15/10/2025
OGTT পরীক্ষার সঠিক পদ্ধতি এবং রোগীদের প্রস্তুতি:
OGTT (Oral Glucose Tolerance Test) পরীক্ষা করা হয় ডায়াবেটিস, প্রি-ডায়াবেটিস এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নির্ণয় করার জন্য। এই পরীক্ষাটি শরীরের গ্লুকোজ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা পরিমাপ করে এবং এর মাধ্যমে শরীরের শর্করার মাত্রা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে কিনা, তা জানা যায়। ওজিটিটি (Oral Glucose Tolerance Test) একটি সাধারণ পরীক্ষা যা ডায়াবেটিস বা গ্লুকোজ সহ্য ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে শরীর কীভাবে গ্লুকোজ প্রক্রিয়াকরণ করে তা বোঝা যায়। পরীক্ষার সঠিক ফলাফল পাওয়ার জন্য ওজিটিটি করার পূর্বে কিছু বিশেষ প্রস্তুতি প্রয়োজন। এখানে ওজিটিটির প্রস্তুতি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
১. স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা:
✓ পরীক্ষার আগে ৩ দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে হবে, যাতে দৈনিক খাদ্যে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট থাকে (কমপক্ষে ১৫০ গ্রাম)। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে থাকে ভাত, রুটি, আলু, ফলমূল ইত্যাদি।
✓ হঠাৎ করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা উচিত নয়। বিশেষ করে ডায়েটিং করা, কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা, বা অন্য কোনো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
২. খালি পেটে থাকা:
✓ ওজিটিটি পরীক্ষার আগে ৮ থেকে ১২ ঘন্টা (সবচেয়ে উত্তম ১০ ঘন্টা পর নমুনা দেয়া) খালি পেটে থাকতে হবে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে শুধু পানি খাওয়া যাবে, অন্য কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা যাবে না।
✓ খালি পেটে থাকার মানে হলো রাতের খাবার খাওয়ার পর থেকে সকাল পর্যন্ত কোনো খাবার বা পানীয় না খাওয়া। শুধু পানি পান করা যেতে পারে।
✓ চা, কফি, বা যেকোনো ধরনের পানীয় খাওয়া যাবে না, কারণ এতে গ্লুকোজের মাত্রা প্রভাবিত হতে পারে।
© অর্থ্যাৎ আগেরদিন রাত ১০টায় খাবার খেলে পরেরদিন সকাল সকাল ৬টা থেকে ১০ টার মধ্যে টেস্ট করা শুরু করতে হবে বা খালি পেটের নমুনা বা ব্লাড স্যাম্পল দিতে হবে। সকাল ৬টার আগে বা সকাল ১০টার পরে ব্লাড স্যাম্পল দিলে সঠিক রিপোর্ট আসবে না।
© গ্লোকোজ মিশ্রিত পানীয় দ্রবণ ৩-৫ মিনিটে খেতে হবে। এর চেয়ে বেশি সময় নিয়ে খেলেও সঠিক রিপোর্ট আসবে না।
© মিশ্রণটি খাওয়ার পর ২ ঘন্টা পরে পরবর্তী রক্তের নমুনা দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত কোন ধরণের খাবার বা পানীয় (চা/কফি/কোল্ডড্রিংকস) খাওয়া যাবে না।
© এই দুই ঘণ্টা সময় বসে বিশ্রাম নিতে হবে। কোনো হাঁটাহাঁটি বা হার্ডওয়ার্ক বা শারীরিক পরিশ্রম করা যাবে না।
৩. ওষুধের নির্দেশনা:
✓ আপনি যদি ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো রোগের জন্য ওষুধ সেবন করেন, তবে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। বিশেষ করে, ইনসুলিন বা গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ পরীক্ষার ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
✓ কিছু ওষুধ, যেমন স্টেরয়েড, বিটা-ব্লকারস, ডায়ুরেটিক্স (মূত্রবর্ধক ওষুধ), অথবা হরমোনজনিত ওষুধের ব্যবহার গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরীক্ষা করার আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে ওষুধ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
৪. শারীরিক কার্যক্রম ও বিশ্রাম:
✓পরীক্ষার আগের দিন অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, যেমন কঠিন ব্যায়াম বা মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক চাপ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা প্রভাবিত করতে পারে।
✓ স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম যেমন হাঁটা, সাধারণ কাজ করা যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত কষ্টসাধ্য ব্যায়াম করা উচিত নয়।
৫. ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার:
✓ ওজিটিটি পরীক্ষার আগে ধূমপান, তামাক সেবন বা অ্যালকোহল পান করা নিষেধ। এই পদার্থগুলো শরীরে গ্লুকোজের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং পরীক্ষার ফলাফল বিকৃত হতে পারে।
✓ পরীক্ষার আগের দিন থেকে ধূমপান এবং অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা উচিত।
৬. অসুস্থতার ক্ষেত্রে পরীক্ষা বিলম্ব করা:
✓ যদি আপনি পরীক্ষার দিন কোনো ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় ভোগেন, যেমন জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনো সংক্রমণ, তাহলে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া উচিত।
✓ অসুস্থতার কারণে শরীরের গ্লুকোজ প্রক্রিয়াকরণ বদলে যেতে পারে, যা পরীক্ষার ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
৭. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা:
✓ পরীক্ষার আগের রাত পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম ঘুম বা বিশ্রামের অভাব গ্লুকোজের মাত্রা এবং শরীরের মেটাবলিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই প্রস্তুতিগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে ওজিটিটি (OGTT) পরীক্ষার ফলাফল সঠিক এবং নির্ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
জনস্বার্থে: জামালপুর ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতাল।