22/09/2025
🌍 আজ বিশ্ব ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া (CML) দিবস ২০২৫:
✅প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব CML দিবস।
✅এই তারিখটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়ার মূল কারণ হলো ক্রোমোজোম ৯ এবং ২২ এর মধ্যে ঘটে যাওয়া ট্রান্সলোকেশন বা অদলবদল t(9;22), যা ফিলাডেলফিয়া ক্রোমোজোম নামে পরিচিত।
📌📌দিবসটির মূল উদ্দেশ্যঃ
✅সাধারণ মানুষের মধ্যে CML সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরি করা
✅দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা
✅রোগীদের জন্য সমানভাবে চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করা
✅গবেষণা, চিকিৎসা এবং সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে রোগীদের জীবনের মান উন্নত করা
📣📣 ২০২৫ সালের স্লোগান:
Equity in Action: Leaving No CML Patient Behind
🧬 CML কী?
✅ CML (Chronic Myeloid Leukemia) হলো এক ধরনের রক্তের ক্যান্সার।
✅এটি অস্থিমজ্জার শ্বেত রক্তকণিকার (white blood cell) ক্যান্সার, যেখানে অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত ভাবে প্রচুর পরিমাণে অপরিণত কোষ তৈরি হয়।
📌📌এই রোগের কারণঃ
✅ CML সাধারণত ফিলাডেলফিয়া ক্রোমোজোম নামক জেনেটিক পরিবর্তনের কারণে হয়। এটি ক্রোমোজোম ৯ এবং ২২ এর মধ্যে অদলবদলের t(9;22) ফলে ঘটে, যার ফলে BCR-ABL জিন তৈরি হয়। এই জিন একটি অস্বাভাবিক প্রোটিন (tyrosine kinase) উৎপাদন করে, যা কোষকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি ও বিভাজিত হতে বাধ্য করে।
🔴 CML-এর Epidemiology:
✅প্রাপ্তবয়স্কদের সব লিউকেমিয়ার প্রায় ১৫–২০% হলো CML
✅বার্ষিক Incidence: প্রতি ১–২ জন/১,০০,০০০ জনসংখ্যা।
✅এই রোগ সাধারণত ৫০–৬০ বছর বয়সে হয়
✅পশ্চিমা দেশে → সাধারণত অনেক বেশি বয়সে রোগ নির্ণয় হয়।
✅এশিয়ার দেশগুলো যেমন বাংলাদেশ, ভারত এ তুলনামূলকভাবে কম বয়সে (৩০–৪০ বছর) রোগ ধরা পড়ে।
✅মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগ কিছুটা বেশি (পুরুষ : মহিলা ≈ ১.৩–১.৫ : ১)
🔴এই রোগের ঝুঁকি বা Risk Factors:
✅ Radiation exposure → ঝুঁকি বাড়ায় (যেমন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের হিরোশিমা, নাগাসাকি তে যারা বেঁচে ছিলেন তাদের অনেকেই পরবর্তীতে এই রোগে আক্রান্ত হন)
✅রাসায়নিক দ্রব্য , ধূমপান বা বংশগত কারণে এই রোগ হওয়ার সুস্পষ্ট কোন সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় নি।
✅বেশিরভাগ ক্ষেত্রে sporadic (অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ঝুঁকির কারণ পাওয়া যায় না)।
📌📌 এই রোগের বিভিন্ন পর্যায় বা ধাপঃ
CML সাধারণত ৩টি ধাপে অগ্রসর হয়: যেমন-
✅ Chronic phase – রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
✅ Accelerated phase – কোষ বিভাজন দ্রুত হতে থাকে।
✅ Blast crisis – রোগ তীব্র লিউকেমিয়ায় রূপ নেয়।
🔴 CML-এর লক্ষণ ও উপসর্গ
📌📌সাধারণ উপসর্গ (General Symptoms)
✅অকারণে দুর্বলতা ও ক্লান্তি
✅ওজন কমে যাওয়া
✅রাতে অতিরিক্ত ঘাম (night sweats)
✅জ্বর (কোনো ইনফেকশন ছাড়াই হতে পারে)
✅ক্ষুধামান্দ্য
📌📌রক্তশূন্যতার লক্ষণ (Anemia-related Symptoms):
✅সহজে হাঁপিয়ে যাওয়া
✅মাথা ঘোরা
✅মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
📌📌প্লীহা ও লিভার বড় হয়ে যাওয়ার লক্ষণঃ
✅পেটের বাঁদিকের উপরের অংশে ব্যথা বা ভারীভাব (left upper quadrant pain/heaviness)
✅দ্রুত পেট ভরে যাওয়া অনুভব হওয়া (early satiety)
✅ Hepatomegaly বা লিভারের সাইজ বড় হলে→ পেটের ডানপাশে ভারীভাব অনুভুত হয়।
📌📌 অন্যান্য লক্ষণ সমুহঃ
✅ঘনঘন সংক্রমণ বা Repeated infections
✅সহজে নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ (bruises, petechiae)
✅অস্থিমজ্জায় blast বেড়ে গেলে Acute Leukemia-এর মতো উপসর্গ হয়ে থাকে। যেমন-
জ্বর
হাড়ে ব্যথা
শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষরণ
তীব্র দুর্বলতা, ইত্যাদি
🔴 CML-এর পরীক্ষা ও নিরীক্ষা
১. রক্ত পরীক্ষা (Blood Tests):
✅ Complete Blood Count (CBC):
লিউকোসাইটিস (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে >100,000/µL)
অনিয়ন্ত্রিত immature granulocytes (myelocytes, metamyelocytes, promyelocytes) সাধারণত ব্লাড ফিল্মে দেখা যায়।
হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে
প্লেটলেটের সংখ্যার পরিবর্তন হতে পারে, কখনও কম বা বেশি
২. অস্থিমজ্জা পরীক্ষা (Bone Marrow Study)
৩. জিনগত ও মলিকুলার পরীক্ষা (Cytogenetic & Molecular Tests):
✅ Conventional Karyotyping (Chromosome Analysis) -->Philadelphia chromosome (t(9;22)) খুঁজে বের করা
✅ Fluorescence In Situ Hybridization (FISH):
BCR-ABL fusion gene সনাক্তকরণ
✅ RT-PCR (Quantitative PCR): BCR-ABL transcript level পরিমাপ
রোগের মলিকুলার রেসপন্স এবং চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া নিরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
৪. অন্যান্য পরীক্ষা (Supportive)
✅ Liver Function Test (LFT) & Renal Function Test (RFT):
✅চিকিৎসার আগে baseline organ function দেখার জন্য
✅ Ultrasound / CT Scan
✅ Chest X-ray, ইত্যাদি
🔴 CML-এর ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (Management Plan)
১. লক্ষ্যঃ
✅রোগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং রোগীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখা
✅ Chronic phase-এ রোগকে দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রিত রাখা
✅ Disease progression (Accelerated phase / Blast crisis) রোধ করা
২. চিকিৎসার প্রধান স্তর (Treatment Modalities)
(ক) Tyrosine Kinase Inhibitors (TKIs) — প্রধান ও first-line therapy
✅ Imatinib (1st generation TKI)--> Chronic phase-এ প্রথম পছন্দ
হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (মাথা ব্যথা, বমি, পেশীর ব্যথা) ইত্যাদি হতে পারে
✅ Dastinib , Nilotinib (2nd generation TKIs)-->
Imatinib-resistance বা intolerant রোগীর জন্য
অধিক কার্যকর, কিন্তু কিছু কার্ডিয়াক বা লিভার toxicity হতে পারে
(খ) Hematopoietic Stem Cell Transplantation (Allogeneic HSCT)---> সাধারণত ব্যবহৃত হয় TKI failure বা Blast crisis-এ
Curative হবার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে জটিলতা ও mortality বেশি
(গ) Supportive Care
✅ Infection প্রতিরোধ: Antibiotics / Antivirals (যদি প্রয়োজন)
✅ Anemia: Packed RBC transfusion (প্রয়োজনে)
✅ Platelet transfusion (যদি thrombocytopenia ও রক্তক্ষরণ হয়)
✅ Pain management, nutritional support
৩. পর্যবেক্ষণ ও Follow-up
৪. Patient কাউন্সেলিং:
✅দীর্ঘমেয়াদি TKI therapy নিতে হবে
✅ Side effects ও রোগের অগ্রগতি সম্পর্কে সচেতন হতে হবে
✅নিয়মিত follow-up ও PCR নিরীক্ষা অপরিহার্য
✅গর্ভধারণ পরিকল্পনা: Female patients জন্য TKI-therapy বন্ধ/পরিবর্তন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে হবে।
🔴এই রোগের Prognosis:
✅ Chronic phase এর রোগীদের prognosis বর্তমানে ভালো, অনেক রোগীই দীর্ঘমেয়াদী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
✅ Prognosis সাধারণত নির্ভর করে রোগ নির্ণয়ের সময় রোগী কোন ধাপে আছেন, রিস্ক স্কোর , Molecular response, Drug adherence ইত্যাদির উপর।
✅ Advanced phase বা TKI-resistant রোগীদের prognosis এখনও poor, কিন্তু 3rd generation TKIs (Ponatinib, Asciminib) এবং HSCT-এর মাধ্যমে survival উন্নত করা যায়।
📌📌📌 CML-এর চিকিৎসায় প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো:
১. ঔষধের উচ্চমূল্য ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা
২. রোগী ও পরিবারের সচেতনতার অভাব
৩. Molecular monitoring ও diagnostic facility‑এর সীমাবদ্ধতা
৪. Long-term therapy adherence সমস্যা
৫. Advanced disease‑এর জন্য সীমিত therapeutic options, ইত্যাদি
ডাঃ মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন
সহকারী অধ্যাপক (হেমাটোলজী)
রক্তের ক্যান্সার ও রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ