10/10/2020
আজ ১০ অক্টোবর- ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য : অধিক বিনিয়োগ, অবাধ সুযোগ’। সারাবিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিবস পালন করা হয়।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস হলো পৃথিবীর সকলের মানসিক স্বাস্থ্যশিক্ষা, সচেতনতার দিন। এটি ১৯৯২ সালে প্রথম পালন করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে কেউ না কেউ আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারান। আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। অধিকাংশ ব্যক্তিই আত্মহত্যার সময় কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকেন।
সাধারণত সেটা গুরুত্ব দেয়া হয় না বা মানসিক রোগ নিশ্চিত হলেও যথাযথ চিকিৎসা করা হয় না বলেই আত্মহত্যা বেড়ে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মহত্যার এ হার কমিয়ে আনা সম্ভব।
সম্প্রতি মানসিক স্বাস্থ্য দিবস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়েই মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মক সংকটে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও করোনার কারণে সব বয়সী মানুষ মানসিকভাবে বিপদগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যুক্তরাজ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীদের ৩২ শতাংশ জানিয়েছেন, মহামারির কারণে মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হয়েছে। ইতালি ও স্পেনে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। কানাডায় ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ২০ শতাংশ হারে বেড়েছে মদ্যপান। মহামারির আগের তুলনায় এপ্রিলে ইথিওপিয়ার মানুষের মধ্যে বিষণ্ণতা তিন গুণ বেড়েছে।
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি মানসিক রোগের প্রকোপ অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সৃষ্ট বেকারত্ব, ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ব্যবসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী জনগণের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একইসঙ্গে মাদকাসক্তি, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, নগরায়নসহ পারিবারিক ও সামাজিক নানা অস্থিরতা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার মানসিক স্বাস্থ্য সেবাসহ সকল ধরনের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এবং আপামর জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অবারিত সুযোগ সৃষ্টিতে আরো মনোযোগী হতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিও আহ্বান জানান তিনি ।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে স্থাপন করা হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এসব সেবা কেন্দ্র থেকে দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে ৩০ পদের ওষুধ পাচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।