17/03/2024
রমজান মাসে ফ্যাটি লিভার রোগির খাদ্য তালিকা: (১৪০০ – ১৬০০ ক্যালরি)
রমজানের খাবারকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:
(১) ইফতার
(২) রাতের খাবার
(৩) সাহরি
(১) ইফতার : ইফতারের জন্য বৈচিত্রময় খাবার রাখতে হবে :
ইফতারকে দুই ভাগে ভাগ করে নিতে হবে :
প্রথম ভাগ: মাগরিবের নামাজের আগে
দ্বিতীয় ভাগ: মাগরিবের নামাজের পর।
এতে করে একসাথে বেশী খাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে।
• ১ গ্লাস পানি ও ১টা খেজুর (৫৩ গ্রাম – ২৩ ক্যালরি)
• ১টি পিয়াজু (৫৩ গ্রাম – ৭৫ ক্যালরি)
• আধা কাপ ছোলা (৪০ গ্রাম - ১৫০ ক্যালরি) (১ চা চামচ তেল দিয়ে তৈরি করা - ৪৫ ক্যালরি)
• সাথে শশা ও টমাটোর সালাদ ৪০ গ্রাম (৫ ক্যালরি)
• স্যুপের বাটিতে ১ বাটি পরিমাণ ফ্রুট সালাদ (২ পিস সবুজ আপেল + ২ পিস আনারস + ২ পিস পেয়ারা – ৫৭ ক্যালরি)
• ১টা সিদ্ধ ডিম (১০০ গ্রাম – ৫২ ক্যালরি) + ১০-১২ পিস বাদাম (৯০ ক্যালরি)
• চিকেন স্যুপ ২০০ গৃাম (৬২ ক্যালরি) অথবা ১ বাটি টক দই ২০০ মি:লি: (১২০ ক্যালরি) রাখা যেতে পারে।
• ১ কাপ (আদা, লেবু চিনি ছাড়া - ২ ক্যালরী) চা পান করা যেতে পারে।
(২) রাতের খাবার (রাত ৮:০০ টা – ৯:০০ টা):
ইফতারের ৩ ঘন্টা পর রাতের খাবার খেতে হবে। রাতের খাবার বা সাহরীর সময় জটিল শর্করা জাতীয় আশ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে যেমন: লাল আটা ও লাল চালের ভাত। এ ধরনের খাবার ধীরে ধীরে হজম হওয়ার কারনে দীর্ঘ সময় শরীরে শক্তি যোগায়।
• স্যুপের বাটিতে ১ বাটি পরিমাণ লাল চালের ভাত (৬০ গ্রাম – ১৫০ ক্যালরি) অথবা
১ পিস মাঝারি সাইজের রুটি (৬০ গ্রাম – ৭০ ক্যালরি)
• ১ পিস মাছ বা মাংস (৬০-৮০ গ্রাম – ৭০ ক্যালরি)
• স্যুপের বাটিতে আধা বাটি সবজি (১০০ গ্রাম – ৬৪ ক্যালরি)
• স্যুপের বাটিতে আধা বাটি ডাল (৪০-৫০ গ্রাম – ৫৩ ক্যালরি) + ১ পিস লেবু (৫ ক্যালরি)
(৩) সাহরি:
রমজানে সাহরি হচ্ছে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ অংশ। সারাদিনের ক্ষুধা ও কাঙ্খিত পুষ্টি সেহরীর মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। তাই সাহরীর খাবারে খাদ্য বৈচিত্র্য থাকতে হবে যা বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পেতে সাহায্য করবে।
সাহরীর খাবার সুষম ও সহজ পাচ্য হতে হবে।
• স্যুপের বাটিতে ১ বাটি পরিমাণ লাল চালের ভাত (৬০ গ্রাম – ১৫০ ক্যালরি) অথবা ১ পিস মাঝারি সাইজের রুটি (৬০ গ্রাম – ৭০ ক্যালরি)
• ১ পিস মাছ বা মাংস (৬০-৮০ গ্রাম – ৭০ ক্যালরি)
• স্যুপের বাটিতে আধা বাটি সবজি (১০০ গ্রাম – ৬৪ ক্যালরি) + ১ পিস লেবু (৫ ক্যালরি)
সাহরীতে নিচের যে কোন একটি খাবার বেছে নিতে পারেন:
• ১ গ্লাস দুধ ২০০ মি:লি: (৮৪ ক্যালরি) অথবা
• ১টি কলা ১০০ গ্রাম (৮৯ ক্যালরি) অথবা
• ১ বাটি টক দই ২০০ মি:লি: (১২০ ক্যালরি)
রমজান মাসে কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হবে, যেমন:
মোড়কজাত খাবার, বোতলজাত খাবার, বেশী বেকিং পাউডার ও ইস্ট ব্যবহার করে তৈরি খাবার, সালাদের ড্রেসিং, কোমল পানীয়, কিউব স্যুপ, ক্রীম স্যুপ, ক্যান্ডি, ফামের্র মুরগী, গ্রীল, বার্গার, বেকারীর খাবার, চাইনিজ, মগজ, মুরগীর চামড়া, আইসক্রিম, চকলেট ,মিক্সড খাবার, বিরিয়ানী, হালিম, তেহারী ,কাঁচা লবণ, লবণাক্ত খাবার, ইত্যাদি। আর এজন্য আমাদের সচেতনতার সাথে রমজান মাসে খাদ্য তালিকায় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।
গাছে ঝুলে থাকে এমন সবজি যেমন: করলা, ধুন্দুল, ঝিঙা, চিচিংগা, চালকুমড়া, শসা, কচি শজিনা, পটল, কাকরোল, লাউ, ইত্যাদি এবং ডাটা, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও টমেটো পরিমিত পরিমাণে খেতে পারবেন।
মাটির নিচের সবজি কম খাবেন: আলু, শালগম, মুলা, গাজর, কচু, কচুরমুখি, মিষ্টিকুমড়া, কাঁচাকলা ও বিটে শর্করার পরিমাণ বেশি, তাই এই সব সবজি কম খাবেন।
সব ধরণের দেশি টক ফল খাবেন (আমলকি, জাম, জামবুরা, কাঁচা পেয়ারা, বরই, আমড়া, ইত্যাদি)। এছাড়া বাঙ্গি, পানিফল, তরমুজ, সবুজ আপেল, নাসপাতি ইত্যাদিও খেতে পারেন।
মিষ্টি ফল কম করে খেতে হবে (পাকা আম, কলা, আঙ্গুর পাকা কাঁঠাল, খেজুর, আতা, ইত্যাদি)।
মনে রাখবেন:
• ইফতারে কোনো খাবারই অতিরিক্ত না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।
• ফলের জুস না খেয়ে গোটা ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অধিকতর ভালো।
• পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে (ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত ১০ -১২ গ্লাস)।
• পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি ও ফল খেতে হবে (ভিটামিন এ, বি, সি, ই ও জিংক থাকে)।
• রাতে খাবারের পর প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে।
• রোজাতে পর্যাপ্ত ঘুমের সাথে বিশ্রাম নিতে হবে।
সম্পাদনায়
ডঃ শায়লা নাসরিন
পুষ্টিবিদ
বিভাগীয় প্রধান, খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগ
শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা
কপিরাইট
হেপাটোলজি সোসাইটি, ঢাকা, বাংলাদেশ