14/02/2026
পিরিয়ডের সময় কেন ব্যথা হয়?
পিরিয়ডের ব্যথার মূল কারণ হলো জরায়ুর পেশির সংকোচন। এর পেছনে প্রধানত নিচের বিষয়গুলো কাজ করে:
• প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন (Prostaglandins): পিরিয়ডের সময় জরায়ুর আস্তরণ থেকে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক এক ধরণের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন জরায়ুর পেশিকে সংকুচিত হতে সাহায্য করে যাতে রক্ত শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। যার শরীরে এই হরমোনের মাত্রা যত বেশি, তার ব্যথা তত তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
• রক্ত সঞ্চালনে বাধা: জরায়ু যখন খুব জোরে সংকুচিত হয়, তখন এটি আশেপাশের রক্তনালীগুলোকে চেপে ধরে। ফলে জরায়ুর টিস্যুতে সাময়িকভাবে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা ব্যথার সৃষ্টি করে।
• অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা: কখনও কখনও এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis) বা জরায়ুতে টিউমার (Fibroids)-এর মতো সমস্যার কারণেও অস্বাভাবিক ব্যথা হতে পারে।
পিরিয়ড ব্যথার কার্যকরী প্রতিকার
ব্যথা কমাতে আপনি নিচের ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
১. গরম সেঁক (Heat Therapy)
তলপেটে গরম পানির ব্যাগ বা হট ওয়াটার বোতল দিয়ে সেঁক দিলে জরায়ুর পেশি শিথিল হয় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এটি ব্যথানাশক ওষুধের মতোই কার্যকর হতে পারে।
২. আদা চা বা ভেষজ পানীয়
আদা প্রাকৃতিকভাবে প্রদাহরোধী। এক কাপ গরম আদা চা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া দারুচিনি বা মেথি ভেজানো পানি খেলেও আরাম পাওয়া যায়।
৩. হালকা ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং
তীব্র ব্যথার সময় ভারী কাজ না করলেও হালকা হাঁটাচলা বা যোগব্যায়াম করলে শরীরে এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে ব্যথা কমায়।
৪. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
• ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম: পিরিয়ডের সময় কলা, বাদাম এবং ডার্ক চকোলেট খেতে পারেন। এগুলোতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম পেশির টান কমায়।
• লবণ ও ক্যাফেইন বর্জন: অতিরিক্ত লবণ পানি ধরে রাখে যা পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি বাড়ায়। এছাড়া কফি বা ক্যাফেইন রক্তনালীকে সংকুচিত করে ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
৫. সঠিক ভঙ্গিতে ঘুমানো
বালিশের ওপর পা তুলে বা 'ফেটাল পজিশনে' (ভ্রূণের মতো গুটিসুটি হয়ে) শুলে পেটের পেশির ওপর চাপ কম পড়ে, যা ঘুমানোর সময় আরাম দেয়।