01/10/2025
Writer Dr.Rabin Barman, MD (Gold Medalist in Homeopathy )
লাইসিন / লাইসিনাম / হাইড্রোফোবিনাম
কেমন লেখা থাকবে আমার মেটিরিয়া মেডিকায়, তার দুই একটি ঔষধের লেখার স্যাম্পেল দেখাচ্ছি। আমার লেখা সহজ মেটিরিয়া মেডিকা বইটা মাস দুয়েকের মধ্যেই বেরুবে।
আজ দেখাচ্ছি লাইসিন ঔষধটি কিভাবে লিখেছি।
ভূমিকা --- অনেকেই এটা জানেন ১৮৮৩ সালে পাগলা কুকুরের লালা থেকে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার করেছিলেন ফ্রান্সের লুই পাস্তুর।
কিন্তু অনেকে এটা জানেন না লুই পাস্তুরের আবিষ্কারের ৫০ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৩৩ সালে পাগলা কুকুরের লালাকে শক্তিকৃত করে সুস্থ মানুষের শরীরে পরীক্ষা করেছিলেন হোমিওপ্যাথিক জগতের গর্ব ডাক্তার কনস্ট্যানটাইন হেরিং। পাস্তুর গবেষণা করেছিলেন পাগলা কুকুরের লালার ক্রুড অংশ নিয়ে, আর হেরিং গবেষণা করেছিলেন পাগলা কুকুরের লালার ডাইনামিক এ্যাকশন নিয়ে।
কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছিল পাস্তুুরের। তার গবেষণায় প্রস্তুত হয় রেবিস বা জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন।
( A R S -- Anti Rabies Vaccine ).
তবে পাগলা কুকুরের লালা শক্তিকৃত করে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ তৈরি করার জন্য একটা পাগলা কুকুরের দরকার ছিল। কিন্তু বহুদিন ধরে হেরিং সাহেব কোথাও পাগলা কুকুর পাচ্ছিলেন না। তিনি সবাইকে বলে রেখেছিলেন একটা পাগলা কুকুর পেলে তাকে জানাতে। অবশেষে ১৮৩৩ সালের ২৭শে আগস্ট রাস্তায় রুটি বিক্রি করা একজন রুটিওয়ালা একটি পাগলা কুকুরের সন্ধান পান এবং হেরিংকে তা জানান। হেরিং সাহেব দেখেন কুকুরটি সত্যিই পাগল, তখন কুকুরটিকে ধরে বেঁধে তার লালা সংগ্রহ করেন হেরিং, এবং তা শক্তিকৃত করে পরীক্ষা আরম্ভ করেন
এখন দেখা যাক পাগলা কুকুরের লালা শক্তিকৃত করে সুস্থ মানুষের মধ্যে প্রুভিংয়ের মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিতে যে ঔষধটি উপহার দিয়েছেন ডাঃ হেরিং সেখানে আমরা কি লক্ষণসমষ্টি পেয়েছি।
১) এই ঔষধের প্রথম কথা আমাদের মনে রাখতে হবে ঔষধটি কাজ করে ব্রেন ও নার্ভাস সিস্টেমের উপর। তার প্রমান -- পাগলা কুকুর কামড়ালে যখন জলাতঙ্ক রোগ হয় তার মস্তিষ্ক আক্রমিত হয়, সে লোককে কামড়াতে চায়, মারতে চায়, আঘাত করতে চায়, সে সবকিছুতে ভয় পায়।
২) কুকুর তা সে ভালো কুকুর বা পাগলা কুকুর, কামড়ানোর পর থেকে যখন কোন না কোন প্রবলেম বা অসুবিধা চলতে থাকে তখন আমরা লাইসিন ২০০, বা ১০০০ শক্তির এক বা দুই ডোজ অবশ্যই প্রয়োগ করবো। তবে যেহেতু ঔষধটি ডিপ অ্যাক্টিং বা দীর্ঘমেয়াদী গভীর, তাই ১৫, ২০ বা ২৫ দিনের মধ্যে এই ঔষধ আর রিপিট করবো না, বা অন্য কোন ঔষধ দেবো না।
অনেকের ধারণা শুধু পাগলা কুকুর কামড়ানোর পরে কোন অসুবিধা হলে লাইসিন, কিন্তু না, মনে রাখতে হবে শুধু পাগলা কুকুর নয়, যে কোন কুকুর, এমনকি বাড়ির পোষা কুকুর কামড়ানোর পরেও কোন অসুবিধা চলতে থাকলে, বা তার পর থেকে কোন কমপ্লেন বা অসুবিধা হচ্ছে মনে করলে এক বা দুই ডোজ লাইসিন ২০০, বা ১০০০ অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে।
৩) কোন রোগীর রোগলক্ষণ বা অসুস্থতা সুনির্দিষ্ট ঔষধে কাজ করছে না। কিন্তু তাকে কখনো পাগলা বা ভালো কোন কুকুরে কামড়ায়নি। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেল তার বাবা বা মাকে তার জন্মের আগে কুকুরে কামড় দিয়েছিল। এমতাবস্থায় ঐ রোগীকে আরোগ্যের অন্তরায় হিসাবে বংশে কুকুরের কামড়ানোর ইতিহাস মেনে এক বা দুই রোজ লাইসিন ২০০ বা ১০০০ দিলে আরোগ্যের বাধা অবলুপ্ত হয় এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়। লক্ষণটি পরীক্ষিত বা প্রমাণিত।
৪) এই ঔষধের ৪টি বৃদ্ধি অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কারণ এই ৪টি বৃদ্ধি এই ঔষধের প্রধান ৪টি চরিত্রগত লক্ষণ -----
* কোথাও কলকল করে জল পড়ার দৃশ্য দেখলে বৃদ্ধি --
কোথাও কলকল করে জল পড়ার দৃশ্য দেখলে বা ঐ শব্দ শুনলে অসুস্থ বোধ করে, বা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তা সে বাথরুমের বা বেসিনের কলে মৃদুভাবে জল পড়ার দৃশ্য বা শব্দ হোক, বা কোন স্রোতস্বিনী নদীর পাশে জোয়ার বা ভাঁটার সময়ের হু হু করে প্রবাহিত হওয়া জলের গর্জন হোক, বা কোন পাহাড়ি বা পার্বত্য এলাকার উপর থেকে নিচে ঝর্ণার জল পড়ার তর্জন গর্জনের দৃশ্য বা শব্দ হোক, শরীর খারাপ লাগে। তারা অসুস্থ বোধ করে। এমন কি আগে দেখা এমন দৃশ্য মনের মধ্যে আসলেও তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। -- মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, বমি বা বমির ভাব, পায়খানা বা প্রস্রাবের বেগ আসা, ইত্যাদি৷ যে কোন অসুবিধা হতে পারে।
* চকচক বা ঝকঝকে আলোতে রোগের বৃদ্ধি----
যে সব আলো খুব চকচক দবা ঝকঝক করে, বা খুব উজ্জ্বল আলো, যাতে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে, বা একবার জ্বলছে একবার জ্বলছে, একবার নিভছে, এমন ঝিকিমিকি বা চোখ ঝলসানো লাইট দেখলে শরীর খারাপ হয়, কোন না কোন দিক থেকে তারা অসুস্থতা বোধ করে, যেমন -- মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, বমি বা বমির ভাব, বা পায়খানা প্রস্রাবের বেগ আসা, ইত্যাদি।
* সূর্যের তাপ মোটেই সহ্য করতে পারে না ---
রোদ বা সূর্যের তাপ এরা মোটেই সহ্য করতে পারে না। সামান্য রোদ লাগলেই অসুস্থ হয়ে পড়ে, রোদে বেরুলে বা একটু ঘোরাঘুরি করলেই কোন না কোন অসুস্থতা বোধ করে, যেমন --মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, বমি বা বমির ভাব, দুর্বলতা, ইত্যাদি।
( রোদ বা সূর্যের তাপ মোটেই সহ্য করতে পারে না, কোন না কোন অসুবিধা হয় --- জেলস, গ্লোনোইন, ল্যাকেসিস, নেট্রাম কার্ব, নেট্রাম মিউর, পালস )
* জলপানে বিভিন্ন রোগের বৃদ্ধি। জল পানের পরে কোন না কোন অসুবিধা বোধ করে বা কোন না কোন রোগ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন --বমি বা বমির ভাব, তড়কা, ইত্যাদি। অনেক সময় জল পান তো দূরের কথা, সামনে জলের গ্লাস বা জলের পাত্র দেখলেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
৫) মুখে খুব লালা আসে, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Profuse salivation.
৬) বারবার থুথু ফেলার অভ্যাস। বাচ্চা, বড় সবার মুখে খুব থুথু আসে, এবং যেখানে সেখানে পিক পিক করে থুতু ফেলে বা ফেলতে চায়। মুখে খুব লালা আসে বলেই মনে হয় এই লক্ষণটি দেখা দেয়। ( সিনা )।
৭) বারবার প্রস্রাবের বেগ হয়, বিশেষ করে কোথাও কলকল বা ছলছল করে জল পড়ছে তা দেখলে বা ঐ শব্দ শুনলে।
৮) জল পিপাসা বেশি, কিন্তু জল খেতে ভয়। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে জল তো মোটেই খায় না, জল দেখলে আঁতকে ওঠে, ভয় পায়। জলাতঙ্ক হলে এই লক্ষণ খুব বেশি দেখা যায় বলেই তো রোগটার নাম হয়েছে জলাতঙ্ক, অর্থাৎ জলে আতঙ্ক। ইংরেজিতে হাইড্রো-ফোবিয়া, হাইড্রো মানে জল, আর ফোবিয়া মানে ভয়। সুতরাং পিপাসা থাকলেও জল খেতে অনেক সময় আতঙ্ক বা ভয়, লক্ষণটি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ।
৯) লবণ খাওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা, অতিরিক্ত লবণ ছাড়া ভাত খেতে পারে না।
১০) পুরুষদের যৌন উত্তেজনা খুব বেশি। খুব, খুব বেশী। ইংরেজিতে বলে যেতে পারে Too much lascivious. কিন্তু এই যৌন উত্তেজনার তিনটি অদ্ভুত লক্ষণ আছে খেয়াল রাখতে হবে।
ক) পারভার্টেড সেকস, অর্থাৎ বিকৃতভাবে স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে চায়, বা যৌন উত্তেজনা নিবারণ করতে চায়। কিরকম বিকৃত উপায়ে -- যেমন, স্ত্রীকে খুব মারধোর না করলে তার সেক্স উঠবে না, যৌনদ্বারের বদলে স্ত্রীর মলদ্বারে সহবাস করার প্রবল ইচ্ছা, বা, যৌন উত্তেজনার সময় সে কি করবে বুঝে উঠতে পারে না, পাগলের মত করতে থাকে। আঁচড়ে, কামড়ে, খামচে,তার স্ত্রীকে যেন মেরে ফেলবে এমন ভাব।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে বিভিন্ন রকম অ্যাবনরমাল বা অস্বাভাবিক উপায়ে সেক্স চরিতার্থ করতে না পারলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
খ) বহু রোগীর একটা কমপ্লেন পাওয়া যায় - ডাঃবাবু, আমার তাড়াতাড়ি শুক্রপাত হয়ে যায়। এটা একটা বিরাট সমস্যা। কারণ শুক্রপাত হওয়ার সাথে সাথে পুরুষের পুরুষাঙ্গের উত্থান নষ্ট হয়ে যায় অর্থাৎ পুরুষাঙ্গ আর শক্ত থাকে না। ফলে সহবাসের আনন্দ মাটি হয়ে যায়, যেহেতু প্রকৃতির নিয়মে পুরুষকে একটা এ্যাকটিভ ভূমিকা নিতে হয়। কিন্তু তাড়াতাড়ি শুক্রপাত হয়ে গেলে স্ত্রীর যদি সেক্স না মেটে তাহলে তার মন মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, অনেকেই জানে না এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটতে থাকলে মহিলাদের শরীর খারাপ হতে থাকে, তাদের মানসিক অবসাদ থেকে নানা রকম রোগে ভোগা আরম্ভ হয়।
কিন্তু লাইসিনের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ৩০ মিনিট, ৪০ মিনিট, ১ ঘন্টা হয়ে যায়, তবু তাদের শুক্রপাত হয় না। আর পুরুষদের যেহেতু শুক্রপাত না হওয়া পর্যন্ত শরীর ও মনের শান্তি আসে না, তাই শুক্রপাত না হওয়া পর্যন্ত এরা সহবাস চালাতেই থাকে। হয়তো অনেক আগেই তার স্ত্রী বা পার্টনারের আকাঙ্ক্ষা বা চাহিদা মিটে গেছে, কিন্তু তবু স্বামীর চাহিদা না মেটায় হয়তো তারা বিছানায় পড়ে থাকে, এবং একটা সময়ে অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করতে থাকে।
লাইসিনের এ এক বিচিত্র লক্ষণ, কিছুতেই শুক্রখলন হতে চায় না। ঘন্টা বেজে যায়, তবু যেন স্কুলে ছুটি হয় না, এমন ব্যাপার আর কি!
গ) মাঝে মাঝে রাত্রিবেলা এত সেক্স বা যৌন উত্তেজনা বাড়ে যে পুরুষাঙ্গের উত্তেজনার সাথে ঘুম ভেঙে যায়।
১১) বারবার প্রস্রাবের বেগ হয়, প্রস্রাব হয়ও অনেক। ( মার্ক সল)
১২) গলায় যেন কিছু আটকে আছে, কোথাও যেন খাবার আটকাচ্ছে। খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হলে ঠিক যেমন সিমপটম দেখা দেয়, ঠিক সেই রকম আর কি! বিশেষ করে তরল খাদ্য খেতে যেন বেশি কষ্ট হয় ( ল্যাকেসিস )।
এই লক্ষণ হয় কারণ --এই ঔষধের একটি বিশেষত্ব হচ্ছে মাংসপেশির কনস্ট্রিকশন বা সংকোচন হওয়া। মাংসপেশী হঠাৎ করে স্প্রিংয়ের মতন ফুলে উঠে। ফলে যেখানে মাংসপেশির এমন সংকোচন ও প্রসরণ হবে সেখানে এই লক্ষণ দেখা দেবে।
মাংসপেশির এই কনস্ট্রিকশন বা সংকোচন হওয়া এই ঔষধের একটি প্রধান লক্ষণ, তার প্রমান পাওয়া যায় কুকুরদের সহবাস দেখলে। লক্ষ্য করলে দেখা যায় সহবাস করার পরে কুকুরের পুরুষাঙ্গ কুকুরীর যোনিপথ থেকে কিছুতেই বেরুচ্ছে না। এক বিশ্রী অপ্রীতিকর অবস্থায় কুকুর দুইটি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। এর কারণ তো মহিলা কুকুরের যোনিপথের মাংসপেশির কনস্ট্রিকসন বা সংকীর্ণতা। কুকুরদের এই লক্ষণটিকে অনুধাবন করলে মানুষের শরীরে কোথাও মাংসপেশির ঐরকম কনস্ট্রিকশন বা সংকোচন হলে পাগলা কুকুরের লালা থেকে তৈরী এই লাইসিন ঔষধটির কথা তাই অবশ্যই আমাদের ভাবতে হবে । ( ক্যাকটাস )।
১৩) মহিলাদেরও সেক্স বেশি থাকে, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ভ্যাজাইনা বা বাংলায় যাকে যোনিপথ বলা হয়, তা অত্যন্ত শুষ্ক থাকে। সাধারণত সেক্সচুয়াল উত্তেজনা হলে কিছু গ্লান্ডের মাধ্যমে ভ্যাজাইনা বা যোনিপথে বেশ কিছু রসের আমদানি হয়, ফলে পুরো যোনিপথ পিচ্ছিল হয়ে যায়, প্রকৃতির নিয়মে স্বচ্ছ ভাবে সহবাস করার জন্য এই সিস্টেম । কিন্তু লাইসিন মহিলাদের ভ্যাজাইনার গ্লান্ডগুলি থেকে কোন রস নির্গত হয় না, ফলে পুরো যোনিপথ শুষ্ক হয়ে থাকে। ফলে সহবাসের সময় তাদের ভীষণ কষ্ট হয়।
( যোনিপথ সব সময় ভীষণ রকম শুষ্ক থাকে, সহবাসে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয় -- বার্বেরিস, ফেরাম, গ্রাফাইটিস, লাইকো, লাইসিন, নেট্রাম মিউর*, সিপিয়া) ।
আবার যোনিপথের ভিতরে শুষ্ক শুধু নয়, যোনিপথের বাইরে, এ্যানাটমির ভাষায় যে জায়গাটিকে আমরা Pudenda বলি, সেইসব জায়গাগুলি খুব সেনসিটিভ থাকে। তাই পুরুষের পুরুষাঙ্গ যোনিপথের ভিতরে প্রবেশ করার আগেই পিউডেনডা জায়গাটা সেনসিটিভ হওয়ার জন্য ভীষণ সুড়সুড় করে বা অস্বস্তি বোধ হয়। এমনকি সহবাসের সময় ব্যতীত অন্য সময়ও কাপড়চোপড়ের স্পর্শে এলাকাটি খুব সুড়সুড় করে এবং অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
( পিউডেনডা ও ভ্যাজাইনা খুবই সেনসিটিভ, সামান্য স্পর্শই সুড়সুড় করে ওঠে -- বার্বেরিস, ক্রিয়োজোট, লাইসিন*, নেট্রাম মিউর, প্লাটিনা*, সিপিয়া, স্টাফিসেগ্রিয়া*, থুজা )।
ইংরেজিতে অল্প কথায় আমরা বলতে পারি -- Increased sexual desire in females, but va**na is very dry and sensitive, so coition is very painful and uncomfortable
১৪) ইন্দ্রিয় শক্তি অত্যন্ত প্রখর তাই শরীর বাহ্যিক কোন কিছু সহজে গ্রহণ করতে পারে না, বা সহ্য করতে পারে না
( Acuteness of senses )
যেমন--বেশী জোরের শব্দ বা চেঁচামেচি, খুব গরম বা খুব ঠান্ডা আবহাওয়া, কেউ যদি তাকে স্পর্শ করে , উজ্জল ঝিকমিক করা আলো, কলকল,বা ছলছল করে জল পড়ার শব্দ, বা নদী নালায় জল গড়ানোর গর্জন ,ইত্যাদি।
১৫) আরও কয়েকটি মানসিক লক্ষণ -----
* মাঝে মাঝে পাগলের মতন ব্যবহার করে, মনে হয় যেন সে পাগল হয়ে গেছে।
( A form of insanity )
যেন নিজেকেই নিজে চিনতে পারে না, ( Loss of self identity ), কুকুরের মতন চিৎকার করে, লোককে মারে কামড়ায়। অত্যন্ত খারাপ ও উদ্ধত ব্যবহার করে, বিশ্রী খারাপ নোংরা কথা বলে বা খারাপ ভাষা থেকে গালিগালাজ করে, জিনিসপত্র ভাঙ্গে, ছেঁড়ে, বা ছুড়ে ফেলে।
* মনে মনে ভয় পায় সে বোধহয় পাগল হয়ে যাবে,
* কুকুরকে ভয় পায় এবং ঘৃণা করে,
* খুব অধৈর্য,
* ভীষণ উৎকণ্ঠা বা দুঃশ্চিন্তা,
১৬) কয়েকটি ক্লিনিক্যাল স্টেটস ----
* মাথাঘোরা --- যদি কুকুরে কামড় দেওয়ার পর থেকে হয়, তা সে কুকুর পাগলা হোক কিংবা পাগলা না হোক।
কলকল,বা ছলছল করে জল পড়ছে এমন দৃশ্য দেখলে বা ঐরকম শব্দ শুনলে মাথাঘোরা বাড়ে। রোদ লাগলেও মাথা ঘোরা বাড়ে।
* মাথাব্যথা -- যদি কুকুরে কামড় দেওয়ার পর থেকে হয়, তা সে কুকুর পাগলা হোক কিংবা পাগলা না হোক। কলকল বা ছলছল করে জল পড়ছে এমন দৃশ্য দেখলে বা ঐ রকম শব্দ শুনলে মাথাব্যথা বাড়ে, রোদ লাগলেও মাথাব্যথা বাড়ে।
* গলায় যদি খাবার আটকে যায় --অথচ পরীক্ষায় দেখা গেছে খাদ্যনালীতে টিউমার হয়নি, বা ক্যান্সার হয়নি, কিন্তু খাবার আটকে যাচ্ছে, বা খাবার গিলতে অসুবিধা হচ্ছে, শক্ত খাবারের থেকে তরল খাবারের বেশি অসুবিধা। কারণ, --মাংসপেশির কনস্ট্রিকশন বা সংকোচন। বিশেষ করে লক্ষণটি যদি কুকুরে কামড়ানোর পরে দেখা যায়, তা সে কুকুর পাগল হোক কিংবা পাগল না হোক!
* বধিরতা --বধিরতা যদি কুকুরে কামড়ানোর পর থেকে দেখা যায়, তা সে কুকুর পাগল হোক, কিংবা পাগল না হোক।
* ডায়েরিয়া বা ডিসেন্ট্রি ---যদি কুকুরের কামড়ের পর থেকে দেখা যায়, তা সে পাগল হোক, কিংবা পাগল না হোক। রানিং ওয়াটার অর্থাৎ কলকল ছলছল করে জল বইছে বা পড়ছে,এমন শব্দ শুনলে, বা দৃশ্যটি দেখলে সাথে সাথে মলত্যাগের বেগ হয়।
* অনিদ্রা ---অনিদ্রা যদি কুকুরের কামড়ের পর থেকে চলতে থাকে, তা সে কুকুর পাগল হোক কিংবা পাগল না হোক।
* জরায়ুর প্রলাপ্স----জরায়ুর প্রলাপ্সের এটি একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ঔষধ। তবে এই রোগের গ্রেড আছে। থার্ড গ্রেড, অর্থাৎ যেখানে জরায়ুর লিগামেন্ট বা বাঁধন সব ঢিলে হয়ে জরায়ু সব সময় বাইরে বেরিয়ে আছে, সেইসব ক্ষেত্রে কোন ঔষধে কোন লাভ হবে না। ফাস্ট ডিগ্রি অর্থাৎ মলত্যাগের সময় , বা কোন ভারী কাজ করার সময় যখন জরায়ুর নিচের অংশ মাঝে মাঝে বেরিয়ে পড়ছে, পরে আবার ঢুকে যাচ্ছে, শুধুমাত্র এমন ক্ষেত্রেই ঔষধ কার্যকরী হয়। এমন ক্ষেত্রে লাইসিন অত্যন্ত উপকারী। অনেকে বলেছেন --অনেকদিন ধরে চলতে থাকা জরায়ুর প্রলাপস এই ঔষধে আরোগ্য হয়েছে।
( It is said to have cured many cases of uterine prolapse even years standing ).
* গাড়িতে চলাকালীন অনেক রোগের বৃদ্ধি হতে পারে ( ককুলাস )
* বৃষ্টির সময় অনেক রোগের বৃদ্ধি হয়
* রোগাক্রমণের জায়গায় আস্তে আস্তে হাত বুলালে আরাম লাগে বা আরাম বোধ হয়।