14/11/2024
আজ ১৪ ই নভেম্বর, ২০২৪ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জনসচেতনতার লক্ষ্যে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ‘ডায়াবেটিস : সুস্বাস্থ্যই হোক আমাদের অঙ্গীকার’।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতি ১০ সেকেন্ডে একজন ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যু হয় এবং দুই জন নতুন ডায়াবেটিস রোগী শনাক্ত হয়! বিশ্বে প্রায় ৪২ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ডায়াবেটিস রোগী উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিত্র আরও ভয়ংকর। সারা বিশ্বে প্রতি ১০ জনে ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বর্তমান বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনে প্রায় ১৪ জন প্রাপ্ত বয়স্ক (২০-৭৯ বছর) ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তাই ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি অতি জরুরি।
চলুন জেনে নেই ডায়াবেটিস কি এবং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে :
ডায়াবেটিস একধরনের মেটাবলিক ডিজঅর্ডার। শরীরে ইনসুলিন আছে, কিন্তু কাজ করতে পারছে না। কিংবা ইনসুলিন একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে, যার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অর্ধেকের বেশি মানুষ জানেনই না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত।
সাধারণত চার ধরনের ডায়াবেটিস রয়েছে। টাইপ-১, টাইপ-২, জেস্টেশনাল এবং অন্যান্য।
টাইপ-১ হলো, যেভাবেই হোক, যাঁদের শরীরে ইনসুলিন নষ্ট হয়ে গেছে, তাঁদের যদি আলাদা করে ইনসুলিন দেওয়া না হয়, তাহলে তাঁরা মারা যেতে পারেন।
আমরা যখন অতিরিক্ত শর্করা বহুল নানা খাবার খাই, তখন শরীরে একধরনের পরিবর্তন আসে। দেখা যায়, শরীরে ইনসুলিন আছে, কিন্তু সেটা কাজ করতে পারছে না। তখন আমরা যে খাবারই খাই, সেটার গ্লুকোজ জমে যায়। এটা টাইপ-২ ডায়াবেটিস।
জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হল গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস গর্ভাবস্থায় বিকশিত হয় এবং প্রসবের পরে সমাধান হয়ে যায়, যদিও এটি পরবর্তী জীবনে টাইপ 2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
আরেকটি সাধারণ প্রকারের মধ্যে রয়েছে ম্যাচিউরিটি-অনসেট ডায়াবেটিস অফ দ্য ইয়াং (MODY), একটি বিরল জেনেটিক ফর্ম, এবং ল্যাটেন্ট অটোইমিউন ডায়াবেটিস ইন অ্যাডাল্টস (LADA), যা টাইপ 1 এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিসের বৈশিষ্ট্যগুলিকে ভাগ করে। অন্যান্য বিরল ফর্মগুলির মধ্যে রয়েছে নবজাতক ডায়াবেটিস, ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে নির্ণয় করা হয় এবং টাইপ 3c ডায়াবেটিস, প্যানক্রিয়াটাইটিস বা সিস্টিক ফাইব্রোসিসের মতো অবস্থার কারণে অগ্ন্যাশয়ের ক্ষতির কারণে ঘটে।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। দেশের চারটি অসংক্রামক রোগের মধ্যে অন্যতম এই ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ২০২৫ সালের মধ্যে দেড় কোটি ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
খাদ্যাভাসে পরিবর্তন ও নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডায়াবেটিস নিরাময়যোগ্য না। কিন্তু, ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত ব্যক্তি তার লাইফ স্টাইল মডিফিকেশন, খাদ্যাভ্যাস এর পরিবর্তন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এর মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
আমাদের সকলের বাসায় ই কম বেশি ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত রোগী রয়েছে। ডায়াবেটিস এর লক্ষণ, ডায়াবেটিস এ কি ধরনের খাবার খাবেন এবং কোন ধরনের খাবার পরিহার করবেন সে সম্পর্কিত তথ্য পেতে চোখ রাখুন Diet Theory by Sabrina Badhon পেইজ টি তে।
#ডায়াবেটিস #বিশ্বডায়াবেটিসদিবস #ডায়াবেটিসচেতনতা #সুস্বাস্থ্য #স্বাস্থ্য #সুস্থতা #ডায়েট #সচেতনতা #স্বাস্থ্যসচেনতা