16/11/2022
ওজন কমানোর ওষুধগুলি কতোটা নিরাপদ?
আপনি যদি অতিরিক্ত মোটা হয়ে যান, তাহলে ডাক্তার আপনাকে ওজন কমানোর ওষুধ দেবে। এমন ক্ষেত্রে সেই ওষুধ খাওয়া অবশ্যই নিরাপদ। কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণীর ওষুধের প্রতি স্টিগমা থাকাটা অযৌক্তিক। কেননা, পৃথিবীতে কোনো ওষুধই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া আবিষ্কার করা যায়নি। পৃথিবীর প্রতিটি ওষুধই প্রকৃতিবিরুদ্ধ। জেনেটিক পর্যায়ে রোগ সারানোর পদ্ধতি যতদিন না প্রচলিত হচ্ছে, ততদিন এটা সত্য। ওজন কমানোর ওষুধও এর ব্যতিক্রম নয়।
বরং বর্তমানে প্রচলিত ওজন কমানোর ওষুধগুলো কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন (এই উত্তরটা ১ বছর পরেই আপডেট করতে হবে):
খাবারে রুচি কমিয়ে। রুচি কমলে রুগীর খাদ্যগ্রহণ কমে যায়। উদাহরণ: ক্যাটেকোলামিন রিলিজিং এজেন্ট (Catecholamine releasing agents) যেমন: amphetamine, phentermine, ও amphetamines এর মতো রাসায়নিকগুলো (bupropion)।
রোগীর পরিপাক ও বিপাক ক্রিয়ার হার বাড়িয়ে।
কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি-উপাদান নেয়া হতে শরীরকে বাধা দেয়া। যেমন, Orlistat পাকস্থলী ও অন্ত্রে ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় খাদ্যকে ভাঙতে দেয় না। ফলে স্নেহজাতীয় খাদ্য হজম হয় না। ফ্যাট হজম না হলে মোটা হওয়া প্রতিরোধ করা যায়। আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে ফাইবার জাতীয় খাবার, যেমন: glucomannan আর guar gum। খাবারে ফাইবারে পরিমাণ বেশি থাকলে আপনি বেশি ক্যালরি গ্রহণ করতে পারবেন না, এটাই নিয়ম।
তবে, মোটা হওয়া কমানোর জন্য নিয়মিত হাঁটা, নিয়মিত ব্যায়াম, প্রাকৃতিক ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া, খাবার দাবারে সংযম আনা (ফ্যাট কম খাওয়া) ইত্যাদি মেনে চলা ওষুধ খাবার চেয়ে ভালো। তবে উপায় না থাকলে, ওষুধের বিকল্প নেই।
এসমস্ত কথা যারা শখ করে ওজন কমাতে চান (সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের অনুকরণে), তাদের জন্য না!