09/02/2022
সাইকোলজিক্যাল টিপস
একজন পজেটিভ মা হয়ে ওঠার A to Z
❤️ A = Affection : সন্তানকে মৌখিকভাবে এবং অমৌখিক বা নন ভারবাল ভালোবাসা প্রদান করুন। আপনি সন্তানকে এভাবে বলতে পারেন, আমার বাবুটা আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।
❤️ B = Beliefs : সন্তানের প্রতি একটা সুস্থ, ইতিবাচক মানসিকতা প্রকাশ করুন এবং বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করুন।
❤️ C = Consistency : শিশুকে নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে বা যে কোন ক্ষেত্রে নির্দিষ্টতা বজায় রাখুন, আজ একভাবে বলা কাল একভাবে বললে শিশুরা বিভ্রান্ত হতে পারে।
❤️ D = Discipline : শিশুকে ইতিবাচক পদ্ধতিতে নিয়মানুবর্তিতা বা শৃঙ্খলা শেখান।
❤️ E = Example: শিশুর কাছে নিজেকে ইতিবাচক রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করুন। আপনি শিশুর মধ্যে যে ধরনের পরিবর্তন দেখতে চান সবার আগে নিজের মধ্যে সে ধরনের পরিবর্তনগুলো নিয়ে আসুন।
❤️ F = Flexibility: নিজের মধ্যে ফেলেক্সিবিলিটি রাখুন, ধৈর্য্য ধারন করুন, সহানুভুতি দেখান, প্রয়োজনে ক্ষমা করতে শিখুন।
❤️ G = Gratitude : সন্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন, তাকে ধন্যবাদ দিন, শিশুর সাথে মার্জিত আচরন করুন। আপনি যে আপনার শিশুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন তা সত্যি সত্যি নিজের মধ্যে ধারন করতে হবে।
❤️ H = Healthy Habits: শিশুর সাথে ইতিবাচক ভাবে ধর্মীয় আচার এবং দৈনন্দিন কার্যকলাপ অনুশীলন করুন। আপনি শিশুকে যেটা শেখাতে চান বা শিশুকে দিয়ে যেটা করাতে চান সেগুলো আপনি আগে নিজে অনুশীলন করুন এবং এটার ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।
❤️ I = I-messages: শিশুকে নিজের দ্বায়ীত্ব এবং কর্তব্যবোধের প্রতি সচেতন করুন, নিজেকে আত্ন নির্ভরশীল হতে শেখান, তাকে তার চিন্তা, সিদ্ধান্ত নেওয়া, এবং তার কাজ কর্মের প্রতি তার দ্বায়ীত্ব নিতে উতসাহিত করুন। তার মধ্যে নিজস্বতা তৈরি করুন।
❤️ J = Joy: শিশুকে সব সময় হাসি খুশি এবং আনন্দের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। মায়ের হাসি মুখ সন্তানকে অনেক বেশি আনন্দ দিতে পারে।
❤️ K = Kindness : একজন ইতিবাচক বাবা মা সব সময় সন্তানের সহায়ক হয়ে থাকে এবং তার অনুগুতিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, তার যত্ন নেন এবং তাকে উৎসাহিত করে থাকেন।
❤️ L = Letting Go: সন্তানকে সব সময় সব কিছুতে পারফেক্ট হতে হবে, এই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন। তাকে তার মত করে বেড়ে উঠতে দিন।
❤️ M = Mindfulness: বর্তমানে থাকুন, সন্তান যেভাবে আছে তাকে সেভাবেই ভালোবাসুন, তুলনা করা বিচার করা ছেড়ে দিন।
❤️ N = Nurturing : তাকে অন্যের সাথে তুলনা না করে একজন আলাদা ব্যক্তি হিসেবে জানার চেষ্টা করুন এবং তাকে সেভাবে পরিচর্চা করুন।
❤️ O = Openness: শিশুর সাথে কমিউনিকেট করার সময় কোন প্রকার বিচার করা ছাড়াই তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। এবং যোগাযোগের সময় সৎ থাকুন।
❤️ P = Partnership: একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস বজায় রাখুন, সম্মান বজায় রাখুন, কার কি দ্বায়ীত্ব সেগুলো সম্পর্কে সচেতন হোন। অভিন্ন মুল্যবোধ বজায় রাখুন, সবার প্রতি পরিষ্কার প্রত্যাশা রাখুন, এবং অনবদ্য যোগাযোগ বজায় রাখুন।
❤️ Q = Quiet Time : ধৈর্য্য ধারন করা শিখুন, আপনার যা নেই তা তো আপনি দিতে পারবেন না।
❤️ R = Resilience : সহনশীল হোন, লাইফ স্কিল গুলো শেখান, কঠিন কোন কাজকেও উদাহন দিয়ে দিয়ে শেখান। মনে রাখবেন, কঠিন সময় বেশিক্ষন স্থায়ী হয় না, তবে মানুষ এটাকে কঠিন করে তোলে।
❤️ S = Safety: শিশুকে তার শারীরীকভাবে, মানসিক ভাবে এবং ইমোশনালগতভাবে, নিরাপত্তা প্রদান করুন। যাতে তারা সকল ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অনুভব করে থাকে।
❤️ T = Togetherness: শিশুকে গুনগত সময় দিন, শিশুর সাথে ওয়ান টু ওয়ান যোগাযোগ করুন, এবং ঐ সময়টা শুধুমাত্র তাকেই দিন, এবং তার প্রতি ফোকাস থাকুন।
❤️ U = Uncritical Words: শিশুর ক্ষেত্রে সমস্যার প্রতি ফোকাস করুন, ব্যক্তির প্রতি নয়, উন্নতির প্রতি ফোকাস করুন ফলাফলের প্রতি নয়, সামনের দিকে ফোকাস করুন, পেছনের দিকে নয়।
❤️ V = Vulnerable: শিশুরা অনেক কান্নাকাটি করবে, সব সময় আপনি একা একা সমস্যার সমাধান করতে নাও পারতে পারেন, তখন প্রয়োজনে পেশাজীবীদের কাছ থেকে সহযোগীতা নিতে পারেন।
❤️ W = Wings: জীবনের উন্নতলাভ, আনন্দ এবং সাফল্য পাওয়ার নীতিগুলো শেখান, এবং তাকে তার নিজের মত করে শর্ত সেট করতে দিন।
❤️ X = XO: এক্সট্রাওর্ডিনারি হোন। অন্যরা কি ভাবছে, কি মনে করছে, কি বিশ্বাস করছে সেগুলোর উপরে নির্ভর না করে আপনার যা করা উচিত আপনি তাই করুন।
❤️ Y = Yes!: প্রায় সময়ই শিশুকে হ্যাঁ বলুন, তাদের স্বপ্নগুলোর প্রতি হ্যাঁ বলুন, তার উৎসাহগুলোকে হ্যাঁ বলুন, মনে রাখবেন তাদের শৈশব কিন্তু একবারই আসবে।
❤️ Z = Zeal: শিশুর দীপ্তিময়তা, ক্ষমতা এবং ইতিবাচকতা সম্পর্কে জানুন, শিশুর জন্য ঔজ্জ্বল্যতা এবং ভালোবাসার আধার হোন, এবং একটি উত্তরাধীকার ছেড়ে দিন।
ধন্যবাদান্তে
দীপন চন্দ্র সরকার
এসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং এম ফিল গবেষক
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়