Prof. Dr. Mobin Khan

Prof. Dr. Mobin Khan

Comments

আসসালাময়লাইকুম স্যার আসা করি আল্লাহ আপনাকে ভাল রেখেছে।আমার বাড়ি লক্ষিপুর গ্রাম কাশিপুর।আমার চাচা আবুল ফজল গাদ্দাফি আপনার কাছ থেকে ২০ বছর আগে লিভারের চিকিৎসা নিয়ে আল্লাহ রহমতে ভাল হয়েছেন।আমার চাচা এক বছর আগে মারা গেছন।সন্মানিত স্যার আপনার কি মনে আছে আমার চাচার কথা?সন্মানিত স্যার আমার চাচা চাচি আম্মা সব সময় আপনার কথা বলত।স্যার আমি একন Hamdard Companite জব করি।এখন ভোলাতে আছি।সময় হয় না আপনার সাথে দেখা করতে।স্যার আমি অনেক দিন থেকে জন্ডিসে ভুগতেছি।ওষুদ খেলে ভাল হয়ে জায় আবার কয়দিন পর আবার জন্ডিস দেখা দেয়।গত ২ মাস আগে সিরাম বিলুরুবিন পরীক্ষা করছিলাম ২ পয়েন্ট ছিল।এখন আমার কাছে মনে হয় আমার জন্ডিস নাই।তবে স্যার আল্লাহ রহমতে HBS Negetive।এখন স্যার আমি কি করতে হবে?স্যার আমি কি এখন কি HBS এর ভ্যাকসিন নিতে পারব।
Chamber opportunity for OPD Doctors,,, Looking specialist Doctor, Sr Consultant of Internal Medicine Cardiology, Pediatrics, Gastroenterology,Nephrology, Neurology, Orthopedics, Hematology and Urology. Interested Doctor can visit our center in any suitable times / send CV @ [email protected] or contact: +8801924129129, +88-02-9631155. Fortune Healthcare Ltd., 23/C, Zigatola, Dhanmondi, Dhaka.

Prof. Mobin Khan Specialist in Liver disease

Operating as usual

Prothom Alo

Hepatitis Day "Virtual roundtable".

২৮ জুলাই 'বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস' উপলক্ষে

ভার্চুয়াল গোলটেবিল

আয়োজনে: প্রথম আলো ও হেপাটোলজি সোসাইটি, ঢাকা বাংলাদেশ

বিষয়: হেপাটাইটিস নির্মূলে আসুন খুঁজি লক্ষ অজানা রোগী

Notice....

[07/06/20]   হেপাটাইটিস এ এবং ই

এতদিন আমরা হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস সম্পর্কে জেনেছি। আজকের পোস্টে আমরা জানতে পারবো হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস সম্পর্কে। হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস লিভারে স্বল্প মেয়াদী লিভার প্রদাহ করে।

‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস যেভাবে ছড়ায়
হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। উক্ত ভাইরাসদ্বয়ের অন্যতম উৎস হল: রাস্তার পাশে ও ফুটপাতে বিক্রয়কৃত শরবত, ফলের রস এবং অন্যান্য পানীয় এবং খোলা অবস্থায় রেখে দেয়া খাবার যেগুলোতে মাছি বসে দূষিত করে ফেলেছে। এছাড়াও, দৈনন্দিন রান্নার কাজে ব্যবহৃত পানি ফুটিয়ে ব্যবহার না করলে ও বাজার থেকে কেনা শাক-সবজি ও ফলমূল ভালোমত না ধুয়ে নিলে হেপাটাইটিস ‘এ’ বা হেপাটাইটিস ‘ই’ হতে পারে। বাংলাদেশে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন জায়গায় খাবার পানি সংকট দেখা দেয় এবং এ সময় হেপাটাইটিস ‘ই’-এর মহামারী দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাসের গঠন

ভাইরাসের সাধারণ গঠন হল: এটির সারফেস তথা বাইরের দিকে একটি প্রোটিন নির্মিত ক্যাপসিড থাকে। কোন কোন ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাইরে প্রোটিন, ফসফোলিপিড ও গøাইকোলিপিড নির্মিত আরেকটি আবরণী থাকে, যাকে বলে এনভেলোপ। ভাইরাসের ভিতরের অংশকে বলে কোর। কোর অংশে এক বা একাধিক প্রোটিন এবং ভাইরাসের জেনেটিক তথ্য ধারণকারী নিউক্লিয়িক এসিড থাকে। ভাইরাসের প্রকারভেদে উক্ত নিউক্লিয়িক এসিড RNA বা DNA হতে পারে। হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস হল RNA ভাইরাস।

‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস-এর জীবনচক্র

‘এ’ এবং ‘ই’ভাইরাস মানবদেহের প্রবেশ করার পর রক্তের মাধ্যমে লিভার কোষে প্রবেশ করে। উক্ত ভাইরাসের বহিরাবরণীতে এমন কতগুলো অণু আছে যা লিভার কোষের ঝিল্লীতে অবস্থিত সুনির্দিষ্ট কিছু অনুর সাথে পরিপূরকভাবে লেগে যায়। এরপর কিছু বিশেষ প্রক্রিয়ায় উক্ত ভাইরাস কোষের ভিতরে প্রবেশ করে। কোষে প্রবেশ করার পর ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থিত RNA লিভার কোষের সাইটোপ্লাজমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর লিভারের ভিতরের RNA তৈরীর উপাদান এবং প্রোটিন তৈরীর উপাদান ব্যবহার করে উক্ত ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। যথেষ্ট পরিমাণ ভাইরাসের RNA তৈরী হলে এগুলো সংশ্লিষ্ট কোর (কেন্দ্র) ও ক্যাপসিড প্রোটিনের সমন্বয়ে নতুন ভাইরাস তৈরী করে এবং লিভার কোষ থেকে বেরিয়ে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে ভাইরাস অন্যান্য লিভারকোষেকে আক্রমণ করে।
হেপাটাইটিসের বিরুদ্ধে মানবদেহের প্রতিরক্ষা এবং লিভার প্রদাহ

হেপাটাইটিস ভাইরাস লিভারে প্রবেশ করলে মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভাইরাসকে শরীর থেকে দূর করতে এবং মেরে ফেলতে ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্রিয়াশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে ইন্টারফেরন গামা নামক বিশেষায়িত প্রোটিন। শারীরিক এই প্রক্রিয়ায় আক্রান্ত লিভার কোষের চারিদিকে বিভিন্ন প্রকারের শ্বেত রক্ত কণিকা জমা হতে থাকে ও বিভিন্ন অণু নিঃসরণ করতে থাকে।শারীরিক এই প্রক্রিয়াটিকেই বলা হয় ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ। যেহেতু ভাইরাস লিভারে প্রবেশ করে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে সেহেতু উক্ত প্রদাহের কারণে আক্রান্ত লিভার কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। লিভারের ভিতর বিলিরুবিন নামক অণু প্রক্রিয়াজাত হয়, যা লিভার প্রদাহের সময় রক্তে বেরিয়ে আসে এবং ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে লিভার প্রদাহে আক্রান্ত ব্যক্তির চোখ, জিহবা, ত্বক এবং প্রসাব হলুদ হয়। যাকে আমরা জন্ডিস বলি। এছাড়াও এ প্রক্রিয়ায় লিভার কোষের ভিতর ক্রিয়াশীল এনজাইম অখঞ এবং অঝঞ রক্তে বেরিয়ে আসে। লিভার কতটুকু আক্রান্ত হল তা রক্তের উক্ত বিলিরুবিন ও এনজাইমদ্বয় পরিমাপ করার মাধ্যমে বের করা যায়।
আমরা আগেই জেনেছি, হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাস স্বল্পমেয়াদী লিভার প্রদাহ করে। এই ভাইরাসদ্বয় লিভারে প্রবেশের পর দ্রূতগতিতে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে এবং শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও দ্রূত কাজ শুরু করে। এ ভাইরাসদ্বয়ের সাথে লড়াই করতে শরীরে তৈরী ইন্টারফেরন ও অন্যান্য অণুই যথেষ্ট। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেলে এবং স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করলে সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে একা একাই সুস্থ হয়ে ওঠে।

‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস সংক্রান্ত পরিসংখ্যান

পৃথিবীতে একিউট ভাইরাল হেপাটাইটিস-এর আক্রান্ত রোগীদের ৩০ শতাংশ-এর রক্তে হেপাটাইটিস এ ভাইরাস পাওয়া যায় এবং আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৯০ শতাংশ। প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি মানুষ হেপাটাইটিস ই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। এদের একটি অংশের লিভার-এ হেপাটাটিস ই ভাইরাস এত বেশী প্রদাহ করতে সক্ষম হয় যে, তারা ফালমিনেন্ট হেপাটিক ফেইলিওর (তথা লিভারের কার্যকারিতা চ‚ড়ান্তভাবে নষ্ট) হয়ে মৃত্যুবরণ করে। সাধারণত, কমবয়স্ক একাধিকবার গর্ভধারণকারীণী মহিলারা ‘ই’ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে হেপাটিক ফেইলিওর হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে একিউট ভাইরাল হেপাটাইটিসের বেশীরভাগ হয় হেপাটাটিস ই ভাইরাস দ্বারা। একটি গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে ই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ২২.৫ শতাংশ। আরেকটি গবেষণায় বলছে, ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের একিউট ভাইরাল হেপাটাইটিস-এর ক্ষেত্রে উক্ত ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশে ভাইরাল হেপাটাইটিস সারা বছর জুড়ে হয় এবং বিভিন্ন সময়ে মহামারী আকারে দেখা দেয়। বিশেষ করে বন্যা পরবর্তী সময়ে বাস্তুহারা মানুষজনের বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট তৈরী হয়। যা ই ভাইরাস জনিত ভাইরাল হেপাটাইটিসের জন্য দায়ী।
প্রতি বছর ১৩ লক্ষ মানুষ হেপাটাইটিস জনিত কারণে মৃত্যু বরণ করে যার মধ্যে ০.৮% হেপাটাইটিস ‘এ’ জনিত এবং ৩.৩% হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাস জনিত।

রোগের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ

একিউট ভাইরাল হেপাটাইটিস বা স্বল্পমেয়াদী লিভার প্রদাহের প্রধান লক্ষণগুলো হল: জন্ডিস, খাবারে অরুচি, উপরের পেটের ডান দিকে বা মাঝখানে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমি, দুর্বলতা ও জ্বর। এছাড়াও কোন কোন ক্ষেত্রে (বিশেষ করে হেপাটাইটিস ই ভাইরাস আক্রান্ত হলে) লিভার প্রদাহ অনেক বেশী মাত্রায় হতে
পারে। সেক্ষেত্রে অনেক বেশী জন্ডিস, পেটে পানি আসা ও চেতনালোপ জাতীয় লক্ষণ দেখা দেয়। এমনকি প্রদাহের প্রচÐতায় লিভারের কার্যকারিতা চ‚ড়ান্তভাবে নষ্ট হয়ে রোগী মারাও যেতে পারে।

হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ নির্ণয়
সাধারণত একিউট ভাইরাল হেপাটাইটিস রোগের লক্ষণ থেকেই রোগ নির্ণয় করা যায়। রক্তের ঝবৎঁস নরষরৎঁনরহ, অষধহরহব ধসরহড়ঃৎধহংভবৎধংব (অখঞ), অংঢ়ধৎঃধঃব ধসরহড়ঃৎধহংভবৎধংব (অঝঞ) ও চৎড়ঃযৎড়সনরহব ঃরসব (চঞ) পরীক্ষাগুলো করে লিভার প্রদাহের মাত্রা নিরূপণ করা হয়। হেপাটাইটিস কোন ভাইরাস দিয়ে হলো তা নির্ণয়ের জন্য রক্তে সংশ্লিষ্ট ভাইরাস থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন অণু এবং উক্ত ভাইরাসের বিপরীতে শরীরের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমসৃষ্ট বিভিন্ন অণুর উপস্থিতি ও মাত্রা নির্ণয় করা হয়। এই সুনির্দিষ্ট অণুগুলোকে ভাইরাল মার্কার বলে। হেপাটাইটিস এ এবং ই -এর ক্ষেত্রে এই মার্কারগুলো হল, যথাক্রমে অহঃর ঐঅঠ ওমগ এবং অহঃর ঐঊঠ ওমগ.

অন্যদিকে হেপাটাইটিস এ এবং ই-এর উপস্থিতি নির্ণয় করার পরীক্ষা যথাক্রমে অহঃর ঐঅঠ ওমগ এবং অহঃর ঐঊঠ ওমগ প্রায় প্রতিটি জেলা শহরেই কম খরচে করা যাচ্ছে। হেপাটাইটিস রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব স¤পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়লে উপরোক্ত পরীক্ষাগুলোর খরচ আরও কমে আসবে।

হেপাটাইটিহ ‘এ’এবং ‘ই’ চিকিৎসা এবং বাংলাদেশের অবস্থা
আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি, হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাটিস ই ভাইরাস জনিত লিভার প্রদাহ বিশ্রামে থাকলে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে রোগী সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যে একা একাই সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে, কোন কোন সময় প্রদাহের তীব্রতা বেশী হলে হাসপাতালে ভর্তি থেকে সাপোর্টিভ চিকিৎসা নেয়া লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে থেকে চিকিৎসা নেয়ার প্রয়োজন হয়।

হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ প্রতিরোধ
হেপাটাইটিস এ ও ই থেকে বেঁচে থাকার মূল উপায় হল দূষিত পানির ব্যবহার পরিহার করা। গ্রামে নলকুপ, পুকুর ও নদীর পানি ফুঁটিয়ে ব্যবহার ও পান করতে হবে। শহরে ওয়াসা সরবরাহকৃত টেপের পানি ভালমত ফুটিয়ে ব্যবহার করতে হবে এবং গ্রহণ করতে হবে। সব জায়গায় স্যানিটারী ল্যাট্রিনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং মলমূত্র ত্যাগের পর সাবান দিয়ে ভালমত হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। ফুটপাথে ও রাস্তার ধারে যে ফলের শরবত, আখের রস ও অন্যান্য পানীয় পাওয়া যায় তা গ্রহন থেকে বিরত থাকতে হবে।

[07/03/20]   আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হল হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস জনিত প্রদাহের লক্ষণ, হেপাটাইটিস ‘সি’ নির্ণয় এবং চিকিৎসা সম্পর্কে

হেপাটাইটিস ‘সি’ রোগের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ

আমরা ইতমধ্যে জেনেছি যে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস মূলত দীর্ঘমেয়াদী লিভার প্রদাহ করে। ক্রনিক ভাইরাল হেপাটাইটিস তথা দীর্ঘমেয়াদী লিভার প্রদাহে ভাইরাস সুপ্ত অবস্থায় লিভারের কোষে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে, ফলে কোন সুস্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া যায় না। কারও কারও ক্ষেত্রে দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব ও পেটের ডানদিকের উপরিভাগে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। কিন্তু, যাদের ক্রনিক ভাইরাল হেপাটাইটিস থেকে লিভার সিরোসিস হয়ে যায় তাদের ক্ষুধামন্দা, পেটের অসুখ, শরীর শুকিয়ে যাওয়া, জন্ডিস, যৌন দুর্বলতা, পেটে পানি আসা, স্মরণশক্তি কমে আসা, ঘুমের অসুবিধে ও চেতনালোপ জাতীয় লক্ষণ দেখা দেয়। লিভার সিরোসিস থেকে লিভার ক্যান্সার হলে শরীরের ওজন আশংকাজনকভাবে হ্রাস পায় এবং পেটে চাকা ও প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়।

‘সি’ ভাইরাস জনিত হেপাটাইটিস নির্ণয়

একিউট হেপাটাইটিস ও ক্রনিক হেপাটাইটিস উভয় ক্ষেত্রেই রক্তের Serum bilirubin, Alanine aminotransferase (ALT), Aspartate aminotransferase (AST) ও Prothrombine time (PT) পরীক্ষাগুলো করে লিভার প্রদাহের মাত্রা নিরূপণ করা হয়। হেপাটাইটিস ‘সি’ এর ক্ষেত্রে Anti HCV IgM মার্কার দেখা হয়। Polymerase Chain Reaction তথা PCR পদ্ধতি আবিষ্কারের পর হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের কার্যবিধি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়ে গিয়েছে। এ পদ্ধতিতে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের RNA পরিমাপ করা হয় যা দিয়ে সহজেই বোঝা যায় যে, লিভারে ভাইরাস বংশবৃদ্ধির কোন পর্যায়ে আছে। বাংলাদেশে এখন উপরোক্ত সবগুলো পরীক্ষাই করা যাচ্ছে যা আমাদের জন্য হেপাটাইটিস চিকিৎসার মাইলফলক।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বড় বড় প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে হেপাটাইটিস ‘সি’-এর মার্কার এবং লিভার প্রদাহের মার্কারগুলো ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে করা যায়। এর মধ্যে HCV RNA পরীক্ষা খরচ একটু বেশী। হেপাটাইটিস ‘সি’ -এর উপস্থিতি নির্ণয় করার জন্য Anti HCV IgM পরীক্ষা প্রায় প্রতিটি জেলা শহরেই কম খরচে করা যাচ্ছে। হেপাটাইটিস রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়লে উপরোক্ত পরীক্ষাগুলোর খরচ আরও কমে আসবে।

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের চিকিৎসা

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস জনিত দীর্ঘমেয়াদী লিভার রোগের চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। বিশ্বায়নের কল্যাণে এবং বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উত্তরোত্তর উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশে বসেই এই চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ তৈরী হয়েছে।

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী প্রদাহ করতে পারে এবং ‘এ’ বা ‘ই’ ভাইরাসের মত একা একাই নির্মূল হয়। বাকীদের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ করে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ রক্তে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের মার্কার Anti HCV Ab পেলে ‘সি’ ভাইরাসের RNA পরীক্ষা করে দেখেন এবং চিকিৎসা শুরু করেন। শুরুতে, হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের চিকিৎসায় হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের ন্যায় ইন্টারফেরন এবং রিবাভিরিন নামক এন্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হত। এই ওষুধ ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশী এবং খরচও বেশী পড়ে। ২০১৫ সাল থেকে অনেকগুলো নতুন এন্টিভাইরাল ওষুধ বাজারজাত হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। যেগুলো মুখে সেবন করা যায় এবং যার সাফল্যের হার প্রায় ৯০ শতাংশ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। এই ওষুধগুলোকে বলা হয় ডাইরেক্ট এক্টিং এন্টিভাইরাল বা ডিএএ। ইতোমধ্যে অনেকগুলো ডাইরেক্ট এক্টিং এন্টিভাইরাল বাজারজাত হয়েছে। যার মধ্যে সফসবুভির, ডাক্লাটাসভির, ভ্যালপাটাসভির এবং লেডিপাসভির ওষুধগুলো বাংলাদেশেই তৈরী হচ্ছে। ফলে তুলনমূলক অনেক কম খরচে দেশেই হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস জনিত লিভার প্রদাহের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে। ‘সি’ ভাইরাসের চিকিৎসায় ইন্টারফেরন প্রয়োগ করলেও প্রায় ৪৮ সপ্তাহ চিকিৎসা নেয়ার প্রয়োজন পড়ত। কিন্তু, নতুন সেবনযোগ্য ওষুধগুলো ২৪ সপ্তাহ ব্যবহারেই যথেষ্ট সফলতা পাওয়া যাচ্ছে।

উপরে আলোচনা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের চিকিৎসায় বিজ্ঞান জগতে প্রভুত উন্নতি সাধিত হয়েছে। সুতরাং আমাদের উচিৎ হেপাটাইটিস ‘সি’ সম্পর্কে সচেতন হওয়া, যাদের হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার রিস্ক আছে সাবধানে থাকা এবং পরীক্ষা করে দেখা। যদি কেউ আক্রান্ত হয় তার উচিৎ দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করে চিকিৎসা শুরু করা যাতে লিভারকে সিরোসিস হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।

[06/30/20]   হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস সাধারণত লিভারে দীর্ঘমেয়াদী রোগ করে। আজকের প্রবন্ধে আমরা হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের সংক্রমন, প্রাদুর্ভাব ও লক্ষণ সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করবো।

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়

হেপাটাইটিস ‘সি’ ছড়ায় রক্তের মাধ্যমে। দূষিত রক্ত গ্রহণ, দূষিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, নাপিত কর্তৃক ক্ষুরে দূষিত ব্লেড ব্যবহার, অপরিশোধিত যন্ত্রপাতি দিয়ে অস্ত্রোপ্রচার ও দাঁতের চিকিৎসা, দূষিথ সূঁচ দিয়ে শরীরে ট্যাটু করলে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস একজন ব্যক্তি থেকে আরেকজন ব্যক্তিকে আক্রান্ত করতে পারে।

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের গঠন

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের এনভেলাপ বিভিন্ন প্রোটিন ও গ্লাইকোপ্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত। এর কোর-এ নিউক্লিয়ার উপাদান হিসেবে আছে RNA। RNA-এর নিউক্লিওটাইডের ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ‘সি’ ভাইরাসকে ছয়টি জেনোটাইপে ভাগ করা হয়: ১ থেকে ৬। এদের আবার অসংখ্য সাবটাইপ আছে।

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস-এর জীবনচক্র

হেপাটাইটিস এ এবং ই ভাইরাসের মতই, ভাইরাস মানবদেহের প্রবেশ করার পর রক্তের মাধ্যমে লিভার কোষে প্রবেশ করে এবং এন্ডোসাইটোসিস নামক বিশেষ প্রক্রিয়ায় উক্ত ভাইরাস কোষের ভিতরে প্রবেশ করে।

কোষে প্রবেশ করার পর ‘সি’ ভাইরাস তার ক্যাপসিড ছেড়ে দেয় এবং কোর-এর অবস্থিত RNA কোষরসে (সাইটোপ্লাজমে) প্রবেশ করে। অতঃপর তা লিভার কোষের সাইটোপ্লাজমে পলিমারেজ এনজাইমের মাধ্যমে RNA -এর কপি তৈরী করে এবং বংশবৃদ্ধি করে।

হেপাটাইটিসের সি-এর বিরুদ্ধে মানবদেহের প্রতিরক্ষা এবং লিভার প্রদাহ

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস লিভার কোষে প্রবেশের পর ইনফ্ল্যামেশন তথা প্রদাহ শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে ‘সি’ ভাইরাস দীর্ঘদিন লিভার কোষে অবস্থান করতে থাকে এবং তুষের আগুনের মত লিভারের প্রদাহ করতে করতে লিভার সিরোসিস নামক জটিলতার দিকে নিয়ে যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে শরীরের উক্ত ভাইরাসের বিপরীতে ইনফ্ল্যামেশন সৃষ্টি করে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তারা ভাইরাস দূর করতে সফলও হয়। হেপাটাইটিস ‘সি’ দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর ১ থেকে ৪ মাসের মধ্যে ভাইরাস মুক্ত হতে পারে। তবে শরীরে এরা ৬ মাসের বেশী থেকে গেলে দীর্ঘমেয়াদী রোগে পরিণত হয়েছে ধরা হয়। তবে হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্ত ১৫ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যক্তির লিভার প্রদাহ ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যে ভাল হয়ে যেতে পারে।

অল্প কিছু মানুষ হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের ন্যায় হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের ক্যারিয়ার দশায় চলে যেতে পারে। কিন্তু, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের কারণে লিভারে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ হতে থাকলে লিভারের কিছু না কিছু গাঠনিক পরিবর্তন চলে আসে। যাদের ক্ষেত্রে গাঠনিক পরিবর্তন অনেক বেশী হয় তাদের লিভার টিস্যুতে ফাইব্রোসিস প্রক্রিয়ায় কোষগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। এ অবস্থাকে বলে লিভার সিরোসিস। কোন কোন ক্ষেত্রে লিভার সিরোসিস থেকে লিভার ক্যান্সারও হতে পারে।

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস সংক্রান্ত পরিসংখ্যান

অনুমিত হিসেব অনুযায়ী পৃথিবীতে বর্তমানে ৩ কোটি ২৫ লক্ষ মানুষ তাদের রক্তে হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাস বহন করছে। তন্মধ্যে ৭১ লক্ষ মানুষ হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস বহন করছে। আনন্দের বিষয় হল ‘সি’-এর প্রাদুর্ভবা পূর্বের হিসেব থেকে কমে উপরোক্ত হিসেব দাড়িয়েছে। এটি হচ্ছে হেপাটাইটিস ভাইরাস সম্পর্কে বৈজ্ঞনিক জ্ঞানের উন্নতি ও জন-সচেতনতা বৃদ্ধির ফসল।

দুঃখজনক হল হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্ত অধিকাংশ ব্যক্তির রক্তে উক্ত ভাইরাসের উপস্থিতি ডায়াগনসিস হয় না। কারণ, আমরা ইতমধ্যে জেনেছি সাধারণ অবস্থায় এই ভাইরাসদ রক্তে থাকলেও কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে, কাউকে রক্ত দিতে গিয়ে বা অন্য কোন কারণে পরীক্ষা করলে উক্ত ভাইরাস ধরা পড়ে। হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত মানুষের মাত্র ২০ শতাংশ তাদের রোগ সম্পর্কে অবগত অর্থাৎ প্রায় ৫৭ লক্ষ মানুষ জানে না যে তাদের রক্তে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস আছে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মাত্র ৯ শতাংশ ‘সি’ ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর রোগ ডায়াগনসিস হয়।

প্রতি বছর ১৩ লক্ষ মানুষ হেপাটাইটিস জনিত কারণে মৃত্যু বরণ করে যার মধ্যে ৩০% হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস জনিত । প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ হেপাটাইটিস ‘সি’-এ আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর মৃত্যুবরণ করছে।

হেপাটাইটিসের উপরোক্ত পরিসংখ্যান-এ আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ অন্যতম অংশীদার। বাংলাদেশে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস-এর প্রাদুর্ভাব নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় প্রায় ০.২ থেকে ১ শতাংশ মানুষ তাদের লিভারে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস বহন করছে।

হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস আমাদের দেশে ৩০ শতাংশ লিভার সিরোসিস এবং ১৭ শতাংশ হেপাটোসেলুলার কারসিনোমা (লিভার ক্যান্সার)-এর রুগীর জন্য দায়ী।

NAFLD/ NASH কি?

ননঅ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)

ননঅ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যেখানে লিভারে প্রচুর ফ্যাট জমা হয়। ননঅ্যালকোহলিক বলার কারণ হল এ অবস্থায় অ্যালকোহল সেবন ছাড়াই লিভারে ফ্যাট জমা হয়। উল্লেখ্য যে, অ্যালকোহল সেবনের কারণেও এক ধরনের লিভার সমস্যা হতে পারে তাকে বলে অ্যাকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। ননঅ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ চিকিৎসা না করালে মারাত্মক কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ননঅ্যালকোহলিক স্টিয়াটোহেপাটাইটিস (NASH)

NAFLD থেকে যখন লিভারে জমা অতিরিক্ত ফ্যাটের কারণে প্রদাহ শুরু হয় এবং তন্তুময় হয়ে উঠে তখন তাকে বলা হয় ন্যাশ। ন্যাশ মাত্রায় বেশী হলে লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারে পরিনত হতে পারে।

NAFLD এবং NASH-এর ব্যপ্তি কেমন?
দুঃখজনক ভাবে, অনেক। গবেষণার হিসেব অনুযায়ী, পৃথিবীব্যপী প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষের NAFLD আছে। সবচেয়ে বেশী আছে যথাক্রমে দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশে। অথচ এই সমস্যা যে অনেকের আছে তা তারা নিজেরা জানে না। ফলে চিকিৎসা গ্রহণ কারী মানুষের সংখ্যাও কম।
NAFLD ও NASH ডায়াগনসিস কম হওয়ার কারণ হল রোগটি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, অনির্দিষ্ট লক্ষণ এবং চিকিৎসার অপ্রতুলতা। বিশ্বে যে হারে অবেসিটি (তথা ওজন) বাড়ছে ঠিক একই হারে NAFLD ও বাড়ছে। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে কমন লিভার রোগ হচ্ছে NAFLD.

যুক্তরাস্ট্রের ২০২০-২৫ সাল নাগাদ লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রধান কারণ হিসেবে আর্বির্ভূত হবে NAFLD।

NASH-এর লক্ষণ কি?

প্রাথমিক স্টেজ-এ অনেক ব্যক্তিই কোন লক্ষণ প্রকাশ করে না। যখন লিভার যথেস্ট ড্যামেজ হয় তখনই কেবল লক্ষণ প্রকাশ পায়।

ন্যাশ থাকলে একজন ব্যক্তির নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে পারে-
১. অতিমাত্রায় দূর্বলতা (যা বিশ্রাম নিয়েও কাটতে চায় না)
২. ত্বকের রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়া
৩. পেটে ব্যথা

যদি কারও ন্যাশ থেকে লিভার সিরোসিস হতে শুরু করে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে-
১. জন্ডিস (স্কিনের হলুদ রং এবং সাদা চোখ)
২. শরীর চুলকানো
৩. পেট ফুলে যাওয়া
৪. গাঢ় প্রস্রাব


NAFLD/NASH কিভাবে ডায়াগনসিস করা হয়?

প্রাথমিক দশায় NAFLD/NASH -এর খুব অল্পই দৃশ্যমান লক্ষণ দেখায় যায়। এ অবস্থায় কিছু পরীক্ষা করে রোগদ্বয় নির্ণয় করা যায়। যা কিছুর উপর ভিত্তি করে রোগ নির্ণয় করা হয়-
১. রোগীর লক্ষণ ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা
২. ব্লাড টেস্ট
৩. ইমেজিং টেস্ট (আলট্রাসাউণ্ড, এম আর আই)
৪. লিভার বায়োপসি

NAFLD এবং NASH-এর মধ্যে কিভাবে পার্থক্য করা হয়?

যদি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আপনার লিভারে-
১. ফ্যাট পাওয়া যায় কিন্তু প্রদাহ বা টিস্যু ড্যামেজ না থাকে, তাহলে NAFLD
২. ফ্যাট, প্রদাহ এবং লিভার ড্যামেজ থাকে, তাহলে NASH
৩. যদি লিভারে তন্তু তৈর হতে শুরু করে স্কার তৈর হয়, তাহলে লিভার সিরোসিসের দিকে যাচ্ছে

NAFLD/NASH ডায়াগনোসিস হলে কি করবেন?

বর্তমানে ন্যাশ-এর জন্য কোন সুনির্দিষ্ট ও চুড়ান্ত কোন মেডিসিন নেই যা খাওয়া মাত্র ন্যাশ সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যাবে । কিছু ওষুধ আছে যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন তাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের আলোকে এবং কিছু ওষুধের ট্রায়াল চলছে। তবে প্রাথমিক দশায় জীবনাচার পরিবর্তন এবং পরিকল্পিত পুষ্টিমান নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে NAFLD/NASH এর রোগের অগ্রগতী প্রতিরোধ করা যায়। রিসার্চ করে দেখা গেছে শরীরের ওজন ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমানো গেলে ন্যাশ-এর মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমানে কমে আসে।

যাদের ন্যাশ আছে তাদের অন্যান্য রোগ, যেমন- হৃদরোগ ও মেটাবলিক সিনড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আবার চিকিৎসা না করালে লিভার ড্যামেজ হতে থাকে যে পর্যন্ত না লিভার ফেইল করে। লিভার ফেইলিউর হলে একমাত্র চিকিৎসা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট।

আপনি কিভাবে NAFLD/NASH-এর রিস্ক কমাতে পারেন?
নিউট্রিশন (পুষ্টি)
১. প্রক্রিয়াজাত খাবারে নিউট্রিশন লেবেল দেখুন – কোন লুকানো ফ্যাট, সুগার এবং সোডিয়াম আছে কি না।
২. প্রতিদিন ৫ বার ফল ও শাকসবজি খাবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করুন
৩. অধিক ফাইবারযুকক্ত খাবার গ্রহন করুন যেমন- ব্রাউন রাইস, হোল গ্রেইন
৪. রান্নার তেল হিসেবে এক্সট্রা ভারজিন অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন
৫. প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার মাছ খান
৬. সফট ড্রিংকস, জ্যুস-এর পরিবর্তে লো-ক্যালরী ড্রিংক বা বেশী বেশী পানি পান করুন
৭. একসাথে অনেক খাবার খাওয়া পরিত্যাগ করুন
৮. প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন: বার্গার, ফ্রাই পরিহার করুন
৯. সম্পৃক্ত ফ্যাট পরিহার করুন

শারিরীক কার্যক্রম
১. প্রতিদিন ৬০ মিনিট শরীর চর্চা করার অভ্যাস করুন। শরীর চর্চা যে শুধু একই ধরনের হতে হবে তা নয়। বেশী করে হাটুন, শারিরীক অনুশীলন, সিড়ির ব্যবহার করুন যখনই সম্ভব।
২. পর্যাপ্ত ঘুমান। প্রতিদিন রাতে আগে ঘুমোতে জান এবং ভোরে ওঠার চেষ্টা করুন।
৩. স্ক্রিন টাইম কমান। অর্থাৎ, মোবাইল, অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস, টিভি ব্যবহার যতটা কম পাড়া যায় করুন। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে কোন ভাবে স্ক্রিন ব্যবহার করবেন না।
শেষ কথা
আজ ১২ই জুন হচ্ছে বিশ্ব ন্যাশ্য দিবস। ন্যাশের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে গত ২০১৮ সালে থেকে বিশ্বব্যাপী ন্যাশ দিবস পালিত হয়ে আসছে। হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের ভ্যাক্সিন এবং ‘সি’ ভাইরাসের ওষুধ আবিস্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত এ দুটি রোগই ছিলো প্রধান লিভার সমস্যা। কিন্তু, শিল্পোন্নত যুগে শারিরীক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় NAFLD/NASH ধীরে ধীরে প্রধান সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। সুতরাং, এখনই এই রোগের লাগাম টেনে ধরতে হবে। আর সেই জন্য সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। অতএব, আসুন আমরা ফ্যাটি লিভার সম্পর্কে সচেতন হই এবং রোগটি প্রতিরোধের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাই।

Want your business to be the top-listed Clinic in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Videos (show all)

Location

Category

Telephone

Address

Mirza Golam Hafiz Road,House:64, Road: 8/A, Dhanmondi R/A
Dhaka
1209

Opening Hours

Monday 15:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 21:00
Wednesday 15:00 - 21:00
Thursday 15:00 - 21:00
Saturday 15:00 - 21:00
Sunday 15:00 - 21:00
Other Hospitals in Dhaka (show all)
National Institute of Neurosciences & Hospital National Institute of Neurosciences & Hospital
Sher-e-Bangla Nagar
Dhaka, 1207

Specialized Neurology & Neurosurgery Government Hospital

Islami Bank Haspatal Mugda, Dhaka Islami Bank Haspatal Mugda, Dhaka
1/24/B, South Mugda, Dhaka-1214
Dhaka, 1214

A symbol of confidence in healthcare

Lagob Lagob
Rd #02 , H # 01, Dhanmondi, Dhaka
Dhaka, 1209

This is a properties buy and sale page. This page allows you to easily buy and sell your property. You can get started with advertising your property now.

AFC Health Fortis Heart Institute AFC Health Fortis Heart Institute
Corporate Office 191/1, Tejgaon-Gulshan Link Road Tejgaon C/A
Dhaka, 1208

AFC Health Ltd. in association with Fortis Escorts Heart Institute, India brings the first world class cardiac care facility in Bangladesh.

Maman Dental Care Maman Dental Care
Patharia House,51/A-5,West Rajabazar(Beside Square Hospital)
Dhaka, 1215

for your healthy and beautiful teeth Chief Consultant: Dr. N. A. K. Mujahidul Islam (Nasif) BDS (DU), MPH, PGT Consultant, Islami Bank Hospital Mugda

Advance Hospital Ltd. Advance Hospital Ltd.
House # 1, Block # F, Main Road, Banasree, Rampura
Dhaka, 1219

অ্যাডভান্স হাসপাতাল লিঃ

A2M Pain Physiotherapy & Rehabilitation Centre A2M Pain Physiotherapy & Rehabilitation Centre
38/1, Ring Road, Shamoly, Mohammadpur, Dhaka-1207.,
Dhaka, 1207

A2M Pain Physiotherapy & Rehabilitation Centre এটুএম পেইন ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার 01708548491

Bangladesh Eye Hospital Uttara Limited. Bangladesh Eye Hospital Uttara Limited.
Plot # 31, Road # 14, Sector # 13.
Dhaka, 1230

Bangladesh Eye Hospital Ltd. has begun its journey with the aim of providing the best eye care in Bangladesh which will be at par with the modern world alo

All fake site auto captcha . All fake site auto captcha .
BANGLADESH,dhaka
Dhaka, 5858

HOSPITAL

Modern One Stop Arthritis Care & Research Center Modern One Stop Arthritis Care & Research Center
Road- 08, House- 17, Block- B, 2nd Floor, Dhanmondi
Dhaka, 1205

A center for rheumatic patients, consultation, physiotherapy, nutrition plan and adult vaccination

Dr Refatullah eye care centre Dr Refatullah eye care centre
H#3, R#3, 3rd Floor, Dr.Refatullah's Happy Arcade, Mirpur Road, Dhanmondi
Dhaka, 1205

~All about Ophthalmic care~ special concentration to rural,poor & less fortunate- at house-3 road-3 Dhanmondi.Dhaka

About   Contact   Privacy   FAQ   Login C