Dr. Md. Anas Sarkar

Dr. Md. Anas Sarkar Holistic Healer | Homeopathic Physician | Patient-Centered Approach | Chronic & Complex Case Specialist | Empowering Health Naturally

বাংলাদেশে শীতকাল এলেই বা মৌসুম পরিবর্তনের সাথে সাথে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি ঝরা, চোখে চুলকানি—এসব সমস্যা যেন অনেকের নিত্যসঙ...
18/11/2025

বাংলাদেশে শীতকাল এলেই বা মৌসুম পরিবর্তনের সাথে সাথে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি ঝরা, চোখে চুলকানি—এসব সমস্যা যেন অনেকের নিত্যসঙ্গী। অনেকেই মনে করেন এটি সাধারণ ঠান্ডা, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর নেপথ্যে থাকে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস—একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু উপেক্ষিত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা।

আমি ডা. আনাস সরকার, একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে নিয়মিত এমন রোগীদের দেখি—যারা বহু বছর ধরে অ্যান্টিহিস্টামিন ও নাকের স্প্রে ব্যবহার করে ক্লান্ত, কিন্তু স্থায়ী সমাধান পাচ্ছেন না।

এই আর্টিকেলে জানুন—অ্যালার্জিক রাইনাইটিস আসলে কী, কেন হয়, শীতকালে কেন বাড়ে, কেন এটি স্থায়ীভাবে ভালো হয় না, এবং হোমিওপ্যাথিতে কীভাবে এর মূল কারণভিত্তিক স্থায়ী চিকিৎসা সম্ভব।

✅অ্যালার্জিক রাইনাইটিস কী?
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হলো নাকের ভিতরের মিউকোসাতে অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে সৃষ্ট প্রদাহ। সাধারণভাবে এটি হে-ফিভার নামে পরিচিত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি সাধারণ ঠান্ডা নয়।

এই অসুখে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) নিরীহ কণাকে(এমন জিনিস যা স্বাভাবিকভাবে মানুষের শরীরের কোনও ক্ষতি করার কথা নয়) বিপজ্জনক মনে করে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়।

ফলাফল—হাঁচি, নাক দিয়ে পানি ঝরা, চোখ-নাক চুলকানো, নাক বন্ধ হওয়া, মাথা ব্যথা ইত্যাদি দেখা দেয়।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০–৩০% মানুষ এ অসুখে ভোগে। বাংলাদেশেও এর হার দ্রুত বাড়ছে, এর বিশেষ করে—
▪️বায়ুদূষণ
▪️ধুলোবালি
▪️পোষা প্রাণী
▪️সিগারেট ধোঁয়া
▪️রাসায়নিক গন্ধ
▪️আবহাওয়ার পরিবর্তন
এর কারণে সমস্যাটি আরও বেড়ে যাচ্ছে।

✅অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ধরন:
১. মৌসুমি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস / Seasonal Allergic Rhinitis (SAR)
যারা পরাগ, আগাছা, ঘাস, নির্দিষ্ট গাছপালার কারণে অ্যালার্জি হয়ে থাকে—তাদের সাধারণত নির্দিষ্ট ঋতুতে সমস্যা বেড়ে যায়।

২. সারা-বছর-ব্যাপী অ্যালার্জিক রাইনাইটিস / Perennial Allergic Rhinitis (PAR)
এটি বছরের ১২ মাসই হতে পারে—কারণ ডাস্ট মাইট (ধুলার ক্ষুদ্র পোকা), স্যাঁতসেঁতে ঘরের ছত্রাক, পশুর লোম, বালিশ–ঘরের কাপড়ের ফাইবার, পারফিউম/সুগন্ধি, কেমিক্যাল, রুম ফ্রেশনার, পুরোনো বাড়ির ধুলা ইত্যাদি জিনিস গুলোর প্রতি যাদের ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায় তাদের সারা-বছর-ব্যাপী অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের সমস্যায় ভুগে থাকেন।

৩. পেশাগত অ্যালার্জিক রাইনাইটিস / Occupational Allergic Rhinitis (OAR)
যারা কর্মস্থলের পরিবেশে কিছু নির্দিষ্ট কেমিক্যাল বা ধুলার সংস্পর্শে আসে—তাদের এই ধরনের অ্যালার্জি হয়।

যেমন: (লন্ড্রি/গার্মেন্টস কর্মী, সিমেন্ট/টাইলস মিস্ত্রি, কাঠের কাজের কারিগর, বিউটি পার্লারের কর্মী, ল্যাবরেটরিতে রাসায়নিক নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি, কৃষক (ধান-গমের ধুলা) )

✅অ্যালার্জিক রাইনাইটিস কেন হয়?
অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের মূল কারণ হলো ইমিউন সিস্টেমের ভুল প্রতিক্রিয়া।
নিরীহ কণাকে (ধূলা, ডাস্ট মাইট, গাছের ফুল, ঘাস, গাছপালার পরাগ রেণু, বিড়াল/কুকুরের লোম, বাতাসে থাকা ছত্রাক বা ফাঙ্গাসের খুব ক্ষুদ্র কণা, তীব্র গন্ধ_যেমন:পারফিউম, স্প্রে, রুম ফ্রেশনার, সিগারেটের ধোঁয়া) শরীর “বিপদ” মনে করে। এতে শরীর Histamine, Leukotrienes ইত্যাদি রাসায়নিক নিঃসরণ করে।

ফলাফল—নাক ফুলে যায়, হাঁচি শুরু হয়, পানি পড়ে, চোখ লাল হয়, চুলকায়।

✅অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের প্রধান লক্ষণ:
✔ প্রাথমিক লক্ষণ
▪️একের পর এক হাঁচি
▪️নাক দিয়ে পরিষ্কার পানি পড়া
▪️নাক-চোখ-কান চুলকানো
▪️চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া
▪️গলার ভেতরে চুলকানি

✔ দীর্ঘস্থায়ী বা জটিল লক্ষণ
▪️নাক বন্ধ
▪️মাথা ভারী লাগা
▪️গলার পিছন দিয়ে মিউকাস নামা (Post Nasal Drip)
▪️কাশির প্রবণতা
▪️কান বন্ধ লাগা বা শব্দ হওয়া
▪️চোখের নিচে কালো দাগ (Allergic Shiners)

✅কিন্তু প্রশ্ন হলো— স্থায়ী চিকিৎসা হচ্ছে না কেন?
কারণ অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় যে ওষুধগুলো দেওয়া হয়— অ্যান্টিহিস্টামিন, নাকের স্টেরয়েড স্প্রে এসব ওষুধ শুধুই উপসর্গকে চেপে রাখে, কিন্তু ইমিউন সিস্টেমের ভুল প্রতিক্রিয়া ঠিক করে না।

যে কারণে—ওষুধ বন্ধ করলেই সমস্যা ফিরে আসে, দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। রোগী মাসের পর মাস, বছরের পর বছর একই চক্রে ঘুরতে থাকে

এখানেই প্রয়োজন রোগের মূল কারণভিত্তিক চিকিৎসা।
✅হোমিওপ্যাথি কেন অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের স্থায়ী সমাধান?
হোমিওপ্যাথি অ্যালার্জিক রাইনাইটিসকে Root Cause থেকে চিকিৎসা করে। এটি শুধু হাঁচি থামানো বা নাক বন্ধ খুলে দেওয়ার ওষুধ নয়।

অ্যালার্জিতে ইমিউন সিস্টেম অতি সক্রিয় হয়ে যায়। হোমিওপ্যাথি এই অতিসংবেদনশীলতা কমিয়ে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।

ফল— শরীর ধূলা, ডাস্ট মাইট, গাছের ফুল, ঘাস, গাছপালার পরাগ রেণু, বিড়াল/কুকুরের লোম, বাতাসে থাকা ছত্রাক বা ফাঙ্গাসের খুব ক্ষুদ্র কণা, তীব্র গন্ধ_যেমন:পারফিউম, স্প্রে, রুম ফ্রেশনার, প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া করা বন্ধ করে দেয়।

 #ভেরিকোসিল (Varicocele): ৭টি বিপজ্জনক লক্ষণ — অবিবাহিত ছেলেদের এখনই সতর্ক হতে হবে! । Dr. Anas Sarkarআমরা এমন সাতটি লক্ষ...
03/11/2025

#ভেরিকোসিল (Varicocele): ৭টি বিপজ্জনক লক্ষণ — অবিবাহিত ছেলেদের এখনই সতর্ক হতে হবে! । Dr. Anas Sarkar

আমরা এমন সাতটি লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করছি, যার দিকে তরুণদের বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া উচিত। আপনি যদি এই সমস্যাগুলোর মধ্যে কোনো একটির সম্মুখীন হন, তবে সম্ভাবনা থেকে যায়_ আপনি ভারিকোসিলে আক্রান্ত।

তাই, দয়া করে আপনার অণ্ডকোষের স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত অঙ্গের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। যদিও এই আর্টিকেলটি অবিবাহিত ও তরুণ ছেলেদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি বিবাহিত পুরুষ ও তাদের পরিবারের জন্যও সমানভাবে জরুরি। কারণ আজকালকার ছেলেরা প্রায়শই তাদের সমস্যাগুলো পরিবারকে খুলে বলতে পারে না। আমরা রোগীদের কাছ থেকে প্রায়ই এমন টেক্সট পাই, যেখানে তারা জানান, "স্যার, আমার এই সমস্যাটি আছে কিন্তু আমি বাবা-মাকে জানাতে পারছি না"। অনেকেই লজ্জায় বলেন না,

কিন্তু এ রোগ আপনার ভবিষ্যত, আত্মবিশ্বাস, এমনকি দাম্পত্য জীবন পর্যন্ত নষ্ট করে দিতে পারে।

আমি ডা. আনাস সরকার, আল-বারাকা হোমিও হলে প্রতিদিন এমন অনেক তরুণকে দেখি, যারা আসেন চুপচাপ মুখ নিচু করে — বলেন, “স্যার, আমি আমার সমস্যাটা কাউকে বলতে পারছি না…” 😔

কেউ কেউ এতটাই মানসিক চাপে থাকেন যে আত্মহত্যার চিন্তাও করেন।

ভেরিকোসিল এর লক্ষণগুলো আলোচনা করার আগে, ভেরিকোসিল কী, তা একটু জেনে নেওয়া যাক।
অণ্ডকোষ থেকে রক্ত মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিরুদ্ধে (উপরের দিকে) টেস্টিকুলার ভেইন এর মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে ফিরে যায়। এই শিরাগুলোতে ছোট ছোট কপাটিকা বা one-way valves থাকে। এই কপাটিকাগুলো নিশ্চিত করে যে রক্ত শুধু উপরের দিকে, অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডের দিকে যাবে, এটি যেন নিচের দিকে ফিরে না আসে। তা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই রক্ত হলো ডি-অক্সিজেনেটেড (deoxygenated) এবং এতে বিষাক্ত উপাদান বা 'টক্সিন' ও 'ফ্রি র‍্যাডিক্যাল' থাকে।

যদি এই বিষাক্ত রক্ত সঠিকভাবে হৃৎপিণ্ডে ফিরে না যায়, তবে এটি অণ্ডকোষের ক্ষতি করতে পারে।

হস্তমৈথুনে আসক্তি এবং এক সময় হঠাৎ ছেড়ে দেওয়া, ভারী জিনিস উত্তোলনের কাজ করা, সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ, দীর্ঘদিন যাবৎ ক্রমাগত দাঁড়িয়ে কাজ করা, দীর্ঘদিন যাবৎ ক্রমাগত গরমে কাজ করা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমেরে কারণে—এই one-way valves গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন রক্ত নিচের দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। তখন অণ্ডকোষে শিরাগুলোতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে অণ্ডকোষে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় ।

যখন এই রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে বা যখন এটি অণ্ডকোষের ক্ষতি করা শুরু করে, তখন কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো। আপনি যদি এই লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি লক্ষ্য করেন, তবে একজন এক্সপার্ট হোমিও ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

এখন আসুন জেনে নেই— ভেরিকোসিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো। প্রথমেই বলি একটি ক্লাসিক সাইন, যেটা প্রায় সব রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়…”

১. ব্যাগ অফ ওয়ার্মস'(Bag of worms) অনুভূতি—
অর্থাৎ, থলের মধ্যে একগুচ্ছ কেঁচো বা কৃমি থাকলে যেমন অনুভূত হয়, ঠিক তেমন যা স্পর্শ করলে মনে হয় অণ্ডকোষের ত্বকের নিচে একগুচ্ছ জট পাকানো কৃমি বা কেঁচো রয়েছে।

ভ্যারিকোসিলে আক্রান্ত রোগীরা সাধারণত প্রথমেই এই অনুভূতির কথাই বলেন। তাদের মনে হয়, অণ্ডকোষের আশেপাশে কিছু যেন কিলবিল করছে বা নড়ছে — যদিও বাস্তবে সেখানে কোনো পোকা বা কৃমি নেই। আসলে এটি ঘটে ত্বকের নিচের ফোলা ও জট পাকানো শিরাগুলোর কারণে, যেগুলো দেখতে ও অনুভবে ঠিক কেঁচোর মতো লাগে।
এই লক্ষণটিই ভেরিকোসিলের সবচেয়ে সাধারণ ও ক্লাসিক লক্ষণ।

এখন আসা যাক পরবর্তী লক্ষণটিতে —

২. অণ্ডকোষে অস্বাভাবিক চাকা বা ফোলাভাব অনুভব করা—
ভেরিকোসিলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হলো অণ্ডকোষে (sc***um) শক্ত চাকা (lump) বা ফোলাভাব অনুভব করা।

অনেক রোগী একগুচ্ছ কেঁচো বা কৃমি থাকার অনুভূতির পরিবর্তে অণ্ডকোষে একটি পিণ্ড বা চাকার উপস্থিতি টের পান। এই চাকা বা ফোলাভাবটি অণ্ডকোষের একপাশে বা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে অনুভূত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চাকা অনুভব করার মানেই কিন্তু কোনো টিউমার বা ভিন্ন কোনো ক্ষতিকর পিণ্ড নয়।

অনেক ক্ষেত্রে, ভেরিকোসিলে আক্রান্ত শিরাগুলো যখন অতিরিক্ত ফুলে ওঠে এবং একসঙ্গে জট পাকিয়ে গুচ্ছবদ্ধ (clumped) হয়ে যায়, তখন সেটিকে বাইরে থেকে স্পর্শ করলে একটি শক্ত চাকার মতোই মনে হতে পারে। যদি এমন কোনো চাকা বা ফোলাভাব অনুভব করেন, তবে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৩. ব্যথা বা অস্বস্তি—
ভেরিকোসিলের আরেকটি খুব সাধারণ লক্ষণ হলো অণ্ডকোষে ব্যথা বা অস্বস্তিকর অনুভূতি। এই ব্যথাকে সাধারণত রোগীরা মিষ্টি ব্যথা, হালকা ব্যথা বা dull pain হিসেবে বর্ণনা করেন যা রোগীকে খুবই অসস্থিতে ফেলে। এই ব্যথা সাধারণত তখনই বেশি হয়, যখন দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, গরমে কাজ করতে হয় বা দিনের শেষে ক্লান্ত অবস্থায়। এতে অণ্ডকোষের শিরাগুলো আরও ফুলে উঠে, টান পড়ে, এবং সেখান থেকেই ব্যথা শুরু হয়।

এই ব্যথার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে:
* প্রথমে এটি হালকা ব্যথা হিসেবে শুরু হয়।
* দীর্ঘ সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়ে।
* ব্যায়াম বা হাটাহাটি করলে এটি তীব্র হয়, কিন্তু যখন রোগী বিশ্রাম নেয় বা শুয়ে থাকেন, তখন এটি কমে আসে।

সাধারণত গ্রীষ্মকালে ব্যথা বাড়ে, কারণ এই সময় শিরাগুলো বেশি প্রসারিত হয়, এবং শীতকালে ব্যথা কমে যায়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে সহজেই বোঝা যায় যে এটি ভেরিকোসিল-সম্পর্কিত ব্যথা, যা উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

৪. একটি অণ্ডকোষ অন্যটির চেয়ে নিচে ঝুলে থাকা—
চতুর্থ লক্ষণটি হলো, রোগীরা লক্ষ্য করতে পারেন যে তাদের একটি অণ্ডকোষ অন্যটির চেয়ে নিচে ঝুলে আছে । এই অস্বাভাবিক ঝুলে থাকার মূল কারণটি ভেরিকোসিল-জনিত শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে সম্পর্কিত। ভেরিকোসিলের কারণে অণ্ডকোষের চারপাশে শিরাগুলোতে অতিরিক্ত রক্ত জমা হয়, যা সেই স্থানের উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়।

আমাদের অণ্ডকোষ স্বাভাবিকভাবেই শরীরের বাইরে থাকে, যাতে এটি পর্যাপ্ত শীতল অবস্থায় থাকতে পারে এবং স্বাভাবিক টেস্টোস্টেরন ও শুক্রাণু উৎপাদন বজায় রাখতে পারে কিন্তু শিরায় জমাট বাঁধা রক্ত অতিরিক্ত উষ্ণতা তৈরি করে, ফলে অণ্ডকোষের পেশী স্বাভাবিকভাবে শিথিল হয়ে যায় এবং অণ্ডকোষ আরও নিচে ঝুলে যায়।

৫. অণ্ডকোষের আকার ছোট হয়ে যাওয়া (Testicular Atrophy)—
ভেরিকোসিল যদি দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা না করা হয় এবং রোগের তীব্রতা বাড়ে, তবে এটি আরও গুরুতর শারীরিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো অণ্ডকোষের আকার ছোট হয়ে যাওয়া বা সংকুচিত হওয়া।

কখনও কখনও আপনি লক্ষ্য করতে পারেন যে আগে দুটি অণ্ডকোষ একই আকারের ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে একটি ছোট হতে শুরু করেছে। এটি সাধারণত বাম দিকে বেশি দেখা যায়, কারণ ভেরিকোসিলও বাম দিকে বেশি হয়ে থাকে।

৬. বন্ধ্যাত্ব ( )—
ভেরিকোসিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু নীরব সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো বন্ধ্যাত্ব। ভেরিকোসিল পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

অনেক সময় রোগীর কোনো শারীরিক ব্যথা, ফোলা বা অণ্ডকোষ ঝুলে যাওয়ার মতো স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে।এই ধরনের ক্ষেত্রে, দম্পতি যখন সন্তান ধারণে ব্যর্থ হন এবং চিকিৎসার জন্য যান, তখন পরীক্ষার মাধ্যমে ভেরিকোসিল ধরা পড়ে। ভেরিকোসিল তখন বন্ধ্যাত্বের একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

যদিও প্রতিটি ভেরিকোসিল বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী নয়, তবুও এটি একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। সুসংবাদ হলো, যখন ভেরিকোসিলের জন্য হোমিও চিকিৎসা নিবেন তখন ভেরিকোসিলের সাথে বন্ধ্যাত্বের সমস্যাটি ভালো হয়ে যাবে।

৭. #টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার লক্ষণ—
সর্বশেষ সমস্যাটি হলো টেস্টোস্টেরন হ্রাসের কারণে রোগীর যৌন আকাঙ্ক্ষা বা সেক্স ড্রাইভ কমে যায়। শরীরে সামগ্রিক ক্লান্তি বা অবসাদ বেড়ে যায় এবং সবসময় দুর্বল লাগতে থাকে,পেশীর ভর কমতে শুরু করে এবং ফ্যাট বা চর্বি বাড়তে শুরু করে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে, রোগী উদ্বিগ্ন ও বিষণ্ণতায় ভুগতে থাকেন। হৃদপিণ্ডের পেশীর জন্য টেস্টোস্টেরন অপরিহার্য হওয়ায়, টেস্টোস্টেরন হ্রাসের কারণে কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যও প্রভাবিত হতে পারে। অণ্ডকোষের প্রধান দুটি কাজ হলো শুক্রাণু উৎপাদন এবং টেস্টোস্টেরন উৎপাদন। যখন ভেরিকোসিলের কারণে অণ্ডকোষ টেস্টোস্টেরনের উৎপাদনে প্রবাব পরে, তখনই এই সমস্যাগুলো দেখা দেয়।

পরামর্শ ও চিকিৎসা:

সুতরাং, আপনি যদি এই লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি অনুভব করছেন, তবে তা উপেক্ষা করবেন না। অবিলম্বে একজন এক্সপার্ট হোমিও ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

আরেকটি বেশ সাধারণ ঘটনা হলো — অনেকেই সামরিক বাহিনী বা পুলিশের মেডিকেল পরীক্ষার সময় হঠাৎ করে জানতে পারেন যে তাদের ভেরিকোসিল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কোনো লক্ষণ বা অস্বস্তি থাকে না, কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্টে এই সমস্যা ধরা পড়ায় চাকরি থেকে বাদ পড়তে হয়। ফলে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং তখনই চিকিৎসার খোঁজ শুরু করেন।

পুরুষদের অন্ডকোষের ভেরিকোসিল যেকোন বয়সেই হতে পারে। তবে যথা সময়ে সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায়। জেনে রাখা ভালো বহু রোগ রয়েছে যেগুলির কোন স্থায়ী এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। ভেরিকোসিল হলো তেমনই একটি রোগ যার তেমন কোন #এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই।

এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা আপনাকে ফলোআপে রাখবে এবং কিছু পেইনকিলার খেতে দিবে যখন আপনার ভেরিকোসিল গ্রেড-৩ বা গ্রেড-৪ চলে যায় এবং আপনার রোগটি ক্রনিক ও জটিল আকার ধারণ করে তখন তারা আপনাকে #সার্জারি করতে বলবে।

সার্জারি তে স্থায়ী ভাবে ভালো হয়ে গেলে আমি আপনাকে সার্জারি করতে পরামর্শ দিতাম কিন্তু ৮০% রুগীর ক্ষেত্রে ভেরিকোসিলটি ৫/৬ মাসের মধ্যে পুনরায় দেখা দেয় এবং তা আগের তুলনায় আরো জটিল আকারে।

সুতরাং ভেরিকোসিল রোগে আপনার হাতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যতীত অল্টারনেটিভ কোনো অপশন নেই। ভেরিকোসিলে আক্রান্ত হলে বা সন্দেহ হলে দ্রুত একজন রেজিস্টার হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

নিরাপদ থাকুন, সচেতন থাকুন।

আল্লাহ হাফেজ

বর্তমানে  #বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অনেক অঞ্চলে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে, ভয়াবহ ত্বকের রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে— সেটি ...
23/10/2025

বর্তমানে #বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অনেক অঞ্চলে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে, ভয়াবহ ত্বকের রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে— সেটি হলো #স্ক্যাবিস ( )।
এটি সাধারণত খোসপাঁচড়া নামে পরিচিত, কিন্তু এখন এই রোগের প্রকোপ এতটাই বেড়েছে যে, অনেক বিশেষজ্ঞ এটিকে “ত্বকের মহামারী” আখ্যা দিচ্ছেন।

স্কুলগামী শিশু, আবাসিক শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, গার্মেন্টস কর্মী এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যেও এই রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
একজন আক্রান্ত ব্যক্তি যদি পরিবারের মধ্যে থাকেন, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো পরিবার আক্রান্ত হয়ে যায়।
সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও হোমিও চেম্বার গুলোতে স্ক্যাবিস রোগীর সংখ্যা গত কয়েক মাসে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

এই অবস্থায় মানুষের মধ্যে প্রয়োজন সঠিক সচেতনতা, প্রতিরোধ ব্যবস্থা, এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা।
বিশেষ করে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় স্ক্যাবিসের ক্ষেত্রে এমন কিছু নির্বরযোগ্য থেরাপি আছে যা কেবল বাহ্যিক উপসর্গ নয়, বরং রোগকে ভিতর থেকে সমূলে ধ্বংস করে।
যেভাবে করোনা মহামারীর সময় #হোমিওপ্যাথি মানবতার এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই — কিংবা বলা যায়, তার থেকেও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে স্ক্যাবিস নামক এই জটিল চর্মরোগের চিকিৎসায়।

করোনার কঠিন সময়ে যখন মানুষ হতাশ ও ভীত ছিল, তখন হোমিওপ্যাথি তার নিরাপদ, প্রাকৃতিক ও পার্সোনালাইজড চিকিৎসার মাধ্যমে অসংখ্য রোগীর আস্থা অর্জন করেছিল। আজ সেই একই ভরসা নিয়ে আমরা বলতে পারি —স্ক্যাবিসের ক্ষেত্রেও হোমিওপ্যাথি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

যারা এই রোগে ভুগছেন বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত, তারা নিশ্চিন্তে হোমিওপ্যাথির শরণাপন্ন হতে পারেন। হোমিওপ্যাথি রোগের মূল কারণকে ভেতর থেকে দূর করে দেয়, যাতে পুনরায় সংক্রমণ না ঘটে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী।

✳️স্ক্যাবিস কী?

স্ক্যাবিস একটি ত্বকের সংক্রামক রোগ, যা হয় একটি অতি ক্ষুদ্র পরজীবী Sarcoptes scabiei var hominis নামের মাইটের কারণে।
এই মাইট এত ছোট যে এটি খালি চোখে দেখা যায় না; শুধুমাত্র মাইক্রোস্কোপে দেখা সম্ভব।

এই পরজীবীটি মানুষের ত্বকের উপরিভাগে ঢুকে সেখানে সুড়ঙ্গ তৈরি করে এবং ডিম পাড়ে।
ডিম থেকে নতুন মাইট বের হয়ে আবার ত্বকের ভেতরে বাসা বাঁধে, ফলে তীব্র চুলকানি ও ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

স্ক্যাবিস মূলত মানুষ থেকে মানুষে সংস্পর্শে ছড়ায়।
যখন একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য কারো সাথে ঘনিষ্ঠভাবে বসবাস করে বা কাপড়, বিছানা, তোয়ালে ইত্যাদি শেয়ার করে, তখন এই মাইট সহজেই এক শরীর থেকে অন্য শরীরে চলে যায়।

✳️সংক্রমণের কারণ ও বিস্তার
স্ক্যাবিসের বিস্তারের মূল কারণ হলো সংস্পর্শ ও অপরিচ্ছন্নতা।
এটি ছড়ানোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো—

▪️আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শে আসা
▪️একই বিছানা, তোয়ালে, কাপড় ব্যবহার করা
▪️পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে বাকি সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া
▪️হোস্টেল, বোর্ডিং স্কুল, কারাগার বা ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে বসবাস
▪️বিশেষ করে যারা দরিদ্র বা নিম্নআয়ের মানুষ, তাদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায় কারণ তাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা কঠিন হয়। তবে এখন শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণীতেও এটা ব্যাপকভাবে ছড়াচ্ছে।

✳️রোগের লক্ষণ
স্ক্যাবিসের লক্ষণগুলি ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। সাধারণত সংক্রমণের ২–৬ সপ্তাহ পরে উপসর্গ দেখা দেয়।
স্ক্যাবিসের প্রধান লক্ষণগুলো হলো—

▪️তীব্র চুলকানি, বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময়
▪️ত্বকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ
▪️আঙুলের ফাঁকে, কব্জিতে, কোমরে, বগলে, যৌনাঙ্গে, নাভির আশেপাশে র‍্যাশ বা দাগ
▪️শিশুদের ক্ষেত্রে মাথা, মুখ, হাতের তালু, পায়ের তলাতেও ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে
বারবার চুলকানোর ফলে ত্বক ঘা হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় সংক্রমণ (secondary infection) তৈরি হয় এই চুলকানি এমন মাত্রার হয় যে রোগীরা রাতে ঘুমাতে পারেন না এবং মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়েন।

✳️জটিলতা:

যদি স্ক্যাবিসের সঠিক চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি গুরুতর ত্বক সংক্রমণ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জটিলতা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

▪️ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে ঘা ও পুঁজ
▪️ত্বকের প্রদাহ
▪️নেফ্রাইটিস বা কিডনি জটিলতা (চুলকানির ইনফেকশন থেকে)
▪️ত্বকের ভেতরে অসংখ্য মাইট জন্মে গিয়ে পুরু খোসা বা শুকনো আঁশের মতো ত্বক তৈরি করে। এটি স্ক্যাবিসের মারাত্মক রূপ, যেখানে ত্বকের উপর মোটা, শক্ত ক্রাস্ট বা স্কেল জমে যায় এবং চুলকানি অনেক বেশি হয়।

এই অবস্থায় রোগী শুধু নিজের জন্য নয়, বরং তার চারপাশের মানুষের জন্যও একটি সংক্রমণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

✳️হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্ক্যাবিস
হোমিওপ্যাথিতে স্ক্যাবিসকে শুধু একটি ত্বকের রোগ হিসেবে দেখা হয় না।
বরং এটি শরীরের ভেতরের গভীর অসামঞ্জস্য বা মায়াজমেটিক সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, যা বাহ্যিকভাবে চুলকানি হিসেবে প্রকাশ পায়।
এই রোগ শরীরের ভেতরের সংবেদনশীলতা, দমনকৃত ত্বকের সমস্যার প্রতিফলন।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র মলম বা বাহ্যিক ওষুধ দিয়ে চুলকানি বন্ধ করলে তা সাপ্রেশন হয়।
ফলে রোগটি ভেতরে প্রবেশ করে আরও গভীর অসুখ (যেমন একজিমা, হাঁপানি, রিউমাটিজম, মানসিক সমস্যা) তৈরি করতে পারে।

✳️হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা:
অনেক রোগী আমাদেরকে ফোন দিয়ে বলে, ডাক্তার সাহেব ওষুধের নাম বলে দেন, অনেকেই ক্ষোভও প্রকাশ করেন যে, কেন তাৎক্ষণিকভাবে ঔষধের নাম বলা হলো না। মূলত হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসা হয় ইন্ডিভিজুয়ালাইজড প্রক্রিয়ায়।
অর্থাৎ প্রতিটি রোগীর স্ক্যাবিস এক নয় — তার শরীরের প্রকৃতি, মানসিক অবস্থা, রোগের ইতিহাস ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে প্রেসক্রিপশন করতে হয়।
তাছাড়াও কেস টেকিং, ঔষধ নির্বাচন, ডোজ ও রিপিটেশন, সাপ্রেশন এড়ানো, এ ব্যাপারগুলো যেরকম সময়সাপেক্ষ তেমনই জটিল।
সুতরাং একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করলে এই রোগ সম্পূর্ণ সারানো সম্ভব।

✳️প্রতিরোধ ও সচেতনতা
স্ক্যাবিস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা।
👉 প্রতিদিন শরীর পরিষ্কার রাখা
👉 আক্রান্ত ব্যক্তির আলাদা কাপড় ও বিছানা ব্যবহার
👉 কাপড়, চাদর, তোয়ালে গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকানো
👉 পরিবারের সকল সদস্যদের একসাথে চিকিৎসা করা
👉 আক্রান্ত ব্যক্তিকে জনসমাগমে কম আসা

স্ক্যাবিসের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো লজ্জা ও অজ্ঞতা।
অনেকেই চুলকানিকে তুচ্ছ মনে করে চিকিৎসা নেয় না, ফলে এটি ছড়িয়ে যায়।
তাই সামাজিক সচেতনতা ও স্বাস্থ্যশিক্ষা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

স্ক্যাবিস এখন আর কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয় — এটি একটি জনস্বাস্থ্য সংকট।
বাংলাদেশে এর দ্রুত বিস্তারের পেছনে রয়েছে ঘনবসতি, পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং চিকিৎসা সম্পর্কে অজ্ঞতা।
অন্যদিকে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ, স্টেরয়েড যুক্ত মলম, লোশন দিয়ে বারবার সাপ্রেশন করার ফলে রোগটি ভেতরে গিয়ে আরও জটিল হচ্ছে।
সঠিক চিকিৎসা, সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে স্ক্যাবিসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

ডা. মোঃ আনাস সরকার
আল-বারাকা হোমিও হল
ঠিকানা: ৩০৯/এ, যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা রোড, কুতুবখালী, বরফকল সংলগ্ন, ঢাকা – 1204
মোবাইল: 01758-571067, 01940-471429

18/09/2025

আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার নামের একটি সমস্যার কথা শুনেছি — হয়তো আপনার বন্ধুদের কাছ থেকে, পরিবারের কারো কাছ থেকে, অথবা কোনো পরিচিত মানুষের কাছ থেকে।
ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার হলো এমন একটি রোগ যা সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। কিন্তু ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার কী এবং এর চিকিৎসা কীভাবে হয়?

ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার হলো একটি কষ্টদায়ক ও মানুষিক ভাবে দুর্বল করে দেওয়ার মতো একটি রোগ, যা পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে। এটি প্রস্রাবের ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করে, ফলে দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। তবে আশার কথা হলো — এর কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসা রয়েছে।

হোমিওপ্যাথিতে আমরা ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের চিকিৎসায় রোগীর অবস্থা, মানসিক-শারীরিক লক্ষণ, অতীত রোগের ইতিহাস এবং রোগ সৃষ্টির মূল কারণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করি। শুধু ইউরেথ্রার সংকোচন নয় — আমরা এর পেছনের সিস্টেমিক সমস্যা, যেমন — সংক্রমণ প্রবণতা, প্রদাহ, পুরনো আঘাতের প্রভাব, বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত টিস্যুর পরিবর্তন — এগুলোকেও সমাধান করার দিকে মনোযোগ দিই।

আমাদের চেম্বারে অনেক রোগী দীর্ঘদিনের ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের সমস্যা নিয়ে আসেন — কারও ক্ষেত্রে এটি হয় পূর্ববর্তী অপারেশনের পরে, কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ক্যাথেটার ব্যবহারের কারণে, আবার কারও ক্ষেত্রে যৌনবাহিত রোগ বা সংক্রমণের প্রভাবে। হোমিওপ্যাথিক সঠিক ওষুধ নির্বাচন করলে ধীরে ধীরে সংকুচিত ইউরেথ্রা স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং প্রস্রাবের গতি ও প্রবাহ উন্নত হয়।

ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে — প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া, প্রস্রাব ছিটকে আসা, ব্লাডার সম্পূর্ণ খালি না হওয়া, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, প্রস্রাবে রক্ত আসা, ব্যথা ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি শুধু উপসর্গ কমায় না, বরং মূল সমস্যার গভীরে গিয়ে কাজ করে।

আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারে ভুগে থাকেন, জেনে রাখুন — সবসময় সার্জারি একমাত্র উপায় নয়। অনেক বড় বড় ইউরোলজিস্টরা বলে থাকেন অপারেশনের পর তা পুনরায় ফিরে আসে মনে তা পুরোপুরি সমাধান হয় না। এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি আপনার জন্য একটি নিরাপদ, কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দিতে পারে, যা আপনার জীবন মান উন্নত করবে।

ইউরেথ্রাল স্টিকচারের চিকিৎসায় একজন এক্সপার্ট এবং রেজিস্টার হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের সম্পূর্ণ হন, তাহলে কিছুদিনের ঔষধ কন্টিনিউ করলে আপনার সমস্যাটি ইনশাআল্লাহ সম্পূর্ণরূপে ভালো হয়ে যাবে।

ডা. মোঃ আনাস সরকার
আল-বারাকা হোমিও হল
ঠিকানা: ৩০৯/এ, যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা রোড, কুতুবখালী, বরফকল সংলগ্ন, ঢাকা – 1204
মোবাইল: 01758-571067, 01940-471429

#ইউরেথ্রালস্ট্রিকচার

#হোমিওপ্যাথি_চিকিৎসা
#প্রস্রাবের_সমস্যা
#নিরাপদচিকিৎসা
#পুরুষস্বাস্থ্য
Dr. Md. Anas Sarkar








বর্তমান সময়ে পুরুষদের মধ্যে  #ইনফার্টিলিটি বা সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা একটি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে...
15/09/2025

বর্তমান সময়ে পুরুষদের মধ্যে #ইনফার্টিলিটি বা সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা একটি উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের ইনফার্টিলিটির ২৫% থেকে ৩৫% ক্ষেত্রে ভেরিকোসিল মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটির ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫০% থেকে ৮০%। তাহলে প্রশ্ন হলো, ভেরিকোসিল কী? কেন হয়? এর লক্ষণ গুলো কি.? এবং ভেরিকোসিল কীভাবে ইনফার্টিলিটিতে ভূমিকা রাখে? চলুন এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানি।

👉 #ভেরিকোসিল কী?
ভেরিকোসিল হলো অন্ডকোষের রক্তনালীতে অস্বাভাবিক প্রসারিত হওয়া বা ফোলাভাব। সাধারণত টেস্টিসের রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী শিরাগুলো সঠিকভাবে কাজ না করলে রক্ত জমে যায় এবং শিরাগুলো ফুলে ওঠে। এটি একধরনের ভ্যারিকোজ ভেইন যা টেস্টিসের কার্যক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যাটি থাকলে এটি শুক্রাণুর গুণগত মান এবং উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে, যার ফলে ইনফার্টিলিটি দেখা দিতে পারে।

👉ইনফার্টিলিটিতে ভেরিকোসিলের ভূমিকা
ভেরিকোসিল ইনফার্টিলিটির জন্য কীভাবে দায়ী?

▪️ভেরিকোসিলের কারণে অন্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা শুক্রাণুর স্বাভাবিক উৎপাদন এবং কার্যকারিতা হ্রাস করে।
▪️ভেরিকোসিলের কারণে রক্ত জমে থাকায়, রক্তে টক্সিক পদার্থ বাড়িয়ে দেয়, যা শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
▪️অন্ডকোষে রক্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় পুষ্টি এবং অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা শুক্রাণুর মান নষ্ট করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাইমারি ইনফার্টিলিটির ২৫%-৩৫% এবং সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটির ৫০%-৮০% ক্ষেত্রে ভেরিকোসিল একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

👉ভেরিকোসিলের প্রধান লক্ষণগুলো :
▪️অণ্ডকোষে ভারীভাব বা টান টান অনুভূতি
▪️অণ্ডকোষ বা শুক্রাশয়ে ব্যথা/অস্বস্তি
▪️অণ্ডকোষ ঝুলে পড়া – সাধারণত এক পাশে (বেশিরভাগ সময় বাঁ পাশে) বেশি হয়।
▪️অণ্ডকোষের শিরার গুলো নাড়ীভুঁড়ির মতো পেঁচিয়ে থাকা – হাতে ধরলে অণ্ডকোষের শিরা গুলো নরম দড়ির মতো মোচড়ানো অনুভব হয়।
▪️গরমে বা কাজ করার পর উপসর্গ বেড়ে যায় – ঠান্ডা বা বিশ্রামে লক্ষণ গুলো কিছুটা কমে যায়।
▪️বন্ধ্যাত্বের সমস্যা ( )

অনেক সময় ভেরিকোসিল নীরবভাবে শরীরে সমস্যা তৈরি করে, যা রোগী বুঝতে পারেন না। তাই এটি নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

👉রোগ নির্ণয় (Diagnosis)
#আল্ট্রাসাউন্ড: অন্ডকোষে ভেরিকোসিলের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড সবচেয়ে কার্যকর।
#সিমেন_অ্যানালাইসিস: শুক্রাণুর মান, সংখ্যা এবং গতিশীলতা বিশ্লেষণের জন্য এই পরীক্ষা করা হয়। এটি ইনফার্টিলিটির মূল কারণ নির্ধারণে সাহায্য করে।

👉চিকিৎসা এবং সমাধান
বর্তমান সময়ে পুরুষদের মধ্যে ইনফার্টিলিটি বা সন্তান উৎপাদনে অক্ষমতা একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় প্রমাণিত, পুরুষদের ইনফার্টিলিটির প্রায় ২৫% থেকে ৩৫% ক্ষেত্রে এবং সেকেন্ডারি ইনফার্টিলিটির ৫০% থেকে ৮০% ক্ষেত্রে ভেরিকোসিল মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। ভেরিকোসিলের কারণে অণ্ডকোষের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, শুক্রাণুর মান ও সংখ্যা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে সন্তান ধারণের ক্ষমতা হ্রাস পায়।

👉 এ অবস্থায় রোগীরা অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন, কিন্তু সমাধান আছে - হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায়।

পুরুষদের অন্ডকোষের ভেরিকোসিল যেকোন বয়সেই হতে পারে। তবে যথা সময়ে সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায়। জেনে রাখা ভালো বহু রোগ রয়েছে যেগুলির কোন স্থায়ী এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই। ভেরিকোসিল হলো তেমনই একটি রোগ যার তেমন কোন এলোপ্যাথিক চিকিৎসা নেই।

এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা আপনাকে ফলোআপে রাখবে এবং কিছু পেইনকিলার খেতে দিবে যখন আপনার ভেরিকোসিল গ্রেড-৩ বা গ্রেড-৪ চলে যায় এবং আপনার রোগটি ক্রনিক ও জটিল আকার ধারণ করে তখন তারা আপনাকে সার্জারি করতে বলবে।

সার্জারি তে স্থায়ী ভাবে ভালো হয়ে গেলে আমি আপনাকে সার্জারি করতে পরামর্শ দিতাম কিন্তু ৮০% রুগীর ক্ষেত্রে ভেরিকোসিলটি ৫/৬ মাসের মধ্যে পুনরায় দেখা দেয় এবং তা আগের তুলনায় আরো জটিল আকারে।

সুতরাং ভেরিকোসিল রোগে আপনার হাতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যতীত অল্টারনেটিভ কোনো অপশন নেই।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় অণ্ডকোষের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং অস্বাভাবিক তাপমাত্রা কমিয়ে আনে।
যা শুক্রাণুর মান, সংখ্যা ও গতি উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সবচেয়ে বড় কথা, এটি নিরাপদ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান।

ভেরিকোসিলে আক্রান্ত হলে বা সন্দেহ হলে দ্রুত একজন রেজিস্টার হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

কিডনিতে পাথর, যা মেডিকেলের ভাষায় নেফ্রোলিথিয়াসিস নামে পরিচিত, বর্তমান সময়ে এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি আপাতদৃষ...
12/09/2025

কিডনিতে পাথর, যা মেডিকেলের ভাষায় নেফ্রোলিথিয়াসিস নামে পরিচিত, বর্তমান সময়ে এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এর প্রভাব অনেক গভীর এবং মারাত্মক হতে পারে। কিডনির ভেতর কঠিন খনিজ এবং লবণ জমে ছোট ছোট পাথরের মতো তৈরি হয়। এই পাথরগুলো আকারে খুবই ছোট থাকতে পারে, আবার কখনো কখনো গল্ফ বলের আকারের মতো বড়ও হতে পারে।

যখন এই পাথরগুলো কিডনি থেকে মূত্রনালীর (ureter) দিকে অগ্রসর হয়, তখন শুরু হয় তীব্র যন্ত্রণা। ব্যথাটা সাধারণত পিঠের নিচের দিকে বা পেটের পাশে শুরু হয় এবং মূত্রনালীর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে এই ব্যথাকে প্রসব যন্ত্রণার চেয়েও তীব্র বলে বর্ণনা করেন। এই কষ্ট শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। রোগী সবসময় একটি আতঙ্কে থাকে—কখন আবার সেই অসহনীয় ব্যথা ফিরে আসবে।

কিডনিতে পাথর কেন হয়?
▪️ কম পানি পান করা: পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মূত্র ঘন হয়ে যায় এবং খনিজ পদার্থগুলো সহজে জমাট বাঁধে।
▪️খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত লবণ, প্রোটিন, এবং অক্সালেটযুক্ত খাবার (যেমন পালংশাক, বাদাম, চকলেট) বেশি খেলে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।
▪️বংশগত কারণ: যদি পরিবারের অন্য কারো কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে, তাহলে আপনারও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
▪️অন্যান্য রোগ: কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI), গাউট এর কারণে কিডনিতে পাথর হতে পারে।

কিডনিতে পাথর মানে শুধু একটা “স্টোন” না, এটা আসলে শরীরের ভেতরে চলতে থাকা এক জটিল প্রক্রিয়ার ফল। যখন প্রস্রাবের ভেতরে থাকা ক্যালসিয়াম, ইউরিক এসিড বা অন্যান্য লবণজাতীয় পদার্থ জমে গিয়ে কঠিন আকার ধারণ করে, তখনই তৈরি হয় পাথর। প্রথমদিকে বোঝা না গেলেও ধীরে ধীরে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়—
▪️প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা
▪️প্রস্রাবের সাথে রক্ত মিশে আসা
▪️প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া বা খুব কষ্ট করে হওয়া
▪️হঠাৎ হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথার আক্রমণ
▪️শরীরে দুর্বলতা, বমি ভাব, জ্বর

👉 কিন্তু সবচেয়ে বড় কষ্টটা শারীরিক না, মানসিক। যারা কিডনি পাথরে ভুগেছেন, তারা জানেন—প্রতিটি আক্রমণ যেন শরীরকে ভিতর থেকে ছিঁড়ে ফেলার মতো লাগে। রোগী শুধু ব্যথায় কাতরান না, মনের ভেতরে এক ধরনের ভয়, উৎকণ্ঠা আর অসহায়ত্ব তৈরি হয়।

🔎 দুঃখের বিষয়, অনেকে অবহেলায় সময়মতো চিকিৎসা নেন না। কেউ আবার বাজার থেকে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম পেলেও সমস্যা কিন্তু থেকে যায়, বরং পরে আরও জটিল রূপ নেয়। আর তখনই হয় বড় বিপদ—কিডনির স্থায়ী ক্ষতি, ইনফেকশন, এমনকি কিডনির কার্যক্ষমতা হারিয়ে যাওয়া পর্যন্ত।

❤️ তাই এখানে বার্তাটা খুব স্পষ্ট—কিডনিতে পাথরকে ছোট করে দেখবেন না।

চিকিৎসা:
এলোপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতিতে সাধারণত ব্যথা কমানোর জন্য ওষুধ, লিথোট্রিপসি (শক ওয়েভের মাধ্যমে পাথর ভাঙা) বা গুরুতর ক্ষেত্রে সার্জারি করা হয়। তবে এই পদ্ধতিগুলোর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বারবার পাথর হওয়ার প্রবণতা কমানোর ক্ষেত্রে এগুলোর দীর্ঘমেয়াদী সমাধান পাওয়া যায় না।

ঠিক এখানেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার গুরুত্ব অনেক বেশি। কিডনিতে পাথর চিকিৎসার ক্ষেত্রে, হোমিওপ্যাথি শুধু পাথরের আকার ছোট করে বা বের করে দেয় না, বরং ভবিষ্যতে যাতে আর পাথর না হয়, তার জন্য শরীরের ভেতরের ভারসাম্যকে ঠিক করে। একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার রোগীর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ, খাদ্যাভ্যাস, এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে স্বতন্ত্রভাবে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

এই পদ্ধতিতে পাথরকে শুধু একটি রোগ হিসেবে না দেখে, বরং রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যথা, কষ্ট, এবং ভবিষ্যতে পাথর হওয়ার ভয়—এ সবকিছুর সমাধান একসাথেই করা হয়।

আমি একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে কিডনিতে পাথর থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্ভব। যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এই সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত আপনাকে এই নীরব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

 #দাদ (Ringworm) – ত্বকের এক অবহেলিত কিন্তু জটিল সমস্যাদাদ আমাদের দেশে খুব পরিচিত একটা সমস্যা। অনেকে এটাকে ছোটখাটো ত্বকে...
11/09/2025

#দাদ (Ringworm) – ত্বকের এক অবহেলিত কিন্তু জটিল সমস্যা

দাদ আমাদের দেশে খুব পরিচিত একটা সমস্যা। অনেকে এটাকে ছোটখাটো ত্বকের রোগ ভেবে অবহেলা করেন, কিন্তু বাস্তবে দাদ ঠিকমতো চিকিৎসা না করলে এটি দীর্ঘদিন ভোগাতে পারে এবং শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

👉দাদ কী?
দাদ হলো এক ধরনের ফাঙ্গাল ইনফেকশন, যার বৈজ্ঞানিক নাম Dermatophytosis। এটি ত্বকের উপরিভাগে ফাঙ্গাস আক্রমণ করে চুলকানি, লালচে দাগ, খোসার মতো চামড়া ওঠা এবং কখনও কখনও রিং-এর মতো গোল চিহ্ন তৈরি করে। তাই একে ইংরেজিতে বলা হয়।

👉কেন হয় দাদ?
▪️গরম ও আর্দ্র পরিবেশ
▪️ঘাম বেশি হওয়া
▪️ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব
▪️অন্য কারো কাপড়, তোয়ালে বা বিছানার চাদর ব্যবহার
▪️রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে

👉দাদের সাধারণ লক্ষণ:
▪️চুলকানি (বিশেষ করে রাতে বেশি হয়)
▪️লালচে বা বাদামি দাগ
▪️দাগের চারপাশে খোসার মতো চামড়া উঠতে থাকে
▪️ধীরে ধীরে দাগ বড় হতে থাকে
▪️শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে

👉দাদ অবহেলা করলে জটিলতা:
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাজার থেকে সহজলভ্য মলম কিনে ব্যবহার করা হয়। এসব মলমে সাধারণত স্টেরয়েড মেশানো থাকে।
প্রথমে মনে হয় দাগ শুকিয়ে গেছে, চুলকানিও কমে গেছে। রোগী ভাবে – “আহা, সারিয়ে ফেললাম!”
কিন্তু বাস্তবে কী হয়❓
এই স্টেরয়েড মিশ্রিত মলম শুধু উপসর্গকে চেপে রাখে, ভেতরে থাকা ফাঙ্গাসকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। ফলে দাদ অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ফিরে আসে—আগের চেয়ে বড় আকারে, বেশি চুলকানি নিয়ে এবং শরীরের নতুন নতুন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
এই অবস্থাকে আমরা বলি ক্রনিক বা জটিল দাদ।

👉ক্রনিক দাদের সমস্যাগুলো হলো:
▪️দাদ আর সহজ থাকে না, জটিল আকার ধারণ করে।
▪️চুলকানি এত প্রবল হয় যে রোগী রাতে ঘুমাতে পারেন না।
▪️শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
▪️অনেক সময় ত্বক মোটা ও কালচে হয়ে যায়।
▪️দীর্ঘদিন চলতে থাকলে রোগীর মধ্যে মানসিক অস্থিরতা, লজ্জা, হতাশা তৈরি হয়।

সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, এই অবস্থায় চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হয়।
যে দাদ শুরুতে সহজেই ভালো হতে পারত, অবহেলা এবং ভেজাল মলমের কারণে তখন মাসের পর মাস ধরে চিকিৎসা চালাতে হয়।
দাদ সারানোর জন্য শুধু বাহ্যিক মলম ব্যবহার করলেই হয় না, ভেতর থেকেও চিকিৎসা প্রয়োজন। কারণ ফাঙ্গাস শরীরের ভেতরের প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বলতাকে টার্গেট করে। হোমিওপ্যাথিতে আমরা শুধু লক্ষণ নয়, পুরো রোগীর শরীর-মন বিচার করে ওষুধ নির্বাচন করি। এজন্য একেকজন রোগীর জন্য আলাদা ওষুধ প্রয়োজন হয়।

ডা. মোঃ আনাস সরকার ➤আল-বারাকা হোমিও হল➤ঠিকানা: ৩০৯/এ, যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা রোড, কুতুবখালী, বরফকল সংলগ্ন, ঢাকা – 1204➤মোব...
05/09/2025

ডা. মোঃ আনাস সরকার
➤আল-বারাকা হোমিও হল
➤ঠিকানা: ৩০৯/এ, যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসা রোড, কুতুবখালী, বরফকল সংলগ্ন, ঢাকা – 1204
➤মোবাইল: 01758-571067, 01940-471429
➤ইমেইল: albarakahomeohall@gmail.com

➤ চিকিৎসার সময়সূচি
সকাল ১০টা – দুপুর ২টা
বিকাল ৫টা – রাত ১০টা
(শুক্রবার বন্ধ)

➤আমাদের সেবা সমূহ
✅ বাত ও আর্থ্রাইটিস
✅ স্পন্ডিলাইটিস (ঘাড় ও কোমরের ব্যথা)
✅ পুরুষ ও নারী বন্ধ্যাত্ব
✅ পাইলস, ফিস্টুলা ও অ্যানাল ফিশার
✅ চর্ম রোগসমূহ
✅ শিশুরোগ
✅ অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ

Address

309/A, South Jatrabari, Jatrabari Madrasa Road, Kutubkhali
Dhaka
1204

Opening Hours

Monday 10:00 - 14:00
17:00 - 22:00
Tuesday 10:00 - 14:00
17:00 - 22:00
Wednesday 10:00 - 14:00
17:00 - 22:00
Thursday 10:00 - 14:00
17:00 - 22:00
Friday 17:00 - 22:00
Saturday 10:00 - 14:00
17:00 - 22:00
Sunday 10:00 - 14:00
17:00 - 22:00

Telephone

+8801758571067

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Md. Anas Sarkar posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category

পপুলার হোমিও হল : যৌন ও স্ত্রীরোগ, কিডনি এবং গ্যাস্ট্রো লিভার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

আমরা আধুনিক হোমিওপ্যাথ এবং কিডনি, গ্যাস্ট্রো লিভার, পুরুষদের যৌন সংক্রান্ত ও স্ত্রীরোগসমূহের হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় বিশেষ পারদর্শী। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন, সফল এবং আধুনিক হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা গ্রহণ করুন, যা আপনার সকল জটিল শারীরিক সমস্যা সমূহকে মূল থেকে নির্মূল করে আপনাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলবে ইনশাল্লাহ। **********************************************************************

ডাক্তার আবুল হাসান (ডিএইচএমএস - বিএইচএমসি, ঢাকা)

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ঢাকা যৌন ও স্ত্রীরোগ, কিডনি এবং গ্যাস্ট্রো লিভার বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথ ১০৬ দক্ষিন যাত্রাবাড়ী, শহীদ ফারুক রোড, ঢাকা ১২০৪, বাংলাদেশ ফোন :- ০১৭২৭-৩৮২৬৭১ এবং ০১৯২২-৪৩৭৪৩৫