02/07/2022
জিলহজে আমলে সালেহ
-
ভূমিকা (এক): আমাদের প্রকাশিত বই ‘খুলুকিন আযীম’ ও প্রকাশিতব্য বই ‘উসওয়াতুন হাসানা ও আমলে সালিহ’-এর নির্যাস একটি পোস্টে জমা করার তামান্না ছিলো। রব্বে কারিম তাওফিক দিয়েছেন। তিনটি বই মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠা ছেঁকে আনা হয়েছে এই সুন্নতগুলো। আরও অসংখ্য সুন্নত বাকি রয়ে গেছে। রব্বে কারিম তাওফিক দিলে সেগুলোও যোগ করার চেষ্টা করব। ইন শা আল্লাহ। খাস করে দোয়ার দরখাস্ত, রব্বে কারিম যেন বইগুলোকে কবুল করে নেন।
ভূমিকা (দুই): এই দশদিনে সুন্নতগুলো এক এক করে পালন করার চেষ্টা করতে পারি। কিছু সুন্নত তো প্রায় সবাই নিয়মিত আদায় করে থাকেন। রব্বে কারীম তাওফিক দান করুন। আমীন।
--
১ঃ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
জিলহজের প্রথম দশকের আমলের চেয়ে প্রিয় আর কোনো আমল নেই (বুখারি: ৯৬৯)।
২ঃ আল্লাহ তাআলা সূরা ফজরে এই দশ দিনের শপথ করেছেন।
৩ঃ এই মাসেই শুধু ইসলামের সমস্ত মৌলিক ইবাদত করার সুযোগ আছে। নামাজ, রোজা, হজ, কুরবানি।
৪ঃ এই দশ দিনের আমল আল্লাহর কাছে জি/হা/দে/র চেয়েও উত্তম।
৫ঃ জিলহজের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে, কুরবানির জন্তু জবেহ করা পর্যন্ত নখচুল না কাটা।
৬ঃ কুরবানির জন্তুকে ভাল করে খাইয়ে-দাইয়ে মোটাতাজা করা।
৭ঃ হজে না গিয়ে ঘরে থেকেও সম্ভব হলে মক্কায় ‘হাদি’ (কুরবানির জন্তু) পাঠাতে পারি।
জিলহজের জিকির
বেশি বশি পড়ব।
উঠতে বসতে পড়ব।
সময় পেলেই পড়ব। ইন শা আল্লাহ।
১ঃ সুবহানাল্লাহ (سبحَان الله)। আলহামদুলিল্লাহ (الحمدُلله)। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (لا إله إلا الله)। আল্লাহু আকবার (الله أكبر)।
২ঃ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি (سبحان الله وبحمدِه)। সুবহানাল্লাহিল আযীম (سبحان الله العَظيم)।
৩ঃ লা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (لا حَول ولا قُوة إلا بالله)।
৪ঃ আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি (أستغفر الله و أتُوب إليه)।
৫ঃ আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ (اللهُم صل وسلم على نبينا مُحمد)।
৬ঃ লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
لا إله إلا الله وحدهُ لا شريك له ، له المُلك وله الحمد وهو على كُل شيء قدِير
৭ঃ হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।
حسبي الله لا إله إلا هو ، عليه تَوكلت وهُو ربّ العرش العظيم
৮ঃ আল্লাহুম্মাজ আলনী মিনাত তাউয়াবীনা ওয়াজআলনী মিনাল মুতাতাহহিরীন।
اللهم إجعلنِي من التَوابين وإجعلنِي من المُتطهرين
৯ঃ লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যলিমীন।
لا إله إلا أنت سبحانك إني كُنت من الظَالمين
১০ঃ ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত তাকবির পাঠ করা।
الله أكبر، الله أكبر،لا إله إلاالله والله أكبر،الله أكبر ولله الحمد
তাকবিরঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
জিলহজের অন্যান্য আমলঃ
১১ঃ সামর্থ থাকলে কুরবানি করা।
১২ঃ একেবারে শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া।
১৩ঃ সাহরিতে খেজুর খাওয়া।
১৪ঃ সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করে ফেলা।
১৫ঃ ঈদের নামাজ আদায় করা।
১৬ঃ জিলহজের প্রথম নয়দিন রোজা রাখা। বিশেষ করে নয় তারিখে আরাফার রোজা রাখা। এই নয়দিনে সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা রাখা যেতে পারে।
সাধারণ আমল
১৭ঃ ফরজ নামাজ আদায় করা।
১৮ঃ বেশি বেশি দোয়া করা।
১৯ঃ আযান ও ইকামতের জবাব দেয়া।
২০ঃ বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা।
২১ঃ সাধ্যানুযায়ী কুরআন তাদাব্বুর করা। আমলের নিয়তে চিন্তা ভাবনা করে বুঝে বুঝে তিলাওয়াত করা।
২২ঃ অল্প হলেও প্রতিদিন নতুন আয়াত বা সূরা মুখস্থ করার চেষ্টা করা।
২৩ঃ একটা আয়াত হলেও তাফসীর পড়তে পারি। অন্যের সাথে আয়াতটি নিয়ে মত বিনিময় করতে পারি।
২৪ঃ কুরআন শেখাতে পারি। বিশেষ করে শিশুদের সূরা ফাতিহা ও ছোট ছোট সূরা মুখস্থ করাতে পারি।
২৫ঃ সামর্থ অনুযায়ী সদকা করা।
২৬ঃ মাতা-পিতার প্রতি বাড়তি সদাচার করতে পারি।
২৭ঃ ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের খোঁজ-খবর করতে পারি।
২৮ঃ মেহমানের একরাম-সম্মান করতে পারি।
২৮ঃ মেহমানকে বিদায় জানাতে এগিয়ে যেতে পারি। তাকে তুলে দেয়ার জন্য গাড়ি পর্যন্ত যেতে পারি।
২৯ঃ জুমার দিন গোসল করতে পারি।
৩০ঃ জুমার দিন আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারি।
৩১ঃ জুমার দিন আগে আগে মসজিদে যেতে পারি।
৩২ঃ ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসতে পারি।
৩৩ঃ মসজিদে গিয়ে কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে পারি।
৩৪ঃ কাতার সোজা করায় সক্রিয় অংশ নিতে পারি। নিজের থেকে কাতার পুরো করতে পারি।
৩৫ঃ মুচকি হেসে কথা বলতে পারি।
৩৬ঃ চারপাশে ছড়িয়ে থাকা আল্লাহর আয়াত বা নিদর্শন নিয়ে ভাবতে পারি। পিঁপড়ার সৃষ্টি নিয়ে ভাবতে পারি। নিজের চোখ নিয়ে ভাবতে পারি।
৩৭ঃ সুনানে রাওয়াতেব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাগুলো বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে আদায় করতে পারি। ফজরের আগে দুই রাকাত, জোহরের আগে চার, পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পর দুই রাকাত, এশার পার দুই রাকাত সুন্নত আদায় করতে পারি।
৩৮ঃ ইশরাক ও চাশতের নামাজ পড়তে পারি।
৩৯ঃ সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমলগুলো করতে পারি।
৪০ঃ পাঁচ নামাজের পর মাসনুন দোয়া ও আমল করতে পারি।
৪১ঃ প্রতিটি ক্ষেত্রের দোয়া ও জিকির পড়তে পারি।
৪২ঃ ওজু অবস্থায় ঘুমাতে পারি।
৪৩ঃ পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে মিলেমিশে খাবার গ্রহণ করতে পারি।
৪৪ঃ সাদা পোশাক পরতে পারি।
৪৫ঃ সাদা চুলে মেহেদি লাগাতে পারি।
৪৬ঃ নেক নিয়তে, পরোপকারের নিয়তে ফলদার বা ছায়াদার গাছ লাগাতে পারি।
৪৭ঃ মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পুরো করতে পারি।
৪৮ঃ মুসলিম ভাইবোনের জন্য ইস্তেগফার করতে পারি।
৪৯ঃ গুনাহ থেকে বাঁচার নিয়তে স্ত্রীর সাথে বেশি বেশি সময় কাটাতে পারি।
৫০ঃ সওয়াবের আশায়, সুন্নতের নিয়তে রুকিয়া করতে পারি।
৫১ঃ সওয়াবের আশায়, সুন্নতের নিয়তে ‘হিজামা’ করাতে পারি।
৫২ঃ মাইয়েতের কাফন ও দাফনে শরিক হতে পারি।
৫৩ঃ মুসলিমের দেয়া কষ্ট পেয়ে সবর করতে পারি।
৫৪ঃ অন্যে কষ্ট দিলেও, বিনিময়ে তার সাথে সুন্দর ব্যবহার করতে পারি।
৫৫ঃ সবার সাথে কোমল আচরণ করতে পারি।
৫৬ঃ কাজেকর্মে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করতে পারি। বিশেষ করে নামাজে।
৫৭ঃ মুখে সবসময় স্মিত হাসি লেপ্টে রাখতে পারি।
৫৮ঃ যতই ক্রোধ উঠুক, সওয়াবের আশায় কষ্ট করে হলেও দমন করতে পারি।
৫৯ঃ অন্যকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করতে পারি।
৬০ঃ সলাতুত তাওবা আদায় করতে পারি।
৬১ঃ সলাতুত তাসবীহ আদায় করতে পারি।
৬২ঃ দুই রাকাত তাহিয়াতুল ওজু পড়তে পারি।
৬৩ঃ মসজিদে গিয়ে বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়াতুল মসজিদ আদায় করতে পারি।
৬৪ঃ সুযোগ পেলে, অন্য মুসলিম ভাইকে ‘নসীহা’ করতে পারি। নিজেও নসীহত অনুযায়ী আমল শুরু করতে পারি।
৬৫ঃ নিরক্ষরকে অক্ষর শেখাতে পারি। কাউকে মাসয়ালা শেখাতে পারি।
৬৬ঃ আমর বিল-মারূফ-সৎকাজের আদেশ করতে পারি।
৬৭ঃ সম্ভাব্য পরিসরে অসৎ কাজে নিষেধ করতে পারি।
৬৮ঃ সুযোগ পেলে মাজলুমের সাহায্য করতে পারি। এখন তো মাজলুমের অভাব নেই।
৬৯ঃ প্রতিদিন আগের দিনের চেয়ে বেশি পরিমাণে দৃষ্টি অবনত রাখার আমল করতে পারি।
৭০ঃ আল্লাহর জন্য ভাই-বেরাদর, বন্ধুবান্ধবের সাথে দেখা করতে যেতে পারি।
৭১ঃ জানাজায় শরিক হতে পারি।
৭২ঃ বিপদগ্রস্ত, শোকগ্রস্তকে সান্ত্বনা দিতে পারি।
৭৩ঃ অসুস্থ ভাইবোনকে দেখতে যেতে পারি।
৭৪ঃ কেউ দাওয়াত দিলে সাড়া দিতে পারি।
৭৫ঃ দুঃখীজনকে সমবেদনা জানানো।
৭৬ঃ ঋণ পরিশোধ করা। অল্প হলেও শোধ করা।
৭৭ঃ অভাবীকে সাধ্যানুযায়ী করজ দেয়া।
৭৮ঃ অভাবী ঋণগ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের জন্য সুবিধাজনক সময় দেয়া।
৭৯ঃ অভাবী ঋণগ্রহীতার ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া। সম্ভব হলে মাফ করে দেয়া।
৮০ঃ অন্যের কাছে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে অসমর্থ ব্যক্তিকে ঋণ পরিশোধে সাহায্য করা। গরীব লোকের দোকানের বকেয়া পরিশোধ করা।
৮১ঃ অন্যের জন্য সুপারিশ করা। চাকরি পেতে, ঋণ পেতে। প্রয়োজন পুরো করতে।
৮২ঃ প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে কিনে নেয়া পণ্য ফেরৎ দিতে চাইলে ফেরত নিতে পারি। এটাকে নবীজি সা.-এর ভাষায় বলে (إقالة النادم)। অত্যন্ত চমৎকার আর মহত্তর দারুণ এক সুন্নাহ।
৮৩ঃ পথ থেকে কষ্টকর বস্তু সরিয়ে দিতে পারি।
৮৪ঃ ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি চাওয়া। তিনবার অনুমতি চাওয়ার পরও দরজা না খুললে ফেরত যাওয়া।
৮৫ঃ হাই এলে রোধ করার চেষ্টা কর।
৮৬ঃ ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জায়নামাজে বসে জিকির-আজকারে মশগুল থাকা।
৮৭ঃ নিজের পরিবার-পরিজনকে সলাতের আদেশ করা।
৮৮ঃ ঘরে ফিরে এসে ও ঘর থেকে বের হওয়ার আগে দুই রাকাত সলাত আদায় করা।
৮৯ঃ কোনও মুসলিম নতুন নেয়ামত লাভ করলে, তাকে স্বাগত জানানো।
৯০ঃ সময়-সুযোগ করে ইনসাফের সাথে ওসিয়ত লিখে রাখা।
৯১ঃ বস্ত্রহীন মুসলিমকে বস্ত্র দান করা।
৯২ঃ জুতো পরিধানের সময় ডান পায়ে আগে পরা।
৯৩ঃ জুতো খোলার সময় আগে বাম পা খোলা।
৯৪ঃ বসে পানি পান করা।
৯৫ঃ মৃত ব্যক্তিকে কালিমার তালকীন করা। মনে মুখে মুখে কালিমা পড়ানোর চেষ্টা করা। তার কানে শোনা যায় মতো করে উচ্চ স্বরে কালিমা পড়তে থাকা।
৯৬ঃ প্রতিটি কাজ ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করা।
৯৭ঃ নিয়মিত মিসওয়াক করা। ঘরে প্রবেশের আগে মিসওয়াক করা।
৯৮ঃ উত্তম পন্থায় গ্রহণ করা ঋণ পরিশোধ করা।
৯৯ঃ প্রয়োজনে ইস্তেখারা সলাত আদায় করা।
১০০ঃ আনন্দে সিজদায়ে শোকর আদায় করা। অনন্দ সংবাদে দুই রাকাত সলাতুশ শোকর আদায় করা।
১০১ঃ কোনো বিষয়ে কসম করলে, শরীয়তের প্রয়োজনে, অন্যের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কসম ভেঙে কাফফারা আদায় করা।
১০২ঃ ঘরের মানুষটাকে কাজেকর্মে সাধ্যমতো সাহায্য করা।
১০৩ঃ হেঁটে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
১০৪ঃ সলাতে দাঁড়ালে সামনে ‘সুতরা’ ব্যবহার করা।
১০৫ঃ সাধ্যমতো সুন্দর সুরে কুরআন তিলাওয়াতের চেষ্টা করা।
১০৬ঃ তাওফিকে কুলোলে গরীবকে কুরবানির জন্য ‘ছাগল’ হাদিয়া দেয়া।
১০৭ঃ নিজে বিয়ে করা বা অন্যকে বিয়ে করতে সহযোগিতা করা।
১০৮ঃ দুই বিবদমান ব্যক্তির মাঝে লেগে থাকা ঝগড়া মিটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা।
১০৯ঃ সৎসঙ্গ অবলম্বন করা। ভাল মানুষের সাথে বেশি বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করা।
১১০ঃ দীনের খেদমতের উদ্দেশ্যে ‘ওয়াকফ’ করা। মসজিদের জন্য, জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য মাদরাসার জন্য জায়গা-জমি দান করা।
১১১ঃ তাওফিক থাকলে হজ করা।
১১২ঃ মুসলিম ভাইকে আল্লাহর জন্য মহব্বত করা।
১১৩ঃ অন্যকে ক্ষমা করা।
১১৪ঃ এক নামাজের পর আরেক নামাজের অপেক্ষায় থাকা।
১১৫ঃ মসজিদে দীনি মুজাকারা ও হালকায় শরিক হওয়া।
১১৬ঃ ওলামায়ে কেরামকে সম্মান-তাজীম করা।
১১৭ঃ এটা হালাল না হারাম, জায়েজ না না জায়েজ, এমন সন্দেহপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা।
১১৮ঃ সাধ্যমতো সুন্নতের প্রচার ও প্রসার ঘটানো।
১১৯ঃ অন্যকে হাদিয়া দেয়া।
১২০ঃ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মুসলিম ভাইরে সাথে মুসাফা (হ্যান্ডশেক) করা।
১২১ঃ বড়কে সম্মান করা। ছোটকে স্নেহ করা।
১২২ঃ স্বামীর ডাকে সাড়া দেয়া। স্বামীর অনুগত্য করা।
১২৩ঃ স্বামীর বাড়ির কাজে শরিক হওয়া।
১২৪ঃ মসজিদ পরিষ্কার করার কাজে শরিক হওয়া।
১২৫ঃ পিপাসার্তকে পানি পান করানো।
১২৬ঃ অন্যের ভালো কাজ বা অনুগ্রহে শুকরিয়া আদায় করা। জাযাকাল্লাহু খাইরান বলা।
১২৭ঃ অন্যের ভাল কাজের প্রতিদান দেয়া। তার জন্য দোয়া করা।
১২৮ঃ আল্লাহর ভয়ে কাঁদা।
১২৯ঃ আল্লাহর কাছে ‘শাহাদত’ চেয়ে দোয়া করা।
১৩০ঃ বেচা ও কেনায় উদার সহিষ্ণু আচরণ করা। গরিব ক্রেতাকে ছাড় দেয়া। গরিব বিক্রেতাকে ন্যয্য দামের চেয়ে বেশি দেয়ার চেষ্টা করা।
১৩১ঃ মুসলিম ভাইয়ের দোষত্রুটি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা।
১৩২ঃ এতিমের প্রতিপালন করা। পুরোটা না পারলে এতিমখানায় দান করার চেষ্টা করা।
১৩৩ঃ বিধবার প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে যাওয়া।
১৩৪ঃ মসজিদ নির্মাণে শরিক হওয়া।
১৩৫ঃ অন্যকে ভালো কাজের সন্ধান দেয়া। ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করা।
১৩৬ঃ দীনি কিতাবাদি ছাপানোর কাজে সহযোগিতা করা।
১৩৭ঃ অনলাইনে, অফলাইনে দীনি ইলম প্রসারে শরিক হওয়া।
১৩৮ঃ সম্ভব হলে ওয়াজ করা। নিজের সংশোধনের উদ্দেশ্যে অন্যের ওয়াজ শোনা।
১৩৯ঃ পরিচারক ও মজদুর শ্রেণির কাজ সহজ করে দেয়া। গরিব পেশাজীবীকে সাহায্য করা। স্বল্পবুদ্ধি, প্রতিবন্ধীকে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করা। বিনামূল্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা।
১৪০ঃ অন্যের মনে আনন্দ পৌঁছানো।
১৪১ঃ অন্যকে আহার করানো।
১৪২ঃ এতিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়া।
১৪৩ঃ নিয়মিত ওজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা।
১৪৪ঃ কন্যা, বোন ও ফুফুদের সাহায্যে তৎপর থাকা। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা।
১৪৫ঃ স্ত্রী ও সন্তানের জন্য সাধ্যমতো খরচ করা।
১৪৬ঃ শিশুদের আদর করা। তাদের সাথে খুনসুটি খেলা করা।
১৪৭ঃ স্থান ও কালের সাথে সম্পৃক্ত কল্যাণমূলক কাজ ও ইবাদতের কথা ব্যাপকভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়া। রমজানে রোজার কথা। জিলহজে হজের কথা, জুমার দিন জুমার সুন্নতের কথা।
১৪৮ঃ আমানত রক্ষা করা। আমানত মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়া।
১৪৯ঃ সওয়াবের আশায় অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার কাজে শরিক হওয়া।
১৫০ঃ বন্দীমুক্তির চেষ্টা করা।
১৫১ঃ বন্দী ও আল্লাহর রাস্তায় মেহনতে শরিক হওয়া ভাইদের অসহায় পরিবারের খোঁজখবর রাখা।
১৫২ঃ চতুষ্পদ জন্তু, পশুপাখির প্রতি সদয় আচরণ করা।
১৫৩ঃ মুসলিম শিশুদের উপযোগী বইপত্র ছাপিয়ে বিতরণ করা। তাদের জন্য নির্দোষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
১৫৪ঃ বিশুদ্ধ ইলম শিখে, আমানতের সাথে অন্যের কাছে সেই ইলম পৌঁছৈ দেয়া।
১৫৫ঃ মুসলিম ভাইয়ের সম্মান রক্ষায় সচেষ্ট সরব হওয়া।
১৫৬ঃ কুরআন তিলাওয়াত শোনা।
১৫৭ঃ অন্যের ভালো, কেউ ইলম শিখলে, হিফজ করলে, পুরস্কৃত করে উৎসাহ দেয়া।
১৫৮ঃ দীন মহফিলের আয়োজন করা। সভা-সেমিনারের ব্যবস্থা করা।
১৫৯ঃ গরিব ভাইবেরাদর, পাড়া-প্রতিবেশিকে জামাকাপড়, থালাবাসন সাময়িক প্রয়োজনে ‘হাওলাত’ দিতে পারি।
১৬০ঃ জনকল্যাণমূলক সেবাসংস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সেবাকার্য পরিচালনা করা।
১৬১ঃ হাজি সাহেবের খরচ বহন (স্পন্সর) করার চেষ্টা করা। পুরোটা না হলেও কিছুটা হলেও।
১৬২ঃ তালিবে ইলমকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করা।
১৬৩ঃ কুরআন তিলাওয়াতের সময় আযাবের আয়াত এলে, সাথে সাথে ক্ষমা চাওয়া।
১৬৪ঃ সুসংবাদের আয়াত এলে আল্লাহর কাছে তা প্রার্থনা করা।
১৬৫ঃ হামদ বা প্রশংসার আয়াত এলে, তাসবীহ পড়া। সুবহানাল্লাহ বলা।
১৬৬ঃ গভীর রাতে ঘুম ভাঙলে এই দোয়া পড়া,
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।
১৬৭ঃ তাওবা করার পর সাথে সাথে সদকা করা।
১৬৮ঃ হারাম থেকে বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।
১৬৯ঃ উত্তম প্রতিবেশি হওয়া। প্রতিবেশির সাথে বাড়তি সদাচার করতে পারি।
১৭০ঃ বেশি বেশি সালাম দিতে পারি।
১৭১ঃ অন্যকে আহার করাতে পারি।
১৭২ঃ অন্যের সাথে সুন্দর ও মিষ্টি করে কথা বলতে পারি।
১৭৩ঃ কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারি।
১৭৪ঃ তাহাজ্জুদে উঠতে না পারলেও, শেষ রাতে ঘুম ভাঙলে কয়েকবার ইস্তেগফার করে নিতে পারি।
ইয়া আল্লাহ, আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
Author: Atik Ullah