04/08/2025
Narcissistic Personality Disorder
কিছুদিন আগে এক ভদ্রলোকের সাথে আমার আলাপ হল আমার একটি কাজের সুবাদে তার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। লক্ষ্য করলাম বিষয়টি নিয়েই যতবার তার সঙ্গে কথা বলি না কেন, বিষয়টিকে তিনি এমন ভাবে উপস্থাপন করেন আমার কোন কিছুই যেন তার মনের মত হচ্ছে না। কিন্তু তিনি যা বলছেন তার সবকিছুই সঠিক। মজার বিষয় হচ্ছে, তার কথা থেকে বুঝতে পারলাম শুধু আমি নই, তার মতে, বেশিরভাগ মনোবিজ্ঞানী বাংলাদেশের, তারা নাকি তেমন কিছুই জানেন না।
তিনি মনোবিজ্ঞানের অনেক গভীর বিষয়ে যেমন জানে তার মতো করে খুব কম মানুষই মনো বিজ্ঞান বিষয় সম্পর্কে নাকি জানেন। এমনকি রাজনৈতিক জ্ঞান, ইংরেজি গ্রামার, এবং বাংলা ব্যাকরণে তার মতো করে জানা লোকের সংখ্যা নাকি খুবই কম আছে। আরো মজার বিষয় হল, তিনি দাবি করেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের করেসপন্ডেন্স লেটারেও নাকি একটি শুদ্ধ চিঠি উনার চোখে পড়েনি।
এই ব্যক্তির সাথে কাজ করতে যেয়ে আমি প্রথমে মানসিকভাবে অনেকটা চাপ অনুভব করেছিলাম। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার সাথে কাজের সুবাদে বিভিন্ন কথোপকথন থেকে বুঝলাম আসলে তিনি একজন নার্সিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার সম্পন্ন ব্যক্তি।
আমাদের সমাজে আমাদের আশেপাশে আমরা এই ধরনের স্বভাবসুলভ অনেক ব্যক্তিকে দেখতে পাই।
DSM 5 (Diagnostic Statistical Manual of Mental Disorders 5th edition) অনুযায়ী এটি এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি নিজের গুরুত্ব অতিরঞ্জিত ভাবে দেখে অতিরিক্ত প্রশংসা চায় এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সহানুভূতিশীল হয় না।
ডিএসএম অনুযায়ী এই রোগের লক্ষণসমূহ,
১ নিজেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা।
২ সীমাহীন সাফল্য, ক্ষমতা, সৌন্দর্য বা আদর্শ প্রেম নিয়ে কল্পনা করা।
৩ নিজেকে বিশেষ মনে করা এবং কেবল উচ্চ মর্যাদার মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাওয়া।
৪ অতিরিক্ত প্রশংসা চাহিদা।
৫ অন্যের অনুভূতি বোঝার, বা সহানুভূতি দেখানোর অক্ষমতা।
৬ অন্যদের কাজে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা।
৭ অহংকারী, দাম্ভিক, বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ।
একজন ব্যক্তির মধ্যে উপরের লক্ষণ গুলোর মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি লক্ষণ যদি দেখতে পান তবে তিনি একজন নারসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার সম্পন্ন ব্যক্তি।
সাধারণত পারিবারিক ইতিহাসে ব্যক্তিত্বের সমস্যা থাকলে কিংবা শৈশবের উপেক্ষা, অপমান বা মানসিক অবহেলা থাকলে ব্যক্তি নার্সিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।
তবে ব্যক্তি যদি তার সমস্যা বুঝতে পারে সে ক্ষেত্রে সাইকো থেরাপি একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।
এক্ষেত্রে সিভিটি( কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির) মাধ্যমে ব্যক্তিকে অন্যদের বোঝা ও সহানুভূতিশীল আচরণ শেখানো হয়। তার ভেতরের negative core belief বা ভুল মানসিক বিশ্বাস পরিবর্তিত হয়ে তার মধ্যে positive core belief গড়ে তুলে।
শারমিন রহমান
সাইকোলজিস্ট
দর্পণ কাউন্সেলিং এন্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সেন্টার
বনানী ডিওএইচএস,
ঢাকা