28/11/2022
১ম বর্ষের সিলেবাস অনুযায়ী
প্রশ্নঃ ২.৩৬ একোনাইট ন্যাপিল্যাস এ মৃত্যুভয় লক্ষণ লেখ।
উত্তরঃ
মৃত্যুভয় হয়।মৃত্যু সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বানী করে। মৃত্যুর সময় নির্দিষ্ট করে বলে। রোগী আত্মীয়-স্বজদের অস্থির করে তোলে। শিশুরা মাকে দূরে যেতে দেয় না।
প্রশ্নঃ ২.৩৭ ”মৃত্যুভয় ও অস্থিরতা” একোনাইটের রোগীর আপনজনকে আরও অস্থির করে তোলে- আলোচনা কর।
উত্তরঃ
হঠাৎ করে রোগলক্ষণ দেখা দেয়। দেখেতে দেখতে রোগ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। রোগী অস্থির হয়ে ওঠে। অস্থিরতায় রোগী ছটফট করতে থাকে। মনে হয় এখনই প্রাণ বাহির হইয়া যাইবে। হৃদপিন্ডের ক্রিয়া দ্রæত চলতে থাকে । রোগী মনে করে মৃত্যু অনিবার্য। রোগী মনে করে সে কিছুতেই বাঁচবে না। রোগী মৃত্যু সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বানী করে। অস্থিরতা, ছটফটানি, উৎকন্ঠা ও মৃত্যুভয়, হতাশা, অশুভ ভতিষ্যৎ বানী প্রভৃতির মাধ্যমে রোগীর আপনজনকে অস্থির করে তোলে।
প্রশ্নঃ ২.৩৮ একোনাইটের প্রদাহ ও প্রদাহিক জ্বরের লক্ষণ লেখ।
উত্তর ঃ
যে কো পীড়ার প্রাথমিক অবস্থায় একোনাইট উপকারী। স্নায়ুশূল বেদনা, বাত বেদনা, মস্তিস্কের প্রদাহিক অবস্থা ইত্যাদি যে কোন বেদনাই হোক না কেন তাহাতে যদি ছটফটানি, প্রবল পিপাসা ও ভয় থাকে তাহা হইলে একানাইটের ক্রিয়া অব্যর্থ। আক্রান্ত স্থান স্পর্শ করা যায় না, কাটিয়া ছিড়িয়া ফেলার ন্যায় বেদনা একানাইটের লক্ষণ। প্রদাহিক জ¦রেও ইহা উপকারী। প্রদাহের মধ্যে অর্থাৎ যতক্ষণ প্রদাহ থাকে সেই সময়ের মধ্যে একোনাইট মন্ত্রশক্তিবৎ কার্যকরী।
প্রশ্নঃ ২.৩৯ একোনাইটের বৃদ্ধি ও উপশম কখন হয়?
উত্তরঃ
রোগবৃদ্ধিঃ সন্ধায়, রাতে বিছানা হইতে উঠিলে, গরম ঘরে, আক্রান্ত পার্শে^ শয়ন করলে, ভয় পাইলে।
উপশমঃ মুক্ত বাতাসে।
প্রশ্নঃ ২.৪০ একোনাইটের কাশির লক্ষণ অথবা ঘুংড়ি কাশির (Croup) লক্ষণ লিখ।
উত্তরঃ
১) অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম উত্তর পশ্চিমের বাতাস লাগিয়া কাশি।
২) কাশিতে দম আটকাইয়া যাইবার উপক্রম হইয়া রোগীর ঘুম ভাঙ্গিয়া যায়।
৩) শিশু কাশবার কালে গলা চাপিয়া ধরে।
৪) শুকনো খসখসে কাশি, অতিশয় শ্বাস কষ্ট, রাতে এবং মাঝ রাতে বাড়ে।
৫) কাশির সহিত স্বর ভঙ্গ, কাশির সময়ে কুকুরের ডাকের ন্যায় শব্দ।
প্রশ্নঃ ২.৪১ ভয়জনিত পীড়ায় একোনাইটের লক্ষণ বর্ণনা কর।
উত্তরঃ
ভয়জনিত পীড়ায় একোনাইটের নির্দিষ্ট ঔষধ। ভয় পাইয়া মূর্ছা যাওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, গর্ভস্রাব, উদারাময়, কলেরা, কাঁপুনি, মাথাঘোরা, রজঃবোধ, প্রভৃতি হইলে একোনাইট ব্যবহার্য। ভয়জনিত পীড়ায় ইগ্নেশিয়া, ওপিয়াম, ভিরেট্রাম প্রভৃতি ঔষধগুলি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই পীড়ায় একোনাইটের বিশেষ লক্ষণসমূহ বর্তমান থাকলে এবং তৎসঙ্গে যদি শুস্ক ঠান্ডা বাতাস লাগিয়া পীড়ার উৎপত্তি হইয়াছে বুঝিতে পারা যায় তবে একোনাইটের অব্যর্থ ফল পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ ২.৪২ একোনাইটের বক্ষ পীড়ার লক্ষণ (প্লুরিসি লক্ষণ) লেখ।
উত্তরঃ
ফুসফুসের বেষ্টনী প্রদাহে অতি প্রারম্ভিক অবস্থায় অর্থাৎ কোন প্রকার রস ক্ষরণের পূর্বে বক্ষস্থলের উভয়পাশে সূচীভেদ, শীত ও পরে জ¦ালাপোড়া, জ¦রোত্তাপ লক্ষণ থাকলে, ঘাম বন্ধ হওয়া বা নির্মল বায়ুর অভাব জনিত কারণে রোগের উৎপত্তি হলে একোনাইট ব্যবহার্য। ইহাতে খোচা মারার মত ব্যাথা সবসময় থকে। যন্ত্রনায় রোগী স্থির থাকতে পারে না, ছটফট করতে থাকে, ভয় পায় ও প্রচন্ড পিপাসা লাগে।
প্রশ্নঃ ২.৪৩ একোনাইটের সর্দি লক্ষণ লেখ।
উত্তরঃ
তরুন সর্দিতে, নাসিকার শ্লৈশ্মিক ঝিল্লির শুস্কতা, উত্তাপ, বায়ুতে দপদপকর প্রচন্ড শীরপীড়া, বার বার হাঁচি, সারা শরীরের পেশীতে সামান্য ব্যাথা, এজন্য হাঁচি দেওয়ার সময় বুক ধরিয়া রাখে। গা জ¦রভাব, নাক দিয়ে গরম তরল স্রাব নৃঃসৃত হয়। অসময়ে ঠান্ডা লাগিয়া সর্দির সাথে ভীষন মাথাব্যাথা, অস্থিরতা ও হাচি থাকলে অথবা শুস্ক বাতাসে ঘাম বন্ধ হয়ে সর্দি হলে একোনাইট বিশেষ উপযোগী।