10/11/2025
ভালোবাসা মানে হলো ত্যাগ। নিঃস্বার্থ দানের ক্ষমতা।
একজন স্ত্রী তার স্বামীকে লিভার এর অংশ বিশেষ দান করেছেন । মৃত্যুমুখী স্বামীকে বাচিয়ে তুলেছেন। অঙ্গদানের মতো পূণ্য আর কি হতে পারে, তাও জীবিত থাকা অবস্থায়।
লিভারের অংশ বিশেষ দান করার কিছু বিশেষ দিক রয়েছে। শরীরের অন্য বেশিরভাগ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা কেটে ফেললে সেটা প্রায় স্বাভাবিক হয়না বা পুরোপুরি ফাংশন করেনা। কিন্তু লিভার হলো রিজেনারেটিভ। অর্থাৎ অংশবিশেষ দানের পরেও একটা নির্দিষ্ট অংশ বাকি থাকলে সেখান থেকে আবার নতুন করে জন্ম নিতে পারে।
🔹 কীভাবে সম্ভব:
যদি কেউ নিজের লিভারের প্রায় ৬০–৭০% পর্যন্ত অংশ দান করেন (living liver donation), দাতার শরীরে যে অংশ থাকে তা বাকি কোষগুলো দ্রুত বিভাজিত হয়ে নতুন লিভার টিস্যু তৈরি করে।
সাধারণত ৬–৮ সপ্তাহের মধ্যে লিভার তার মূল আকার ও কার্যক্ষমতার প্রায় ৮০–৯০% ফিরে পায়।
সম্পূর্ণ কোষের সংখ্যা আগের মতো হলেও আকার ও ভলিউম সম্পূর্ণ আগের অবস্থায় পৌঁছাতে কয়েক মাস সময় লাগে।
🔹 কেন দাতা বেঁচে থাকে:
কারণ লিভারের যে অংশ থাকে (প্রায় ৩০–৪০%), সেটিও তৎক্ষণাৎ শরীরের মেটাবলিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম — লিভারের কার্যক্ষমতা অত্যন্ত দক্ষ।
তাছাড়া, নতুন কোষ জন্ম নিয়ে বাকি অংশ পূরণ করে দেয়।
🔹 কিছু শর্ত থাকে:
দাতার লিভার অবশ্যই সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে।
কোনো ফ্যাটি লিভার, সিরোসিস, বা হেপাটাইটিস থাকা যাবে না।
দানের পর দাতাকে প্রায় ৬–১২ সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, যাতে জটিলতা না হয়।
🔹 মজার তথ্য:
মানুষের শরীরে লিভারই একমাত্র অঙ্গ যা এত উচ্চ রিজেনারেটিভ ক্ষমতা রাখে। এমনকি সার্জিক্যালি ছোট অংশ রেখেও পুরো অঙ্গটি পুনর্গঠন হয়।
Take care of your loved ones.