30/03/2026
হাম প্রাদুর্ভাব বা Measles outbreak সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য:
কিভাবে হয় (causative agent)?
-হাম Measles virus দিয়ে সংঘটিত এবং অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ।
কিভাবে ছড়ায়?
-আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগটি খুবই সংক্রামক (Highly contagious)।
*এ রোগ যা অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই আক্রান্ত অবস্থায় শিশুকে স্কুলে বা জনসমাগমে পাঠানো যাবে না।
বর্তমান বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি কি?
-বাংলাদেশে ২০২৩ সালে প্রাদুর্ভাব এর পর ২০২৬ সালে আবার ব্যাপকভাবে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এ লেখাটি পর্যন্ত ২১ হতে ৪৬ এর মধ্যে বলা হচ্ছে।
হামের (Measles outbreak) প্রাদুর্ভাব বিশেষ করে রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, পাবনা, যশোর ও নাটোর জেলায় এই রোগের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পরীক্ষায় আক্রান্ত শিশুদের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হামের লক্ষণসমূহ কি কি ?
শিশুর মধ্যে হামের সংক্রমণ ঘটেছে কি না, তা বোঝার জন্য নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল করুন:
১. প্রাথমিক লক্ষণ: প্রচণ্ড জ্বর (High fever), অনবরত কাশি (Persistent cough) এবং নাক দিয়ে পানি পড়া (Runny nose)।
২. চোখের সমস্যা: চোখ লাল হয়ে যাওয়া (Red eyes) এবং আলোর দিকে তাকালে অস্বস্তি বোধ করা।
৩. র্যাশ বা ফুসকুড়ি: কয়েক দিন পর মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি (Reddish skin rash) ছড়িয়ে পড়া।
হাম প্রাদুর্ভাব কালীন কি কি করণীয়?
১) টিকা নিশ্চিতকরণ (Vaccination):
-শিশুকে এমআর (MR) বা এমএমআর (MMR - Measles, Mumps, Rubella) টিকা দেওয়া নিশ্চিত করুন। এটিই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। হাম প্রতিরোধে ২ ডোজ টিকা (৯ মাস এবং ১৫ মাসে) সবচেয়ে কার্যকর।
*যদি কোনো শিশু ইপিআই এ টিকা দেওয়া থেকে বাদ পড়ে থাকে, তবে দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে বা বেসরকারি সংস্থা যেখানে এমএমআর টিকা পাওয়া যায় সেখানে নিয়ে টিকা দেওয়া।
২) রোগী আইসোলেশন (isolation):
হামে আক্রান্ত শিশুকে অন্যান্য শিশু ও পরিবারের সদস্যদের থেকে অন্তত ৪-৫ দিন আলাদা রাখতে হবে ।
৩) ভিটামিন 'এ' সেবন:
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে, যা জটিলতা কমায়।
৪) পুষ্টি ও তরল খাবার:
হামে আক্রান্ত শিশুকে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, এবং পুষ্টিকর তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
৫) পরিচ্ছন্নতা:
আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত কাপড়, বিছানা নিয়মিত গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
** ৬) দ্রুত চিকিৎসা (Early Treatment):
জ্বরের সঙ্গে শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (Pediatrician) পরামর্শ নিন।
হাম কেন বিপজ্জনক?
- হামকে কেবল সাধারণ সর্দি-জ্বর ভেবে ভুল করা জীবনঘাতী হতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হামের ফলে শিশুদের শরীরে নিম্নলিখিত জটিলতা দেখা দিতে পারে:
-তীব্র নিউমোনিয়া (Severe Pneumonia): ফুসফুসের সংক্রমণ যা শ্বাসকষ্ট তৈরি করে।
-মস্তিষ্কের প্রদাহ (Encephalitis): যা শিশুর স্নায়বিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
-ডায়রিয়া ও পুষ্টিহীনতা (Diarrhea and Malnutrition): শরীর দ্রুত পানিশূন্য ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
কেন এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে?
- ইপিআই টিকা দান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এম আর ভ্যাকসিন বাদ পরে যাওয়া।
ইপিআই ছাড়া টিকা দেওয়া যায় কি?
-বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে হামের টিকা পাওয়া যায়। সাধারণত এমএমআর (মিজেলস, মাম্পস, রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়, যা হামের পাশাপাশি মাম্পস ও রুবেলা থেকেও সুরক্ষা দেয়।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ:
-সরকার জরুরি ভিত্তিতে ৬০০ কোটি টাকার টিকা ও এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যকলাপের উদ্যোগ নিয়েছে।অতি সংক্রমণ ব্যাধি হিসাবে আলাদা আইসিইউ এর ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
(লেখাটি জনস্বার্থে কার্টেসিসহ কপি পেস্ট করে নিজ ওয়ালে শেয়ার করতে পারেন)
লেখক: ডা. Afroza Akbar
(ডা. আফরোজা আকবর সুইটি)
সহযোগী অধ্যাপক
ভাইরোলজি বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ।
৩০/০৩/২০২৬ইং