05/11/2021
করোনা ভাইরাস প্রকোপে গর্ভবতী মায়ের প্রতি নির্দেশনাঃ
গর্ভবতী নারীর ওপর করোনা ভাইরাসের প্রভাব কেমন?
সাধারণত গর্ভবতী নারীর করোনা হলে অন্যান্য সাধারণ লোকের মতই লক্ষণ দেখা দেয়। খুব বেশি কিছু পার্থক্য হয়না। তবে যেহেতু ভাইরাসটি নতুন, তাই এটি আপনার শরীরে আসলে কী প্রভাব ফেলে, তা এখনো পরিস্কার না। ধারণা করা যায়, সন্তানসম্ভবারাও অন্যদের মতই মাঝারি ধরণের ঠান্ডা জ্বর কাশি ইত্যাদি উপসর্গে ভুগবেন। খুব বেশি খারাপ অবস্থা, যেমন নিউমোনিয়ার মত শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি হয় সাধারণত যারা বয়োবৃদ্ধ, তাদের। গর্ভবতী মায়ের যদি শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা থেকে থাকে, তবে করোনার প্রভাবে তার অবস্থা মারাত্মক হবার সম্ভবনা রয়েছে। মনে রাখতে হবে, একজন সন্তানসম্ভবা মায়ের করোনায় আক্রান্ত হবার ঝুঁকি একজন সাধারণ নারীর চেয়ে বেশি।
মায়ের করোনা হলে কি গর্ভস্থ সন্তানের ওপর কোন প্রভাব পড়বে?
মায়ের করোনা হলে গর্ভের সন্তানের করোনা হবেই কি না বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন চিকিৎসকরা। তবে এটি বলা যায় যে, সম্ভবত করোনার কারণে মিসক্যারেজ বা গর্ভপাতের সম্ভাবনা নেই। এমনকি ভাইরাসটি গর্ভস্থ সন্তানের দেহে ছড়িয়ে পড়বেই, এমনও না।
একজন গর্ভবতী কীভাবে করোনা থেকে রক্ষা পেতে পারেন?
এর একমাত্র উপায় বাইরে থেকে আসামাত্র খুব ভালভাবে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করা, এতে সংক্রমনের ঝুঁকি কিছুটা কমবে।
গর্ভবতী নারীকে করোনা ভাইরাস ইস্যুতে ‘ভালনারেবল গ্রুপে’র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর কারণ কী?
এর মানে হল গর্ভবতী নারীকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সব ধরণের সামাজিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার জন্য। তবে গর্ভবতীর করোনা হলেই যে তা সবসময় মারাত্মক হয়ে উঠবে, এমন নয়।
গর্ভবতী মায়েদের কি এখন বাইরে কাজে যাওয়া ঠিক হবে?
যদি ঘরে বসে অফিস করার উপায় থাকে, তবে অবশ্যই সেটিই করা উচিত। যদি সেটি সম্ভব না হয়, তবে কর্মক্ষেত্রে যতটা সম্ভব লোকজনের সংশ্রব এড়িয়ে চলতে হবে। অফিসের সাথে কথা বলে কাজের সময় কমিয়ে আনা যেতে পারে।
করোনা ভাইরাসের লক্ষণ কী?
করোনা ভাইরাস আক্রমণের লক্ষণ হল
– শরীরে উচ্চ তাপমাত্রাসহ জ্বর
– কাশি
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আপনার চিকিৎসকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করুন।
যদি গর্ভবতী করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হন, তবে সন্তান জন্মের পর বাচ্চারও কি করোনার পরীক্ষা করাতে হবে?
হ্যাঁ, সন্তান জন্মের সময় যদি মায়ের করোনা হয়ে থাকে তবে নবজাতকেরও করোনা সংক্রমের পরীক্ষা করাতে হবে।
প্রসূতির যদি করোনা থেকে থাকে, তবে কি সন্তানকে কাছে রাখতে পারবেন?
হ্যাঁ, যদি মা মনে করেন এবং বাচ্চাকে যদি হাসপাতালের নিওনাটাল কেয়ারে রাখতে না হয়, তবে বাচ্চা মায়ের কাছেই থাকতে পারে। চীনের করোনা ভাইরাসের সময় কিছু রিপোর্টে পরামর্শ দেয়া হয়েছে নবজাতককে করোনা আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে ১৪ দিন আলাদা রাখার। তবে এটি অপ্রয়োজনীয়। কারণ এতে সন্তানের মায়ের দুধ পেতে এবং মায়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি হতে সমস্যা হবে।
করোনা আক্রান্ত মা কি সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন?
হ্যাঁ পারবেন, এখন পর্যন্ত এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে করোনা শিশুর ভেতরে সংক্রমিত হয়। বরং মায়ের বুকের দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং করোনা থেকেও তাকে রক্ষা করবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু সাবধানতা চাই। সেগুলো হল-
– বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর আগে হাত ভাল করে ধুয়ে নিয়ে তাকে স্পর্শ করুন। ব্রেস্ট পাম্প ও বোতল দরকার হলে সেগুলো ভাল করে জীবানুমুক্ত করে নিন।
– দুধ খাওয়ানোর সময় চেষ্টা করুন কাশি বা হাঁচি না দিতে।
– সম্ভব হলে একটা মাস্ক পরে নিয়ে দুধ খাওয়ান।
– সবচেয়ে ভাল উপায় করোনা আক্রান্ত মা যদি ব্রেস্ট পাম্প দিয়ে দুধ বের করে দেন এবং অন্য কেউ যদি সেটা খাইয়ে দেয়। প্রতিবার খাওয়ানোর পর পাম্প ও বোতল ভাল করে ধুয়ে রাখবেন।
সূত্রঃ ফেমিনিস্ট ফ্যাক্টর