সুমাইয়া তাসনিম

সুমাইয়া তাসনিম Clinical Psychologist
Trauma Therapist
M.Phil Researcher

Chamber: Monon Psychiatric Hospital. More about me: https://sumaya.framer.website/

Address: 20/20, tajmohol road, block- C (Opposite of Mohammadpur krishi market kacha bazar).

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাম্মেল স্যার একটা কথা পোস্ট করলেন। "মুক্তজীবনের নেশা তরুণ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে মা...
06/03/2026

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাম্মেল স্যার একটা কথা পোস্ট করলেন।
"মুক্তজীবনের নেশা তরুণ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক নেশা।"

এটা পড়ে এত রিলেটেবল লাগলো যে ভাবলাম আমার চিন্তাগুলোও একটু লিখি।

আমার অভিজ্ঞতায় এটা সম্প্রতি খুবই প্রচলিত কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেল্ফ ডেস্ট্রাক্টিভ একটা ট্রেন্ড। মানুষ সেন্স অফ রেসপন্সিবিলিটি থেকে দূরে সরে ইন্ডিভিজুয়ালিস্টিক একটা অ্যাপ্রোচ অ্যাডাপ্ট করছে সাময়িক কমফোর্টের চিন্তা থেকে। আদতে যা মানুষের সোশ্যাল, স্পিরিচুয়াল আর ইন্ডিভিজুয়াল গ্রোথকে বাধাগ্রস্ত করে।

মনে হতে পারে, এত এত নেতিবাচক অভ্যাস, নেশা আর স্বভাবের মধ্যে এটা তো খুবই হার্মলেস একটা চর্চা। কারো সাতে-পাঁচে না থেকে, গসিপ না করে, পর্ন, গেমস কিংবা ড্রাগসে আসক্ত না হয়ে নিজের জীবনকে নিজের মত উপভোগ করায় কি ক্ষতি হতে পারে?

পারিবারিক ও সামাজিক নানা জটিলতাও এক্ষেত্রে ফুয়েল হিসাবে কাজ করেছে।

এবার আসি বর্তমানে ইয়াং অ্যাডাল্ট থেকে লেট অ্যাডাল্টদের ভোগাচ্ছে এমন কিছু অসুবিধায়।
শূন্যতা, একাকীত্ব, ডিসোসিয়েশন, মানসিক ক্লান্তি, উদ্দেশ্যহীনতা, আউটকাস্ট ফিল করা, মেলাংকলিয়া, ডিসথাইমিয়া, হেল্পলেসনেস, ওভারথিংকিং, এগজিস্টেনশিয়াল ক্রাইসিস সহ আরো অনেক কিছু।
যা উল্লেখ করলাম, ভেবে দেখুন এর মধ্যে কোনোটা আপনার নিজের সাথে মিলছে কিনা?

অসুবিধা গুলো সুক্ষ, এমন কিছু মনে হয় না যার জন্য প্রফেশনাল হেল্প চাওয়া যায়। কিন্তু আদতে ভোগায় অনেক।

মানুষ প্রকৃতিগত ভাবে গ্রোথ ফোকাসড বিয়িং। কমফোর্ট ফোকাসড না।
এই গ্রোথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল লার্নিং। একদম গর্ভকালীন সময় থেকেই মানব শিশুর শেখার জার্নিটা শুরু হয়। আমরা শুরু করি ভাষা, সম্পর্ক, পরিবেশের নানা উপাদানের সাথে একাত্ম হওয়ার মাধ্যমে। বুকিশ কথাবার্তা, তবে এইসবই সামাজীকিকরণের অংশ হিসাবে আমরা গোটা জীবনজুড়েই চর্চা করতে থাকি। এই প্রক্রিয়াটা ব্যাহত হলে কি হয়? আমাদের ব্রেইন গ্রো করা বন্ধ করে। আক্ষরিক এবং তাত্বিক উভয় অর্থেই। আমাদের ব্রেইনের একটা গুরুত্বপূর্ণ ফাংশন হল নিউরোপ্লাস্টিসিটি। মানুষ যত শেখে, তত নতুন নতুন ব্রেইন সেল রিজেনারেট হতে থাকে। তত বেশি নিউরাল কানেকশন তৈরি হয়, তত বেশি আমরা আমাদের জগৎ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত উপকরণের সাথে এ্যালাইনমেন্ট তৈরি করতে পারি।

কি হয় যদি এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়?
ধরুন একটা জ্যান্ত গাছ, একদিন সিদ্ধান্ত নিলো সে আর শেকড় ছড়াবেনা। এটা কি সম্ভব? তার বেঁচে থাকার প্রক্রিয়াটাই এমন যে, সে যতদিন বেঁচে আছে, ততদিন তার পরিবর্তন, পরিবর্ধন ঘটবে এবং এটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অর্থ হল গাছটা মারা যাচ্ছে।

নিউরাল নেটওয়ার্কের মতই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক মানুষের অন্যতম সার্ভাইবাল টুল। সাধারণ মানুষ প্রপার হিউম্যান কানেকশন ছাড়া বাঁচতে পারেনা। এই নেটওয়ার্ক বলতে অবশ্যই ভার্চুয়াল সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বুঝাচ্ছিনা। এখানে বাস্তবে, সোশ্যাল, মেন্টাল, ইমোশনাল, স্পিরিচুয়াল কানেকশন বুঝাচ্ছি।

তো, মুক্ত স্বাধীন এক জীবন, যেখানে আমার জীবনটা অন্য কারো কাছে বাধা না, কোন সম্পর্কের কাছে নত না, কোন পিছুটানে আঁটকে নেই, এই জীবনে কি ভালো থাকা যায় না?

এইখানে বুঝার জায়গা হল, ভালো থাকাটা খুবই সাবজেক্টিভ একটা ঘটনা। এবং খুবই আপেক্ষিক। একই কাপড়ের দাম ফুটপাথে আর শপিংমলে ভিন্ন এবং তা কেনার অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও ভিন্ন।
একই ঘটনা এক সময় তীব্র আনন্দ ও অন্য একটি সময়ে তীব্র বেদনার জন্ম দিতে পারে।

আমরা যদি শর্ট টার্ম কমফোর্ট ফোকাসড হয়ে জীবনের দূরদৃষ্টি ব্যবহারের দক্ষতা হারিয়ে ফেলি এবং সাময়িক ডোপামিন ও অ্যাড্রিনালিন সেক্রেশনকেই আল্টিমেট হ্যাপিনেস হিসাবে রিড করি, তা আদতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ডিজাপয়েন্টমেন্টের দিকে নিয়ে যায়।

ইন্ডিভিজিয়ালিজম খুব লুক্রেটিভ। কিন্তু লং টার্মে সাস্টেইনেবল না।

সেদিন এত রাশ ছিল যে, অনলাইন আর চেম্বার দুটোতেই ক্লায়েন্ট শিডিউল ছিল। সেই তাড়ার মধ্যে একজন খুবই রিকোয়েস্ট করে একসাথে দুটো...
22/01/2026

সেদিন এত রাশ ছিল যে, অনলাইন আর চেম্বার দুটোতেই ক্লায়েন্ট শিডিউল ছিল। সেই তাড়ার মধ্যে একজন খুবই রিকোয়েস্ট করে একসাথে দুটো স্লট নিলেন। আমি যেহেতু সেশনের পরে পেমেন্ট করতে বলি, তাই ভাবলাম তাড়াহুড়োর মধ্যে বুঝাতে না গিয়ে সেশনে বুঝিয়ে বলব যে, একসাথে দুটো স্লট লাগেনা। প্রয়োজন হলে এক্সট্রা টাইম কথা বলা যাবে।
অন্য ক্লায়েন্টের সেশনের জন্য চেম্বারে ঢুকতে ঢুকতে দেখি এই ক্লায়েন্ট পেমেন্টও করে বসে আছে দুই সেশনের। "ভারি জ্বালা হল তো" ভাবতে ভাবতে চেম্বারের কাজ সেরে বাসায় ফিরে ওনার সাথে সেশনে বসলাম।
উনি বললেন, আমি প্রথমে আপনার সাথে একটা সেশন আলাপ করতে চাই। তারপরের সেশনে আমার মা কথা বলবেন, আমি ওনাকে অ্যাড করে দিব। উনিই মুলত আপনার ক্লায়েন্ট হবেন।

সাধারণত আমরা ক্লায়েন্টের সাথে আগে কথা বলি। পরে প্রয়োজনে পরিবারের অন্য কেউ বা কেয়ারগিভারের সাথে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সেটা আর করা যাচ্ছিলো না। আমার ইন্সটিংক্ট বলছিল ব্যাপারটা রেগুলার কেস থেকে আলাদা হবে।
কথা বলে বুঝতে পারলাম ভদ্রমহিলা বেশ খোঁজ-খবর নিয়েই আমার কাছে এসেছেন। আমার সাথে ট্রমা রিলেটেড কিছু অ্যাকাডেমিক আলাপ করলেন, পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে একটা প্রপার ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করলেন এবং আমার এক্সপার্টাইজ সম্পর্কেও ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করলেন। যেহেতু খুব স্পর্শকাতর ইস্যু, তাই ওনার দৃষ্টিতে ওনার মায়ের জন্য যেকোনো থেরাপিস্ট হলে হবেনা। এবং চমৎকার ব্যাপার হল, পুরো সময়টা তিনি ভীষণ আন্তরিক এবং রেসপেক্টফুল ছিলেন।

ব্যাপারটা আমার বেশ ভালো লাগলো। আমরা আমাদের প্রিয় মানুষদের নিয়ে ভাবি, তাদের জন্য কিছু করতে চাই, কিন্তু কিভাবে সবচেয়ে ইফেক্টিভ উপায়ে কিছু করা যায় তা সব সময় বুঝে উঠতে পারিনা। কিংবা কি করলে তাঁরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।

যাহোক, পরের সেশনে ভীষণ ওয়েল ম্যানারড এবং ডিসেন্ট একজন আটপৌরে মায়ের সাথে কথা বললাম। জেরিয়াট্রিক কেসের ক্ষেত্রে গ্রোথ ফোকাসড কাজ করতে পারব কিনা, কতটুকু কোলাবোরেটিভ হবেন, কতটুকু লোড নিতে পারবেন এমন নানা চিন্তা থাকে। সেসব মাথায় নিয়েই অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমার সবচেয়ে বয়স্ক ক্লায়েন্টটির সাথে কাজ শুরু করলাম। প্রথম কিছু সেশন ক্যাথারসিস চললো। বেশ ক্রিটিক্যাল সব ঘটনাবহুল এক দীর্ঘ জীবন তিনি শেয়ার করলেন। সাথে জমে থাকা এক সমুদ্র কমপ্লেক্স ইমোশোন। এই কেসের একটা বড় জটিলতা ছিল, মাল্টিপল ট্রমাটিক এক্সপেরিয়েন্স তো ছিলোই, উপরন্তু সেই প্রতিকূল পরিস্থিতেই তাকে বসবাস করতে হবে। ট্রমার ট্রিগারের সাথে কো-এক্সিস্ট করা ও নিজেকে হিল করা খুবই ঝামেলার ব্যাপার।
কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও কয়েক সেশন ক্যাথারসিসের পর কিছু সাইকোএডুকেশনাল ইনপুটের পর তিনি চমৎকার প্রগ্রেস দেখাতে শুরু করলেন।
এগারো নম্বর সেশনে তিনি সেশন শেষ হলে বললেন, তিনি আমাকে একটা গান শোনাতে চান। আমি সম্মতি দিলাম। ভদ্রমহিলা গলা খুলে চমৎকার কন্ঠে গান গাইলেন। বার্ধক্যজনিত খানিকটা জড়তা থাকলেও হৃদয়ের প্রশান্তি তাতে স্পষ্ট টের পাওয়া গেল।
মনটা এত আদ্র হয়ে এলো!

এই ক্লায়েন্টের সবচেয়ে চমৎকার দিক হল, তিনি সেশনে নোট নিতেন। আমার যে কথাটা তাঁর ভালো লাগতো, দরকারি মনে হতো, তিনি লিখে রাখতেন। এবং পরবর্তীতে সেটা কখন কাজে লাগলো তাও আমাকে জানাতেন।

সাইকোথেরাপিউটিক সেশন কমফোর্ট ফোকাসড হতে পারে, গ্রোথ ফোকাসডও হতে পারে৷ কখনো কখনো দুটোই সেশনের পার্ট হতে পারে। কিন্তু ক্লায়েন্ট কোলাবোরেটিভ হলে সাইকোথেরাপির আউটকাম হয় চমৎকার।

আরেকটি ব্যাপার হল গুড র‍্যাপো। থেরাপিস্টের সাথে মন খুলে কথা বলার ক্ষেত্রে আপনার সেফ ফিল করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সেন্স অফ সেফটি প্রপারলি এনশিওর করা গেলে একজন অভিজ্ঞ থেরাপিস্টের বয়স, জেন্ডার বা রিলিজিয়ন সেশনে কোন ইন্টারভেইনিং ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেনা।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, ক্লায়েন্টের মেন্টাল প্রিপারেশন। যে সময়, শ্রম এবং অর্থ সেশনের পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে, তা তখনই ফলপ্রসূ হবে যখন ক্লায়েন্ট থেরাপিউটিক প্রসেসে প্রপারলি ইনভলভ হবেন এবং থেরাপিস্টের উপর আস্থা রেখে ট্রিটমেন্ট প্রসেস ফলো করবেন।

On the way of growing old, you can still grow.

সেদিন এক সেশনে ক্লায়েন্টের হোমওয়ার্ক চেক করছিলাম। একটা প্রবলেম সাক্সেসফুলি সলভ করেছে দেখার পর জিজ্ঞেস করলাম, এখন এই ধরনে...
13/09/2025

সেদিন এক সেশনে ক্লায়েন্টের হোমওয়ার্ক চেক করছিলাম। একটা প্রবলেম সাক্সেসফুলি সলভ করেছে দেখার পর জিজ্ঞেস করলাম, এখন এই ধরনের সমস্যায় পড়লে সাধারণত কি করেন?
উনি মৃদু হাসলেন। বললেন, মনে মনে আপনার সাথে ডিসকাস করি৷ তাতে মনে হয়, একটা না একটা উপায় বের হবে।

আমি বেশ চমৎকৃত হলাম। ব্যক্তি এভাবে কাজ করছে মানে তিনি অনেকখানি ইমপ্রুভ করেছেন। কেননা তিনি মুলত মনে মনে আমার সাথে আলাপ করেন না, করেন নিজের সাথে। সেই সেল্ফের সাথে, যাকে তিনি আগে ট্রাস্ট করতেন না, বা প্রবলেম সলভ করার অ্যাবিলিটি আছে বলে বিশ্বাস করতেন না। এখন তিনি প্রবলেম আইডেন্টিফাই করে নিজের নেগেটিভ ইমোশোনকে নিউট্রাল করছেন, তারপর ইনার সেল্ফের সাথে সল্যুশন ফোকাসড কাজ করার দিকে এগুতে পেরেছেন।

এই ওয়েতে তিনি যে আমাকে ইনক্লুড করেছেন, এতে আমি বেশ অনারড ফিল করলাম। এর অর্থ, ওনার সাব-কনশাস মাইন্ড আমাকে ট্রাস্টওর্দি মনে করে৷ এই অ্যাক্সেপ্ট্যান্স গুলো আমার কাছে ছোট ছোট টোকেন অফ অ্যাপ্রিসিয়েশন মনে হয়। যার জন্য আমি ক্লায়েন্টদের কাছে কৃতজ্ঞবোধ করি।

আমার অধিকাংশ ক্লায়েন্টই নারী। বলা উচিত, ইকোনোমিক্যালি সলভ্যান্ট নারী। যারা সামাজিকভাবে মর্যাদাবান, বা অ্যাকাডেমিক ও ক্যা...
23/08/2025

আমার অধিকাংশ ক্লায়েন্টই নারী। বলা উচিত, ইকোনোমিক্যালি সলভ্যান্ট নারী। যারা সামাজিকভাবে মর্যাদাবান, বা অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ারে বেশ সফল। কিন্তু এই নারীদের একটা বড় অংশ নিজেদের আচরণ ও আবেগের বহিঃপ্রকাশকে এত মাত্রায় ক্রিটিসাইজ করেন, নিজের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা এত কম, দেখে বড় অপ্রতিভ বোধ হয়।

সাইকোথেরাপিতে যেহেতু সমস্যা থেরাপিস্ট সমাধান করেন না বরং ক্লায়েন্টের মধ্যে কি কি সক্ষমতা ও দক্ষতা আছে তা খুঁজে বের করে সেটিকে কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানে কিভাবে মডিফাই করে ব্যবহার করা যেতে পারে সে ব্যাপারটা নিয়ে কাজ করেন, সাইকোথেরাপিস্টকে প্রথমে বুঝতে হয় ক্লায়েন্টের লিমিটেশন, ভার্নারেবিলিটি আর ব্লকের জায়গা গুলো, এবং এর পাশাপাশি, ক্যাপাসিটি, স্কিল, অ্যাচিভমেন্ট ও অন্যান্য রিসোর্স হিসাবে কি কি জিনিস আছে।
যেগুলো তার বর্তমান সমস্যাকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে একটা টেইলর মেড প্রসেসে থেরাপিতে ব্যবহার করা হয়। ফলে ধিরে ধিরে ক্লায়েন্ট নিজের সমস্যাগুলো নিজের যোগ্যতা ও সীমার মধ্যে নিজস্ব উপায়ে সমাধান করার উপায় খুঁজে বের করতে পারে।

কিন্তু এই কাজে একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় সেল্ফ এক্সেপ্ট্যান্সের অভাব। এই যে এত সাফল্য, যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তারা নিজের কাছেই নিজেরা স্বীকৃতি পান না, অতঃপর ভালোবাসা, স্বীকৃতি, মনোযোগ, প্রশংসা পাওয়ার যে অপূর্ণ মানবিক চাহিদাটুকু এক গভীর শূন্যতার বিস্তার ঘটায়, তা থেকে নিস্তার কিভাবে পাওয়া যায়?

নিজেকে ভালো না বাসতে পারাটা কিংবা ভালোবাসার মত কেউ ভাবতে না পারাটা যে মনস্তাত্ত্বিক দৈন্যতা থেকে তৈরি হয়, তা ভীষণ পীড়াদায়ক। প্রতিনিয়ত নিজেকেই প্রত্যাখান করে নিজের সাথে বেঁচে থাকা এক ক্লান্তিকর অনিঃশেষ যুদ্ধ।

কিন্তু এই অন্তর্গত অস্থিতিশীলতা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যক্তি একাই দায়ী নন। তার পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষার প্রক্রিয়া এতে গভীরভাবে জড়িত থাকে। যা সে শৈশব থেকে ধারণ করতে শুরু করে এবং নিজে আমৃত্যু এই প্যাটার্ন ধারণ করে, এবং বংশধরদের মাঝেও প্রবাহিত করে। যদি না সেটির ব্যাপারে সচেতন হয়ে সেটিকে আনলার্ন করে নতুন কোন স্বাস্থ্যকর উপায় শিখে না নেয়।

এই স্বাস্থ্যকর উপায় হল নিজের ইতিবাচক দিকগুলোকেও সমান মনোযোগ দেওয়া এবং সেগুলোকে গ্রহণ করা। নিজের ভুল, সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতার পাশাপাশি সাফল্য ও সক্ষমতাগুলোকেও সমানভাবে মনোযোগ দেওয়া ও গ্রহণ করে নেওয়ার চর্চা মানুষের নিজের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়। যা ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং কৃতজ্ঞতার বোধ তৈরি করে।
এই পর্যায়ে সেল্ফ অ্যাক্সেপ্ট্যান্স একটা গ্রহণযোগ্য মাত্রায় পৌঁছালে পরবর্তী ধাপে, অর্থাৎ, সমস্যা সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়।

নিজেকে গ্রহণ করতে না পারা বা না করা এক ধরনের স্লো পয়জনিং। ধিরে ধিরে নিজেকে হত্যা করার মত। যে নিজেকে গ্রহণ করতে পারেনা তার চলনবলনে নিজের প্রতি অবজ্ঞা ও নিজের প্রতি যত্নের অবহেলা প্রকট হয়ে ফুটে থাকে। যেটা আরো বেশি জড়তা তৈরি করে, ফলে ব্যক্তির মধ্যে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়। ব্যক্তি নিজেকে গুটিয়ে রাখে, মানুষ হিসাবে তার সহজাত চাহিদা গুলো পূরণ হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসে। ফলে ব্যক্তি আত্মিক ভাবে ধিরে ধিরে আসলে মারা যেতে থাকে নিজের ভেতরেই।

এই ব্যাপারে ঠিকঠাক কাজ করা সম্ভব হলে দেখা যায় কেবল অন্তর্গত দ্বন্দ্ব কিছুটা সমাধান হলে ব্যক্তি নিজেই নিজের সমস্যাগুলোকে সমাধান করার আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায় এবং বিভিন্ন অল্টারনেটিভ সল্যুশনস নিয়ে ভাবতে শুরু করে। ওভারঅল সিনারিও সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা ও যথাযথ সাইকোএডুকেশন পেলেই অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তির ব্লকগুলো বা স্টাক হয়ে থাকা জায়গা ক্রমান্বয়ে আনব্লক হতে শুরু করে।

সাইকোথেরাপিস্টরা সাধারণত ক্লায়েন্ট কিভাবে কথা বলছেন, কিভাবে বসছেন, কিভাবে হাঁটছেন, কিভাবে তাকাচ্ছেন, কিভাবে কেমন করে আই ...
12/08/2025

সাইকোথেরাপিস্টরা সাধারণত ক্লায়েন্ট কিভাবে কথা বলছেন, কিভাবে বসছেন, কিভাবে হাঁটছেন, কিভাবে তাকাচ্ছেন, কিভাবে কেমন করে আই কন্টাক্ট করছেন, তার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন, ইমোশনাল স্টেট ইত্যাদি বেশ ধৈর্য্য নিয়ে খেয়াল করেন। ক্লিনিক্যাল জাজমেন্ট, যেটা সময়ের সাথে পোক্ত হয়, তা দিয়ে সাইকোথেরাপিস্ট ডিটারমাইন করেন যিনি এসেছেন তিনি ভার্বালি আর নন-ভার্বালি কি কি বলে চলেছেন পুরোটা সময়। কি কি হিন্টস, স্লিপ অফ টাং, কিউস চলে আসছে তার অবচেতনে।

আস্কিং দ্য রাইট কোয়েশ্চেন একটা কোর জায়গা। একজন মানুষকে চাইলে হাজার হাজার প্রশ্ন করা যায় তার দীর্ঘ জীবন নিয়ে। কিন্তু কোটি কোটি ইনফরমেশন থেকে ঠিক কোন প্রশ্নটা করলে, ঠিক কোন সুতোটা ধরে টানলে মানুষটার কোর বিলিফ সিস্টেমে পৌঁছানো যাবে তা সাকসেসফুলি ফিগার আউট করা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের একটা অপরিহার্য স্কিল।

আমার কাছে একজন মানুষ এসেছিলেন যার ইমোশনাল ও ফিজিওলজিক্যাল এত এত ট্রিগারিং ফ্যাক্টর গোটা জীবন জুড়ে ছিল যে তিনি এখন এগুলো নিয়ে কনশাস মাইন্ডে আর বদারড না। কিন্তু আমাদের ভেতরকার আনসলভড ইস্যুগুলো তো তাই বলে ভ্যানিশ হয়ে যায় না, তাদেরকে ঘাড় ধরে কনশাস মাইন্ড থেকে সরানোর পর তারা আনকনশাস মাইন্ডে ঘরবাড়ি করে থাকা শুরু করে। এই ছুতোয় ওই ছুতোয় সুযোগ পেলেই খোঁচা দেয়, সারফেসে আসতে চায়। এভাবে রোজকার জীবনে হুটহাট ঝড়ো বাতাস বা তুমুল বজ্র হয়ে এসে চমকে দিয়ে যায়, এলোমেলো করে দিয়ে যায়। কিংবা আরো বাজে হয়ে শরীরের সিস্টেমগুলোতে ঢুকে ত্রাস সৃষ্টি করতে থাকে।
মানুষটি বলেন, তার এখন আর আগের বেদনার স্মৃতি নিয়ে তীক্ষ্ণ কোনো অনুভূতি নেই, অথচ তার চোখে এত গাঢ় বেদনার প্রলেপ, এত নিকষ শূন্যতা, এত নির্জীব তিনি যেন এই শরীর বয়ে নিতে তার বড় কষ্ট।
জীবন কারো কারো কাছে আজন্ম সংগ্রাম, পৃথিবীতে যে আনন্দ বলে কিছু আছে, ভালো থাকা বলে কিছু আছে তা তাঁদের দেখলে বিশ্বাস করতে দ্বিধা হয়।

আমি ভাবি, কি হলে তার গোটা জীবনটা একটু ভিন্ন হতে পারতো? উত্তর পাই, যদি কেউ জীবনের কোনো বেলায়ই জেনুইনলি তাকে ভালোবাসার কথা জানাতো, যদি কেউ আসলেই আন্তরিকতার সাথে তার সঙ্গে দু'দন্ড পাশে বসে কথা বলতো। যখন তার মৃত মায়ের অভাব পূরণ না করুক, মাঝেমধ্যে একটু জড়িয়ে ধরার কেউ থাকতো, তার ভেতরের শিশু সত্তাটিকে আনকন্ডিশনাল পজিটিভ রিগার্ড দেয়ার একজন মানুষ থাকতো। যদি কেউ তার জীবন ভরে রক্ত-মাংস, ঘামে গড়া সমস্তকিছুর জন্যে অন্তত একবার কৃতজ্ঞতা জানাতো। ক্লাসে একদিন প্রফেসর বলেছিলেন, "Human needs to be needed"। কেবল এজন্য আমরা জীবনভর কত কি করে যাই ভাবুন!

বর্ষার দিনে পথিকের পায়ের ভারে দেবে যাওয়া কাদামাটির মতো খাদে নেমে যাওয়া কন্ঠ, তাতে ভরে ওঠা ঘোলাটে পানির মতো নিরব দৃষ্টি, দীর্ঘশ্বাসের ভারে চেপে আসা বুকের পাঁজরে যত আঘাত, তা কি হাজার টাকার টেস্টে ধরা পড়ে নাকি লাখ টাকার ঔষধে সারে?
বাঁচতে বাঁচতে ক্লান্ত তাদের মনে আর অত আবেগ ফেনায় না। অত কান্না পায়না৷ অত অভিযোগ, অভিমান কিচ্ছু আসেনা। কেবল শরীরটা এত এত বিদ্রোহ করে যা কোনো ডাক্তার-কবিরাজে আর ঔষধে সারে না।
সবগুলো ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে সামনে বসা মানুষটিকে দেখি, হিস্ট্রি নিই, রিপোর্ট লিখি, বুকের কোথায় এখনো পুরোপুরি প্রফেশনাল হতে না পারার আনাড়িপনায় কদ্দুর হাহাকার সঙ্গে করে নিয়ে আসি।

একটুখানি মিষ্টি হাসি, একটু দয়া, একটু সুন্দর ব্যবহার, একটু ভালোবাসার প্রকাশ আমাদের জীবনে তৈরি হওয়া সম্পর্ক গুলোকে হাজারো জটিলতা থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। আমরা যদি এমন কেউ হতে পারি যার কাছে কেউ নির্দ্বিধায় জাজমেন্টের ভয় ছাড়া হাসতে পারে, কাঁদতে পারে, দুটো কথা বলতে পারে, তবে তো তা চমৎকার ব্যাপার, কিন্তু তা যদি না হই, অন্তত কারো উপর জানা বা অজানায় জুলুম না করে বসি এতটুকু অন্তত চেষ্টা করি। কে জানে, হয়তো এতটুকু চেষ্টাও কাউকে এক জীবনের যাতনা থেকে রক্ষা করতে পারে!

ক্রাইসিস পরবর্তী সময়ে আমরা সবাইই যার যার জায়গা থেকে কিছু একটা করতে চাই যা মানুষ হিসাবে চমৎকার একটা ব্যাপার। এক্ষেত্রে মন...
24/07/2025

ক্রাইসিস পরবর্তী সময়ে আমরা সবাইই যার যার জায়গা থেকে কিছু একটা করতে চাই যা মানুষ হিসাবে চমৎকার একটা ব্যাপার।
এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানী বা সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট প্রোভাইডারদের ভূমিকা সম্পর্কে মেন্টাল হেলথ প্রফেশনাল হিসাবে আমি কিছু ব্যক্তিগত আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের জায়গা শেয়ার করছি।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নানাভাবে কনট্রিবিউট করার জায়গা আছে এটা যেমন বাস্তব, কখন, কি ধরনের সেবা প্রযোজ্য এবং কি ধরনের সেবা কাকে দেওয়া যাবে না তা বুঝাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা অনেকেই প্রথমেই ধরে নিচ্ছি এতবড় ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের স্বজন/বন্ধু ও আহতদের PTSD ডেভেলপ করতে পারে এবং কেউ কেউ এতে ব্যবহৃত ট্রিটমেন্ট মেথড ব্যবহার করার কথা ভাবছেন বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কিন্তু PTSD ছাড়াও এখানে তীব্র অপরাধবোধ, নির্দিষ্ট কিছুর প্রতি অস্বাভাবিক ভীতি বা ফোবিয়া, গ্রিফ, ASD বা অ্যাকিউট স্ট্রেস ডিজঅর্ডার, রিঅ্যাক্টিভ অ্যাটাচমেন্ট ডিসঅর্ডার, অ্যাংজায়টি, ডিপ্রেশন ইত্যাদির বৈশিষ্ট্যও ব্যক্তির মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।
PTSD ডেভেলপ করেছে এমনটা আমরা তখনই বলি যখন ব্যক্তি ঘটনার পর কিছু নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া মিট করে এবং এই বৈশিষ্ট্য গুলো এক মাসের বেশি সময় অতিক্রম করলেও তার মধ্যে বর্তমান থাকে। যেহেতু এখনো এক মাস হয়নি, আমরা কাউকেই PTSD বলে ডায়াগনোস করব না।

যেহেতু এটা একটি কালেক্টিভ ট্রমা আমাদের সবার জন্য, তাই প্রথমেই নিজের মেন্টাল স্টেট মাথায় রেখে আগানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এই ধরনের ইস্যুতে। আপনার ব্যক্তিগত কোন আনপ্রসেসড ট্রমা থাকলে, স্পেসিফিক ফোবিয়া থাকলে কিংবা সিমিলার কোন এক্সপেরিয়েন্স থেকে থাকলে এবং তা ট্রিগার হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে এই ক্রাইসিসে সেবা দেওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো।

একটু মাথায় রাখা যেতে পারে এখন আমরা কোন স্টেজে আছি। যাদেরকে সেবা দিতে যাচ্ছি, প্রাথমিকভাবে কিছু কমন বিষয় তাদের মধ্যে দেখা যেতে পারে:

১. আহত, নিহতের স্বজন বা প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে সার্ভাইভারস গিল্ট খুব কমনলি দেখা যেতে পারে। এর ফলে কিছু শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। রাগ, তীব্র অক্ষমতার বোধ, অস্থিরতার পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় তারা এক্সপেরিয়েন্স করতে পারেন-

নির্দিষ্ট কিছু জিনিসের প্রতি অস্বাভাবিক ভীতি,
ঘুমের অসুবিধা,
দুঃস্বপ্ন,
বুক ধড়ফড় করা,
বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেলা,
কোন কিছু উপভোগ করার ক্ষেত্রে তীব্র অপরাধবোধ,
শ্বাসকষ্ট,
পেটে অস্বস্তি বা হজমের গোলযোগ,
মুড সুইং,
হুট করে কান্না পাওয়া,
ঘটনার ফ্ল্যাশব্যাক আসা,
কোন কাজে ইনভলভ হতে না পারা,
মনযোগ দিতে না পারা, বা
তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব।

২. গ্রিফ বা শোক। প্রাথমিকভাবে এই ধরনের ঘটনায় মানুষ তীব্র শোকে পতিত হয়। গ্রিফের পাঁচটা স্তর থাকে। denial, anger, bargaining, depression, and acceptance। যাকে সেবা দিতে চাচ্ছেন তিনি এখন কোন স্তরে আছেন তা আইডেন্টিফাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

শোকের ক্ষেত্রে ব্যক্তি তীব্র আবেগীয় অবস্থায় থাকেন। এই অবস্থায় তার ফ্রন্টাল লোব বা লজিক্যাল ব্রেইনের অংশটুকু খুব একটা ফাংশনাল থাকেনা। তাই অবশ্যই এই সময় তাকে ভালোমন্দ বুঝাতে যাবেন না।
তার ইমোশনাল ভ্যালিডেশন এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমন কোন কথা বলা বা কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন, যা তার ইমোশনাল এক্সপ্রেশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বা ইমোশনাল হওয়ার কারণে তাকে কোন গিল্ট দেয়। কেননা এর ফলে ব্যক্তি যে ইমোশোনকে সাপ্রেস করবে, তা তার মধ্যে দুঃস্বপ্ন, মেজাজের ভারসম্যহীনতা, ফাংশনালিটি কমিয়ে দেওয়ার মত বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে।

প্রশ্ন হল, তাহলে কি করা যেতে পারে?

এভাবে দেখতে পারেন ব্যাপারটাকে,
ইমোশনাল অ্যাক্সেপ্ট্যান্স( অর্থাৎ আমার মধ্যে যে একটা তীব্র আবেগীয় অবস্থা বিরাজ করছে তা মেনে নেওয়া) → ইমোশোনটাকে অ্যাড্রেস করা → হেলথি ওয়েতে চ্যানেল করা (এমন কিছু করা যা প্রাইমারীলি ব্যক্তির আবেগীয় অবস্থা থেকে কিছুটা ডিসট্রাকশন তৈরি করে এবং পরে আবেগীয় অবস্থাকে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ধরে না রেখে ডিসেন্ট্রালাইজ করে) → আবেগের তীব্রতাকে ধিরে ধিরে কমিয়ে আনা।

৩. নিহতের স্বজনদের মধ্যে যাদের সাথে বাচ্চার অ্যাটাচমেন্ট গভীর ছিল, তাদের মধ্যে বিষন্নতা কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে জীবনের প্রতি অনাগ্রহ দেখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে তার বিষন্নতার মাত্রা বুঝে আত্মহত্যার প্রবণতা আছে কিনা চেক করা গুরুত্বপূর্ণ।
আত্মহত্যা প্রবণতা থাকা ব্যক্তিকে তখনই ডিল করবেন যদি আপনার ক্রাইসিস ইন্টারভেনশনের দক্ষতা থাকে। সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এইড দিয়ে সুইসাইডাল ব্যক্তিকে সেবা দেওয়া যাবে না।

৪. Acute Stress Disorder ট্রমাটিক এক্সপেরিয়েন্সের পরপরই দেখা যেতে পারে, যা কমপক্ষে তিনদিন থেকে সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এক্ষেত্রে ঘনঘন মুড সুইং দেখা যায়, ফ্ল্যাশব্যাক, ডিসোশিয়েশন, ঘটনা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে যাওয়া, ঘুমের অসুবিধা, দুঃস্বপ্ন ইত্যাদি দেখা যায়।

৫. যদিও আমরা এই মুহূর্তে PTSD ডায়াগনোস করব না, কিন্তু কিছু ট্রমা রেসপন্স ব্যক্তির মধ্যে দেখা যাচ্ছে কিনা তা খেয়াল করা যেতে পারে-
-বারবার ঘটনার স্মৃতি মনে পড়া এবং একইরকম কষ্ট অনুভব করা
-ঘুমাতে না পারা বা ঘুমালে দুঃস্বপ্ন দেখা
-কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি/বস্তু/স্থান তীব্র ভীতি বা আবেগীয় অবস্থা সৃষ্টি করলে
-উক্ত ব্যক্তি/বস্তু/স্থান সর্বদা এড়িয়ে চলার প্রবণতা থাকলে
-হুটহাট যেকোনো সময় আবেগীয়ভাবে বর্তমান অবস্থা থেকে সেই ঘটনার সময়ে ফিরে গেলে
-অল্পতেই প্রচন্ড চমকে গেলে
-ভীষণ রাগ, বিরক্তি, মুড সুইং
-নিজের ব্যাপারে তীব্র নেতিবাচক মনোভাব
-কোন কিছু ইতিবাচক ভাবে নিতে না পারা বা কোন ইতিবাচক চিন্তা করতে না পারা
-নিজের জন্য ক্ষতিকর কাজ করা
-জীবনের প্রতি আগ্রহ হ্রাস পাওয়া
-সব সময় ফাইট অর ফ্লাইট মোডে থাকা

এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই দক্ষ চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী ব্যতিত অন্যান্য মানসিক সেবা প্রদানকারী ব্যক্তি সেবা না দেওয়া ভালো। কেননা এই ধরনের ইস্যু অ্যাড্রেস করতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

মাথায় রাখতে হবে যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ট্রমা রেসপন্স ডিল করা আর একজন শিশুর ট্রমা রেসপন্স ডিল করার প্রক্রিয়া ভিন্ন, তাদের ট্রমার রেসপন্স প্যাটার্নও ভিন্ন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, "Do No Harm" পলিসিটা মাথায় রাখা। অর্থাৎ, আমি উপকার করতে পারি বা না পারি, আমার মাধ্যমে কোন অপকার যেন না হয়।

*কি করা যাবেনা-

১. তুলনা করা
২. কপালের দোষ দেওয়া
৩. জাজ করা
৪. পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার জন্য নিজেকে বা অন্যকে জোর করা
৫. বারবার ব্যক্তির সামনে এ সংক্রান্ত বিষয় আলোচনা করা
৬. স্বাভাবিক আচরণ করতে বলা
৭. দীর্ঘ সময় ব্যক্তিকে একা ছেড়ে দেওয়া
৮. ক্ষতিকর অভ্যাস তৈরি বা নিজের জন্য ক্ষতিকর কাজকর্ম করা
৯. মেটা ফিজিক্যাল বিলিফ স্ট্রং হয় এমন কিছু বলা।

*মেটা ফিজিক্যাল বিলিফ হচ্ছে এমন কিছু ধারণা যা ফিজিক্যাল ওয়ার্ডের বিয়ন্ডে অবস্থান করে। ধরুন এই ঘটনার পর কারো কারো স্রষ্টার প্রতি তীব্র রাগ-ক্ষোভ কাজ করতে পারে। এই অবস্থায় এমন কিছুই বলা যাবেনা যা এই রাগকে বৃদ্ধি করে বা নতুন কোনো অ্যাঙ্গেল থেকে রাগ তৈরি করে। অনেকেই এই সময় ধর্মীয় জ্ঞান দিতে যান। এটা আত্মঘাতী চিন্তা। কেননা এমনটা প্রচুর দেখা যায় যে, এর ফলে ব্যক্তি অনুভব করে, তার কষ্টটাকে মিনিমাইজ করে দেখা হচ্ছে এবং সেটা সেই স্রষ্টারই নিয়মের কারণে, যিনি তাকে এই বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলেছেন। এতে করে অনেকেই স্রষ্টা বিমুখ হয়ে যান। এমনকি যারা ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা বলে সান্তনা দিতে যান তাদের প্রতিও ব্যক্তি ডিফেন্সিভ আচরণ করেন।

যেহেতু অনেককেই ধর্মীয় জ্ঞান থেকে সান্তনা দিতে দেখা যাচ্ছে, তাই হযরত আলী (রাঃ)-এর একটি কথা শেয়ার করছি।
"মানুষের মন সব সময় সব কথা ধারণ করার জন্য প্রস্তুত থাকেনা। তাই কাউকে উপদেশ দিতে গেলে তার বর্তমান অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে তা প্রদান করবে। কেননা, হতে পারে অন্যথায় সেটি তার মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক করবে এবং সে কথাটি শুনতে অনাগ্রহী হয়ে পড়বে।"

তীব্র কষ্টের সময় ব্যক্তির পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তাকে সাইকোলজিক্যাল অ্যাশিওরেন্স দেওয়ার জন্য যে, সে একা নয়। কিন্তু সারাক্ষণ তার সাথে কমিউনিকেট করতে চেষ্টা করা কিংবা তাকে স্বাভাবিক আচরণ করতে জোর করা অনুচিত। ব্যক্তিকে তার নিজস্ব ব্যথাগুলো প্রসেস করার পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। এবং মাথায় রাখতে হবে যে, এই সময়টুকু প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়।

সাইকোলজির কোনো কোর্স আছে কিনা যেটা করলে কাউন্সেলিং করানো যায়, এই প্রশ্নটা এত পেয়েছি যে, লেখার প্রয়োজন বোধ করলাম।সাইকোলজি...
07/07/2025

সাইকোলজির কোনো কোর্স আছে কিনা যেটা করলে কাউন্সেলিং করানো যায়, এই প্রশ্নটা এত পেয়েছি যে, লেখার প্রয়োজন বোধ করলাম।

সাইকোলজিক্যাল নলেজ থাকাটা যে কারো জন্যে ভালো। তবে উদ্দেশ্য ভেদে জ্ঞান অর্জনের ক্রাইটেরিয়া ভিন্ন হতে হতে পারে।
যদি নিজের মধ্যে ব্যাসিক সাইকোলজিক্যাল লিটারেসি বা অ্যাওয়ারনেস তৈরির উদ্দেশ্যে পড়াশোনার আগ্রহ থাকে, কিংবা নির্দিষ্ট অসুখ সম্পর্কে ভালো করে বুঝার ইচ্ছা থাকে, তাহলে ডিজঅর্ডার বেইজড বিভিন্ন সেল্ফ হেল্প বুক এ্যাভেইলেবল আছে, সেগুলো ফলো করা যেতে পারে। এগুলো ওয়ার্কবুক নামে এ্যাভেইলেবল। যেমন OCD workbook, PTSD workbook।

যদি সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশানের আগ্রহ থাকে তবে বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে ভলান্টারি কাজ করা যেতে পারে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এটা প্রেফার করি। কেননা আমার মতে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের কোনো শর্টকাট নাই। আপনাকে একটু একটু করে শিখতে হবে, নিজের চেষ্টায়, অন্যদের মেন্টরিংয়ে, যারা অভিজ্ঞ তাদের অর্জিত জ্ঞান থেকে। এজন্য এক্সপেরিয়েন্সড মানুষের সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করার উচিৎ কেবল থিওরিটিক্যাল নলেজের উপর নির্ভর না করে।
আপনি হাসপাতালে যাবেন, বই পড়বেন, ভলান্টারি কাজ করবেন, কোন ভালো প্রফেশনালের অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজ করার সুযোগ থাকলে করার চেষ্টা করবেন, বিভিন্ন কোর্স, সেমিনার, ওয়ার্কশপ অ্যাটেন্ড করবেন, এবং কনসিস্টেন্ট থাকবেন। আশা করা যায় সময়ের সাথে একটা ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং ডেভেলপ করবেন। এর কোনোটাই কম গুরুত্বপূর্ণ না।

এখন আসি নন-সাইকোলজি ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষের সাইকোথেরাপি বা কাউন্সেলিং দেওয়ার ব্যাপারে।
আমাকে এক কথায় যদি জিজ্ঞেস করেন,
এটা সম্ভব কিনা?
হ্যাঁ।
আপনি ব্যাপারটাকে ফিজিবল মনে করেন কিনা?
না।
কেন?
কারণ মানুষ হিসেবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এই সীমাবদ্ধতাগুলো আছে বলেই, এম্প্যাথি, অ্যাক্টিভ লিসেনিং, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স, ননজাজমেন্টাল হওয়া, সল্যুশন ফোকাসড চিন্তা করা, ইমোশনাল রেগুলেশন স্কিলের মত বিভিন্ন সুক্ষ্ম জিনিস আমাদেরকে সচেতন ভাবে শিখতে হয়। কেবল শেখা যথেষ্ট হয়না, শিখে সেটাকে প্র‍্যাকটিস করতে হয়, অ্যাডাপ্ট করতে হয়, এই মাইন্ডসেটে কনসিস্টেন্ট থাকতে হয়। নাহলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রফেশনাল বাউন্ডারি মেইনটেইন করা সম্ভব হয় না।
আমার মনে হয় এখানে সততার অনেক বড় একটা জায়গা আছে যা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে যদি ব্যক্তির ব্যাসিক নলেজ আর প্রফেশনাল যথাযথ আন্ডারস্ট্যান্ডিং না থাকে। তো, সব মিলে এটা একটা কঠিন জার্নি সাইকোলজি ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিদের জন্যেই। সেখানে অন্যদের জন্য ব্যাপারটা আরো কঠিন হয়ে পড়ে।

তথাপি, যদি চাই তবে এই প্রপার আন্ডারস্ট্যান্ডিং কিভাবে ডেভেলপ করব?

আমাদের মনটা হুট করে নতুন নিয়মে চলা শুরু করতে পারেনা। একে প্রপার নলেজ দিতে হয়, সেটা তার লজিক্যালি এক্সেপ্ট করতে হয়, ব্যাপারটায় অভ্যস্ত হতে নিয়মিত চর্চা করতে হয়, এতে বেশ সময় লাগে। ব্রেইনকে এই সময়টা দিতে হয়।
সোশিওকালচারাল, এনভায়রনমেন্টাল কিংবা জেনেটিক কারণে মানুষ হিসাবে আমরা নানা রকম ম্যালাডেপ্টিভ হ্যাবিট, স্কিমা, কন্সট্রাক্ট, কোপিং বা মিথ বহন করি। এগুলোকে ধিরে ধিরে রিফ্রেইম করতে হয়। এগুলো হুট করে পরিবর্তন করা যায় না। এগুলো বর্তমান থাকলে এবং এসবের ব্যাপারে ব্যক্তির প্রপার অ্যাওয়ারনেস না থাকলে ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পারেন না তিনি যে অন্যকে জাজ করছেন।
পাশাপাশি নিজের ভার্নারেবিলিটি আইডেন্টিফাই করে সেগুলোকে আগে প্রসেস না করে অন্যকে সেবা দিতে গেলে কখনো কখনো ব্যক্তির নিজের ডিপার ক্রাইসিস উন্মুক্ত হয়ে জটিলতা তৈরি হয়৷
এইগুলো নিয়ে কাজ করা এবং থিওরিটিক্যাল জ্ঞান অর্জন, পাশাপাশি প্র‍্যাকটিস করা এবং যথাযথ দক্ষতা অর্জনের আগপর্যন্ত সুপারভিশনে থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তাই পর্যায়ক্রমে ধাপগুলো অতিক্রম করে আসতে পারলে খুব ভালো হয়।
ধাপগুলো হচ্ছে, সাইকোলজির ব্যাসিক সম্পর্কে স্ট্রং থিওরিটিক্যাল নলেজ, কনসেপ্ট বুঝার জন্য ভালো মেন্টর (যদি সম্ভব হয়), সাইকোথেরাপিউটিক মেথড/কাউন্সেলিং মেথড সম্পর্কে পর্যাপ্ত ট্রেইনিং, একজন এক্সপার্টের রেগুলার সুপারভিশনে থেকে ক্লায়েন্ট দেখার পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা অর্জন (অন্তত এক বছর)। এসবে মোটামুটি কম হলেও ৫/৭ বছর লাগার কথা।

আরেকটি প্রশ্ন ছিল ইসলামিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যাপারে। দেখুন, ধর্মীয় কাউন্সেলিং বিশ্বে নানা জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশেও বিশাল সংখ্যক মানুষের এই চাহিদা আছে। সে হিসাবে এটা বেশ গুরুত্ব পাওয়ার মত এরিয়া। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে আমার যা অভিজ্ঞতা, তাতে ধর্মীয় বিশ্বাসকে উপজীব্য করে কাউন্সেলিং করানো আর ধর্মীয় গুরু হিসাবে আদেশ-উপদেশ, বুদ্ধি-পরামর্শ দেওয়ার তফাৎ করতে পারেন না। সাইকোলজিস্টের একটা অনেক বড় গুণ হল, তিনি নিজেকে কখনো ক্লায়েন্টের তুলনায় সুপিরিয়র পজিশনে আছেন বলে ভাবেন না। ভাবলে তা ব্যক্তির সাবকনশাস মাইন্ড ঠিকই তা রিড করতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় কাউন্সেলিং যারা দিচ্ছেন বাংলাদেশে, তাদের অধিকাংশের মধ্যে এই ব্যাপারটা নেই।
এবং অনেকেই মনে করেন, এত বছর না পড়াশোনা করলেও হয়। ধর্ম সম্পর্কে সলিড নলেজ থাকলেই কাউন্সেলিংয়ের কিছু শর্ট কোর্স করে রিলিজিয়াস কাউন্সেলর হওয়া যায়।
এ ব্যাপারে আমার মন্তব্য নেই। কেননা আমার স্বল্প জ্ঞানে আমি বুঝি যে, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, ক্লিনিক্যাল আই ডেভেলপ হওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নেই।
এবং আমি কোন ব্যক্তিকে সেবা নেওয়ার জন্য প্রথমে একজন অভিজ্ঞ পেশাদার মনোবিজ্ঞানীই রেকমেন্ড করব।

30/05/2025

কয়েকটা ইনসাইট শেয়ার করি।

১. একজন সেশন শেষে সেশন এক্সপেকটেশন ফুলফিল হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে বললেন, "আমি খুব কৃতজ্ঞ মানুষ। আপনি আমাকে যেভাবে সময় দিয়ে শুনেছেন আমি সারাজীবন আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। বারো বছর ধরে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা করাচ্ছি কিন্তু কেউ ঠিকমতো কথা শুনতে চায় না। কেউ কথা শেষ করতে দিতে চায় না।"
বাংলাদেশের মানুষের সাথে মোটাদাগে র‍্যাপো বিল্ড করা খুব কঠিন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা চান ননজাজমেন্টালি heard and accepted ফিল করতে।

২. বাংলাদেশের বিবাহযোগ্য এবং বিবাহিত পুত্র সন্তানদের মায়েদের মেন্টাল স্টেট নিয়ে সিরিয়াসলি স্টাডি হওয়া দরকার। যে সময় আমরা ফ্রয়েড পড়ছি তখনো এতটা ফ্রয়েডের থিওরি এক্সেপ্ট করতে পারিনাই যতটা এখন কেস হিস্ট্রি নেওয়ার পর এক্সেপ্ট করতে হচ্ছে। কিছু কিছু হিস্ট্রিতে মায়েরা এতটা সাইকোটিক পর্যায়ে চলে যান যে, আসলেই পুত্রদের সংসার বাঁচানো দুরূহ হয়ে যায়।

৩. মনোবিজ্ঞানীর কাজ ডিভোর্স করানো না। মনোবিজ্ঞানীর কাজ সংসার বাঁচানোও না। মনোবিজ্ঞানীর কাজ হল আপনার অবস্থান থেকে কোন সিদ্ধান্তটা সার্বিকভাবে কল্যাণকর সে সিদ্ধান্তে আসতে পারার জন্য যেসব ইনসাইট, ডিসিশন মেকিং স্কিল আর কমিউনিকেশন স্কিল আপনার প্রয়োজন সেসব নিয়ে কাজ করে আপনাকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে আসা যেন আপনি নিজেই সম্পর্কের ডায়নামিক্স গুলো বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

৪. মনোবিজ্ঞানী আপনার অসুখ ভালো করার কমিটমেন্ট দেন না। আপনার সমস্যার সমাধান করে দেন না। তিনি আপনার অসুস্থতার মাত্রা বুঝে প্রয়োজনীয় করনীয় নির্ধারণে সহায়তা করেন, যা অনুসরণ করে বা থেরাপিস্টের সাথে কোলাবোরেটিভলি কাজ করার মাধ্যমে আপনি আগের তুলনায় প্রোডাক্টিভ আর ফাংশনাল হতে পারেন এবং অসুস্থতার মাত্রা ধিরে ধিরে ম্যানেজেবল মাত্রায় আসে বা অন্তত আগের চেয়ে খারাপের দিকে না যায়।

30/05/2025
I'll be facilitating a session on "Understanding Mental Health and Recognising Warning Signs to Prevent Su***de" at MBST...
20/05/2025

I'll be facilitating a session on "Understanding Mental Health and Recognising Warning Signs to Prevent Su***de" at MBSTU tomorrow. This seminar will be open for all MBSTU students and staffs.

MOU signing ceremony between Family Aid  and legal, shariah and mental health professionals. This would be my first MOU ...
13/05/2025

MOU signing ceremony between Family Aid and legal, shariah and mental health professionals.
This would be my first MOU with any organisation. I'm honored and looking forward to an impactful journey.

পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ়করণ এবং সুরক্ষা ব্যবস্থাকে জোরদার করার প্রচেষ্টা চালানোর জন্য দেশব্যাপী বহুমুখী কার্যক.....

এক সময় মনে করা হতো, শিশুরা জন্মায় ব্ল্যাংক ব্রেইন নিয়ে। কিন্তু দীর্ঘ গবেষণার পর জানা গেল শরীর যেমন জেনেটিক্যালি ক্যারি ক...
03/05/2025

এক সময় মনে করা হতো, শিশুরা জন্মায় ব্ল্যাংক ব্রেইন নিয়ে। কিন্তু দীর্ঘ গবেষণার পর জানা গেল শরীর যেমন জেনেটিক্যালি ক্যারি করে নানা বৈশিষ্ট্য আর অসুখ, তেমনি ক্যারি করতে পারে অভ্যাস, দক্ষতা, স্বভাব। বলা হয়ে থাকে ভয় আমরা ক্যারি করি সেই আদিম যুগ থেকে, যখন আমাদের পূর্বপুরুষেরা থাকতেন গুহায়। যখন অন্ধকার হয়ে আসলেই নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হতো কারণ অন্ধকারে যে প্রাণীরা বেরিয়ে আসে তাদের কাছ থেকে আত্মরক্ষার উপায় সে মানুষদের ছিল না।
ভয়ের মতই, অনেক আবেগ, অভ্যাস বা দক্ষতা আমরা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে নিয়ে আসি। অনেকেই দেখা যায় চমৎকার রান্না করেন, হয়তো অতটা শ্রমও তিনি দেননি রান্না শেখার ক্ষেত্রে। কথায় কথায় জানা গেল তার মা আর নানীও চমৎকার রান্না জানতেন। অথবা কেউ গণিতে তুখোড়, এমন হয় যে, তার পিতা বা মাতা গণিতে ভালো ছিলেন। ভালো গুণ ক্যারি করে আনাটা দারুণ! কিন্তু ক্ষতিকর বা খারাপ কিছু হলে?
মানুষ তার ডিএনএ-র ২৩ জোড়া ক্রোমোজমের অর্ধেক পায় পিতার দিক থেকে, অর্ধেক মায়ের কাছ থেকে। এর মধ্যে থাকা জিন বাবা ও মায়ের দিক থেকে কত কি বহন করে আনতে পারে তার গবেষণার শেষ নেই, তবে এতটুকু জানা যায় যে, মানুষ এমনকি স্মৃতিও বহন করে আনতে পারে জিনের মধ্যে। ফ্যাসিনেটিং না?
এই বহন করে আনা বিষয় গুলো মানুষের জন্ম পরবর্তী ধাপগুলোর মধ্যে একটা প্রভাব রেখে যায়। মানুষের স্কিমা, বায়াস, কোর বিলিফ ডেভেলপের ক্ষেত্রে যে লার্নিং প্রসেসগুলো কাজ করে, তা জেনেটিক প্রভাব মুক্ত এমনটা ভাবার কিন্তু অবকাশ নেই।

এবার আসি মূল কথায়, আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার প্রভাব আমরা জীবন জুড়ে বয়ে বেড়াই। একটা মৃত্যু, বড় দুর্ঘটনা, অপারেশন, অস্থিতিশীলতা, প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বিপর্যয়, ট্রমা, অ্যাবিউজ, কমপ্লেক্স রিলেশনশিপ বা বন্ডিং সহ অজস্র জিনিসের দ্বারা আমরা প্রভাবিত হই। এবং এগুলো থেকে কিভাবে কোপ করছি সেটার একটা ইমপ্যাক্ট আমাদের জীবনে থেকে যায়। অর্থাৎ, আমরা হেলথি কোপিং স্ট্রাটেজি ফলো করছি নাকি আনহেলদি, সেটারও কনসিকোয়েন্স আছে। যেমন, একবার পানিতে পড়ে মরতে বসেছিলেন বলে আপনার লার্নিং হল, পানি আপনার জীবনের জন্য বিপদজনক। এই লার্নিং অনুসারে পানিকে এড়িয়ে চলা আপনাকে পানিতে পড়ে মারা যাওয়া থেকে বাঁচাবে ঠিকই, কিন্তু আপনার বাকি জীবনে অসংখ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কোন কোপিংটা আপনার জন্য ভালো, কেন ভালো, কিভাবে সেটা অ্যাডাপ্ট করা যায় এই জায়গায় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট কাজ করেন।
আর, এই যে ঘটনাগুলোর প্রভাব আমরা জীবন জুড়ে বয়ে বেড়াই তা থেকে যদি রিকভার না করি তাহলে? তাহলে সেটা সে অবস্থায়ই আমি আমার পরবর্তী জেনারেশনে পাস করে দিচ্ছি৷ অর্থাৎ, যে লড়াই আপনি এড়িয়ে গেলেন, সেটা আপনার সন্তানকে আপনি পাস করে দিলেন। জেনেটিক্যালি সে এটা পেল এবং সে যদি এটাকে ফেস না করে তবে সেও তার পরবর্তী জেনারেশনে এটা পাস করল। আপনার আত্মবিশ্বাসহীনতা, ভয়, জড়তা, ট্রমা, সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ, রিলেশনশিপ ইস্যু, প্যারেন্টিং ইস্যু, এ্যাটাচমেন্ট ইস্যু আপনি প্রপারলি প্রসেস না করলে সেটায় কেবল আপনি একাই কষ্ট পাবেন তা নয়, সেটার প্রভাব আপনার জিনে, আপনার আচরণে, আপনার স্বভাবে আর অটোনমিক রিফ্লেক্সে থেকে যাবে এবং ট্রান্সফার হবে আপনার সন্তানের মধ্যে।
তাই আপনার অভ্যন্তরীণ ইস্যু গুলো নিয়ে কাজ করুন। আপনার লড়াইটা আপনার সন্তানের জন্য রেখে দিয়েন না। নিজে কাজ করুন কিংবা এক্সপার্টের হেল্প নিন, কিন্তু কাজ করুন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যদি কিছু করতে চান এটা একটা ভালো উপায়।
আর জেনেটিক কোডিংয়ের একটা মজার ব্যাপার আছে যেটা আশাব্যঞ্জক। জিনে যেহেতু মিউটেশন ঘটতে থাকে তাই একটা নির্দিষ্ট সময় পর কিছু পরিবর্তন আসে। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বা লাইফস্টাইল মেইনটেইন করলে এক সময়কার আনহেলদি লাইফস্টাইলের ইমপ্যাক্ট ধিরে ধিরে জিন থেকে মুছে যাবে। ফলে এরপর যে সন্তান জন্মাবে তার মধ্যে আনহেলদি জিন ট্রান্সফার হওয়ার সম্ভাবনা না থাকারই কথা। আমি যেহেতু জিনতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করিনি তাই নিশ্চিত করে অনেক তথ্য দিতে পারছিনা।
একটা ভিডিও শেয়ার করছি কমেন্টে, যাতে অল্প কথায় এই পোস্টের অনেকটাই ভদ্রমহিলা বলেছেন।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সুমাইয়া তাসনিম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share