09/05/2026
#বিসিএস_অথবা_মৃত্যু-৫
যারা বিসিএস প্রস্তুতিতে একেবারেই নতুন এবং যারা বারবার পরীক্ষা দিয়েও প্রিলি উত্তীর্ণ হতে পারছেন না তাদের জন্য আমার এই সিরিজের পোস্টগুলো হতে পারে জীবনরক্ষাকারী মহৌষধ।
গত পর্বে আমরা বাংলা ব্যাকরণ শুরু করেছিলাম।এই পোস্টেও থাকছে বাংলা ব্যাকরণ নিয়ে আলোচনা।
বাংলা ব্যাকরণের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ টপিক যেগুলো থেকে প্রশ্ন আসেই,সেগুলো হলো-
✅সমাস
✅শব্দ,পদ,ধ্বনি,বর্ণ
✅প্রত্যয়
✅বাগধারা
✅বাক্য,বাক্য সংকোচন
✅সন্ধি
✅পরিভাষা,সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ,
✅উপসর্গ
✅বচন,লিঙ্গ,পুরুষ
✅প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ
✅কারক
✅বিরাম চিহ্ন,ণ-ত্ব,ষ-ত্ব বিধান
আজকের পোস্টে সমাস দিয়ে শুরু করি।সমাস থেকে সাধারণত একটা সমস্তপদ দিয়ে সেটা কোন সমাস সেটা চিহ্নিত করতে বলে।যেমন-"হাট-বাজার"এটা কোন সমাস?অনেকেই অনেক আগে পড়েছেন।এখন কিছুই মনে নেই।আজকে এক পোস্টে সব ক্লিয়ার করে দিবো।
১।দ্বন্দ্ব সমাস-আমার ধারণা সব ভুলে গেলেও দ্বন্দ্ব সমাস সবার মনে আছে।তাও একটু বলে দেই।এখানে প্রত্যেকটা সমস্যমান পদের সমান গুরুত্ব থাকে।
যেমন-মা-বাবা,চা-বিস্কুট,আয়-ব্যয়,দা-কুমড়া।
মানে আপনি কোনো একটা পদকে ছোট করতে পারবেন না,আবার কোনো একটা পদকে বড় করতে পারবেন না।
২।দ্বিগু সমাস-সংখ্যা দেখেই চেনা যায় দ্বিগু।সংখ্যাবাচক ও একইসাথে মিলনার্থক কিছু পেলেই চোখ বুজে দ্বিগু দাগিয়ে দিবেন।
যেমন:চৌরাস্তা-চার রাস্তার সমাহার।এখানে সংখ্যা আছে(৪) আবার মিলনও আছে(৪ রাস্তা যেখানে মিলিত হয়েছে)
৩।বহুব্রীহি-এটা পুরো দ্বন্দ্ব সমাসের উল্টো।ওখানে যেমন দুই পদই সমান আর এখানে কোনো পদই প্রধান না।মানে সমস্তপদের অর্থ হবে পুরো আলাদা কিছু।যেমন-গায়ে হলুদ।এখানে "গায়ে"-র অর্থও বোঝায় না,হলুদের অর্থও বোঝায় না।বোঝায় একটা অনুষ্ঠানকে যেখানে গায়ে হলুদ দেয়া হয়।
এর মধ্যে আবার ভাগ আছে।
সমানাধিকরণ-নাম সমান হলেও তারা আসলে আলাদা।মানে পূর্বপদ বিশেষণ আর পরপদ বিশেষ্য।যেমন-নীলকণ্ঠ।এখানে নীল বিশেষণ আর কণ্ঠ বিশেষ্য।
ব্যাধিকরণ-দুইটাই বিশেষ্য।যেমন-ধামাধরা।
ব্যতিহার-দেখলেই চেনা যায়।গালাগালি,হাতাহাতি,চুলাচুলি।
৪।অব্যয়ীভাব-এটা চেনার একটাই উপায়।এখানে সমস্তপদে উপসর্গ থাকবে।যেমন-উপগ্রহ,প্রতিবাদ।
৫।কর্মধারয় সমাস-এখানে পরপদের অর্থ প্রধান।যেমন-সুন্দরলতা(এখানে লতাই মেইন বস্তু যাকে সুন্দর বলা হয়েছে।এখন কর্মধারয় এর মধ্যে আবার ভাগ আছে।সেগুলো চেনাও কোনো ব্যাপার না।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়-নামেই বোঝা যায়।মাঝের পদটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।যেমন-সিং চিহ্নিত আসন=সিংহাসন।এখানে চিহ্নিত অর্থাৎ মাঝের পদটি লুপ্ত হয়েছে।
উপমান কর্মধারয়-এখানে একটা মানদণ্ড থাকবে যেহেতু নামই উপমান।উদাহরণ-তুষারের ন্যায় শুভ্র-তুষারশুভ্র।এখানে মানদণ্ডটি হচ্ছে শুভ্র/সাদা।
উপমিত-এখানে তুলনা করা হয় কিন্তু মানদণ্ড উল্লেখ করা থাকে না।যেমন-মুখ চন্দ্রের ন্যায়=চন্দ্রমুখ।এখানে মুখ চন্দ্রের মতো হতে হবে কিন্তু চন্দ্রের মতো গোল/উজ্জ্বল হতে হবে সেই মানদণ্ডের উল্লেখ নেই।আগেরটায় যেমন ছিলো তুষার এর মতো সাদা।
রূপক-দেখলেই চেনা যায়।মনমাঝি=মন রূপ মাঝি।
৬।তৎপুরুষ-এটা বোঝার জন্য বিভক্তি বুঝতে হবে।আগে বিভক্তি পড়ে আসেন এটা পড়ার আগে।কোনটা দ্বিতীয়া বিভক্তি,কোনটা তৃতীয়া এটা বুঝলেই এই সমাস নিয়ে কোনো সমস্যা থাকবে না।
৭।ঝাড়া মুখস্থ করে ফেলবেন যেগুলো-প্রাদি সমাস,নিত্যসমান,নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি,সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি,নঞ তৎপুরুষ,নঞ বহুব্রীহি।
আর যেগুলোর পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না তারাই অলুক সমাস।যেমন-মামার বাড়ি।
আজ এ পর্যন্তই।পরের পর্বে আবার কথা হবে।
ডাঃ রুপা দাস পলিন
এমবিবিএস(ঢাকা মেডিকেল কলেজ)
বিসিএস(স্বাস্থ্য)
৪৮তম স্পেশাল বিসিএস(কর্মরত)
৪৬তম জেনারেল বিসিএস(সুপারিশপ্রাপ্ত)
বিশেষ দ্রষ্টব্য - এখানে মৃত্যু বলতে বিসিএস কেন্দ্রিক স্বপ্নের অপমৃত্যু বোঝানো হয়েছে।
#বিসিএস