28/03/2023
শিশুর মানসিক বিকাশের ভাবনা
শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের মাধ্যমেই গড়ে ওঠবে সময়ের নতুন বিশ্ব। তাই বিশ্ব শিশুকে স্নেহ-মমতা ও আদর-যত্ন দিয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছে। যাতে তারা প্রকৃত মানুষ ও সুনাগরিক হয়ে, দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করতে পারে।
এসব শপথ বা নীতি বাক্য বলি ও শুনি……
পরক্ষণে- খবরের পাতায় ও গণমাধ্যমে চোখ বুলালে দেখা যায়, আমাদের দেশে বর্তমানে শিশু নির্যাতনের হার অনেক বেড়ে গেছে। দারিদ্র্যপীড়িত অনেক শিশুই লেখাপড়া ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কাজ করতে গিয়ে তারা অনেক সময় গৃহকর্ত্রী বা অন্যদের হাতে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়। এদের মধ্যে অনেকে আবার মারা যাওয়ার সংবাদও চোখে পড়ে।
এরকম হওয়ার পেছনে পরিবার ,সমাজ ও দেশের সকল আভিবাবকদের দ্বায়ি নিতে হবে।
জেমস বেডউইন, ঔপন্যাসিক- “বড়দের কথা শোনার ক্ষেত্রে শিশুরা খুব দক্ষ নয়, তবে বড়দের অনুসরণ করার ক্ষেত্রে তারা কখনো ব্যর্থ হয় না”
কারণ- আপনার,পরিবার, সমাজের চিন্তা চেতনা , অভ্যাস, আচরণ,অভিমত দিয়ে আপনাদের সন্তানকে প্রভাবিত করেছে । তাই বড় হয়ে তারা এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকে ।
সকলে নিজের পরিবার বা গ্রামের দিকে খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন এখনো গ্রামে শতকরা ৮৪ ভাগ পরিবার নিজেদের সন্তানদের আদেশ-উপদেশ ও শাসনের নামে গাল-মন্দ ,মার–ধর, ও শ্বাশাতে থাকে । এসব দেখতে দেখতে আপনাদের মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে পড়ে । তাই চিন্তা-চেতনা এবং মানসিকতা নষ্ট হয়ে যায়। অন্যকে অপমান করা, ছোট করা, অন্যের দূর্বলতা ও অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়া ইত্যাদি কাজগুলি করে সমাজ ও জাতিকে কুলসিত করে ।
আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুদের মানসিক বিকাশ না ঘটলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সেই অন্ধকার সমাজে শুধু অকল্যাণ বয়ে আনে। অন্ধকার সমাজে মারামারি, কাটাকাটি, খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি আরও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে থাকে। দুঃখের বিষয় ধর্মীয় অনুশাসন কি তা তারা জানেনা ।
সুতরাং সাবধান ………….
অবশ্যই আপনার সন্তানের লেখার চিন্তা আপনার …
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন-“প্রতিটি শিশু এই বার্তা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে যে, স্রষ্টা এখনও মানুষের প্রতি আস্থা হারান নি” ।
সন্তানের উপর আস্থা রেখে আদর, সোহাগ ও স্নেহ-মমতা,ভালোবাসা, নৈতিক আচরণ দিয়ে প্রভাবিত হলে অবশ্যই আলোর পথে ধাবিত হবে। আজ সমাজে চোখে পড়ে –শিক্ষিত সমাজের মানুষই ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চলে ।
এজন্যই বলা হয় -আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। আজ যারা শিশু, কাল তারাই বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে। আজ যারা বিখ্যাত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, একদিন তারাও শিশু ছিলেন। তাই শিশুদের নিয়ে তাদের রয়েছে নানা ভাবনা।
শিশুদের নিয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের কিছু ভাবনা -
“সমাজ কীভাবে শিশুদের প্রতি আচরণ করে তার মধ্য দিয়ে সমাজের চেহারা ফুটে ওঠে”- নেলসন ম্যান্ডেলা, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট।
“শিশুরা হচ্ছে এমন একপ্রকার প্রাণী, যারা নিজেরা নিজেদের জগত তৈরি করে”- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
“একটি শিশু আগামীকাল কী হবে আমরা তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, অথচ আমরা ভুলে যাই সে আজকেও কেউ একজন”- শিল্পী স্টেসিয়া টসচার।
নৃবিজ্ঞানী মার্গারেট মিড- “শিশুদের শিক্ষা দেয়া উচিত যে তারা কীভাবে চিন্তা করবে, কী চিন্তা করবে সেটা নয়”।
“শিশুরা হচ্ছে বাগানের কাদা মাটির মত। তাদেরকে খুব সতর্ক ও আদর-সোহাগ দিয়ে যত্ন করতে হবে”- জওহরলাল নেহরু, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
সুতরাং , আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে ।
”করোনা মহামারীতে শিশুদের সাথে ভালো ব্যবহার আপনাকে একটা ভালো দিন উপহার দেবে”।
লেখাঃ- তানভীরুল হক তকী
বি.এইচ.এম.এস- ২য় বর্ষ
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।