09/08/2025
মাত্রার পুনঃপ্রয়োগের ব্যাপারে একটি ঔষধের
ক্রিয়া নিঃশেষ হয়েছে তার অব্যর্থ প্রমাণ কি?
মূল: ডা. অ্যাডলফ লিপ্পেই
অনুবাদ: ডা. শাহীন মাহমুদ
যথাযথরূপে শক্তিকৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ এককভাবে, একক মাত্রায় প্রয়োগ করার পর, তরুণ রোগে আমরা তার ক্রিয়া খুব দ্রতই দেখতে পাবো- প্রায়সময়ই কয়েক মিনিটের মধ্যে এবং রোগটি যত তরুণ প্রকৃতির ও তার আক্রমণ যত তীব্র হবে, ঔষধের ক্রিয়াটি তত দ্রুত প্রকাশ পাবে বলে আশা করা যায়। মনোযোগী পর্যবেক্ষক মাত্রাটি প্রয়োগ করার পরক্ষণেই কিছু অনুকূল লক্ষণ অনুধাবন করতে পারবেন, যা তাকে প্রয়োগকৃত মাত্রাটির ক্রিয়াশীলতাকে প্রদর্শন করবে। হয়তো হঠাৎ অল্পসময়ের জন্য ব্যথা-বেদনা বৃদ্ধি পেতে পারে, অথবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, অথবা ঘুম আসতে পারে, অথবা পেটের মাত্রাতিরিক্ত পূর্তির জন্য যেখানে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে- সেখানে তা (উদরিস্থিত দূষিত বস্তু) বর্হিগত হয়ে যাওয়া, কিংবা মানসিক যাতনার জায়গায় প্রশান্তি, নাড়ীর গতি হয়তো ভালোর দিকে, থার্মোমিটার হয়তো উন্নতি প্রদর্শন করছে।
যদি প্রয়োগকৃত মাত্রার কাজ একবার শুরু হয়- এমনকি যদি উন্নতির গতি ধীর তথাপি সুস্থির হয়, আমরা বুঝতে পারি- প্রয়োগকৃত মাত্রাটি তার আরোগ্যকারী শক্তিকে বিকশিত করে যাচ্ছে, কিংবা আমরা সিদ্ধান্ত করতে পারি যে, পূর্বে শুরু হওয়া প্রকৃতির আরোগ্যকারী শক্তির (vis medicatrix naturae) স্বাস্থ্য পুনঃরূদ্ধার ক্রিয়ার অগ্রগতিটি এখনো সক্রিয় এবং (সে) অন্য কোন ঔষধের সহায়তা প্রার্থনা করছে না।
চিররোগে প্রয়োগকৃত মাত্রাটি এরকম আকস্মিক ক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারে না; একটি দীর্ঘস্থায়ী ও গভীরমূলে প্রোথিত রোগপ্রকৃতির ক্ষেত্রে এটি অসঙ্গত। প্রয়োগের পর যদি ঔষধ-ক্রিয়ার এরকম একটি আকস্মিক প্রদর্শন অনুসৃত হয়, যদি কেইসের উন্নতি অতিরিক্ত দ্রুত হয়, তাহলে হয় ঔষধটি স্রেফ একটি উপশমদানকারী হিসাবে কাজ করেছে, অথবা সুনির্বাচিত নয়; কিংবা যদি বেশ সদৃশ হিসাবেই সতর্কতার সাথে নির্বাচিত হয়ে থাকে, (তথাপি) এই আকস্মিক উন্নতি সাধারণত ভালো কিছুর পূর্বাভাস নয়, এবং যদি কখনো সুনির্বাচিত ঔষধে এমন দ্রুত ও স্বল্পস্থায়ী উন্নতি সৃষ্টি করে- মাত্রার পুনঃপ্রয়োগ প্রায় কখনোই আর কোন প্রত্যক্ষ অগ্রগতি আনতে পারে না।
সচরাচর সঠিক ঔষধটি প্রয়োগের পর বিশেষ করে চিররোগগুলোর ক্ষেত্রে- উপচয় দেখা দেয়, এবং যদি এমন কোন নতুন লক্ষণ দেখা দেয়- যে অভিযোগগুলো রোগীর অতীত ইতিহাসে ছিলো, তাহলে আমরা প্রায় নিশ্চিতভাবেই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, ঔষধ তার আরোগ্যকারী শক্তি প্রদর্শন করছে........
অগ্রগতি একটি নিখাদ অচলাবস্থায় পতিত হলে, প্রয়োগকৃত মাত্রাটির আরোগ্যকারী ক্রিয়াটি নিঃশেষ হয়েছে বলে আমরা বুঝতে পারি, বিশেষ করে তরুণ রোগগুলোতে; প্রদর্শিত লক্ষণগুলো এখনো আগের ঔষধটিকে নির্দেশ করলে, সেই ঔষধেরই একবার পুনঃপ্রয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। হ্যানিমান তাঁর ক্রনিক ডিজিজেসে, আমাদের তখন একটি ভিন্ন পোটেন্সি প্রয়োগ করতে উপদেশ প্রদান করেছেন, কিন্তু যদি নতুন বা ভিন্নপ্রকারের লক্ষণগুচ্ছ প্রদর্শিত হয়ে থাকে, তবে অন্য ঔষধ নির্বাচন করতে হবে।
বিশেষ করে চিররোগের ক্ষেত্রে এরকম হয় যে, যে লক্ষণগুচ্ছের জন্য ঔষধটি প্রয়োগ করা হয়েছিলো, তা সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে গেছে, কিন্তু সময়ের পরিক্রমায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ পর, অতীতে পর্যবেক্ষণকৃত লক্ষণগুচ্ছই কিছুটা পরিবর্তিত অবস্থায় পুনরায় দেখা দেয়; এই ক্ষেত্রে আগে প্রয়োগকৃত মাত্রাটির ক্রিয়া এখনো চলমান এবং এ সময়ের একটি পুনঃপ্রয়োগ আদতে আরোগ্যকে ব্যাহত করে। একটি একক মাত্রা প্রয়োগের পর, যে ব্যক্তি পর পর বেশ কিছু লক্ষণের দরুন কষ্ট পেয়ে থাকে, এবং কিছুসময় পর সেই লক্ষণগুলো চলে যায়- কিন্তু আগের গ্রহণ করা ঔষধটির পুনঃপ্রয়োগ না করা সত্ত্বেও, কিছু দিন অথবা কখনো কখনো কয়েক সপ্তাহ পর, সেই একই লক্ষণগুচ্ছ আবার পরিবর্তিতরূপে ফিরে আসতে থাকে- বস্তুত সেখানে এটা বিবেচনাযোগ্য হতে পারে। সর্বশেষে প্রয়োগকৃত ঔষধটির ক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ হবার দরুণ যদি মাত্রাটির পুনঃপ্রয়োগ প্রয়োজন হয়, তাহলে কিভাবে পুনঃপ্রয়োগ করা উচিৎ- অবশ্যই সেটা পুনরায় চিকিৎসকের নিজস্ব বিচার-বিবেচনার ব্যাপার।
যদি প্রয়োগকৃত মাত্রাটি দীর্ঘ সময় কাজ করে থাকে- তরুণ রোগে কয়েক দিন ধরে, চিররোগে কয়েক সপ্তাহ বা মাসধরে- আমরা যুক্তিসঙ্গতভাবেই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, আরেকটিবার একক মাত্রায় (আগের ঔষধটি) প্রয়োগ করাটাই সর্বোত্তম হবে; কিন্তু যদি মাত্রার ক্রিয়াটি তুলনামূলক স্বল্পসময় কাজ করে থাকে, দ্রুত নিঃশেষিত হয়ে থাকে- বিশেষ করে তরুণ রোগে যদি এখনো মাত্রার পুনঃপ্রয়োগটিই যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়, তাহলে এখন ঔষধটির যে একক মাত্রাটি প্রয়োগ করা হবে, তা কয়েক আউন্স পানিতে গুলিয়ে প্রদান করা এবং যতক্ষণ না এটা স্পষ্ট হয় যে, এ প্রকারে প্রয়োগকৃত মাত্রাটি তার কাজ পুরোদমে শুরু করেছে- যে লক্ষণগুলোর জন্য তা প্রয়োগ করা হয়েছে, সেগুলো এর ক্রিয়ার অধীন হচ্ছে এবং সর্বদিকে উপশমিত হচ্ছে- ততক্ষণ এই খণ্ডকৃত মাত্রাগুলোকে প্রয়োগ করা প্রায় সবসময়ই উত্তম হবে; চিররোগগুলোতে, যতক্ষণ না লক্ষণগুলো বাস্তবে উপশমপ্রাপ্ত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষ হচ্ছে, চিকিৎসকের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি তাকে ঔষধটি (খণ্ডকৃত মাত্রাটি) প্রতিদিন অথবা কিছু সময় ধরে দিনে কয়েকবার করে দেবার প্রয়োজন তুলে ধরে পারে এবং এরপর আর সেই পুনঃপ্রয়োগকৃত মাত্রাটির ক্রিয়া প্রায় কখনোই স্বল্পসময়ে নিঃশেষ হতে পারবে না, বরঞ্চ খুব সম্ভবত সপ্তাহ বা মাস ধরে টিকে থাকবে।
[মূল লেখাটি সংগ্রহঃ Transactions of the International Hahnemannian Association- এর কোন এক সংখ্যায় প্রকাশ, যা Canadian Academy of Homeopathy –তে পোস্ট করা হয়েছে]