19/10/2025
স্থূলতা এখন শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যা
স্থূলতা বা ওবেসিটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত চর্বি জমে। এর ফলে শরীরের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়, দেখা দেয় নানা জটিল রোগ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ থেকে শুরু করে আয়ু হ্রাস—সবকিছুর পেছনে স্থূলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৮০ কোটি মানুষ স্থূলতায় ভুগছেন। স্থূলতাজনিত কারণে প্রতিবছর তাদের সম্মিলিত ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, মোটা মানুষদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি অন্তত দ্বিগুণ। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ২০৩০ সালের মধ্যে শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশে যদিও স্থূলতার হার তুলনামূলকভাবে কম, তবে অতিরিক্ত ওজনের মানুষের সংখ্যা মোটেও কম নয়।
স্থূলতার প্রধান কারণসমূহ:
১. অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ: প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া বা বারবার তৈলাক্ত ও মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া।
২. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: আধুনিক জীবনযাত্রায় কায়িক শ্রম কমে যাওয়ায় শরীরে চর্বি জমে।
৩. জিনগত প্রভাব: অনেক ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও স্থূলতা দেখা দেয়।
ওজন কমানোর কার্যকর উপায়:
ওজন কমাতে তাড়াহুড়া নয়, বরং ধীরে ধীরে অভ্যাস পরিবর্তনই সফলতার চাবিকাঠি।
• অতিরিক্ত তাড়াহুড়া নয়: দ্রুত ওজন কমালে শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং পরবর্তীতে ওজন আবার বেড়ে যেতে পারে।
• ছোট পরিবর্তন আনুন: প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে একটি ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন—যেমন প্রতিদিন একটি ফল খাওয়া বা নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ।
• কম ক্যালরিযুক্ত খাবার: খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, কাঁচা টক ফল ও কম চর্বিযুক্ত খাবার বেশি রাখুন।
• চিনি ও তৈলাক্ত খাবার কমান: মিষ্টি, ডেজার্ট, পোলাও, বিরিয়ানি, মোগলাই ও কাবাবজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
• নিয়মিত ব্যায়াম করুন: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট জোরে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দিনে মোট ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
স্থূলতা এখন বিশ্বব্যাপী একটি মহামারির রূপ নিচ্ছে। সচেতন খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম জীবনযাপনই এই সমস্যার কার্যকর সমাধান।
মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্যই সর্বোচ্চ সম্পদ — অতএব, সুস্থ থাকতে আজ থেকেই সচেতন হোন।
#স্থূলতা