20/05/2026
গ্রামে আর থাকতে পারলাম নাঃ-----
অবসরের পর ইচ্ছে ছিলো ছেলে মেয়ে দু'টোকে শহরে রেখেই শিক্ষায় শিক্ষিত করবো, মাঝে মধ্যে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে গ্রামে যাবো সেই মোতাবেক গ্রামে একটা ছোট ঘর করেছি বিভিন্ন ফলফলাদি গাছ লাগিয়েছি,বাড়িটি দেখতে মন্দ না দক্ষিণা বাতাস বাড়ির পিছনে খোলা বিল, সামনে খাল মোটামুটি আমাদের মত ছোট চাকুরীজীবিদের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু মহান সৃষ্টি কর্তা সে ভাগ্যে আর রাখেন নি
সহধর্মিণী অকাল মৃত্যুতে সন্তানদের নিয়ে গ্রামে চলে আসি
যে বাড়িটি করেছি মাঝে মধ্যে বাড়ি এসে থাকবো এখন ঐ বাড়িতে বসবাস করি, গ্রামে ইনকামের পথ হিসাবে বাড়ির সামান্য কিছু দুরে বাজারে একটা ফার্মেসী দেই, চাকরি থাকা অবস্থায় ফার্মেসী কোর্স করি,( ডিএমএস)
আজ থেকে ৭/৮ মাস আগে ফার্মেসীও নেই-----
আমার বাড়ির আশেপাশে ২/৩ শত আত্মীয়, প্রথম প্রথম আত্মীয়রা ফার্মেসীতে আসতো ঔষধ নেওয়ার জন্য
বাকি নিয়ে এখন আর আসে না, অনেক আত্মীয় হিংসায় আসে না, গ্রামে যদি আপনি ব্যবসা করেন মনে রাখবেন আত্মীয়রা আপনার দোকান থেকে কিছু নিবে না কারন যদি আপনি বড় লোক হয়ে যান, যদিও কিছু আত্মীয় আসবে তাহারা আসবে বাকি নেওয়ার জন্য কিছু টাকা বাকি হলে আর আসবে না,চাইতে গেলে মহা বিপদ, চারপাশে বদনাম করে বেড়াবে, আত্মীয় থেকে আত্মীয় মিলে এলাকায় কাউন্সিলর হিসাবে দাঁড়ালে পাশ, কিন্তু এই আত্মীয়রাই দিবে উল্টো বাঁশ, তাও সোজা বাঁশ না আঁইক্কা ওয়ালা বাঁশ।
অবসরে পর বন্ধু বান্ধব অনেক হয়েছে ভালো মন্দ মিলিয়ে অনেক আগের বাল্য বন্ধুরা অনেকে প্রতিষ্ঠিত, কেউ রাজনীতিবীদ কেউ প্রবাসী কেউ ব্যবসায়ী, এলাকায় যখন গেলাম দেখলাম সবাই আওয়ামী লীগ, অনন্য দলের লোক সীমিত, বন্ধু বান্ধবদের পাল্লায় পড়ে নিজেও কযেকবার রাজনৈতিক প্রগামে যাই তবে দলীয় পদ পদবি নেই---
কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর দলীয় ট্যাগ দিয়ে বিভিন্ন ভাবে নানান কথা বলে এলাকার কিছু অশিক্ষিত পোলাপান, এরা অসামাজিক অশিক্ষিত প্রায়ই,
আমার ফার্মেসিটা ছিলো আমার আপন মামাতো ভাইদের দোকান, প্রতি মাসে ঠিক মত ভাড়া পরিশোধ করিতাম
কিন্তু হঠাৎ দোকান ছাড়ার জন্য নির্দেশ দিলো,
কারন তাহাকে বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে ভয় ভীতি দেখিয়ে, এবং মামাতো ভাইয়ের মেয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী হবে এবার
এজন্য হয়তো না কারো চাপে আমার ফার্মেসিটা বন্ধ করে দেয়, কি করিবো কিছু একটা করতে হবে বেকার কতদিন চলা যায়, ভাবছি শহরে গিয়ে উঠবো, শহরে গিয়ে কি করবো -- শহরে একটা ফার্মেসী দিতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন, টাকা যাহা পেনশন পেয়েছি সব শেষ স্ত্রী মর চিকিৎসা মেয়ের বিয়ে একটা বিল্ডিং করা, ব্যবসায় বেশ কিছু বাকি সব মিলিয়ে পুরো ধরা।
চাকরির খোঁজে শহর থেকে শহরে ঘুরতেছি,
মাস খানেক আগে একটা চাকুরী পেয়েছি ঐ চাকুরীটি কয়দিন করে আর করিনি চাকরি যেমন তেমন রিস্ক বেশী
এবার চিটাগাং ------
অবশেষে কয়েকটি ইন্টারভিউ দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ একটা চাকুরী জুটলো, যদিও চাকরিটা ছোট তবুও আমাকে করতে হবে,,
জয়েন্ট করলাম আজ প্রথম কর্মদিবস, রিটায়ার্ড হয়েও বিপদে পড়ে আবার একটি চাকরি তাও এ বয়সে----
ছেড়ে এলাম গ্রাম ভালো থাকিস গ্রামের মানুষ গুলো আত্মীয় স্বজনরা, তবে বেঁচে থাকলে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ
চাকরিটা ছোট তবে প্রথম দিন করে দেখলাম খারাপ না চলবে, বেতন যাহাই দিক আলহামদুলিল্লাহ শুকরিয়া
গ্রামের অশিক্ষিত নিকৃষ্ট আত্মীয়দের থেকে দুরে আছি
তবে খারাপ লাগে নিজ গ্রাম তো-----