03/04/2026
এই নিশি লগ্নে এক কিসিম অনন্যোপায় হইয়া ভাবিতেছি কিসের নিমিত্তে শখ আহ্লাদ ত্যাগ করিয়া দৌড়াইতেছি। শুনিয়াছি সারদায় কিংবা বিএমএতে যেই দৌড়খানা দেওয়ানো হয় তাহাতে ঐ ক্লেশকর শরীরে পেশী আস্ত থাকে না। আমি তো তাহার তুলনায় খুবই আরামপ্রিয়। দুবেলা আহার্য জুটিলে আর ঘুরিয়া ফিরিবার খানিক সাধ মিটিলে সাঙ্গুর জলের পাশে বসিয়া পা ভিজাইয়াই এই সকল পূর্ণিমা পার করিয়া দিতে পারি।
ভালো কথা স্মরণ হইলো, কাল পূর্ণিমাই ছিলো। খাইতে বাইর হইয়াছিলাম কিছুক্ষণ পূর্বে। ঝলসানো রুটির রঙে ঐ বেটা যেমনে বসিয়া মোহাচ্ছন্ন করিয়াছে সব, আমি না পাছে পা মচকাইয়া কোথায় পড়িয়াই যাইতাম।
আমার সহকর্মী কাম বড় ভ্রাতার ডায়াবেটিস। তাহার সহিত গরম স্যাকা নান রুটি দিয়া রাত্রির কাজ সারিয়া দিলাম। রুটি, আসমানের সুধাকর, আর থেথে এই তিনজনের দারুণ সামঞ্জস্য রহিয়াছে। শ্বেত শুভ্র, গোলগাল কি গুলুগুলু। 'থেথে' আমার গতকালের রোগী তথা অতিথি। বয়স বলিতে এগারো মাস হইবে। একখানা ছবি তুলিয়া রাখা দরকার ছিলো। কোলে লইয়াছিলাম কিন্তু এই অপরূপা কোরিয়ান পুতুলখানা মাম মাম করিতে করিতে তাহার জননীর নিকটই ন্যস্ত হইলো। আমার সুযোগ হইলে ওরে তুলিয়া নিয়া আসিতাম
সাঙ্গুর জলে চন্দ্রালোক প্রতিফলিত হইতেছে। বর্ষায় ফুলিয়া ফাঁপিয়া উঠিবে। নৌকার তলা আর মাটিতে বিঁধিবে না। এইটুকু কি খুশি হইবার জন্যে যথেষ্ট নহে?