই জানি নিয়মানুবর্তিতা ডায়াবেটিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা।

৩. ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা রাখলে যেসব ঝুঁকি থাকে :

- রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অতিরিক্ত কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)।

- রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)।

- পানিশূন্যতা।

- ওজনের তারতম্য ঘটা।

রোজাতে ডায়াবেটিক রোগীর যে সমস্যাটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন চিকিৎসকরা--তা হচ্ছে 'হাইপোগ্লাইসেমিয়া' (Hypoglycemia)। সহজ ভাষায় বলতে গেলে রক্তে গ্লুকোজ/সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া। হাইপোগ্লাইসেমিয়া এতো মারাত্নক হতে পারে যে রোগী কোমায় চলে যেতে পারে, মস্তিষ্কের মারাত্নক ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রতিজন ডায়াবেটিস রোগীর এবং তার পরিবার-পরিজনের হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে কী কী লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং করণীয় কী তা জানা অবশ্যই প্রয়োজন।

সচরাচর যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় :

- অতিরিক্ত ঘাম
- হাত-পা কাঁপা
- বুক ধড়ফড় করা
- বেশি ক্ষুধা লাগা
- উদ্বিগ্নতা
- ঝিমাতে থাকা
- কথা জড়িয়ে যাওয়া
- মনোযোগ প্রদানে বিঘ্ন ঘটা
- অল্পতে রেগে যাওয়া
- বমি বমি ভাব
- মাথা ব্যথা/ মাথা ঘোরা ইত্যাদি।

রোগীর হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে সাথে সাথে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। তা যদি ইফতারের ১০ মিনিট আগেও হয়। এক গ্লাস পানিতে ৪-৬ চামচ চিনি মিশিয়ে খেয়ে নিতে হবে অথবা অন্য কোনো শর্করাযুক্ত খাবার।

৪. শারীয়াহগত দিক থেকে রোজা রেখে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে কোনো বাধা নেই। ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা থাকা অবস্থায় নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সেহরির ঘণ্টা দুয়েক পর এবং ইফতারের ঘণ্টাখানেক আগে গ্লুকোজের মাত্রা দেখা উচিত। এছাড়া অন্যান্য সময়েও পরীক্ষা করা যেতে পারে।

৫. যেকোনো সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৩.৯ মিলিমোল/লিটারের নিচে নেমে গেলে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। মনে রাখার সুবিধার্থে "৪" বলা হয়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ১৬.৬ মিলিমোল/লিটারের বেশি বেড়ে গেলেও রোজা ত্যাগ করতে হবে।

৬. ক্যালোরি এবং খাবারের গঠনগত দিক থেকে রমাদানের আগে যেমন স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেতেন, রমাদানেও তেমনটাই চলবে। সেহরির সময় অপেক্ষাকৃত জটিল শর্করা যেগুলো হজম ও শোষণ ধীরে ধীরে হয় তেমন খাবার খেতে হবে। সেহরির সময় ভাত, রুটি, নান, সবজি, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ফল ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।

ইফতারের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে :

- অনেক বেশি পরিমাণ শর্করা ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না।

- মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খেতে হবে।

- মিষ্টি পানীয় পরিহার করতে হবে। মিষ্টি শরবতের বদলে আল্লাহর দেওয়া 'প্রাকৃতিক শরবত' ডাবের পানি খাওয়া যেতে পারে।

- ইফতার থেকে সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে প্রচুর পানি খেতে হবে।

আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। সেহরি যতোটা সম্ভব দেরিতে খেতে হবে আর ইফতার যতোটা সম্ভব তাড়াতাড়ি করতে হবে। আমাদের ধর্মীয় বিধানও তা-ই শিক্ষা দেয়। হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধে এটি একটি খুবই কার্যকরী উপায়।

৭. রোজাতে প্রাত্যহিক জীবনের স্বাভাবিক কাজগুলো করতে কোনো বাধা নেই। তবে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম হাইপোগ্লাইসেমিয়া করতে পারে। তাই দিনের বেলায় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না করাই ভালো। ইফতার এবং সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে ঘণ্টাখানেকের জন্যে শরীরচর্চা করা যেতে পারে। তারাবীহ, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি অতিরিক্ত নামাজও শরীরচর্চা হিসেবে বিবেচনায় রাখা উচিত।

৮. সবশেষে আসা যাক ওষুধ/ইনসুলিন কীভাবে নিতে হবে। প্রত্যেকটা রোগীকে চিকিৎসকই ঠিক করে দেবেন এটা। তবে খুব সাধারণভাবে সচরচার ব্যবহার হওয়া কিছু ওষুধ নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

যারা নিয়মিত Sulfonylureas (Glipizide, Gliclazide, Glimeperide --ওষুধের প্যাকেটের গায়ে ছোট্ট করে ওষুধের এই জেনেরিক নেইম লেখা থাকে) প্রতিদিন সকালে খেতেন, তারা একই ডোজে ইফতারের সময় সেটা খাবেন। আর যারা এ ওষুধটি দুবেলা খেতেন, সকালে ও রাতে--তারা সকালের ডোজের পুরোটা ইফতারের সময় খাবেন। তবে রাতের ডোজের কেবল 'অর্ধেকটা' সেহরির সময় খাবেন।

যারা Metformin (Oramet, Comet, Metfo, Met, Informet ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়) দিনে ১ বেলা খেতেন সেটি ইফতারের পর খাবেন। যারা দিনে দুবেলা ওষুধটি খেতেন তারা একটি ইফতারের পর এবং একটি সেহরির পর খাবেন। আর যারা ৩ বেলা ৫০০ মিলিগ্রামের একটি করে ট্যাবলেট খেতেন, তারা ইফতারে একসাথে দুটো ট্যাবলেট অর্থাৎ মোট ১০০০ মিলিগ্রাম খাবেন। আর সেহরিতে ৫০০ মিলিগ্রামের ১টি ট্যাবলেট খাবেন।

যারা Linagliptin (যেমন : Lijenta/Linatab/Linita) জাতীয় ওষুধ খেতেন তাদের ডোজের পরিবর্তন হবে না। একই ওষুধটি একই ডোজে ইফতারে/সেহরিতে খাবেন।

যারা Empagliflozin (যেমন : Empa/Empatab/Jardiance) জাতীয় ওষুধ খান তারা একই ওষুধ একই ডোজে ইফতারে খাবেন৷ তবে এই ওষুধ যারা খান তারা অবশ্যই বেশি বেশি পানি পান করবেন।

যারা দুবেলা ইনসুলিন নিয়ে থাকেন, সকালের ডোজটা সমপরিমাণ ইফতারের আগে নেবেন। আর রাতের ডোজের 'অর্ধেক' পরিমাণ সেহরির সময় নেবেন। ধরা যাক, কেউ সকালে ৩০ ইউনিট এবং
রাতে ২০ ইউনিট ইনসুলিন পেতেন। রমাদানে তিনি ইফতারের আগে সকালের ডোজের পুরোটা অর্থাৎ ৩০ ইউনিট ইনসুলিনই নেবেন। আর সেহরির সময় রাতের ডোজের অর্ধেক (২০/২=১০) অর্থাৎ ১০ ইউনিট ইনসুলিন পাবেন।

আপনি ডায়াবেটিক হোন কিংবা নন-ডায়াবেটিক, সুস্থ অবস্থায় সুষ্ঠুভাবে যেন সবগুলো রোজা রাখতে পারেন সে দু'আই করি। তবে মারাত্নক শারীরিক অসুবিধার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে যদি একান্তই রোজা রাখতে না পারেন, তাহলে দয়া করে মন খারাপ করবেন না। আপনার নিয়্যাত তো নিষ্কলুষ ছিল, আর আল্লাহ তো অন্তরের খবরও জানেন। পরবর্তী সময়ে সে রোজাগুলো কাজা আদায় করা যাবে।

Address

Dhaka

Telephone

+8801829448918

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.Md.Samiur Rahman Saim posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category