27/04/2026
বাংলাদেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ এবং শিশু মৃত্যুর হার বাড়ার খবরটি অত্যন্ত উদ্বেগের। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের অনেকগুলো জেলায় এটি ছড়িয়ে পড়েছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, তবে সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে এটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য।
হাম থেকে শিশুকে রক্ষা করতে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে গুরুত্বপূর্ণ করণীয়গুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
১. টিকা প্রদান (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো টিকা।
* **নিয়মিত টিকা:** সরকারি টিকাদান কর্মসূচি (EPI) অনুযায়ী শিশুকে ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ (হাম-রুবেলা বা MR টিকা) অবশ্যই দিতে হবে।
* **জরুরি ক্যাম্পেইন (২০২৬):** বর্তমান মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার আগামী **৩ মে ২০২৬** থেকে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। ১২ এপ্রিল থেকে ইতিমধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন, বরিশাল ও ময়মনসিংহে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আপনার শিশু যদি আগে টিকা দিয়েও থাকে, তবুও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে তাকে টিকা দিন।
* **টিকানির্ভরতা:** গবেষণায় দেখা গেছে, মৃত শিশুদের একটি বড় অংশই ছিল টিকাহীন। তাই টিকা নিতে অবহেলা করবেন না।
২. আক্রান্ত শিশুর পরিচর্যা ও আইসোলেশন
যদি কোনো শিশু হামে আক্রান্ত হয়, তবে সংক্রমণ রোধে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:
* **আলাদা রাখা:** আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন অন্য শিশুদের থেকে আলাদা (আইসোলেশন) রাখুন।
* **স্কুলে না পাঠানো:** সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে স্কুল বা বাইরে খেলতে পাঠাবেন না, কারণ আক্রান্ত শিশুর কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়ায়।
* **পরিচ্ছন্নতা:** শিশুর ব্যবহৃত কাপড়, বিছানা আলাদা রাখুন এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন।
৩. পুষ্টি ও চিকিৎসা
* **ভিটামিন এ (Vitamin A):** হাম হলে শিশুর শরীরে ভিটামিন এ-র স্বল্পতা দেখা দিতে পারে, যা থেকে অন্ধত্ব বা জটিলতা হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান।
* **পর্যাপ্ত তরল খাবার:** শিশুকে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন ও পুষ্টিকর তরল খাবার দিন যাতে পানিশূন্যতা না হয়।
* **জ্বর ও পুষ্টি:** জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল দিন এবং শিশুকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর খাবার (যেমন- ডিম, দুধ, খিচুড়ি) দিন।
৪. কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
হামের সাধারণ উপসর্গের বাইরে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে:
* অতিরিক্ত জ্বর না কমা।
* শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া (নিউমোনিয়ার লক্ষণ)।
* কান দিয়ে পুঁজ পড়া বা কানে ব্যথা।
* মারাত্মক ডায়রিয়া বা শরীর খুব দুর্বল হয়ে যাওয়া।
* চোখ লাল হওয়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়া।
৫. জনসচেতনতা
* আপনার এলাকায় কোনো শিশু হামে আক্রান্ত হলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খবর দিন।
* গুজবে কান দেবেন না; হামের জন্য ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজি চিকিৎসা না করে সরাসরি রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
হাম কোনো সাধারণ রোগ নয়, এটি শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই আপনার শিশুকে টিকা নিশ্চিত করুন এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করুন। আপনার শিশুর বয়স যদি ৫ বছরের নিচে হয় এবং সে কোনো ডোজ মিস করে থাকে, তবে দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।