08/02/2025
Bronchial Asthma বা হাঁপানি রোগ, যেটাকে আমরা সবাই অ্যাজমা নামে জানি; বক্ষব্যাধির মধ্যে সবচাইতে পরিচিত-আলোচিত-কুখ্যাত রোগ! অ্যাজমা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কি কি করা যেতে পারে আসুন জেনে নেই-
১. ট্রিগারিং ফ্যাক্টর - অ্যালার্জেন (ধুলো, পরাগরেণু, পোষা প্রাণী) এবং উত্তেজক পদার্থ (ধোঁয়া, তীব্র গন্ধ) এগুলো থেকে দূরে থাকুন
২. পরিচ্ছন্নতা - নিয়মিত বিছানা, কার্পেট পরিষ্কার করুন এবং এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন।
৩. ব্যায়াম - ফুসফুসের কার্যকারিতা শক্তিশালী করতে ফুসফুসের ব্যায়াম করুন, নিয়মিত হাঁটুন।
৪. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ – যোগব্যায়াম (Yoga) এর মাধ্যমে মানসিক চাপ (Stress) অনেকাংশে কম করা সম্ভব। অনেক মানুষের হাঁপানির কারণ খুঁজে দেখা যায় সেটা কোনো না কোনো মানসিক (Psychogenic) কারণে; যেমন – অতিরিক্ত টেনশান, অতিরিক্ত রাগ/ক্ষোভ, না পাওয়ার আশংকা, স্বামী/সন্তান অনেকদিন ধরে বিদেশে থাকা, পরিবারে কলহ/বিরহ, অর্থনৈতিক টানা-পোড়েন, ব্যবসায়িক দুশ্চিন্তা ইত্যাদি।
৫. চিকিৎসা – একজন বক্ষব্যাধি-বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করুন। সেটা হতে পারে ওষুধ, ইনহেলার বা নেবুলাইজেশান। প্রয়োজনবোধে টিকা (Vaccine) বা IgE Monoclonal Antibody (Xolair) যেকোন কিছুই হতে পারে।
৬. ভুয়া ওষুধ পরিহার – বাজারে অনেকেই স্টেরয়েড গুঁড়া করে বিভিন্ন নামে হারবাল ওষুধ হিসাবে বিক্রি করে, এই ওষুধ অনেকেই খেয়ে ভয়ংকর ক্ষতি করছেন নিজেদের।
৭. অ্যালার্জি পরীক্ষা - নির্দিষ্ট কারণগুলি সনাক্ত করতে এবং সেগুলি এড়াতে অ্যালার্জির জন্য পরীক্ষা (CBC, Serum IgE, TCE, Skin Allergy Test) করুন।
৮. ফুসফুসের পরীক্ষা/চেকআপ - ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার ফুসফুসের পরীক্ষা গুলো যেমন - Spirometry, Spirometry & Reversibility, FeNO Test, Bronchoprovocation Test ইত্যাদি করে আপনার শ্বাসনালী কতটুকু কাজ করে এবং শ্বাসনালীতে এলার্জি আছে কি না তা জানতে পারবেন।
৯. টিকা - শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ কমাতে Flu এবং নিউমোনিয়ার (Pneumonia) টিকা নিয়ে আপ-টু-ডেট থাকুন।
১০. রাসায়নিক দ্রব্য - পরিষ্কার করার পাউডার, সুগন্ধি (Perfume), চুলের রঙ (Dye) বা অন্যান্য কঠোর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসা সীমিত করুন যা হাঁপানির কারণ হতে পারে।
১১. স্বাস্থ্যকর খাবার - রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সুষম খাবার খান।
১২. হাইড্রেশন - প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা শ্বাসনালীকে আর্দ্র রাখতে এবং জ্বালা/প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
১৩. আবহাওয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করুন - ঠান্ডা বা শুষ্ক বাতাসের প্রতি সচেতন থাকুন যা হাঁপানির লক্ষণগুলিকে আরও খারাপ করতে পারে।
আপনার পরিচিত সকলের মাঝে পোস্টটি শেয়ার করে সচেতনতা ছড়িয়ে দিন। আর আমাদের এই পেইজটি ফলো/লাইক দিয়ে বক্ষব্যাধি সম্পর্কিত আরো তথ্য জানুন 😇