Lupus Foundation of Bangladesh

Lupus Foundation of Bangladesh Lupus Foundation of Bangladesh (LFB) aims to contribute to our society by creating awareness about l

The LFB envisions a society where people are aware of LUPUS and feel at ease to manage and control lupus without any psycho social tensions and barries.

লুপাস জয়ীর জীবনসংগ্রামের গল্প 🦋সিয়াম ইবনে হাসান রিয়ান, বগুড়াঅনুপ্রেরণায়: লুপাস ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সম্মানিত কো-ফাউন্...
30/11/2025

লুপাস জয়ীর জীবনসংগ্রামের গল্প 🦋

সিয়াম ইবনে হাসান রিয়ান, বগুড়া

অনুপ্রেরণায়: লুপাস ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সম্মানিত কো-ফাউন্ডার ও সেক্রেটারি, শ্রদ্ধেয়া ফারহানা ফেরদৌস আপু

আমার জীবনের এক দুর্বিষহ সময় এবং আলোর পথে যাত্রার গল্প—

শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক।
২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে হঠাৎ টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হই। সুস্থ হয়ে ফিরে চতুর্থ শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হই। পরবর্তী পরীক্ষাতেও ভালো ফল করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই পড়া মনে রাখতে সমস্যা শুরু হয়।

দুই লাইনের একটি পড়া মুখস্থ করতে দুই ঘণ্টা লেগে যেত, আর আমি কান্নায় ভেঙে পড়তাম। ফলস্বরূপ, ১ম সাময়িক পরীক্ষায় আমার রোল ১ থেকে নেমে ৪৪ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় মানুষের অবজ্ঞা, বিদ্রুপ ও অপমান।

সবকিছু সহ্য করে পি ই সি ই পরীক্ষায় অংশ নিই এবং GPA-5.00 অর্জন করি।

ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি — অব্যাহত অপমান ও মানসিক ভাঙন।
বন্ধুরা দূরে সরে যায়। কিছু সহপাঠীর অভিভাবক আমার মা-কে অপমান করতে কুণ্ঠা বোধ করতেন না। আমার মা তা সহ্য করতে পারতেন না, আমিও ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি।

সপ্তম শ্রেণির মাঝামাঝি সময়ে মানসিক সমস্যাগুলো গুরুতর রূপ নেয়। স্কুলে যেতে ভয় পেতাম, ভাবতাম কেউ অপমান করবে। পরীক্ষাও দিতে পারিনি ঠিকভাবে, তবুও বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অষ্টম শ্রেণিতে উঠি।

তীব্র মানসিক অবস্থা ও আত্মবিরোধী আচরণ-
নিজেকে আঘাত করতাম, হাতের রগ কেটে ফেলতাম, বাড়ি চিনতাম না — এক ভয়াবহ সময় পাড়ি দিয়েছি। চিকিৎসার মাধ্যমে কিছুটা সুস্থ হয়ে জেএসসি পরীক্ষায় GPA-5.00 পাই।

২০২০: কোভিড-১৯ ও এক ভয়ঙ্কর মোড়।
নবম শ্রেণিতে উঠে কোভিড-১৯ এর কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। ২০২০ সালের মাঝামাঝি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি।

২০২১ সালের শুরুতে আমার শরীরে ধরা পড়ে একটি বিরল ও জটিল অটোইমিউন রোগ —
Systemic Lupus Erythematosus (SLE)।
সেদিন থেকেই শুরু হয় আমার এক নতুন যুদ্ধ — নিজের শরীরের বিরুদ্ধে।

চিকিৎসার খরচ এতটাই বেড়ে যায় যে, আমার মা তাঁর বিয়ের গয়না বিক্রি করতে বাধ্য হন। পরিবারকে চালাতে আমাদের নিতে হয় ব্যাংক লোনও।

এসএসসি ও এইচএসসি — লড়াই চালিয়ে যাই একাই।
আমি সিদ্ধান্ত নিই, কোনো প্রাইভেট পড়বো না। ইউটিউবসহ বিভিন্ন ফ্রি অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করে নিজে নিজে পড়ালেখা চালিয়ে যাই, যাতে চিকিৎসার জন্য কিছু অর্থ সাশ্রয় করা যায়।

কিন্তু ২০২৩ সালে আসে নতুন বিপর্যয়।
আমি একসাথে আরও কিছু জটিল ও কষ্টদায়ক রোগে আক্রান্ত হই:

Chronic Antral Ulcer

Solitary Re**al Ulcer Syndrome (SRUS)

Irritable Bowel Syndrome – Constipation predominant (IBS-C)

Small Intestinal Bacterial Overgrowth – Methane dominant (SIBO-M)

Fibromyalgia with Musculoskeletal Pain (MSK)

Pelvic Floor Dyssynergia

Obstructed Defecation Syndrome (ODS)

এই রোগগুলোর কারণে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে পারিনি। পরীক্ষাগুলো দিয়েছি কোনোভাবে। একটানা ক্লাস করলে প্রচণ্ড ব্যাকপেইন ও হাঁটু ব্যথা হতো।

নিজেকে হারিয়ে ফেলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছি।
অনেক সময় শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে যেত যে, বাধ্য হয়ে বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, এমনকি অচেনা মানুষদের কাছ থেকেও সহায়তা চেয়েছি। আত্মসম্মান ভুলে গিয়ে সাহায্যের আবেদন করেছি, শুধুমাত্র আমার বাবা-মায়ের অসহায় চোখের দিকে তাকিয়ে।

কিছু মহান মানুষ — কেউ আমার খুব আপন, কেউ সম্পূর্ণ অচেনা — নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ কেউ আবার ভুল বুঝেছেন, অপমান করেছেন। তবুও আমি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি।

২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আমার চিকিৎসায় খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।
সময়ে সহায়তা না পেলে হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।

তাদের প্রতি আমি চিরঋণী। তারা আমার জীবনে আলো এনেছেন, বাঁচতে শিখিয়েছেন।

আজ, আলহামদুলিল্লাহ, আমি United International University-তে BSc in Data Science প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছি এবং একটি নতুন জীবনের পথচলা শুরু করেছি।

আমার স্বাস্থ্য এখন অনেকটাই স্থিতিশীল এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থাও উন্নত।
তবুও, যখন অতীতের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, তখন বুকের গভীরে এক অসহনীয় কষ্ট অনুভব করি।
যারা আমার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়ে পাশে ছিলেন-
Shafiq Islam Sir ( My Honorable Physics Teacher)
Farhana Ferdous Apu ( Co-founder Secretary, Lupus Foundation of Banglaesh)
Tasneem Asif Adiba Apu 💓
Kazi Abu Darda Meshkat (Friend)
Mahbubur Rahman (Friend)
Md Siam (Friend)
Mohammed Zawad Reza (Friend)
Syeda Maria Affendi Apu
Maisha Mumtaz Titli Apu
Mirza Abir Vaia
Mohammad Gufran Vaia
Faizunnessa Munni Apu

পরিশেষে, লুপাসে আক্রান্ত সকল ভাই-বোনদের প্রতি আমার হৃদয়ের বার্তা-

প্রিয় সহযোদ্ধা,

লুপাস একটি কঠিন ও ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া রোগ। এটি শুধু শরীর নয়, মন, সম্পর্ক ও সমাজ—সবকিছুকে নাড়িয়ে দেয়। কিন্তু আপনি যেন কখনও ভুলে না যান—এই রোগ আপনাকে দুর্বল করে না, বরং আপনাকে আরও দৃঢ় ও অটল করে তোলে।

আমি জানি এই পথ কতটা কণ্টকাকীর্ণ। অসহ্য ব্যথা, ঘন ঘন হাসপাতালে যাওয়া, ক্লান্ত দেহে মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা, সহানুভূতির অভাব, অপমান—সব কিছুই খুব ভালো করেই চিনি।

তবুও, আজ আমি আপনাকে বলতে চাই—হাল ছেড়েন না।
জীবনে অন্ধকার যতই ঘনিয়ে আসুক, কোথাও না কোথাও একটা আলোর রেখা ঠিকই থাকে। আপনি একা নন। আপনার ভেতরেই আছে সেই শক্তি, যেটা আপনাকে বহুদূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবে।

যদি কেউ আপনার কষ্ট না বোঝে, মনে রাখবেন—মহান আল্লাহ / সৃষ্টিকর্তা সব জানেন।
যদি সবাই দূরে সরে যায়, তবুও মনে রাখবেন—আপনি একাই যথেষ্ট, কারণ আপনি একজন যোদ্ধা।

লড়াই করুন, কাঁদুন, আবার উঠে দাঁড়ান, হাঁটুন, হাসুন। জীবন থেমে থাকেনি, আপনিও থামবেন না।

একদিন নিশ্চয়ই আপনি নিজের গল্পে বিজয়ী হবেন—যেমনটা আমি হয়েছি।
আপনার ভেতরেই বেঁচে থাকার প্রেরণা আছে, আর সেটিই আপনাকে জয়ী করবে।
ইনশাআল্লাহ

জাকিয়া আমিনের  র লেখা গল্প।  ধারাবাহিক ভাবে এগুলো আমি পোস্ট করছি আপনাদের   উৎসাহ দেবার জন্য।  এ পর্যায়ে জাকিয়া আমিনের জী...
29/11/2025

জাকিয়া আমিনের র লেখা গল্প। ধারাবাহিক ভাবে এগুলো আমি পোস্ট করছি আপনাদের উৎসাহ দেবার জন্য। এ পর্যায়ে জাকিয়া আমিনের জীবন জয়ে এগিয়ে যাবার গল্পটা ভালো করে পড়বেন এবং কমেন্ট করবেন । আমাদের জীবন কে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য মানসিক শক্তি আমাদের ই অর্জন করতে হবে --তাই সবার কাছে অনুরোধ যখন আপনার লুপাস তখন থেকেই মানসিক বল একটু বাড়িয়ে নিন । হেরে যাবেন না -জীবন কে জয় করার জন্য তীব্র মনের জোর আত্ম বিশ্বাস আর ঐকান্তিক চেষ্টার বিকল্প নেই। জাকিয়া পেরেছে আপনি কেন না ?সালটা ২০২০, হঠাৎ চারদিকে ভয়ানক এক মহামারীতে থমকে গেছে গোটা পৃথিবী। বাংলাদেশেও কড়া লকডাউন জারি করেছে। এমন সময় কেনো চিরাচারিত আচার অনুষ্ঠান আর ঝমকালো সাজ ছাড়াই ছিমছাম সাধারণ ভাবে বিয়েটা হয়ে গেলো।সদ্য বিবাহিতা বউ শশুর বাড়িতে পা রাখলো।বিয়ের রাত থেকেই জ্বর।ক্রমশ জ্বরের মাত্রা বাড়তে লাগলো।এরপর মুখে ঘাঁ!! আস্তে আস্তে সারা মুখে ছড়িয়ে গেলো এই ঘাঁ!! পাড়া প্রতিবেশি নতুন বউ দেখতে এলো,এসে বলাবলি শুরু করলো- -কিগো রুহুলের মা!! এতো বেছে বেছে এই রোগা বউ পছন্দ হলো বুঝি?? -আমার ভাতিজির কথা বলেছিলাম তো।রুপে গুনে অনন্য মেয়ে পছন্দ হলো না।এখন কি আনলো! তখন আমার হাজবেন্ড এসে বললো, -চাচি,অসুস্থতা কারো হাতে থাকে না।আল্লাহ অসুস্থ করেন আল্লাহই সুস্থ করে দেবেন। আম্মু,আপনি কারো কথায় মন খারাপ করবেন না।আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই। আজকে ১২ দিন হলো হা করে পানিটাও খেতে পারছিনা।দুই ঠোঁটে এমন ঘাঁ!! হা করলেই ঝরঝর করে রক্ত পড়ে।আজকাল খাবার দেখলেই ভয় লাগে।কিছুই না খেতে পারার ফলে উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটাও পাচ্ছিনা।তার উপর ১০২°/১০৩° জ্বর!!! আর পারছিনা.... আহা শখের চুল!!হাটুর নিচে গড়াগড়ি করা চুল আজ ঘাড়ে এসে সুরসুড়ি দেয়... আয়নার দিকে তাকালে নিজেকে চিনতে পারিনা।চোখের নিচে কালো দাগ,মুখে লাল লাল কি যেনো!! হ্যা অনেকটা প্রজাপতির মতো লাগছে দেখতে। প্রায় ৪/৫ জন ডাক্তার দেখালাম।কোনো ডাক্তার দেখিয়েই তো লাভ হচ্ছেনা।বোধ হয় আর বাঁচবোইনা।আজ অন্য আরেক ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম।ডাক্তার বললো, -রোগীর অবস্থা অনেক ক্রিটিকাল।দেখেতো মনে হচ্ছে ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ।ঢাকা মেডিকেল এর ইমার্জেন্সিতে ভর্তি দিলো। এই কথা শুনে বাসায় শোকের ছায়া নেমে এলো। জীবন্ত লাশের মতো পড়ে আছি।নড়াচড়া করার শক্তিটুকু পাচ্ছিনা।হিমোগ্লোবিন ৬ এ নেমে এসেছে। উনি কোলে করে গাড়িতে উঠাচ্ছেন।পাড়া প্রতিবেশী সবাই এসে ভীড় করেছে এই জীবন্ত লাশটা দেখার জন্য।শুনতে পাচ্ছি সবাই বলাবলি করছে,আহারে মেয়েটা বোধ হয় আর বাঁচবেনাগো।এক মাস হয়নি বিয়ে হয়েছে এর মধ্যে এই অবস্থা!! বাঁচলেও মনে হয়না স্বামী,শশুর বাড়ি এমন রোগা বউ ফেরত নিবে! আত্নীয় স্বজনের কান্নাভরা চোখ দেখে ভেবেই নিয়েছি,হয়তো খুব কঠিন কোনো অসুখ হয়েছে।উনি সবাইকে খুব বোঝাচ্ছেন,আশ্বাস দিচ্ছেন ইনশাআল্লাহ কিছুই হবেনা সুস্থ হয়ে ফিরবো। এম্বুলেন্স ছুটে চললো ঢাকা মেডিকেল এর উদ্দেশ্যে।সাথে আছে আমার হাজবেন্ড আর আম্মু।এখন তো লক ডাউন চলছে।চারিদিকে করোনা ভাইরাসের ছড়াছড়ি।সম্পূর্ণ লকডাউন,রাস্তায় কাকপক্ষীও নেই দুই একটা গাড়ি ছাড়া।হাসপাতালে গিয়ে দেখি চারিদিকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী।কোনো কেবিন,বেড ফাকা নেই সব ভর্তি।অনেক কষ্টে একটা বেড ম্যানেজ করতে পারলেন উনি।আমাকে আবার কোলে করে বেডে শুয়িয়ে দিলেন।ট্রিটমেন্ট শুরু হলো,অনেক টেস্ট দেয়া হলো।কিন্তু আমরা কেউ রাতে একফোঁটা ঘুমাতে পারিনি।পাশের বেডে দুজন মারা গেল, চোখের সামনে মৃত্যুর হাহাকার! দেখছিলাম স্বজনহারানো আর্তনাদ। এক ভয়াবহ আতঙ্কে মন ছটফট করছিল মনে হচ্ছিল এই বুঝি আমার জীবনের প্রদীপটাও নিভে যাবে। কাছের মানুষগুলেকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাব। পাশে থাকা নতুন মানুষটার সাথে আরো অনেকবছর হাতে হাত রেখে পথ চলার ইচ্ছে আঁকড়ে ধরছিল । এত কান্না আর মৃত্যুর মিছিল আর সহ্য করতে পারছিলাম না পরের দিন সকালে একজন বড় ডাক্তার ভিজিটে এলেন,আমাকে ভালোভাবে দেখলেন।উনি আমার মুখের বাটারফ্লাই র‍্যাশ দেখেই বলে ফেললেন, -এতো লুপাস পেশেন্ট!! ওকে এই করোনার ওয়ার্ডে কেনো রাখা হয়েছে?এভাবে থাকলেতো ওর কোভিড হয়ে যাবে,তারপর বাঁচানো মুশকিল হয়ে যাবে। এরপর টেস্ট করে নিশ্চিত হলাম আমার এসএলই(লুপাস) হয়েছে।এমন রোগের নাম জীবনে শুনিনি। ডাক্তার বললেন এটা নাকি দীর্ঘমেয়াদী রোগ।লুপাস রোগী কখনোই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়না।আমার মনে তখন ভয় ঢুকে গেলো! -এমন অসুখের কথা শুনে উনি আমার হাতটা ছেড়ে দিবেননা তো!!! যেমনটা প্রতিবেশীরা বলছিলো! নতুন বিয়ের পর মানুষ হানিমুনে যায়,রঙ্গীন স্বপ্ন দেখে!!!! আর আমার স্বামী আমায় নিয়ে হাসপাতালে দৌড়াতে ব্যস্ত!!!! আমার রোগের কথা শুনে সবাই কান্নাকাটি শুরু করে দিলো।আম্মুও আমাকে না দেখিয়ে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে।শুধু স্ট্রং আছেন আমার হাজবেন্ড।উনি সবাইকে বুঝিয়ে চলেছেন কিছুই হবেনা।প্রপার ট্রিটমেন্ট এ থাকলে ইনশাআল্লাহ সুস্থভাবে চলতে পারব।উনার কথায় সবাই মুটামুটি আশ্বস্ত হলো। কিন্তু বিপত্তি বাধলো চিকিৎসা নিতে গিয়ে,হাসপাতাল রিলিজ করে দিয়েছে কারণ উনাদের রিউমাটোলজি বিভাগ করোনার কারণে বন্ধ আছে।লকডাউন শেষে এসে যোগাযোগ করতে বললেন আর কিছু ঔষধ লিখে দিলেন। আমার হাজবেন্ড ঢাকার সব বড় বড় হাসপাতালে খোজ নিলেন কোথায় ভালো ট্রিটমেন্ট হবে।তারপর পিজি হাসপাতালের রিউমাটোলজি বিভাগে এসে চিকিৎসা নিতে শুরু করলাম।আলহামদুলিল্লাহ আস্তে আস্তে সুস্থ হতে শুরু করলাম।তিন মাস পর আল্লাহর রহমতে এখন অনেকটাই সুস্থ আছি।আমার আম্মু আর হাজবেন্ড এর অবদান আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। উনাকে যদি কখনো বলি আপনার কি নিজের ভাগ্য নিয়ে মন খারাপ? উত্তর আসে-হ্যা মন খারাপ।কারণ তোমাকে আরও আগে কেনো পেলাম না,হাটু পর্যন্ত সুন্দর চুলগুলো দেখার সৌভাগ্য হলোনা। যদি উনাকে বলি যে আমার কারণে আপনার সব সেভিংস শেষ হয়ে গেলো! উত্তরে বলেন- এটা তোমার রিজিক।আল্লাহ তোমার রিজিকে লিখে রেখেছেন। এটা চাইলেও কেউ নিতে পারবেনা। আমার মনে প্রশান্তি দেয়ার জন্য এই দুই লাইনের উত্তরই যথেষ্ট। সবাই বলে অনেক কপাল করে পেয়েছি উনাকে... আরো কয়েক মাস যাওয়ার পর ডাক্তার বললো আপনি চাইলে এবার বেবি নিতে পারেন। এবার আমার নতুন অভিজ্ঞতা শুরু হলো লুপাস ও প্রেগন্যান্সি!আল হা মদুলিল্লাহ কন্সিভ করলাম।হাই রিস্ক প্রেগ্ন্যাসি ছিলো আমার।কিন্তু মা হওয়ার সাধ টা আমার সব ভয় কাটিয়ে দিলো।নয় মাস অনেক ক্রিটিকাল সময় পার করেছি।প্রতিমাসে একবার রিউমাটোলজিস্ট+গাইনি ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হয়েছি।উনাদের পরামর্শ মতো চলেছি।সমস্ত ভয় পেরিয়ে আলহামদুলিল্লাহ আমি জয়ী হলাম।সুস্থভাবে দুনিয়ায় আসলো আমার মহান রবের নেয়ামাত "রাফান"। সর্বশেষে উপলব্ধি করতে পেরেছি, লুপাসের সাথে পথচলা সহজ নয় কিন্তু অসম্ভব কিছু ও নয়।জ্বর,মুখে ঘা,চুল পড়া,সূর্যের আলোতে মুখ রক্তিম আকার ধারণ করা,জয়েন্টে ব্যাথা এগুলো একজন লুপাস রোগীর নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা।অতি অপছন্দের ঔষধকে আপন করে নিয়ে চলতে হয়।সব কিছুকে জীবনের অংশ মনে করতে হবে। এক্ষেত্রে রোগীর মনের জোড়,কাছের মানুষের সাপোর্ট আর সকলের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী লুপাস রোগীকে সুস্থ রাখতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। এখন রাত ২ টা বাজে।নিজের ডায়েরি টা বন্ধ করে চোখের পানি মুছলো জাকিয়া।হ্যা এতক্ষন নিজের ডায়েরিতে লিখছিলো জাকিয়া।ডায়েরিটা গুছিয়ে রেখে স্বামী ও সন্তানের দিকে তাকিয়ে একটা তৃপ্তির হাসি দিলো। অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো, "আলহামদুলিল্লাহ সবকিছুর জন্য"

লুপাস এমন একটি রোগ , অধিকাংশ রোগীর কোনো ধারনায় থাকে না এ রোগ কি ?কিভাবে সারা জীবন চলতে হবে এ রোগ কে সাথী করে। লুপাস সমন্...
29/11/2025

লুপাস এমন একটি রোগ , অধিকাংশ রোগীর কোনো ধারনায় থাকে না এ রোগ কি ?
কিভাবে সারা জীবন চলতে হবে এ রোগ কে সাথী করে। লুপাস সমন্ধে একজন রোগী বা লুপাস যোদ্ধার পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা উচিত।

এমন অবস্থার পরিপেক্ষিতে আমরা আয়োজন করি আপনাদের জন্য পেশেন্ট এডুকেশন। সঠিক ভাবে নিয়ম মেনে চলে কিভাবে লুপাস নিয়ে আপনি একজন স্ব।ভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন। অংশ নিন আমাদের সাথে। রেজিস্ট্রি করতে ফোন করুন।আমাদের এ প্রোগ্রাম আপনাদের জীবন বদলে দিবে। ভালো থাকুন আমাদের সাথে থাকুন।
Registration: Please call at 01892 408 137

লুপাস নেফ্রাইটিস – দৈনিক ও মাসিক অ্যাকশন প্ল্যান১. দৈনিক রুটিনক) ওষুধ ও চিকিৎসাসব প্রেসক্রাইব করা ওষুধ নিয়মমাফিক খাওয়া...
21/11/2025

লুপাস নেফ্রাইটিস – দৈনিক ও মাসিক অ্যাকশন প্ল্যান

১. দৈনিক রুটিন

ক) ওষুধ ও চিকিৎসা

সব প্রেসক্রাইব করা ওষুধ নিয়মমাফিক খাওয়া।

কখনও নিজে ওষুধ পরিবর্তন করা বা বাদ দেওয়া চলবে না।

স্টেরয়েড বা ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধে সাইড ইফেক্ট মনিটর করা: মুখ শুকানো, ইনফেকশন, অল্প রক্তপাত ইত্যাদি।

খ) পানি ও ডায়েট

পর্যাপ্ত পানি পান (ডাক্তারের নির্দেশমাফিক)।

লবণ কম খাওয়া (

21/11/2025
নারীকেন্দ্রিক রোগ লুপাস কিন্তু আমাদের জানা প্রয়োজন লুপাসে আক্রান্ত নারী : পুরুষ = ৯:১ তাহলে পুরুষদের  ও লুপাস হয় এবং নীচ...
21/11/2025

নারীকেন্দ্রিক রোগ লুপাস কিন্তু আমাদের জানা প্রয়োজন লুপাসে আক্রান্ত
নারী : পুরুষ = ৯:১
তাহলে পুরুষদের ও লুপাস হয় এবং নীচের ছবি গুলিতে আমার পুরুষ দের লুয়াস নিয়ে আলোচনা দেখতে পাচ্ছি।
সারা বিশ্বে লুপাসে আক্রান্ত জনসংখ্যা হল ৬ মিলিয়ন বা ৬০ লাখ।

রিসার্চার  বলছেন, জেনেটিক্স, হরমোন, এনভায়রনমেন্ট ফ্যাক্টর  লুপাস ট্রিগারের জন্য দায়ী হতে পারে।
21/11/2025

রিসার্চার বলছেন, জেনেটিক্স,
হরমোন,
এনভায়রনমেন্ট ফ্যাক্টর লুপাস ট্রিগারের জন্য দায়ী হতে পারে।

👉 Learn more: https://www.lupus.org/resources/what-causes-lupus?

Assalamu alaikum, everyone,Our next lupus patient education session will be held on Thursday, 4th December at 2:00 pm on...
20/11/2025

Assalamu alaikum, everyone,

Our next lupus patient education session will be held on Thursday, 4th December at 2:00 pm onward at Green Life Hospital.
I am humbly requesting you to participate and share your lupus experiences with the patients and learn more about lupus treatments. Please invite your lupus friends and families to the program.

Farhana Ferdous
Co-founder & Secretary General, LFB.
For Registration, please call:
Shahnaz: +88 018 9240 8137
Ferdousi: +88 017 2379 0540
Early Bird Registrations
(No fees, only your valuable presence.)

14/11/2025
পথিক"কোনো পথ প্রান্তরে দাঁড়িয়ে একা পথিক,পথ হারিয়ে চলছে ভিন্ন দিক।পথমধ্য কত জন!চেনা অপরিচিত নিয়ে,নানান আয়োজন। কেউ বা শুভ...
14/11/2025

পথিক"
কোনো পথ প্রান্তরে
দাঁড়িয়ে একা পথিক,
পথ হারিয়ে চলছে ভিন্ন দিক।
পথমধ্য কত জন!
চেনা অপরিচিত নিয়ে,
নানান আয়োজন।
কেউ বা শুভাকাঙ্ক্ষী
কেউবা মুখোশধারী,
কেউ বা আছে
এই দুইয়ের মাঝামাঝি।
চলছে পথিক, নিয়ে সব দিক
মেনে নিয়ে সব, ঠিক বেঠিক।
কেউ দিচ্ছে এগিয়ে যেতে
কেউবা আটকে দিচ্ছে ভীত।
তবুও সে নেই থেমে,
ঝড়-ঝঞ্ঝা সব নিয়েছে মেনে।
আজ না হয় কাল
এই পথ পাড়ি দিয়ে,
জয় করবে সে মহাকাল।
Rima Binte Amin

লুপাস  আক্রান্তদের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য টিপস:লুপাস আক্রান্তদের তাদের রোগের সম্ভাব্য কিছু ঝুঁকি এবং জটিলতা সম্পর্কে সচে...
14/11/2025

লুপাস আক্রান্তদের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য টিপস:

লুপাস আক্রান্তদের তাদের রোগের সম্ভাব্য কিছু ঝুঁকি এবং জটিলতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। আপনার জন্য এখানে কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে।

ইমিউনোসপ্রেসড লোকেদের জন্য ভ্যাকসিন নিরাপদ বলে মনে করা হয়। "যখনই সম্ভব, এইচপিভি ভ্যাকসিনটি HPV vaccines এমন সময়ে দেওয়া উচিত যখন স্টেরয়েডগুলি কম মাত্রায় নেওয়া হচ্ছে, এটি নিশ্চিত করার জন্য যে ভ্যাকসিনের প্রতি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যাপ্ত রয়েছে।
কিন্তু লুপাসের সাথে যুক্ত প্রদাহ এবং কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহারের কারণে, লুপাস আক্রান্ত শিশুদের প্রায়শই তাদের হাড়ের ঘনত্ব গড়ে ওঠে না।

Dr ব্রুনার বাচ্চাদের স্টেরয়েড থেরাপি শুরু করার পরে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি খাওয়া শুরু করার এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপকে উত্সাহিত করার পরামর্শ দেন।

"ব্যায়াম লুপাস রোগীদের জন্য ভাল; এটি ভাল রোগের ফলাফলের সাথে যুক্ত। ব্যায়াম মেজাজকেও সাহায্য করে এবং সম্ভবত ক্লান্তিতেও সাহায্য করে।

Prof Buyon এবং Michelle Petri, MD, MPH, 2005 সালে দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত ল্যান্ডমার্ক SELENA গবেষণার নেতৃত্ব দেন যা লুপাসযুক্ত মহিলাদের মধ্যে ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের নিরাপত্তা পরীক্ষা করে।
গবেষণায় স্থিতিশীল লুপাস সহ মহিলাদের মধ্যে গুরুতর বা হালকা/মাঝারি ফ্লেয়ারের বৃদ্ধির ঝুঁকি পাওয়া যায়নি যাদের ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি দেওয়া হয়েছিল।যাইহোক, Prof Buyon সতর্ক করে যে মহিলাদের অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি রয়েছে, যা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকির সাথে যুক্ত তাদের সতর্ক হওয়া দরকার।
"এই অ্যান্টিবডিগুলি তাদের জমাট বাঁধার জন্য আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, এবং তাই, একটি ইস্ট্রোজেন-যুক্ত কো.যাইহোক, Buyon সতর্ক করে যে মহিলাদের অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি রয়েছে, যা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকির সাথে যুক্ত তাদের সতর্ক হওয়া দরকার।

"এই অ্যান্টিবডিগুলি এগুলিকে জমাট বাঁধার জন্য আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলে, এবং সেইজন্য, একটি ইস্ট্রোজেনযুক্ত গর্ভনিরোধক নিরোধক হতে পারে।" এই অ্যান্টিবডি সহ মহিলাদের জন্য, প্রোজেস্টিন-শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যেমন মিনি-পিল, ডেপো-প্রোভেরা® শট, বা ইমপ্ল্যানন® বিকল্প। ইমপ্ল্যানন, একটি ম্যাচস্টিক-আকারের, হরমোন-ভিত্তিক গর্ভনিরোধক, একজন চিকিত্সক দ্বারা উপরের বাহুর ত্বকের নীচে ঢোকানো হয়।

লুপাস হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে, যা এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর প্রধান কারণ। লুপাসের সাথে যুক্ত অটোইমিউন প্রদাহ রক্তনালীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এথেরোস্ক্লেরোসিসকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং পেরিকার্ডাইটিস বা মায়োকার্ডাইটিসের মতো অবস্থার দিকে পরিচালিত করতে পারে। এছাড়াও, লুপাসের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন কর্টিকোস্টেরয়েড যেমন প্রেডনিসোন, উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকির কারণগুলিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

Address

Road 32, Green Road
Dhaka
8803

Opening Hours

Tuesday 09:00 - 13:00
Thursday 09:00 - 13:00
Sunday 09:00 - 13:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lupus Foundation of Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Lupus Foundation of Bangladesh:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram