04/04/2026
৭ বার পড়ে ফুঁ দেওয়া মিষ্টি খাওয়ালেই মেয়ে রাজি? বশীকরণের নামে রাসূল ﷺ-এর ওপর এক ভণ্ডের জঘন্য মিথ্যাচার!
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পডকাস্ট ভিডিও নজরে এসেছে। (ভিডিওটির লিংক প্রথম কমেন্টে দিয়ে দেওয়া হলো, আপনারা ২৪ মিনিট ২১ সেকেন্ড থেকে তার ভন্ডামী নিজ কানে শুনতে পারবেন)। ভিডিওটিতে নিজেকে 'স্পিরিচুয়াল প্র্যাকটিশনার' এবং 'ডিভাইন কোডেক্স'-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হাফেজ সাইফুল্লাহ মানসুর নামের এক ব্যক্তি অত্যন্ত দাম্ভিকতার সাথে দাবি করছে যে, বশীকরণ নাকি পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে করা সম্ভব এবং স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ নাকি এই বশীকরণের আমল শিক্ষা দিয়েছেন!
এই ব্যক্তি তার জঘন্য কুফরি দাবি প্রমাণের জন্য পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আনফালের ৬৩ নং আয়াতের (وَأَلَّفَ بَیۡنَ قُلُوبِهِمۡ) মনগড়া অপব্যাখ্যা করেছে। সে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছে, কেউ যদি কোনো নারীকে বিবাহ করতে চায়, কিন্তু নারী রাজি না থাকে, তবে মিষ্টি জাতীয় কোনো খাবারের ওপর এই আয়াতটি সাতবার পড়ে ফুঁ দিয়ে খাওয়ালে সেই নারী বশীভূত হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, সে এই জঘন্য জাদুটোনা বা মাইন্ড কন্ট্রোলকে সরাসরি "রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাতলানো আমল এবং হাদিস" হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে!
সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, যে সমস্ত হক্কানি আলেম ও মুমিনরা শরিয়তের অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে বশীকরণকে 'শিরক' এবং 'হারাম' বলে ফতোয়া দেন, ভিডিওটিতে সে তাদেরকে রীতিমতো তাচ্ছিল্য করে কথা বলেছে। সে বোঝাতে চেয়েছে, যারা বশীকরণকে খারাপ বলে, তারা না জেনেই ঢালাওভাবে ফতোয়া দিচ্ছে!
কীভাবে একজন মানুষ এতটা নির্লজ্জভাবে আল্লাহর কালাম এবং রাসূল ﷺ এর নামে ডাহা মিথ্যাচার করতে পারে? আসুন, আজ তাফসীরে তাবারি, কুরতুবি এবং মুকাতিল বিন সুলাইমানের তাফসীরের আলোকে হাফেজ সাইফুল্লাহ মানসুরের মুখোশ উন্মোচন করি এবং প্রমাণ করি যে, এরা আসলে স্পিরিচুয়াল প্র্যাকটিসের নামে শয়তানের পূজা করছে। এবং শয়তানের এজেন্ট হিসেবে ইবলিশের শয়তানি মিশনকে বাস্তবায়ন করার জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।
প্রথমে দেখা যাক সূরা আনফালের ৬৩ নং আয়াতের আসল শানে নুযুল বা প্রেক্ষাপট কী, এবং মুফাসসিরিনে কেরাম কী বলেছেন।
আয়াতটি হলো:
وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ ۚ لَوْ أَنفَقْتَ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَّا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ ۚ إِنَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
এর অর্থ হলো: "আর তিনি (আল্লাহ) তাদের (মুমিনদের) অন্তরসমূহের মাঝে প্রীতি ও হৃদ্যতা স্থাপন করেছেন। আপনি যদি পৃথিবীর সমুদয় সম্পদও ব্যয় করতেন, তবুও তাদের অন্তরসমূহে প্রীতি স্থাপন করতে পারতেন না, কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" (সূরা আল-আনফাল: ৬৩)
ইমাম ইবনে জারির আত-তাবারি রহিমাহুল্লাহ এই আয়াতের তাফসীরে বলেন:
قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: يُرِيدُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ بِقَوْلِهِ: ﴿وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ﴾، وَجَمَعَ بَيْنَ قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ مِنَ الْأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ، بَعْدَ التَّفَرُّقِ وَالتَّشَتُّتِ، عَلَى دِينِهِ الْحَقِّ، فَصَيَّرَهُمْ بِهِ جَمِيعًا بَعْدَ أَنْ كَانُوا أَشْتَاتًا، وَإِخْوَانًا بَعْدَ أَنْ كَانُوا أَعْدَاءً.
"আবু জাফর (ইমাম তাবারি) বলেন: আল্লাহ جل ثناؤه তাঁর বাণী ﴿وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ﴾ দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন, তিনি আওস ও খাযরাজ গোত্রের মুমিনদের অন্তরসমূহকে বিভক্তি ও বিক্ষিপ্ততার পর তাঁর সত্য দ্বীনের ওপর একত্রিত করেছেন। অতঃপর দ্বীনের মাধ্যমে তিনি তাদের সকলকে একতাবদ্ধ করেছেন, অথচ তারা ছিল বিভিন্ন দলে বিভক্ত, এবং তাদেরকে ভাই-ভাইয়ে পরিণত করেছেন, অথচ তারা ছিল একে অপরের শত্রু।" (তাফসীরে তাবারি)
ইমাম কুরতুবি রহিমাহুল্লাহ তাঁর তাফসীরে লিখেছেন:
(وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ) أَيْ جَمَعَ بَيْنَ قُلُوبِ الْأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ. وَكَانَ تَأَلُّفُ الْقُلُوبِ مَعَ الْعَصَبِيَّةِ الشَّدِيدَةِ فِي الْعَرَبِ مِنْ آيَاتِ النَّبِيِّ ﷺ وَمُعْجِزَاتِهِ، لِأَنَّ أَحَدَهُمْ كَانَ يُلْطَمُ اللَّطْمَةَ فَيُقَاتِلُ عَنْهَا حَتَّى يَسْتَقِيدَهَا. وَكَانُوا أَشَدَّ خَلْقِ اللَّهِ حَمِيَّةً، فَأَلَّفَ اللَّهُ بِالْإِيمَانِ بَيْنَهُمْ، حَتَّى قَاتَلَ الرَّجُلُ أَبَاهُ وَأَخَاهُ بِسَبَبِ الدِّينِ. وَقِيلَ: أَرَادَ التَّأْلِيفَ بَيْنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ. وَالْمَعْنَى مُتَقَارِبٌ.
"(وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ) অর্থাৎ তিনি আওস ও খাযরাজ গোত্রের অন্তরসমূহকে একত্রিত করেছেন। আরবদের মাঝে তীব্র গোত্রপ্রীতির উপস্থিতিতে অন্তরগুলোর এই মিলন ছিল নবী ﷺ এর নিদর্শন ও মুজিযাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, তাদের কেউ একটি চড় খেলেও তার বদলা না নেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেত। তারা ছিল আল্লাহর সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোত্রীয় অহংকারী। অতঃপর আল্লাহ ঈমানের মাধ্যমে তাদের মাঝে প্রীতি স্থাপন করলেন, এমন পর্যায়ে যে, মানুষ দ্বীনের কারণে নিজের পিতা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আবার বলা হয়েছে, এর দ্বারা মুহাজির ও আনসারদের মাঝে প্রীতি স্থাপন উদ্দেশ্য। তবে উভয় অর্থই কাছাকাছি।" (তাফসীরে কুরতুবি)
মুফাসসির মুকাতিল বিন সুলাইমান রহিমাহুল্লাহ বলেন:
قَالَ مُقَاتِلُ بْنُ سُلَيْمَانَ: ﴿وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ﴾ بَعْدَ الْعَدَاوَةِ الَّتِي كَانَتْ بَيْنَهُمْ فِي أَمْرِ سُمَيْرٍ وَحَاطِبٍ، فَقَالَ: ﴿لَوْ أَنْفَقْتَ﴾ يَا مُحَمَّدُ عَلَى أَنْ تُؤَلِّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ ﴿مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ﴾ بَعْدَ الْعَدَاوَةِ فِي دَمِ سُمَيْرٍ وَحَاطِبٍ بِالْإِسْلَامِ، ﴿إِنَّهُ عَزِيزٌ﴾ يَعْنِي: مَنِيعٌ فِي مُلْكِهِ، ﴿حَكِيمٌ﴾ فِي أَمْرِهِ، حَكَمَ الْأُلْفَةَ بَيْنَ الْأَنْصَارِ بَعْدَ الْعَدَاوَةِ.
"মুকাতিল বিন সুলাইমান বলেন: ﴿وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ﴾ সুমাইর ও হাতিবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে যে শত্রুতা ছিল, আল্লাহ তা দূর করে তাদের অন্তর জুড়ে দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ বলেন: ﴿لَوْ أَنْفَقْتَ﴾ হে মুহাম্মদ! আপনি যদি তাদের অন্তরসমূহ জুড়ে দেওয়ার জন্য ﴿مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مَا أَلَّفْتَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ﴾ জমিনের সবকিছু ব্যয় করতেন, তবুও তাদের অন্তরগুলো জুড়তে পারতেন না, কিন্তু আল্লাহ সুমাইর ও হাতিবের রক্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শত্রুতার পর ইসলামের মাধ্যমে তাদের মাঝে প্রীতি স্থাপন করেছেন। ﴿إِنَّهُ عَزِيزٌ﴾ অর্থাৎ, তিনি তাঁর রাজত্বে পরাক্রমশালী। ﴿حَكِيمٌ﴾ অর্থাৎ, তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে প্রজ্ঞাময়, যিনি আনসারদের শত্রুতার পর প্রীতি ও ঐক্যের ফয়সালা করেছেন।" (তাফসীরে মুকাতিল বিন সুলাইমান: ২/১২৪)
উপরোক্ত তাফসিরগুলো থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, এই আয়াতটি নাজিল হয়েছে মদীনার দুই বিবদমান গোত্রের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থামিয়ে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব ও ঈমানি ভালোবাসা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য। আর স্পিরিচুয়াল প্র্যাকটিশনার দাবি করা এই ব্যক্তি সেই ঈমানি ভালোবাসার পবিত্র আয়াতকে টেনে নামিয়েছে নারী বশীকরণ বা প্রেমে পাগল করার জাদুর কাজে। কুরআনের এর চেয়ে বড় অবমাননা আর কী হতে পারে?
এই ব্যক্তি দাবি করেছে যে বশীকরণ নাকি জায়েজ, এটি কুরআনের মাধ্যমে করা সম্ভব এবং স্বয়ং রাসূল ﷺ হাদিসে এমনটা বলেছেন। অথচ বশীকরণ বা কাউকে নিজের আয়ত্তে আনা ইসলামি শরিয়তে ‘তিওয়ালা’ (التِّوَلَةُ) নামে পরিচিত এবং এটি স্পষ্ট শিরক ও কুফর।
রাসূলুল্লাহ ﷺ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন:
إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ
অর্থ: "নিশ্চয়ই (শিরকি) ঝাড়ফুঁক, তামিমা (তাবিজ) এবং তিওয়ালা (স্বামী-স্ত্রী বা নারী-পুরুষকে বশ করার জাদু) হলো শিরক!" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ৩৮৮৩; মুসনাদে আহমাদ)
যে কাজটিকে স্বয়ং আল্লাহর রাসূল ﷺ ‘শিরক’ বলে ফতোয়া দিয়েছেন, সেই বশীকরণকে এই সাইফুল্লাহ মানসুর হালাল বানানোর চেষ্টা করছে কুরআনের আয়াতের অপব্যবহার এবং নিজের মনগড়া বানোয়াট হাদিসকে রাসূল ﷺ এর নামে চালিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।
ভিডিওতে সে দাবি করেছে, রাসূল ﷺ বলেছেন, কেউ যদি কোনো নারীকে বিয়ে করতে চায় কিন্তু নারী রাজি না থাকে, তবে মিষ্টিতে এই আয়াত ৭ বার পড়ে ফুঁ দিয়ে খাওয়ালে নারী রাজি হয়ে যাবে। আমি এই ব্যক্তি এবং পৃথিবীর সমস্ত জাদুকরকে চ্যালেঞ্জ করছি, কুতুবুস সিত্তাহ তো দূরের কথা, কোনো জয়িফ বা মাওজু (বানোয়াট) হাদিসের কিতাব থেকেও রাসূল ﷺ এর এমন কোনো একটি কথা দেখাতে পারবে না। এটি রাসূল ﷺ এর নামে ডাহা, নির্জলা এবং জঘন্য মিথ্যাচার।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
অর্থ: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা রটনা করে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।" (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
শরিয়তের অকাট্য বিধান হলো, জেনেশুনে রাসূল ﷺ এর নামে মিথ্যা হাদিস রচনা করা মারাত্মক কবিরা গুনাহ এবং আলেমদের মতে তা কুফরের নামান্তর। যে ব্যক্তি নিজের শিরকি ব্যবসাকে হালাল করার জন্য রাসূল ﷺ এর নামে এমন নির্জলা মিথ্যাচার করে, সে মূলত নিজের জন্য জাহান্নামের আসন নিশ্চিত করে নিয়েছে।
এখানে আরেকটি ভয়ংকর দিক খেয়াল করুন। সে দাবি করেছে, "কেউ যদি কোনো নারীকে বিবাহ করতে চায়, কিন্তু নারী রাজি না থাকে..."। অর্থাৎ, এখানে সম্পর্কটা এখনো স্বামী-স্ত্রীর মতো হালাল হয়নি, বরং তারা সম্পূর্ণ গায়রে মাহরাম। ইসলামি শরিয়তে বিয়ের আগে কোনো গায়রে মাহরাম নারীকে জাদু টোনার মাধ্যমে বশ করার চেষ্টা করা তো দূরের কথা, তার দিকে কুদৃষ্টি দেওয়াও হারাম।
আর তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই যে, এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মহব্বত সৃষ্টির জন্য করা হচ্ছে, তবুও শরিয়তের দৃষ্টিতে তা সম্পূর্ণ হারাম এবং শিরক। কারণ উপরের হাদিসেই আমরা দেখেছি, রাসূল ﷺ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় 'তিওয়ালা' বা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টির বশীকরণকে জাদু ও শিরক আখ্যা দিয়েছেন।
এখানে একটি ধোঁকাপূর্ণ আপত্তি আসতে পারে। তারা হয়তো বলবে, "কুরআন তো শিফা এবং রহমত। স্বামী-স্ত্রী বা পাত্র-পাত্রীর মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য কুরআনের আয়াত পড়লে সমস্যা কোথায়? রুকইয়াহতেও তো ফুঁ দেওয়া হয়।"
এই খোঁড়া যুক্তির অসারতাটা একটু গভীরভাবে বুঝতে হবে। ইসলামে হালাল সম্পর্কের মাঝে মহব্বত বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে স্বাভাবিকভাবে দোয়া করা শতভাগ জায়েজ। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট আয়াত মনগড়াভাবে ৭ বার পড়ে, মিষ্টির ওপর ফুঁ দিয়ে কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বশীভূত করা কোনো দোয়া নয়, এটি হলো জাদুকরদের অকাট্য পদ্ধতি।
রুকইয়াহ করা হয় রোগ বা জাদুর প্রভাব থেকে শিফা পাওয়ার জন্য। আর তিওয়ালা বা বশীকরণ করা হয় মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিকে জিম্মি করার জন্য, যা শরিয়তে স্পষ্ট শিরক।
মদের বোতলে জমজমের লেবেল লাগালে যেমন তা হালাল হয় না, তেমনি জাদুকরদের বশীকরণের নিয়মে কুরআনের আয়াত পড়লেও তা ইসলামি হয়ে যায় না।
জাদুকররা সরাসরি কুফরি কালাম পড়লে মানুষ ধরে ফেলবে, তাই তারা মানুষের আবেগ নিয়ে খেলতে কুরআনের আয়াতের মোড়কে এই জাদুগুলো করে। তারা মুখে কুরআনের আয়াত পড়ে, আর ভেতরে জিনের সাহায্য নিয়ে সিহর বা জাদু করে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, কিছু ইউটিউবার বা পডকাস্টার ভিউজ এবং টিআরপির লোভে এ ধরনের জাদুকর এবং ইসলাম বিকৃতিকারীদের স্টুডিওতে ডেকে এনে মাইক ধরিয়ে দেয়।
পডকাস্টার ভাইরা, আপনারা কি জানেন না যে আপনারা কাদের প্রমোট করছেন? একজন ব্যক্তি যখন ক্যামেরার সামনে বসে আল্লাহর কালামকে বশীকরণের মতো কুফরি কাজে ব্যবহারের কথা বলে এবং রাসূল ﷺ এর নামে ডাহা মিথ্যাচার করে, তখন আপনারা চুপ করে মাথা নাড়েন কীভাবে?
আপনাদের এই দায়িত্বহীনতার কারণে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে, জাদুকরদের ফাঁদে পা দিচ্ছে এবং নিজেদের ঈমান হারাচ্ছে। স্টুডিওতে কাউকে ডাকার আগে অন্তত তার আকিদা, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সে কুরআন সুন্নাহর নামে কী বলছে, তা যাচাই করে নেওয়া আপনাদের নৈতিক এবং ঈমানি দায়িত্ব।
এরা কোনো আলেম বা হুজুর নয়, এরা হলো স্পিরিচুয়াল প্র্যাকটিসের নামে লেবাসধারী জাদুকর, শয়তানের এজেন্ট ও পূজারী। এদের ব্যবসা হলো মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা এবং কুরআনের আয়াত বিক্রি করে পকেট ভারী করা। কুরআন নাজিল হয়েছে আমাদের অন্তরকে আলোকিত করার জন্য, আমাদেরকে সিরাতে মুস্তাকিমের পথ দেখানোর জন্য, কোনো মেয়েকে বশ করে জোর করে বিয়ে করার জন্য নয়। বিয়ের জন্য পছন্দ হলে প্রস্তাব পাঠান, ইস্তিখারা করুন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। কিন্তু এই সব
৭ বার পড়া মিষ্টির ধোঁকায় পড়ে নিজের দুনিয়া ও আখেরাত, দুটোই বরবাদ করবেন না।
এই লেখাটি বেশি বেশি শেয়ার করে এই ভণ্ড ব্যক্তির মুখোশ খুলে দিন এবং সাধারণ মুসলিমদের ঈমান রক্ষা করুন। আল্লাহ আমাদের এই সব শয়তানের দোসরদের ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
মূল লেখা - Raqi Abdul Malik ভাইয়ের টাইমলাইন থেকে নেওয়া। জাযাকুমুল্লাহ্।