20/04/2026
আমাদের প্রথম বেবির সময়টাতেই আমরা নরমাল ডেলিভারির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি৷ সর্বোচ্চ চেষ্টা বলতে নিয়মিত চেকআপে থাকা, খাবারদাবার, হাঁটাচলা, সেবাযত্ন ইত্যাদি।
ডেলিভারির সময়ে যখন হসপিটালে নিয়ে গেলাম, ডাক্তার চেক করে বললেন পানির পরিমাণ অনেক কম। এমন অবস্থায় নরমাল ডেলিভারি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সিজারেই যেতে হবে।
আমরা ডাক্তারের সাথে কোনোরকম বাদানুবাদ করিনি। নরমালেই করতে হবে এমন গোঁ-ও ধরিনি। শুধু বলেছি—‘একটু ভাবতে দিন।’
এই ‘একটু ভাবনার’ সময়ে আমরা কী করেছি?
সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটা হসপিটালে গিয়ে, পুনরায় চেকআপ করালাম। আগের ডাক্তারের কোনো বক্তব্য তাদের জানাইনি আমরা। সেখানেও একই কথা—পানি বেশ কম৷ নরমালে সম্ভব নয়, সিজার করতে হবে।
এবার আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হলো৷ আমরা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, সিজারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম এবং প্রথম হসপিটাল, যে হসপিটালে নিয়মিত আমরা চেকআপে ছিলাম, সেখানেই অপারেশান হয়।
প্রথমবার সিজার হলে, পরেরবারগুলোতেও সিজার করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবুও, শুভাকাঙ্খীদের কাছে এমন একজন গাইনি ডাক্তারের সন্ধান পেলাম যিনি প্রথমবার সিজার হলেও, দ্বিতীয়বারে সাকসেসফুলি নরমাল ডেলিভারি করাতে চেষ্টা করেন। আমরা তার দ্বারস্থ হলাম। তার তত্ত্বাবধানে মেয়ের মা’কে রাখা হলো পুরোটা সময়। ডেলিভারির সময় যখন উপস্থিত, তিনি টেস্ট করে বললেন, প্রথম সিজারের স্কার থিকনেস (Scar Thickness) খুব কম৷ নরমাল ডেলিভারিতে গেলে সমস্যা হতে পারে। না যাওয়াটাই রিস্ক-ফ্রি।
ব্যস, আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলে চলে এলাম। প্রথমবার যে হসপিটাল আর যে গাইনি ম্যাডামের তত্ত্বাবধানে সিজার হয়েছিল, তার কাছে এসে অপারেশানের ডেইট নিলাম। পরেরদিনই অপারেশান হয় আর আমাদের দ্বিতীয় রাজকন্যা দুনিয়ায় আসে, আলহামদুলিল্লাহ।
এতকিছু বলার কারণ হলো, চারপাশে কিছু ভাইদের দেখি নরমাল ডেলিভারির জন্য গোঁ ধরে বসে থাকে। ডাক্তাররা যতই বলে—যা কন্ডিশান তাতে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব না কোনোভাবেই, কিন্তু তারা তা মানতে নারাজ। তারা নরমালেই করাবে, তাতে যা হয় হবে!
যা হয় হবে মানে??
মানে, যদি এতে স্ত্রীর জীবনহানি হয়—তবুও।
যদি এতে গর্ভের বাচ্চাটার ক্ষতি হয়—তবুও।
আমি জানি যে, সিজার করাতে অনেক টাকা খরচ হবে কিন্তু সবসময় যে সবখানে টাকার ব্যাপার থাকে তা তো না। একজন ডাক্তারের কথা আপনার অবিশ্বাস হলে, অন্য একজনের কাছে যান। ক্রসচেক করেন। রিপোর্টগুলো বেশ কয়েকটা জায়গায় পাঠিয়ে যাচাই করে, তারপর সিদ্ধান্ত নেন। যদি আপনার সিদ্ধান্তই হয় যে, দুনিয়া উল্টে গেলেও আপনি নরমাল ডেলিভারি ছাড়া কিছু মানবেন না, তাহলে তো হয় না।
একটু আগে একজন ভাইয়ের ঘটনা শুনলাম। তিনি খুবই গোঁ ধরেছিলেন যে, নরমাল ডেলিভারি ছাড়া অন্য কোনো অপশনে উনি যাবেনই না। ঠিক তাই করলেন৷ উনার স্ত্রীর নরমাল ডেলিভারির অবস্থা না থাকলেও, উনি জোর করে নরমাল ডেলিভারির দিকে গেলেন।
ফলাফল?
স্ত্রীর অবস্থা করুণ হয়ে পড়ে।
বাচ্চাটার অটিজমের মতো সমস্যা হয়ে যায়।
পরে যদিও তিনি ভুল বুঝতে পারেন। কিন্তু ততক্ষণে তো অনেক দেরি হয়ে গেল!
অনেকগুলো বাচ্চাকাচ্চায় ঘর ভরে থাকবে—এমনটা অনেকে চায়। কিন্তু, আমি তো আমার স্ত্রীর জীবন, নতুন অনাগত ভ্রুণটার জীবন নিয়ে বাজি ধরতে পারি না একটা শখ পূরণ করতে।
সবকিছু আল্লাহর কাছে চাইছি, যদি তিনি কল্যাণ রাখেন তাহলে দিবেন৷ কল্যাণ না থাকলে দিবেন না—সিম্পল অ্যাস দ্যাট।
অধিক বাচ্চাকাচ্চার বাবা হওয়ার জন্য কারও জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা—এটা কোনো দায়িত্ববান পুরুষের কাজ হয় কখনো?
লেখক : আরিফ আজাদ