10/03/2026
২০২২ সালের আজকের দিনে মহাজাগতিক সফরে যাত্রা করেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন মতিঝিল শাখার আর্ডেন্টিয়ার এবং মাটির ব্যাংক কার্যক্রমের সেবক ও মুগদা প্রি-সেল এর উপদেষ্টা আবু মহীন চৌধুরী মঈন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। বান্দরবান লামার কোয়ান্টামমে জাবলে রাজিউনে তাকে সমাহিত করা হয়।
৯ মার্চ ২০২২ বুধবার সকাল ৯টায় আবু মহীন চৌধুরী মঈন শ্রদ্ধেয় গুরুজীর পরিচালনায় সজ্ঞা জালালিতে অংশগ্রহণ করেন। এরপর বিকেল ৫টায় ‘ধ্যানঘর পুনর্নির্মাণে নিজে অংশ নিন এবং অন্যকে উদ্বুদ্ধ করুন’—শীর্ষক মিটিংয়ে অংশ নেন। বাসায় ফিরে তাদের পারিবারিক রেওয়াজ অনুযায়ী পরিবারের সবাই একসাথে রাতের খাবার খান। পরিবারের সদস্যদের সাথে সুন্দর সময় কাটান। তাদের সারাদিনের জমে থাকা গল্প এবং চিন্তা শেয়ার করেন।
রাত ১২টা থেকে আবু মহীন চৌধুরী মঈন মৃদু শ্বাসকষ্ট অনুভব করছিলেন। রাত ৩টার দিকে অসুস্থ বোধ করলে প্রথমে বাসার পাশে মুগদায় ইসলামী ব্যাংক জেনারেল হাসপাতালে নিজে পায়ে হেঁটে যান। এসময় তার বড় মেয়ে ও ছোট ভাই তার সাথে ছিল। এরপর সেখান থেকে তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি প্রশান্ত অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও তিনি ছিলেন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ। জীবনের শেষ দিনটি তিনি অতিবাহিত করেন স্রষ্টার স্মরণ, সঙ্ঘের কাজ এবং সৎকর্মের মধ্য দিয়ে।
সহধর্মিনী রোকেয়া সুলতানা এলিন স্বামীর মৃত্যুর আগের সময়টার স্মৃতিচারণ করে বলেন, মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে দেখেন স্বামী পাশে নেই। উঠে পাশের রুমে গিয়ে দেখেন, দুই মেয়ে ঘুমাচ্ছে আর বাবা পরম স্নেহে মেয়েদের পায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। এভাবেই পরিবারের সদস্যদের মমতায় জড়িয়ে রাখতেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
আবু মহীন চৌধুরী মঈনের জন্ম ১৯৬২ সালের ৪ মার্চ। তার মা মরহুমা সাহানারা বেগম এবং বাবা মরহুম আব্দুল আজিজ চৌধুরী। পেশাগত জীবনে আবু মহীন চৌধুরী ছিলেন বোলিং ফুটওয়্যার্সের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার(কো-অর্ডিনেশন)। সহধর্মিনী রোকেয়া সুলতানা এলিন এবং দুই কন্যা আবেদা তামিম মেধা এবং অরিষা ইফফাতকে নিয়ে ছিল তার পরিবার।
আবু মহীন চৌধুরী মঈন ছিলেন শিশুর মতো সরল, প্রাণবন্ত, বিনয়ী ইতিবাচক এবং পরোপকারী একজন মানুষ। সন্তানদেরও আদর্শ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকতেন সবসময়। আবু মঈন চৌধুরী সন্তানদের ভালো একজন বন্ধু ছিলেন।
সাদামাটা জীবনযাপন করতে ভালবাসতেন তিনি। সময় এবং অর্থ কখনো অপচয় করতে না। সবসময় প্রো-একটিভ ছিলেন। স্ত্রী রোকেয়া সুলতানা এলিনকে তিনি বলতেন—‘আমি তোমাদের জন্যে অনেক কিছু করতে পারি নি, কিন্তু দোয়া করো আমি যেন মানুষের জন্যে কাজ করতে পারি’।
আবু মহীন চৌধুরী মঈন ৯৮ ব্যাচের কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট এবং ১০ ব্যাচের প্রো-মাস্টার। তার স্ত্রী রোকেয়া সুলতানা ১৩৮ ব্যাচের কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট এবং ২০ ব্যাচের প্রো-মাস্টার। কন্যা আবেদা তামিম মেধা ৩৭১ ব্যাচের এবং অরিষা ইফফাত ৪৩৪ ব্যাচের কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট।
তিনি নিয়মিত মেডিটেশন করতেন। সাদাকায়নসহ কোয়ান্টামের কেন্দ্রীয় প্রোগামগুলোতে অংশগ্রহণ করতেন। বঞ্চিতের কল্যাণে তিনি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এতিমান ফান্ড, কোয়ান্টাম মাটির ব্যাংকসহ সৃষ্টির সেবামূলক খাতে দান করতেন। শুধু নিজে ভালো কাজ করতেন না, অন্যকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করতেন সবসময়।
আবু মঈন চৌধুরীর পুণ্য স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের আগামী ৪০ দিনের সৎকর্ম উৎসর্গ করা হয়েছে।
পরিবার-পরিজনসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন তিনি। পরম করুণাময় তাকে সঙ্ঘবদ্ধ, সমর্পিত, সৎকর্মশীল মানুষ হিসেবে কবুল করুন। আমরা তার অনন্ত প্রশান্তি কামনা করছি। বান্দরবান লামার আরোগ্যশালায় প্রতিদিন মহাজাগতিক সফরে যাত্রীদের জন্যে দোয়া করা হয়।
#শ্রদ্ধাঞ্জলিTribute
#চিরস্মরণীয়ForeverRemembered
#স্মৃতিতে_অমরInLovingMemory
#অনন্তপ্রশান্তিRestInPeace
#প্রেরণারজীবনLifeOfInspiration