08/04/2021
👉👉একটু সচেতন হলেই এড়ানো সম্ভব গরমের সব রোগবালাই😱🤗
জলবায়ুর পরিবর্তনে আবহাওয়ার মেজাজ বোঝা দায়। প্রচণ্ড গরম পড়ছে। আবার যেকোন সময় শুরু হতে পারে হঠাৎ বৃষ্টি। এই গরমে ঘেমে-নেয়ে উঠছেন, তো আবার বৃষ্টিতে ভিজে একাকার।
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ও সংক্রমণ বেড়ে যায় পরিবেশের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার বৃদ্ধির কারণে। আমাদের দেশে প্রতিবছর কিছু রোগবালাই গ্রীষ্ম, বর্ষাকালে বেশি হয় এবং রোগগুলোর প্রকোপও বাড়ে। তবে এই রোগগুলোকে কিন্তু এড়ানো সম্ভব। এজন্যে প্রয়োজন শুধুমাত্র একটু সচেতনতার ।
১। পানিশূন্যতা
গরমে আমরা প্রচুর ঘামি। ঘাম হলে শরীর হয়ে পরে পানিশূন্য। আর পানিশূন্যতা শরীরকে দুর্বল করে তোলে এবং রক্তচাপ কমে যায়। কেউ কেউ এর ফলে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে কিডনিও আক্রান্ত হতে পারে। তাই এই সময়ে প্রচুর পানি ও পানিজাতীয় খাবার খান।
২। টাইফয়েড ও হেপাটাইটিস
গরমের সময় পানিবাহিত রোগ বেড়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো টাইফয়েড। সাধারণত দূষিত খাবার ও পানি দিয়ে এই সংক্রমণ ছড়ায়। উচ্চমাত্রার জ্বর, কখনো ডায়রিয়া, দুর্বলতা ইত্যাদি হলো উপসর্গ।
টাইফয়েড হলে অ্যান্টিবায়োটিক উচ্চমাত্রায় ও একটু বেশি মেয়াদে দিতে হয়, কখনো শিরায় দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এ রোগের চিকিৎসা অন্যান্য সংক্রমণজনিত চিকিৎসার চেয়ে ভিন্ন। রক্তের কালচারের মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক সঠিক মাত্রায় না দিলে কাজ হয় কম।
কিন্তু সাধারণ প্রবণতা হলো জ্বর হলে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই নিজে নিজে এক কোর্স অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে ফেলা। এ কারণে পরবর্তী সময়ে রোগ শনাক্ত হতে সমস্যা হয় এবং ভোগান্তি ও খরচ দুটোই বাড়ে।
তাই জ্বর যদি উচ্চমাত্রার হয় ও ৫-৭ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, সে ক্ষেত্রে টাইফয়েডের পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক নিন।
গরমের সময় পানিবাহিত জন্ডিস বা হেপাটাইটিস-ই এবং এ–এর প্রকোপ বাড়ে। এতে অরুচি, চোখ ও প্রস্রাব হলুদ রং ধারণ করা, দুর্বলতা, জ্বর হতে পারে। হেপাটাইটিসের চিকিৎসা হলো পূর্ণ বিশ্রাম আর কোনো ওষুধ না খাওয়া। এটি এমনিতেই সেরে যাবে।
৩। জ্বর ও সর্দি-গর্মি
আবহাওয়ার চরম ভাবের কারণে এ সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা নাজুক অবস্থায় পড়ে। সুয়োগটা নেয় বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস। এ সময়ে তাই ভাইরাস জ্বরের প্রকোপটা থাকে বেশি।
গরমকালে ফ্লু বা সর্দি–গর্মির রোগীও বাড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক। এমনিতে সাধারণ সর্দি-গর্মি বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ৫-৭ দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। এতে জ্বরের সঙ্গে গলাব্যথা, কাশি, সর্দি, নাক বন্ধ, চোখ লাল, নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথাব্যথা ইত্যাদি থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে কোভিড পরীক্ষাও করতে হবে, কারণ কোভিডের লক্ষণগুলো ফ্লুর মতোই।
যদি করোনা না হয়ে থাকে তবে সাধারণ প্যারাসিটামল, অ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধই যথেষ্ট। গরম স্যুপ, গরম আদা–চা ইত্যাদি খেলে আরাম হবে। বিশ্রাম নিতে হবে আর প্রচুর পানি পান করতে হবে।
৪। হিটস্ট্রোক
খুব গরমে হিটস্ট্রোক হয়। এটি একটি ভয়ংকর সমস্যা। প্রথমে হয় হিট ক্র্যাম্প। শরীর ব্যথা করে, পিপাসা লাগে, শরীর দুর্বল অনুভূত হয়। এর পরেই আসে হিট একজশন। এ অবস্থায় রোগীর শ্বাসকষ্ট হয়, মাথাব্যথা করে, চেতনা লোপ পেয়ে আবোলতাবোল কথা বলতে পারে।
কারও এমন হতে দেখা গেলে দ্রুত তাকে অপেক্ষাকৃত শীতল জায়গায় সরিয়ে নিতে হবে। ফ্যান ছেড়ে দিতে হবে এবং জামাকাপড় খুলে দিতে হবে। ভেজা কাপড় দিয়ে গা মুছে দিতে হবে। চেতনা থাকলে মুখে পানি দিতে হবে কিন্তু অজ্ঞান হলে জোর করে নয়। দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
৫। ত্বকের অসুখ
অতিরিক্ত গরমে এ সময় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে কারো কারো ত্বকে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। ত্বকে ফুসকুড়ি, লাল লাল র্যাশ, চুলকানি হতে পারে। ঘামাচি এ সময়ে ত্বকের একটি অতি সাধারণ সমস্যা। এ ছাড়া ঘাম শরীরে জমে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ঘামাচি প্রতিরোধে ঘামে ভেজা কাপড় পাল্টে ফেলবেন বা ঘাম মুছে ফেলবেন। অন্তর্বাস, মোজা ইত্যাদি কখনোই না ধুয়ে আবার পরদিন পরবেন না।
৬। বদহজম বা পেটের অসুখ
গরমকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে বলে খাবার নষ্ট হয় দ্রুত। ব্যাকটেরিয়া সহজেই খাবারে বাসা বাঁধে। সেই খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হয়।
কোনো খাবার খেয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বমি, ডায়রিয়া ও জ্বর শুরু হলে বদহজম বা ফুড পয়জনিং হয়েছে বুঝতে হবে। বাসি ও বাইরের খাবার থেকে দূরে থাকবেন। ফ্রিজের খাবার ভালো করে গরম করে খেতে হবে।
শেষ পর্বঃ একটু সচেতনভাবে যা করলেই এই সময়ে সুস্থ থাকতে পারবেন